কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী  - জন্ম গ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুর জেলার (অধুনা পূর্ব
দিনাজপুর) চিরিরবন্দর-এ। পিতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দাশমুন্সী ও মাতা রেণুকণা দেবী। তিনি বর্তমান উত্তর
দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এম.এ. এবং
এল.এল.বি ডিগ্রি লাভ করেন এবং কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৪
সালে তিনি বিয়ে করেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী দীপা দাশমুন্সীকে।  

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস দলের ছাত্র সংঘটনের শীর্ষ
স্থানে অধীষ্ট হন। তিনি ১৯৭০-৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০ থেকে
তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির
(AICC) সদস্য। ১৯৭১-৭২ সালে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির
সাধারন সম্পাদক হন। ১৯৭১-৭৫ সালে তিনি সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।
১৯৮০ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হন। এরপরেও তিনি তাঁর দলের ওই পদে
বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

লোকসভায় প্রথমবার নির্বাচিত হন দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালে। এরপর দ্বিতীয়বার নির্বাচিত
হন অষ্টম লোকসভায় ১৯৮৪ সালে হাওড়া কেন্দ্র থেকে এবং তারপর ১৯৯৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে।
নির্বাচিত হন ত্রয়োদশ লোকসভায়  ১৯৯৯ সালে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে। আবার নির্বাচিত হন চতুর্দশ
লোকসভায় ২০০৪ সালে।

একবার তিনি, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। কংগ্রেস ছেড়ে
বেরিয়ে আসার পর করা তাঁর একটি উক্তির জন্য তাঁকে পরে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। উক্তিটি এরকম
ছিল ---

“....যদি শোনেন যে আমি দুশ্চরিত্র তবে বিশ্বাস করবেন। কিন্তু যদি শোনেন যে আমি আবার কংগ্রেসে ফিরে এসেছি তবে বিশ্বাস
করবেন না!”  
“যদি শোনেন সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে বিশ্বাস করবেন কিন্তু যদি শোনেন যে আমি কংগ্রেসে ফিরে এসেছি বিশ্বাস করবেন না!”

পরের লোকসভা নির্বাচনে (সম্ভবত ১৯৮৯) আমরা দেখেছি যে সি.পি.এম. বিরাট বিরাট ব্যানার ও ফেসটুনে
এই উক্তি ছেপে তাদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেছে, কারণ সেবার তিনি আবার কংগ্রেসেই ফিরে
এসেছিলেন! সেই নির্বাচনে তিনি হেরে গিয়েছিলেন।

১৯৮৫ সালে প্রথমবার তিনি ভারতের কমার্স রাজ্যমন্ত্রী মন্ত্রী পদ লাভ করেন। মনমোহন সিং-এর প্রথম
মন্ত্রীসভায় তিনি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হয়েছিলেন। এর পর ২০০৪ সালে তিনি
জলসম্পদ মন্ত্রী হন মনমোহন সিং মন্ত্রীসভায়।     

১২ অক্টোবর ২০০৮ এ হঠাৎ স্ট্রোক হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই থেকে তিনি চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী দীপা দাশমুন্সী তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভার নিজের কাঁধে তুলে
নিয়েছেন। ২০০৯ সালে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস দলের জয়জয়কারের মধ্যেও তিনি কংগ্রেস
দলের হয়ে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন।    

কবির জীবনের অন্যান্য উল্লখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর প্রায় ২০ বছর ধরে
All India
Football Federation
এর প্রেসিডেন্ট পদ অলংকৃত করা এবং Indian Olympic Association  এর ভাইস
প্রসিডেন্ট হওয়া। এ ছাড়া তিনি ডঃ নিহাররঞ্জন রায়ের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত “গণসংস্কৃতি সংসদ”-এর সভাপতি।

প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী এমন এক সময়ে রাজ্যের রাজনীতিতে এসেছিলেন যখন পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস দলের
স্বর্ণযুগ অস্তমিতই বলা চলে। দল তখন দলবাজী, গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব ও পরে শাককদল সি.পি.এম.-এর তাবেদারী
করার মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে যাচ্ছিল। তার উপর রাজ্য রাজনীতিতে বামপন্থার প্রাধাণ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।
ধীরে ধীরে রাজ্য রাজনীতি থেকে কংগ্রেস প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছিল। সে সময়ে যে কয়জন কংগ্রেসী
নেতা-নেত্রী নিজেদের, রাজ্য রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী
নিঃসন্দেহে অন্যতম।

তাঁর কবিতায় অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা-বেদনার কথা। তাঁর কবিতায় শোষণের বিরুদ্ধে ঝংকার। তাঁর
কবিতা যেকোনো বামপন্থী কবির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, শোষিতের, লাঞ্ছিতের গান গাওয়ায়।
রাজনৈতিক অবস্থানগত দিক থেকে সমকালীন বাংলার তিনি একজন বাম বিরোধী আইকন! কিন্তু তাঁর
কবিতায় ভিয়েতনামের প্রাণপুরুষ হো-চি-মিনের জয়জয়কার। তা তাঁর উদার মনোভাবের পরিচায়ক।
গণতন্ত্রের বেহাল দশা, রাজনৈতিক নেতাদের ভণ্ডামী, সামাজিক অনৈতিকতা,  সবকিছুই তাঁর কবিতায় ধরা
পড়েছে। মানুষের জন্য প্রকৃত টান থাকলেই এমন কবিতা লেখা সম্ভব। কিন্তু মাঝে মাঝে এ চিন্তাও খেলা
করে যায়, যে এই কবি তো শুধু কবি নন। তিনি তাঁর কবিতার মধ্যে যে প্রতিকারের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা
খানিকটা হলেও, সত্যি করে দেখাবার জায়গায় তিনি পৌঁছতে পেরেছিলেন। ক্ষমতার অন্দরমহলে! তারপর
কি হলো! তাই প্রশ্ন থেকেই যায় - এ কবিতা কি শুধু কবিতার জন্য! কিন্তু সে বিতর্ক এখন থাক। আসুন,
আমরা এখানে বরণ করি এক মানব দরদী "কবি"কে। তাঁর ভাষা ছন্দময়, সহজ ও সরল।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “ভোরের সানাই” (শ্রাবণ ১৩৮৮, আগষ্ট ১৯৮১) । তার ভূমিকায় কবি
লিখেছিলেন “কারো কাছে সামান্যও যদি এর সুর বা বেসুর পোঁছায় তাহলে সাহস করে পা ফেলব ‘মধ্যাহ্নের
জন্য’ |”  তাঁর লেখা অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “অনেক রক্ত অনেক নাম”, “টেক ওভার”, “এখন
মধ্যাহ্ন”  (বৈশাখ ১৩৯৯, এপ্রিল ১৯৯২), “অযোধ্যা সায়াহ্নে”  (বৈশাখ ১৪০০, এপ্রিল ১৯৯৩)  প্রভৃতি।


আমরা
মিলনসাগরে  কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সার্থক মনে করবো।

কবি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



উত্সঃ  উইননট্রান্স,
.         
উইকিপেডিয়া     
      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রকাশ - ০৩.০৫.২০১২
...