কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা ও গান
*
শরীরখানা গড়ো আগে শরীর গড়ো
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - নচিকেতা ঘোষ
শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ছবি - হাত বাড়ালেই বন্ধু, ১৯৬০
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


শরীরখানা গড়ো আগে শরীর গড়ো
নইলে পরে সব ভণ্ডুল আর যা কিছু করো
ব্যাঙ্কে টাকা বাড়ার সঙ্গে বাড়ে যদি ভুঁড়ি
আর চর্বি হওয়ার বলদ হলে কিসের জারি জুরি
এই খখ্ কো খখ্ কো কাশো যদি বেদম হাঁফের টানে
আর দাওয়াই ঢালার পিপে হয়ে বাঁচব কিবা মানে
.          শরীরখানা গড়ো আগে শরীর গড়ো
ফুল কি ফসল যা ফলাবে জমি তৈরি করো
বাল্মীকি ব্যাস ছিলেন জেনো দিব্যি পাকা আমটি
ও সব মহাকাব্য লিখতে নইলে হত খাম্ তি
আর নারদ ঠাকুর ভরত মুনি ছিলেন নাকো শুধু গুণী
হাতের পায়ের গুল কি ছিল মাপ যদি কেউ রাখত
গামা গোবর ভ্যাবাচ্যাকা হাঁ হয়ে ঠিক থাকত
ফুলের ঘায়ে মূর্ছা গেলে কালিদাসের কাব্য
দুটি হাজার বছর ধরে থাকতো কি আর শ্রাব্য
কলম থেকেই বুঝি যে তার কব্জি কেমনতর
তাইত বলি শরীর গড়ো আগে শরীর গড়ো
স্যান্ডো হব ? এই প্রকাণ্ড বুকের ছাতিখানা
আর শ্যামাকাণ্ড হয়ে দেব বাঘের ডেরায় হানা
এই স্যামসন কি হারকিউলিস কে যে উনিশ
.                                  কেই বা বিশ ?
ভীম কিংবা পবনপুত্র কে কার চেয়ে বড়
বোঝা কঠিন তবু বলি, শরীর গড়ো আগে শরীর গড়ো |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জানি না কোথায় আছ - রাশিয়া কিংবা রাঁচি-
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - শচীন দেব বর্মন
শিল্পী - মিস রমলা
ছবি - প্রতিশোধ, ১৯৪১
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


জানি না কোথায় আছ --- রাশিয়া কিংবা রাঁচি---
শুধু জানি কাছাকাছি দুজনে |
জানি না দিন কি রাত, হাতে যদি থাকে হাত
কেটে যায় শুধু মধু কূজনে |
রৌদ্র না জ্যোত্স্না, নাই কোনও শোচনা
জানি আলো আছে তার নয়নে
কালো চোখ, কালো চুল আর সব জানি ভুল
দিন যায় স্বপনের বয়নে |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হাতেতে হাত মেলাও
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - রবীন চট্টোপাধ্যায়
শিল্পী - কোরাস গান
ছবি - সমাধান, ১৯৪৩
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


হাতেতে হাত মেলাও,
ভাই ভাই সারা দুনিয়াই আজ
.           জোরসে পা চালাও |
পথ কি অনেক দূর
দুর্গম বন্ধুর ?
.           আলো নাই থাক ভয় নাই তবু
.           প্রাণের দীপ জ্বালাও |
নূতন যুগের দ্বার
রোধে কে পাহারাদার ?
কার লোভ করে প্রভাত আড়াল
.            তফাৎ সরে দাঁড়াও
আকাশ ঘন ঘটায়
মিছেই ভয় দেখায়,
কিছু নাই যার কি হারাবে তার
.            কেবা হবে পিছপাও |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সে তো ভাসায় ফুল জলে, আমার ভাসে কূল লো
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - রবীন চট্টোপাধ্যায়
শিল্পী - মেনকার গান
ছবি - সমাধান , ১৯৪৩
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


সে তো ভাসায় ফুল জলে, আমার ভাসে কূল লো,
ওপারে তার বাঁশি বাজে, আমার কাজে ভুল লো
.           কেমনে যে করি মানা,
.           উড়ে যাব নেইত ডানা ;
.                     পারাপারের পুল ভাঙা
.                     খেয়ার নেই মাশুল লো |
জলে ভাসান দিয়ে যাব, কোন ভরসায় যাই লো
মানা যদি হার-মানা হয়, ফিরতে না তার চাই লো !
.           মানা করা হোল না ভাই
.           বুকের আগুন চোখে নেভাই,
ভেসে আসা ফুল দিয়ে বাঁধি বসে চুল লো |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শহরে সবই বিকায়
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - নচিকেতা ঘোষ
শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ছবি - হাত বাড়ালেই বন্ধু , ১৯৬০
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


.        শহরে সবই বিকায়
.        লজ্জা শরম ইমান ধরম
বেচলে তারও দাম পাওয়া যায় |
.        মণি মাণিক মাটি পাথর
যা চাও পাবে সুধা জহর,
শুধু একটু দরদ বিনে
এই মরুতে হৃদয় শুকায় |
.       অনেক কিছু করো ফিরি
.                 ফেরিওয়ালা
সেই চাবি কি দিতে পারো
.       খুলবে যাতে বুকের তালা
বন্ধ বুকের দুয়ার পাশে---
.       ঘুরে বেড়াই মিথ্যা আশে
চিচিং ফাঁক যা ঘুচায় বাধা
.       সে মন্ত্র হায় কেই বা শিখায় |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হই যদি বড়লোক মস্ত
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - কালীপদ সেন
ছবি - সদানন্দের মেলা, ১৯৫৪
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


হই যদি বড়লোক মস্ত
.    করব কি ? বল কি করব ?
.    ছাদ থেকে হাত তুলে
.          আকাশের চাঁদটারে ধরব ?
খাব কি ? সোনাদানা মুক্তো ?
বড়লোক হয়ে এই সুখ তো ?
নাড়ব না হাত পা কিচ্ছু,
.          দিনরাত চৌদোলা চড়ব |
হায় হায় বড়লোক হওয়া দায় !
.     কত বড় হয়েছি তা
.          মাপতেই দিন যায় |
তার চেয়ে ছোট্টই থাকি না
তোয়াক্কা কারও কোন রাখি না |
.          খাই দাই গান গাই
.          বড় শুধু প্রাণটাই
এই ছাড়া নাই কোন গর্ব |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হাওয়া নয়, ও তো হাওয়া নয়
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - পবিত্র চট্টোপাধ্যায়
ছবি - হানাবাড়ি, ১৯৫২
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


হাওয়া নয়, ও তো হাওয়া নয় |
নিশুতি রাত বুঝি কথা কয় |
( ধরার ) গোপন বুকের পাঁজরে
কথা জাগে আজও রে
.           ক্ষুধা পিপাসার, আশা নিরাশার ধারা বয় |
শুনি কানে, না শুনি প্রাণে |
বুঝি না তবু যেন মন জানে |
আকাশে তারারা পেল কি ইশারা
নীরবে কান তাই পেতে রয় |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দাঁড়াও না দোস্ত ! একটু শোন
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - রবীন চট্টোপাধ্যায়
শিল্পী - ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য , পূজা ১৯৭৮
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


দাঁড়াও না দোস্ত ! একটু শোন ----
চোট্ খেয়েছো ? কে দিলে ?
জান্ করেছো কবুল যারে
বুঝি সে, জান্ ছাড়া আর সবই নিলে !
গুলি নিতে পারো জানি
দরাজ তোমার বুক পেতে
শেখনিতো কালো চোখের
বিষ মাখানো তীর খেতে |
বুকের দাগা মিলিয়ে দেবার
আজব দাওয়াই মিথ্যে খোঁজা
ঝাঁঝরা হোল পাঁজরা শুঝু
হার মেনেছে হাকিম রোজা |
আসমানে যে ক্ষ্যাপা তুফান
নসীবে তার এমনই বিধান,
যার বিজলী জ্বালায় তারে
সে মেঘ মাটির সাথেই মিলে ||

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নীল ! নীল ! সবুজের ছোঁয়া কিনা তা বুঝি না
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর - সুখীন দাশগুপ্ত
শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


নীল ! নীল !
সবুজের ছোঁয়া কিনা তা বুঝি না,
ফিকে গাঢ় হরেক রকম
কম বেশী নীল !
তার মাঝে শূন্যের আনমনা হাসির সামিল
.          কটা গাঙ্ চিল |
ভাবি বলি সাগরের ইচ্ছে
সাদা ফেনা থেকে যেন
.          শাঁখ মাজা ডানা মেলে
.          আকাশের তল্লাস নিচ্ছে |
.          মিথ্যেই
মিল-খোঁজা মন চায় উপনা |
.          নেই, নেই !
হৃদয় দুচোখ হয়ে, শুধু গেয়ে ওঠে
.           সেই ! সেই !
মাটি, গাছ, তীর সব একেবারে ফেলে দিয়ে আসা
.           সুবিশাল  ডানা মুড়ে
.           নোনা ঢেউ-এ আলগোছে ভাষা
কূল- ছাড়া জল আর
.          মেঘ, তারা, হাওয়া নিয়ে থাকা,
সময়ের নীলে শুধু
.           উদ্দাম অবিরাম আল্পনা আঁকা
কি যেন কি যেন ঠিক
.           মন দিয়ে জানতে না জানতে
.           স্টিমার পৌঁছে যায়
.           আজকাল পরশুর প্রান্তে |

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চেয়েই বারেক দ্যাখো না
রচনা - প্রেমেন্দ্র মিত্র
সুর ও শিল্পী - শ্যামল মিত্র
আকাশবাণীর রম্যগীতির জন্য লিখেছিলেন
সৌজন্যে স্বপন সোম, সংকলক “গানের ভিতর দিয়ে ১”, ১৯৯৮।


চেয়েই বারেক দ্যাখো না
.         এত কী ভয়
নয়নে নয়ন মেলে যদি তবু
.         হবে না কোনও প্রলয় |
হয়তো আকাশ উঠবে যে একটু দুলে
তুফানে সাগর উঠতে পারেও ফুলে
.          ঠোকাঠুকি হবে তারায় তারায়
.              তার বেশি কিছু নয় |
তোমার আমার দেখা হওয়া বল
.          কতটুকু আর ঘটনা
সূর্য চন্দ্র যুগ যুগ ধরে
.          যদিও করেছে রটনা |
শিহরণ যদি লাগে ধরণীর মনে
বুকের আগুন ফুল হয়ে ফোটে বনে
.        না হয় গোপন রবে না বারতা
.                    মিলেছে দুটি হৃদয় ||

.                ***************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর