কবি নরবাহাদুর লামা-র কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
রক্ষা করিবে কারা    
কবি নরবাহাদুর লামা

জানে না যারা ক্ষুদিরাম সুভাষ, কাহারা ছিলেন তাঁরা
রাসবিহারী, এম এন রায়, দেশপ্রেমিক যাঁরা |
মাস্টারদা ও মাতঙ্গিনী হাজার হাজার লোক !
দেশের তরে জীবন দিলেন---কয়জনে করে শোক ?

সি আর দাশ বিলিয়ে দিলেন, দেশবাসীর তরে
কয়েক-কোটির ধন, সম্পদ, নিজেকে নিঃস্ব করে !
অনেক কষ্ট সয়েছেন শেষে ! দুমুঠো অন্নের তরে
তাদের কথা ভাবতে গেলে, আজও অশ্রু ঝরে !

রামমোহন-বিদ্যাসাগর, আশুতোষের কথা---
অশ্বিনী দত্ত, মুকুন্দ দাস, বোঝে কি তাঁদের ব্যথা ?
বাঘা যতীন , দীনেশ , বাদল ! অজানা শহীদ কতো !
বন্দে মাতরম উচ্চরিয়া--- মরেছে শত শত !

ভগত সিং ও মঙ্গল পান্ডে , দিয়েছেন নিজেদের প্রাণ !
মনে কি পরে বিন্দুমাত্র, তাঁদের অবদান ?
মনে হয় এরা জন্তু জানোয়ার !যাহারা স্বার্থপর---
নেতার বেশে গদিতে বসে, ভাঙছে দুঃখীর ঘর |

পরের ধনে পোদ্দারী করে, ওয়াইল্ড ডগ ! হায়না বা চিতা--
চোর জোচ্চর ! গুন্ডা বা ডাকাত! এইসব তাদের মিতা |
না আছে লজ্জা , না তো ঘেন্না , অথবা বিবেক জ্ঞান ---
হিংস্র যেসব পশুরও অধম, তাই কাড়ে ধন ও প্রাণ !

ক্ষমতার বলে সেনা ও পুলিশে বানিয়ে রেখেছে ভেড়া,
প্রশ্ন জাগে মোদের দেশ, রক্ষা করিবে কারা ?


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
খুনীরাই করিছে রাজ
কবি নরবাহাদুর লামা

পরাধীন দেশ উদ্ধার করিতে
.     লড়েছিল কে বা কারা
.         দেশদ্রোহী জাতির শত্রুরা
.              গদিতে বসে তারা |

বিশ্বাসঘাতক, খুনীরা হল
.     দেশের নেতা বা রাজা |
.           দেশ প্রেমিক মানবদরদী
.                 ভুগিছে চরম সাজা |

কত শহিদের স্বপ্ন ছিল,
.       বিফল স্বপ্নই হলো
.            কেন যে হঠাৎ এমন হল,
.                 কেউ তো কিছু বলো |

অসংখ্য লোকের হারাতে হল---
.      দেশ ঘর আপন জন |
.           সেসব করুণ দৃশ্য দেখে
.               বিষিয়ে ওঠে মন |

কাঙাল হল
.      সোনার দেশ, বিশ্ব সমাজে আজ
.           সৎ ও সাধুরাই ভিখারী হল,
.                 খুনীরাই করিছে রাজ !


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
কৃষকদের প্রতি
কবি নরবাহাদুর লামা

ওরে আমার কৃষক ভাইরা, নাইরে সময় নাই
কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ো, আহ্বান করি তাই |
একশত কোটি, ভারতবাসী, রয়েছে সারা দেশে
ফসল যদি না হয় তবে, না খেয়েই মরবে শেষে |

একটুও জমি রেখো না ফাঁকা, ভরাও ফলে ও ফুলে |
সুখের সংসার গড়তে হলে বাবুয়ানা-আলস্য ভুলে |
সাহেব হতে চেয়ো না কেহ , চাকরি বাকরি করে--
স্বাধীনভাবে চলতে শেখো, আনন্দে আপন ঘরে |

লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ছেলে, বেকার কত না ঘরে---
আমার কথা না শুনিলে, পস্তাতে হবে পরে |
ঘরের টাকা নিয়ে যাচ্ছে , অন্য দেশের লোক,
এসব অর্থ রক্ষা করে, নিজেরাই করো ভোগ |

পৈতৃক ভিট ছেড়ো না কভু , এ যেন বংশের প্রাণ ----
প্রয়োজন হলে , ইহার বদলে , জীবনই করিবে দান |
নইলে সব হারাতে হবে, আপন বংশের নাম----
উত্তরসূরিরা পাবে না খুঁজে , পূর্বসূরির ধাম |

ঐ দ্যাখো আজ ! হাঁ করে আছে , দস্যু ও দানব যারা
তোমার আমার সব কেড়ে নিয়ে---করিবে সর্বহারা !
নারী ধর্ষণ, খুনও করে তারা , গুন্ডা বা ডাকাত দ্বারা,
পুলিশ ও সেনার হাত পা বাধা, রক্ষা করিবে কারা ?

বিচারকগণেরও বিচার করে খুনীরাই বসে বসে,
লড়াই যদি করিতে চাও ? আয় ব্যাটা কোমর কষে |
খুনীর হয়েই কাজ করে আজ, পুলিশ সেনার দল---
শাসকই যদি শোষক হয় কী আর করিবে বল ?

তাই বলি সবে লড়িতে যে হবেই , ঐক্যবদ্ধভাবে---
নিজের সম্পদ সব কেড়ে নিলে , তারপরে কোথায় যাবে ?


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
ধরিয়া হাতে হাত
কবি নরবাহাদুর লামা

হে নারী মাতৃজাতি ! জাগবে না তবুও তুমি ?
.        পাপ অনাচারে কলুষিত আজ,
.                মহান বিশ্বভূমি |

মহামায়া মা---নিদ্রাদেবী, আদ্যাশক্তি মাতা
.        স্বয়ং নারায়ণ, তাঁহারও তুমি
.                শক্তি ও বুদ্ধি দাতা |

মধু ও কৈটভে করালে বধ, তোমারই ষড়যন্ত্রে---
.        মহাপাপীগণে উড়াও না কেন
.                ফুৎকারে মহামন্ত্রে |

তুমি সেই দুর্গা-দশভুজা, করালে রাবণেও বধ !
.        গৌরীও তুমি পার্বতী উমা,
.                তোমার যে কত পথ |

ছিন্নমস্তা চন্ডীও তুমি, দেখালে কত না লীলা--
.          নিশুম্ভ-শুম্ভ দানবে যথা,
.                 এই দুষ্টগণেও কিলা |

সীতা বা সতী সাবিত্রী তুমি, মন্দোদরী তারা---
.           যুগ-যুগ ধরে, এমনি ভাবেই
.                    এসেছে নারীর ধারা |

ভীষ্মের মাতা গঙ্গা তুমি, বিপত্তারিণীও তুমি
.           দেবতা হতে মানব দানব,
.                  ধন্য হয় তোমায় নমি !

চারি দিকে দ্যাখো, দিবা নিশি আজ, মানব রক্ত ঝরে !
.           দুর্গার মত জাগো হে নারী
.                দুষ্টের দমন তরে |

ভুলেই কি গেছ মাতঙ্গিনী ঝাঁসির কথা
.            রাণী রাসমণিও যুঝিয়াছিলেন
.                বুঝিয়া জাতির ব্যথা |

বিদ্যাদায়িনী, সরস্বতী মাতা, লক্ষ্মী অন্নদাতা
.              মহাসতীরূপে বেহুলা এসে
.                  পতির জীবন দাতা |

মানববেশী দস্যু ও দানব, নিতেছে মানব প্রাণ
.              আপন স্বার্থে শিশু বা নারীর
.                     ভাসায় রক্তের বান  !

কখনো মাতা, কখনো কন্যা,কখনো জায়ার রূপ !
.                বিশ্বজুড়ে এতো অনাচার !
.                      রয়েছ কেন চুপ ?

পাপী ও লোভীরে না করে ক্ষমা---বক্ষে মার লাথ !
.                 পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড় হে,
.                       ধরিয়া হাতে হাত |


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
জাতীয় সংহতি
কবি নরবাহাদুর লামা

সাবধান বিশ্বের মানব জাতি, বিষধর সর্প হতে---
অবুঝ সম যেও না ভেসে, কপট পাপের স্রোতে !
অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে মরে, যথা কোটি কোটি শ্যামাপোকা,
জীবে যে শ্রেষ্ঠ, মানুষ হয়েও হতে হবে এত বোকা
?                                                                                              
                                                                              

হিন্দু বা মুসলিম, যেকোনো জাতের যে সব মৌলবাদ,
তারাই তো হল জাতির শত্রু ; করিবে পদাঘাত !
হিন্দু বা মুসলিম, জৈন ও শিখ, বৌদ্ধ--খৃষ্টানও ভাই,
মানুষেই গড়ে জাতি বা ধর্ম, তাছাড়া কি আছে ছাই ?

দ্যাখো না আজ জাতির নামে, কুড়ায় অভিশাপ !
ধর্মের নামেও দ্বন্দ্ব করে, করিছে মহাপাপ !
সেই জাতি কি দেয়--খাদ্য বা বস্ত্র, অথবা থাকার ঠাঁই ?
হিংসা দ্বেষ গোঁড়ামি ছাড়া, উপকারও কিছু পাই ?

মন্দির মস্ জিদ গির্জা ও মাটিতো, এখানেই থাকবে পড়ে---
তবে ভাইয়ের মাঝে হিংসা কেন, অযথা ঘরে ঘরে ?
সবার উপরে মানব ধর্ম, মানুষে ভালোবাসা---
সবারে যদি ভালোবাসি---মিটবে সবার আশা |

রাজনীতির মিছিল চলে ; দেখেছি অস্ত্র বয়ে !
ধর্ম সভায়ও যাত্রা করে, অস্ত্রশস্ত্র লয়ে |
সেই কারণেই ভীত হয় ! নিরীহ মানুষ ত্রাসে----
মানব সমাজও ধ্বংস হয়, ধীরে ধীরে গ্রাসে |

ধর্মের নামে মূঢ়সম, করো না কো মাতামাতি
পুরুষ ও নারী এ দুই মিলেই, মহান মানব জাতি |
বলো তো ভাই হিংসা করে, কে সুখী হয়েছে কবে ?
এমন হলে জাতি ও ধর্ম, সমূলে ধ্বংস হবে |


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
মায়ের অপমান
কবি নরবাহাদুর লামা
( দেশ তো  সবার মাতৃভূমি ! দেশের অপমান কি
মায়ের অপমান নয় ?)

নেপাল আমার দেবকী মাতা ; জন্মেছি তাঁহারই কোলে
বাল্য বয়সেই ত্যজিতে হল ; ভাসিয়ে নয়ন জলে !
পিতামহ-পিতা, জমিদার ছিল, শিক্ষায় অন্ধ তাঁরা
একজন ঠক্ সুকৌশলে , বানালো সর্বহারা !

জমিদারী সম্পদ সব লুট হল ; হরিশচন্দ্রের মতো
সোনার সংসার ধ্বংস হয়ে , হতে হল ক্ষত-বিক্ষত !
ভারত আমার যশোদা মাতা, তিনিই তো অন্নদাতা--
যাঁদের ‘পরে ভরসা করি , তারাই করে যা তা !

নেপাল হল হিন্দু রাষ্ট্র, বিশ্বের একটাই দেশ---
রাজার বেশেই দস্যুরা এসে , দেশকেই করেছে শেষ !
শিক্ষার আলো প্রবেশ নিষেধ , রেখেছিল অন্ধকারে
সেই অভিশাপের জ্বালা যে কী , বুঝেছি হাড়ে হাড়ে !

তাদের মহান আদর্শেই শ্মশান করিল দেশ !
মাতৃভূমিকে বানালো ভাগাড়, মানুষে ছাগ ও মেষ !
আপনজনেও সুকৌশলে ছাড়েনি করিতে খুন !
জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেও এই হল তাদের গুণ |

দেখ না আজ খুন হয় মানুষ, মশা বা মাছির মতো----
যখন-তখন যেখানে-সেখানে দৈনিক শত শত !
কত যে সংসার তছনছ ভেঙে করেছে খান খান,
বিশ্ব সমাজে বোঝে কি তারা , দেশের অপমান !

ভারত মাতারও সেই দশা আজ---জন্মিয়া শয়তান ছেলে
কোটি--কোটি দেশবাসীকে দিয়েছে নরকে ঠেলে |
যেসব মহান জ্ঞানীগুণী ছেলে, বুঝিয়া ধীরে ধীরে,
তাদের অংশ জোর করে নিল, মায়েরই বক্ষ চিরে |

আর এক ছেলে ? বানালো মাকে---বিশ্বে চোরের দেশ !
লজ্জা বা  ঘেন্না, মনুষ্যত্বের , আছে কি একটুও লেশ !
জাতির সম্পদ দু’হাতে লুটে , হতে চায় দেশের রাজা !
জোচ্চর খুনীর বদলে দানে, সৎ বা সাধুরে সাজা |

গুন্ডা বা ডাকাত লুটেরা খুনী, রাজার গদিতে বসে
নারীধর্ষণ, ধন প্রাণলুটে---তারাই তো কোমর কষে |
তারা সব মিলে ডুবাতে চায় ; মোদের প্রিয় দেশ !
খাদ্য বিনে কত লোক মরে ; তবু বলি ‘ আছি বেশ’ |

রাজ-ভাঁড়ার শূন্য করে ; স্বজন পোষণ করে---
তাদের স্বার্থেই নিরীহ লোকের কত না রক্ত ঝরে !
নোবেল পদক---দেশের মান, তাও তো হল চুরি !
সারা দেশজুড়ে, ভোট--নোট চোরে, ভরে গেছে ভূরিভূরি |

দেশের তরে মরেছে যাঁরা ? তাঁরাই হয়েছে বোকা---
মানব সমাজ নেমেছে কোথায় ; সব দেয় সবারে ধোকা !
আমি তো চাই বিশ্বের সাথে, প্রেমের সেতু বাঁধি
বিশ্বে যত ব্যথীর ব্যথায় ! ডুকরে ডুকরে কাঁদি !

কুক্কুরসম বোঝে কি লোভী, যাঁদের অবদান
প্রশ্ন করি সহিবে কতো মায়ের অপমান ?


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
বিচার হল কই
কবি নরবাহাদুর লামা

পরাধীন দেশ স্বাধীন-তরে, লড়েছিল কে বা কারা,
দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক গদিতে বসে আজ তারা !
বিশ্বাসঘাতক এক যে নেতা ; যাহারা পরম সতী
নেতার বেশে সবদেশবাসীর করেছে ভীষণ ক্ষতি !

দুর্নীতিগ্রস্থ বিশ্বাসঘাতক, খুনীরাই হল রাজা---
দেশপ্রেমিক , মানবদরদী , ভোগ করে কঠোর সাজা !
ধ্বংস করেছে মানবতাবোধ, খোয়ালো দেশরও মান---
তাদের স্বার্থেই হারাতে হল, দেশ-ধন , কতো যে প্রাণ !

সাধারণ মানুষ ভুলে যেতে পারে, ইতিহাস কি কভু ভোলে ?
লোভ ও মোহে অন্ধ হয়ে দেখেনি চক্ষু তুলে !
মরিচঝাঁপিতে কি ঘটেছিল ? বলতো ঘটালো কারা ?
পুলিশ দ্বারা খুন করেছিল, সবহারা বাস্তুহারা !

পাঁচশতজন শিশুনারীসহ রাতের অন্ধকারে !
এসব কথা লোকের মুখে শুনেছি বারে বারে !
রাজ্যজুড়েই লুট খুন ধর্ষণ, কিছুই রাখেনি বাকি
সেই যে দস্যু সাধুর বেশে , দিয়ে গেল সবারে ফাঁকি !

উনিশজন আনন্দমার্গী মারিল আগুনে পুড়ে,
এ হেন খবর ছড়িয়ে গেল , জানিল বিশ্বজুড়ে |
আবারও নিল উনিশটি প্রাণ , সাঁইদের বাড়ির লোক
গণহত্যা--গণধর্ষণ---করেছে কি কেহ শোক ?

বানতলা ও ধানতলায়, খুন হল মানুষ কত ?
সবাই যেন ভাবিয়া থাকেন, ছাগ-মেষ-মুর্গীর মতো |
চায়ের বাগান কল-কারখানা--বন্ধ করালো কারা ?
শ্রমিক ও কর্মীর কর্ম গিয়ে , করালো সর্বহারা !

তাই অনাহারে শ্রমিক ও কর্মী মরেছে শতশত !
নিজেই করিয়ে , কিছু জানে না, অবুঝ জন্তুর মতো
রাজভাঁড়ার শূন্য করে, দেউলিয়া করেছে দেশ,
গায়ের জোরে সব কেড়ে নিয়ে করিতে চায় সে শেষ |

শত শত নারী ধর্ষিতা হল | করালো হাজার খুন,
তবুও নীরব শান্ত শিষ্ট সেই ভ্রষ্টাচারীর গুন |
শতশত মানুষ ঘর ছাড়া করে, তাদেরই অত্যাচারে
আইনজীবী-বুদ্ধিজীবী, বলতো সুধাব কারে ?

আমিও সেই সঞ্জয় যথা---অনেক দেখেছি বই---
রাষ্ট্রশক্তি, আইন থেকেও ---বিচার হল কই ?


.                   ****************                                             
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
শপথ নেবার দিন                                    
কবি নরবাহাদুর লামা

হায়! বলতো এই কি সেই স্বাধীনতা ?

পরাধীন দেশ স্বাধীন হবার ছয়টি দশক পরেও
ভারবর্ষের বহু মানুষের আজও অশ্রু ঝরে !
কত লোক কাঁদে পুত্র- শোকে ; কাহারও পত্নী-পতি--
স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও , এ কী দুর্গতি!

উগ্রপন্থিরা নির্বিচারে খুন করে কতো না লোক !
রাজনীতর শিকার হয়েও সহিছে দুর্ভোগ !
মাননীয় দেশের শাসক -শোষক মাফিয়া মুনাফাখোর
রক্ত-শোষক সব ব্যাটা সাধু, জনগণ আমরা চোর ?

অত্যাচারীর অত্যাচারে--- সবারেই পাগল করে,
খুন, নারীধর্ষণ, ধনপ্রাণলুটে-- নিঃস্ব করে হরে !
প্রধানসহ, মুক্ খু-সুক্ খু-সাজিয়া সাধুর বেশ,
তারাই সব লুটেপুটে খেলে, কি করে বাঁচবে দেশ ?

বিশ্বের দিকেই তাকিয়ে দেখ ; সৎ আছে কয়টি লোক ?
দুখীর রক্ত শোষণ করে, যেকোনো অন্য দেশ
ক্ষমতা বলে করিতে চায়, একে একে সবারে শেষ !

যথা--একদা বৃটিশ কী করেছিল ? সে কথা সবাই জানে
একরূপ বিশ্বই গ্রাস করেছিল, অদ্য কি কেহ মানে ?
হিটলার ব্যাটাও কী না করেছিল, সীমাহীন অত্যাচার ;
পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে পতন ঘটিল তার |

তারপরে দেখো. আমেরিকা--চীন , লুটিয়ে পরের দেশ,
ক্ষমতাবলে লুটিতে চায়--করিতে সবারেই শেষ !
নেহেরু ও জিন্নার স্বার্থেই তেমনি, ভারত করিল খন্ড---
তাবড় তাবড় নেতারা দেখি, সাধু বেশে সব ভন্ড !

আবার দেখো দুভাগ হল, একটা পাকিস্থান---
মুসলিম হয়েও মুসলমানের ---নিয়েছে কত না প্রাণ!
তাই বলে সবাই তো সমান নয়, মষ্টিমেয় লোক--
দেশ ও জাতির সম্পদ লুটে, নিজেরাই করে ভোগ !

এদেশ সোনায় মোড়ানো যেত ! যদি হত নেতারা সৎ
নেতার বেশে দেখো না আজ, চারিদিকে শুধু বদ !
দেশ বা জাতি গোল্লায় যাক, চায় শুধু গদি ও টাকা
সেই সব টাকায় সুইস্ ব্যাঙ্ক ভরে, করিয়া দেশকেই ফাঁকা |

উগ্রপন্থী---গুন্ডা বা ডাকাত, সমাজ বিরোধী যত,
আর ক্ষমা নয়, ধরো আর মারো, বিষধর সর্পের মতো !
সভ্যযুগের এইসব মানুষ---কত না ক্ষতি করে
নিজের দেশ সকল জাতীর সবকিছু এরা হরে !

নেতা হোন বা পিতাই হোন, অর্থলোভী যারা,
আমি তো বলবো বন্ধু নয়, দেশের শত্রু তারা !
খাঁটি মানুষ গড়িতে হবে; দেশের প্রতিটি ছেলে---
বলতো মোদের কিসের ভাবনা, সবারে সঙ্গে পেলে ?

দেশপ্রেমিক বাঙালিরা আছে ; বীর সেনা গোর্খা ও শিখ
সবার মাঝে ঐক্য হলে , তবেই তো হবে সব ঠিক |
রাজপুত সেনা, মারাঠা ও জাঠ! আরও বহু জাতি--
সবাই মোদের সহোদর ভাই, অথবা পরমসাথী |

একশত কোটি ভারতবাসী ; নয় মোরা এতোই ক্ষীণ
দেশ রক্ষার এসেছে  আজ, শপথ নেবর দিন |

.                   ****************                                            
বিতার সূচি   




মিলনসাগর
*
(মিলনসাগরে, আমরা অভিভূত কবি নরবাহাদুর লামার এই কবিতাটি পেয়ে | যদিও কবি এই কবিতাটির মাধ্যমে তাঁর "প্রাণের
কৃতজ্ঞতা" জানিয়েছেন, আমরা এই কবিতাটিকে কবির আশির্বাদ মনে করে শিরোধার্য করলাম | কবির এত স্নেহ, ভালবাসা ও
আশির্বাদ পেয়ে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি এবং কবির দীর্ঘ, সুস্থ ও আনন্দময় জীবন কামনা করছি - ১৫.১১.২০১০)


প্রাণের কৃতঞ্জতা
শ্রী মিলন সেনগুপ্ত ও শ্রী মানস গুপ্তর প্রতি সমস্ত কবি সাহিত্যক এবং সমাজসেবীদের পক্ষ্যে বাংলা
ভাষায় নেপালি কবি শ্রী নরবাহাদুর লামার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা সহ ক্যাবিক কৃতঞ্জতা ঞ্জাপন


ওহে প্রিয় মিলন সাগর পদবী গুপ্ত তব-
তুমি তো মহান সমাজসেবী
বল তো আর কী কব ?

বিনা স্বার্থে করিছ তুমি, অনেক জনের কাজ
মোদের আলো দেখিয়ে সবে,
রাখিতে দেশের লাজ ।

কেই বা চিনিত সেই গদাধরে ? নরেন দত্ত বিনে-
শ্রী রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দে,
অদ্যে? বিশ্ববাসীই চিনে।

মানব বেশে নারায়ণ এসে বিলাতে বিবেকঞ্জান
শিষ্যের বেশে শিব এসে,
রাখিলেন গুরুর মান।

তেমনি তুমিও উড়িয়া এসে ক্ষুদ্র কবির ধাম,
ঝড়ের বেগে ছড়ালে তুমি,
অখ্যাত কবিরও নাম!

সঙ্গে লয়ে বন্ধু তব মানস সরোবর,
পদবী তাঁরও গুপ্ত বটে,
জানিনা কোথায় তাঁর ঘর।

মহান ক‍‍রমে এগিয়ে য়েও, এমনি ধীরে ধীরে
কাহারও কথায় ভুলিয়া যেন
চেও না পিছনে ফিরে।

মোদের বানী পৌঁছে দিও সবার ঘরে ঘরে,
নরেন যথা মহান হবে!
বিশ্ব চরাচরে।

সপরিবারে জানাতে ভুলো না, মোদের সবার কথা
প্রীতির সাথে রহিল মোদের
প্রাণের কৃতঞ্জতা।

১১/১১/১০
বোড়াল ঘোষপাড়া,
কোলকাতা-৭০০১৫৪।


.                                                ****************                                
বিতার সূচি   




মিলনসাগর