কবি পাপড়ি গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা
*
চিতা
কবি পাপড়ি গঙ্গোপাধ্যায়

দুলে উঠল বান্ধবীটির নাভি এবং স্বর
তার ওপারে মধুর ধু ধু জ্বলছে ভয়ংকর

সেই খতাটা বোঝাতে চাই রোজ
রূপকথা বা রূপোকথার খোঁজ
বন্ধ রেখে আয়না দু’পা হাঁটি
ঘায় হয়ে চ’ শান্ত গাঢ় মাটির
বুকের নীচে কিছু শিকড় ছাড়াই

কিংবা ভাঙি তুমুল কিছু চড়াই
না, তারা না, ছোঁব পাহাড়-শেষ
ওটাও কোনো অহংকারী রেশ
তবুও চূড়া নিপাট ধরাতল
আকাশ ভালো, পাহাড় ভালো, তারা অমঙ্গল।

তারা সে খসবেই
অন্ধকারের মরণ তাকে নিয়ত টানবেই
জলের পরী উড়তে চাইছে তবু
সয় না বাধা, সয় না কোনো সবুর
শ্যাওলা হয়ে তাকে যখন বাঁধি
প্রাণের আকুল প্রবণতায় জলের জীবন সাধি

জ্বলছে আজও বান্ধবীটির নাভিক্ষরা স্বর
সে বুঝছে না তারার আলো মধুর ভয়ংকর।

.           *****************

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
জোয়ার-ভাটা
পাপড়ি গঙ্গোপাধ্যায়


ঢেউগুলো প্ররোচক, ডাকে এক স্পর্শের জগতে
ভেদ করে চলে যায় অস্থি-মজ্জা-রস

যাবতীয় শূন্য অসুন্দর সব গহ্বর সমেত
.        স্বাদহীন শব
.        লবনাক্ত জলে টলমল

লবনাক্ত, কিন্ত নীল নয়
তীরের সঙ্গতে এলে জল পায় মেটে-বালি রং

.        শবের স্নায়ুও যেন শীত বোধ করে
.        ফের চায় আলোর আগুন

আগুনে পোড়ার কথা তার।

.        শ্মশানের ভবিষ্যৎ উলটে দেয়
.        জন্মলুব্ধ জিহ্বা আর আ-আলজিভ
.                        জলোচ্ছ্বাস গ্রাস



ফেনা এসে ছুঁয়ে ফেলে
চুম্বন করে যায় দ্রুত পলায়নরত দু-পায়ের পাতা
তারপর বেঁধে নেয় খেলার মায়ায়

স্পর্শের আবেগে মেতে দু-পায়ের পাতা ক্রমে বদলায় দিক
দু-হাত ছড়িয়ে দিয়ে সাগরকে বুকে পেতে চায়।

.         
       *****************

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুসিদ্ধান্ত
পাপড়ি গঙ্গোপাধ্যায়

তবে কি মিথ্যে সেই আলোছায়া ?
বসন্ত রঙ চোখের জলসা ?
আগুন-ঘি আর চুম্বক লোহা ইতিহাসে পড়ি
তবুও আমার নীল অ্যালবাম বন্ধই রাখি।

এঁটোকাঁটা নিতে অঞ্জলি পাতি---
পালন করেছি নির্দেশিকার লক্ষ্ণণরেখা
শূন্যে চেয়ে কৃপণতা তবু আমার জন্য।

উষ্ণতা ছিল তোমার ভাঁড়ারে
উদ্বৃত্তই ফেল ও ছড়াও।
আমাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করতে
চৌকাঠ জুড়ে বর্শা সাজাও।
জলপাইবনে শৈত্যপ্রবাহে
অকালমৃত্যু ঘটল আমার।

চৌচির হয় পার্বণ দিন প্রতীক্ষাতে
আমাকেও ডাকে ক্ষতবিক্ষত উদ্গ্রীব কেউ
কৃপণতা জানি, তাই কোনোদিনও কৃপণ হব না।

.         *****************

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
মেয়ে জোকার
কবি পাপড়ি গঙ্গোপাধ্যায়

জোকারদের রংচঙে কুর্তার মত রঙিন আমার চুল,
.        চওড়া স্থায়ী হাসির মত ঝিলমিলে ত্বক।

.        স্বেচ্ছায় বেছেছি জোকারগিরি,
কে চায় পিপীলিকার মত পাখাওয়ালাদের সহানুভূতি!

.        জোকারের কোনো দায় নেই বিশেষ কিছু করার
.        সে যাই করুক লোকে হাসে।
এমন কী আসে পাশের পিপীলিকারা
.        রামচিমটি শ্যামচিমটি কাটলে
.        ভেউ ভেউ কেঁদে নিতেও পারে
.                                একান্তর

স্থায়ী অন্তরায় হয় না
.        এই সব মৌলিক সঞ্চারীর মত জলের উত্স।

কত মেয়েই তো কাটাচ্ছে এই জোকারজীবন
আলাদা করে তাই আর মেয়ে জোকার পাওয়া যায় না।

.     
            *****************

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর