কবি নিশিকান্ত রায়চৌধুরী - জন্ম গ্রহণ করেন তাঁর মামাবাড়ী, অধুনা
বাংলাদেশের বরিশাল জেলার উজিরপুর গ্রামে। পিতা বিজয়শঙ্কর রায়চৌধুরী ছিলেন আইনজীবী। মাতা
সৌদামিনী দেবী | কবির পৈতৃক বাসভূমি অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট মহকূমার
শিবহাটি গ্রামে।

কবি শিক্ষা লাভ করেন সিউড়ির বেণীমাধব ইন্সটিটিউশন এবং শান্তিনিকেতনের কলাভবন থেকে। দাদা
সুধাকান্ত রায়চৌধুরী ছিলেন
গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেক্রেটারি। মাত্র চার বছর বয়সে মাতৃহারা হয়ে
কবি শান্তিনিকেতনে চলে আসেন।

শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে "চাঁদকবি" বলে ডাকতেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় নিশিকান্ত কবিতা লেখা শুরু
করেন। অবনিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নন্দলাল বসুর কাছে শিল্প বা আর্ট শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে
বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শান্তিদেব ঘোষ, সাগরময় ঘোষ, রামকিঙ্কর বৈজ দের মতো
সৃষ্টিশীল মানুষদের। পরবর্তীতে
দিলীপকুমার রায়ের সাথেও বন্ধুত্ব হয়।

১৯৩৪ সালে, ২৫ বছর বয়সে তিনি চলে যান পণ্ডিচেরীতে। সেখানে তাঁর আধ্যাত্ম সাধনার ক্ষেত্রে পরম
অবলম্বন হয়ে ওঠেন পণ্ডিচেরী আশ্রমের শ্রীমা এবং স্বয়ং ঋষি অরবিন্দ। তখনও তাঁর কবি হিসেবে তেমন
পরিচিতি গড়ে ওঠে নি। এখান থেকেই তাঁর একের পর এক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হতে থাকে।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ "অলকানন্দা" (১৯৪০)। এর পর বার হয় "দিগন্ত' (১৯৪৪), "পঁচিশ প্রদীপ" (১৯৪৫),
"ভোরের পাখি", "দিনের সূর্য", "বৈজয়ন্তী", "নবদীপন", "মর্মবিহঙ্গ" প্রভৃতি।

অলকানন্দা পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় চাঁদকবি কে লিখেছিলেন - "ভাষা এবং ছন্দের মধ্যে দিয়ে তুমি
যে বাণীশিল্প রচনা করেছ, রস মাত্রেরই কাছে তা সমাদৃত হবে।" নিশিকান্ত শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন
রবীন্দ্রনাথের স্ফুলিঙ্গের মতন খণ্ড কবিতা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ সেগুলি সংশোধন করে ছাপাতেন "বিচিত্রা"
পত্রিকায়। নিশিকান্তর এই টুকরিগুলির সঙ্গে নাকি
কবি বিষ্ণু দের লেখার অবিকল মিল খুঁজে পাওয়া যায়!

তাঁর কবিতার উত্স মূল আধ্যাত্মবাদ। তাঁর লক্ষ্য ছিল আধ্যাত্মিকতার শিখরে পৌঁছানো। জগৎ সংসার
সেক্ষেত্রে তাঁর কাছে অনিত্য। সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার, ধ্বনি-গাম্ভীর্য এবং চিত্রময়তা তাঁর কাব্যের প্রধান
বৈশিষ্ট্য।

তাঁর দিগন্ত কাব্যগ্রন্থের তিনটি কবিতা পড়ে দ্বারভাঙ্গা থেকে বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন
- "প্রত্যেক কবিতাই আমি বারতিনেক করিয়া পড়িলাম, প্রতিবারই মনে হইতেছে যেন ক্রমেই অসীমের মধ্যে
বিকশিত হইয়া উঠিতেছি।"

কবি বুদ্ধদেব বসু, নিশিকান্তকে তাঁর "আধুনিক বাংলা কবিতা" থেকে বাদ দিতে পারেন নি। সঙ্কলনে স্থান
দিয়ে লিখেছেন - "এই আধুনিক কবিতা এমন পর্যায় নয় যাকে কোনও একটা চিহ্ন দ্বারা অবিকল
ভাবে শণাক্ত করা যায়। এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বিশ্ববিধানে আস্থাবান চিত্তবৃত্তি... সামাজিক জীবনের
সংগ্রাম আর আধ্যাত্মিক জীবনের তৃষ্ণা...।" "পণ্ডিচেরীর ঈশান কোনের প্রান্তর" কবিতাটি সম্পর্কে
বুদ্ধদেব
বসু
মন্তব্য করেছেন - "অদ্ভুত, সুদূর, অতিপ্রাকৃত ছবি আঁকবার ক্ষমতা।"




উত্স :  বিজনকুমার ঘোষ, কবি নিশিকান্তের ভিটে দেখে এলাম, দৈনিক স্টেটসম্যান, ৬ এপ্রিল ২০১০
.           
ডঃ শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩

এই ওয়েব সাইটে কবি নিশিকান্ত রায়চৌধুরীর মূল পাতায় যেতে হলে এখানে ক্লিক্ করুন..
.          
www.milansagar.com/kobi/nishikanta/kobi-nishikanta.html



আমাদের যোগাযোগের ঠিকানা :-   
মিলনসাগর       
srimilansengupta@yahoo.co.in      
.