প্রত্যাশা      
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী

সুকান্তর রানার
যখন নজরুলের কান্তার মরু পেরিয়ে ছুটছে
তখনও
রবীন্দ্রনাথের ডাকঘরের অমলেরা ধুঁকছে
রোগশয্যায় |  শরত্চন্দ্রের অচলা কাঁদছে বারবেলায় |


তবুও সংগ্রাম, ষড়যন্ত্র, বেদনা, বিচ্ছেদ
সব মিলিয়ে আটপৌরে বাঙালীর
এত সাধ সোহাগ স্বীকৃতির জন্য
মিলনসাগর
বেনারসী জুটল না |  বীরের খ্যাতি হ’ল বলে
কাশ্মীরি মোহনলাল, হিন্দুস্থানী মঙ্গলপাঁড়ে আর
মেদিনীপুরের ক্ষুদিরামের রক্তের কামাই খেয়ে
স্মৃতি ভারে অলস বাঙালী নূতন বিদ্রোহের
বসন্তকে স্বাগত জানায়নি অনেককাল |
.       
মিলনসাগর অথচ এখনও সকাল |


তাহলে পদ্মার চালানি ইলিশ, ধনেখালির ধুতি
আর নলেন গুড়ের সন্দেশে শীতের শিশির
এপার বাঙলার বাঙালীর শেষ কথা ?
.         তবুও আমরা সবাই উজীর |
.             সত্যিই কি এটাই আমাদের শেষ কথা ;
নকশাল বাড়ীতে গিয়ে উত্তর পেলাম
.        “না” -----কখনোই না  |
কিন্তু সে তীব্র দহন জ্বালা
না সইতে পারি,  না দেখতে পারি
কবিতা মিলনসাগর থেকে নেওয়া    

তাই হাজার নগর ঘুরে
.         কলকাতা বন্দরের তীরে
বাইশ লাখ বেকারের মহা সম্মেলনে
যোগ না দিয়ে সরকারের ঘরে বন্দী |


অপরাধ করেছি বলে মন বলছে না-----
অপরাধীর জীবনকে অভ্যস্ত করেছি |
শুনেছি খুব শীঘ্র সকাল আসছে,
ভোরের সূর্যোদয়ের আগেই “রানার”  এসে যাবে----
হাতে তার চিঠি | বিদ্রুপের সংবাদ ভরা চিঠি |
কবিতা মিলনসাগর থেকে নেওয়া    

বন্দীশালা থেকে
এই দশকের বিপ্লবীদের গোসলখানা,
বাবুদের সরাইখানা থেকে
গণতন্ত্রের কসাইখানা-----
সবকিছু হবে তোলপাড় |
তারপরেই মুক্তিযুদ্ধ শেষে
“সমুখ শান্তি পারাবার” |
আমাদের সংজ্ঞাহীন মনুষ্যত্বে
নপুংশকের নেতৃত্বে

   এবং
হৃদয়হীন প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বে
.          আগুন লাগা আলোতে
.          দগ্ধ ভষ্ম
মিলনসাগর
.          নূতন প্রভাত,
সুকান্ত নজরুল আর রবীন্দ্রনাথের আত্মার
.                           নয়া অভিষেক
.                    কেটে যাক্ দুর্যোগের রাত ||

.              ******************     
.                                                                               
সুচিতে...   


মিলনসাগর
কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর কবিতা
*

তোমার বসন্তে যারা নিল উপহার |
তোমার নিদাঘে তারা করে তিরস্কার |
তোমার আশ্রয়ে যারা পেয়েছে আলয়
তোমার প্রস্থানে তারা সব নিরাশ্রয় |
তোমার প্রতিভা যারা করেছে সম্মান
তোমার আশীষে তারা সবাই মহান |

যতদিন রবে বীণা মৃদঙ্গের ধ্বনি
ততদিন মর্ত্যলোকে তব স্বরবাণী |
যতদিন অভিনয়ে মূক কিছু পেয়ে যাবে প্রাণ
ততদিন ছায়ালোকে বেঁচে রবে তব অবদান |
ইন্দ্র রাজার থেকে মানুষ রাজার দেশে
সুখ দুঃখে কেঁদে হেসে
.          সবাইকে ভালবেসে করেচ প্রস্থান
.          মঞ্চে এল পর্দা নেমে, নটকের হল অবসান |

     রাজার আলয়ে পেয়ে বনবাস শেষে
.          সঙ্গে কিছু মর্ত্য স্মৃতি শ্যাম বঙ্গদেশে |

.          কে বলে মরেছ তুমি উত্তমকুমার ?
.          মরেছে শ্রাবণ শুধু তাই হাহাকার |


যখনই চেয়েছি আমি সুন্দরের কোন উপহার
দাঁড়ায়ে সামনে দেখি হাসিমুখে উত্তমকুমার  |

.                ******************     
.                                                                               
সুচিতে...   


মিলনসাগর
*
দেবতা কোথায়     
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী

দেবতার প্রস্থান
তবুও কাঁসরঘন্টা
পন্ডিতের তান্ডবে
.                অ
হাড় হাভাতে কঙ্কা
হিন্দুস্তানের বেও
ঝিলমিল গরদ গা
সোহাগের সর্বনা
পাত্র দাও, পুত্র দা
লোভের পাহাড়ে
তার বিনিময়ে না
লুকোনো সম্পত্তি
তুমি আমার সিন্দু
আয়করের দফতরে ঘুষের বহরে যেন পার পেয়ে যাই
হে ঈশ্বর, তুমি আমায় সে পথ দেখাও |
এমনি করেই সাড়ে পাঁচ আনা রেটের বামুনের
যজ্ঞোপবীত স্পর্শে কালীঘাটে কামাখ্যায়
দক্ষিণেশ্বর বেনারস তারাপীঠ গঙ্গায়
সিঁদুর, চন্দন আর বাসিফুলের মালায়
লোভ, পাপ, ঈর্ষা, ব্যভিচারের পীঠে
পরিত্যক্ত গীতা, বেদ আর পুরাণের কথা |
অপার মহিমা ঈশ্বরের !
জীবের লাগি দুষ্টের পালন নিত্য
যাতায়াত কালে তার সাথে নিত্য দেখা হয় |
চেয়ে দেখি, এ দানব নিশ্চয় |
এত বড় হিংস্র কিছু দেবতা কি হয় ?
শূন্যলোকে শুনি বাণী, জেনেছ নিশ্চয়-----
মোরা ছেড়ে চলে গেছি মর্ত্যের আলয় |
পান্ডার শাসন আর ভন্ডের জয়
এত বেশী হয়ে গেল দেবতার ক্ষয় |
মন্দিরের গৃহকোণে নেই মোর স্থান
দিনান্তের গোধূলিতে হয়েছে প্রস্থান |
যখন মন্দিরেতে শঙ্খঘন্টা জোরে
আমি তখন বহুদূরে নিশ্চিত আশ্রয়ে
পর্ণ কুটীর ঘরে স্বর্গসুখ তরে
দরিদ্রেরে করেছি সম্মান--- |
যদি থাকি রব তার সাথে
তবু পাব দেবতার সম্মান |

.       ******************     
.                                                                               
সুচিতে...   


মিলনসাগর
*
মধুশ্রাবী বাক্যমালা
তবুও নিশ্চিন্ত হয়ে
সম্মেলনে যারা আসে
সামান্য ক্লান্তির পর
এখনই যেতে হবে শ
সংবাদের শিরোনামে
এমনি করেই কাটে
লাল সাদা কালোদে
মুক্তি চাই, মুক্তি হবে,
এমনই প্রচন্ড মিথ্যা
গঙ্গা সাক্ষী, সূর্য সাক্ষী,
মিথ্যাচারে শেষ হ’ল

এখন মধ্যাহ্নবেলা দুরন্ত এ রোদ |
এখনও কি হবে নাগো শেষ প্রতিশোধ ?
আমি প্রভু, কাজ মোর তোমার শোষণ
তোমাদেরই মূল কাজ আমার নিধন |
যতদিন মুখ বুজে সহ্য করে যাবে
ততদিন জঠরেতে অগ্নিদগ্ধ হবে |
তাই আজ শেষ হোক বঞ্চনার গান
তোমাদেরই সংগ্রামে তোমাদের প্রাণ |

.            ******************     
.                                                                               
সুচিতে...   


মিলনসাগর
*

এখন আর পুলিশ আসবে না
তিনবিঘে মাটির মালিক হবার স্বাদ
পৌষের দুপুরে বিষাক্ত |
জলে ঘামে রোদে পোড়া দেহটার
.                    কানায় কানায়,
শয়তানের ক্ষতচিহ্ন আঁকা |
লাল কাপড়ের মাথায় বর্শার ফলা
মার্কসকে অপমান করে
এখানে এখনও ধানক্ষেতে
.                   সবুজে হলুদে রক্তের আলপনা দেয় |
জোতদারের ঠিকানা জানি না,
তবে জনি সে এখন নিরাপদে
.                   মধ্যাহ্ন বিশ্রামে |
শয়তানের কোষাগারে অজস্র সে দান
.                   তাকে নিরাপদে রাখে |
আঘাতের প্রশস্ত সে হাতে
বিকৃতির নয়া অভিশাপ
এক বিঘে রোদে পোড়া দেহে
*
রাজার প্রস্থান      
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী
শোষণ     
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী
ঊনসত্তরের মধ্যাহ্নে     
প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী
মুছতে মুছতে
এখনও চোখের জল মুছতে মুছতে
কিন্তু এখনও পুলিশ আসেনি ||

.        ******************     
.                                                                               
সুচিতে...   


মিলনসাগর
চেয়েও
জুয়া খেলা
উপরে