কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান
*
*
*
*
*
*
*
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - ভি বালসারা,
শিল্পী - হেমন্ত মুখার্জী ও শ্রাবন্তী মজুমদার

আয় খুকু আয় খুকু আয়
কাট্না সময় যখন আর কিছুতে
বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না
জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা
মনে হয় বাবর মত কেউ বলে না
আয় খুকু আয় খুকু আয়
আয়রে আমার সাথে গান গেয়ে যা
নতুন নতুন সুর নে শিখে নে
কিছুই যখন ভাল লাগবে না তোর
পিয়ানোয় বসে তুই বাজাবিরে
আয় খুকু আয় খুকু আয় |

সিনেমা যখন চোখে জ্বালা ধরায়
গরম কফির মজা জুড়িয়ে যায়
কবিতার বইগুলো ছুঁড়ে ফেলি
মনে হয় বাব যদি বলতো আমায়
আয় খুকু আয় খুকু আয়
আয়রে আমার সাথে আয় এখনি
কোথাও ঘুরে আসি শহর ছেড়ে
ছেলেবেলার মত বায়না করে
কাছ থেকে নেনা তুই আমায় কেড়ে
আয় খুকু আয় খুকু আয় |

দোকানে যখন আসি সাজবো বলে
খোঁপাটা বেঁধে নেই ঠাণ্ডা হাওয়ায়
আরশিতে যখনই চোখ পড়ে যায়
মনে হয় বাবা যেন বলছে আমায়
আয় খুকু আয় খুকু আয়
আয়রে আমার কাছে আয় মামনি
সবার আগে আমি দেখি তোকে
দেখি কেমন খোঁপা বেঁধেছিস তুই
কেমন কাজল দিলি কালো চোখে
আয় খুকু আয় খুকু আয় |

ছেলেবেলার দিন ফেলে এসে
সবাই আমার মত বড় হয়ে যায়
জানিনা কজনে আমার মতন
মিষ্টি সে পিছু ডাক শুনতে যে পায়
আয় খুকু আয় খুকু আয়
আয়রে আমার পাশে আয় মামনি
এ হাতটা ভাল করে ধর এখনি
হারানো সেদিনে চল চলে যাই
ছোট্টবেলা তোর ফিরিয়ে আনি
আয় খুকু আয় খুকু আয় |

.          *************************                                                             
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - সুধীন দাশগুপ্ত

কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়
কি কথা রাখলে বাকী
খুঁজে দেখনা বুঝে দেখনা
ভেবে দেখনা তাকি জাননা
কিছু না বলে চে গিয়ে
মনকে দিওনা ফাঁকি |

তোমার চোখের আলোয়
আমি এ মন করেছি আলো
আমায় ভালো বাসায়
তুমি প্রকাশ প্রদীপ জ্বালো
প্রিয় ভাষিনী কথা রাখনি
আশায় আশায় কত যে আর
শুধুই বসে থাকি |

আজ কি তোমার স্বপন দেখার
সময় নিয়ে নিয়ে
যায়রে সব হারিয়ে

তোমার প্রথম ডাকে
আমি অনেক দিয়েছি সাড়া
তোমার মনের ছায়ায়
আমি ঘুরে ঘুরে দিশাহারা
প্রিয় ভাষিনী কথা রাখনি
ফাগুন এসে অজান্তে আজ
হোল কি বৈশাখী |

.      ********************                    
.                                                                                              
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - স্বপন কান্তি ঘোষ, শিল্পী - মান্না দে

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল
সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই |

নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে
নেই তারা আজ কোন খবরে
গ্র্যাণ্ডের গীটারিস্ট গোয়ানীস ডিসুজা
ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে
কাকে যেন ভালোবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে
পাগলা গারদে আছে রমা রায়
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যানসারে
জীবন করে নি তাকে ক্ষমা হায় |

সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে
শুনেছি তো লাখ্ পতি স্বামী তার
হীরে আর জহরতে আগাগোড়া মোড়া সে
গাড়ীবাড়ী সবকিছু দামী তার
আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল
বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে
নির্বাক শ্রোতা হয়ে
ডিসুজাটা বসে শুধু থাকতো |

একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘন্টা
চারমিনারটা ঠোঁটে জ্বলতো
কখনো বিষ্ণু দে কখনো যামিনী রায়
এই নিয়ে তর্কটা চলতো
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক
কাজ সেরে ঠিক এসে জুটতাম
চারটেতে শুরু হয়ে জমিয়ে আড্ডা মেরে
সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম |

কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ
মুছে যাবে অমলের নামটা
একটা কবিতা তার হোল না কোথাও ছাপা
পেলনা সে প্রতিভার দামটা
অফিসের সোশালে 'ম্যানেজার' নাটকে
রমা রায় অভিনয় করতো
কাগজের রিপোর্টার মঈদুল এসে রোজ
কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো |

সেই সাত জন নেই আজ
টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা অজোও খালি নেই
একই সে বাগানে আজ
এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালী নেই
কত স্বপনের রোদ ওঠে এই কফি হাউসে
কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়
কত জন এল গেলো
কতজনই আসবে
কফি হাউসটা শুধু থেকে যায় |

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল
সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই |

.      ********************                    
.                                                                                               
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায়,
শিল্পী - মান্না দে

আমায় একটু জায়গা দাও মন্দিরে বসি
আমি অনাহত একজন, অনেক দোষেতে দোষী

আমি সবার পিছনে থাকবো শুধু মনে মনে মাকে ডাকবো
কারো কাজে বাধা দিলে সাজা দিও যত খুশী
আমায় সাজা দিও যত খুশী |

ভেব না হঠাত্ সামনে গিয়ে মায়ের চরণ ছুঁয়ে দেব
দুর থেকে শুধু চোখের জলেতে মার রাঙা পা ধুয়ে দেব |

শুধু আরতি যখন করবে, মা'র পূজাদীপ তুলে ধরবে
আমাকে দেখতে দিয়ো মায়ের একটু হাসি |

.               ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরঃ বাপী লাহিড়ী,
শিল্পী - লতা মঙ্গেশকর

সব লাল পাথরই তো চুনি হতে পারে না
সব প্রেম মিলনের মালা পেতে পারে না
পাশাপাশি দুটি ফুল ফোটে যে বাগিচায়
একজন ঠাঁই পায় দেবতার দুটি পায়
সমাধীর বেদী তার ভরে যায় একজন
সব ফুল দেবালয়ে পার্ না তো যেতে হায় |

কেউ বা হাসে সারাটি জীবন অশ্রু ঝরায় কারও বা নয়ন
কেউ বা দু হাতে কেবলই নিতে চায়, কেউ বা কিছু নিতে নয়
শুধু দেবীকে চায়, সুখী তো সকলেই হতে চায় দুনিয়ায়
সুখী কেউ হয় কেউ দুঃখী শুধু রয়ে যায় |

কারও বা আশা হয়গো পূরণ হয়না সফল কারও বা স্বপন
ভিখারী মাটিতে ফেলে যে রতন পারে না দিতে তা কখনও মহাজন
প্রদীপের শিখা কারো ঘর আলো করে যায় |

.               ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায়,
শিল্পী - মান্না দে

যে সমাধি বেদিটার ঠিক উপরে ঝুলন্ত গাছটা পড়েছে নুয়ে
ওখানে যে রয়েছে শুয়ে তার ভাগ্যকে আমি ঈর্ষা করি
ফুল নিয়ে আসতে যখন ভুলে যাবে সব প্রিয়জন
ওই গাছটা তখন তার ফুল ঝরাবে, বেদিটা শিশির দিয়ে রাখবে ধুয়ে
চিরদিন রাখবে মনে এমন সময় কারো নেই
এতো কারো অপরাধ নয় কালের খেলাই হলো এই
এ-জীবনে সত্য সেটা মেনে নিতে দোষ কি
যত দিন পোহাবে স্মৃতি পুরানো হবে
কে তাকে চিরটা কাল থাকবে ছুঁয়ে

.               ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - সুপর্ণকান্তি ঘোষ,
শিল্পী - মান্না দে

আমি হারিয়েছি মোর ছোট্টবেলা হারাইনি তোমাকে
আজো আমায় ঘিরে মা যে আমার সব খানেতেই থাকে |
যখন দেখি কারো ঘরে ছোট্ট খুকু হাসে
মিষ্টি মায়ের মুখটি আমার চোখের উপর ভাসে |
ইচ্ছে করে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরি তাকে
আদর করি আবার আমি আমার সোনা মাকে |
মাথায় সিঁদুর কপালে টিপ চুলটি এলো করে
দেখি যখন কোন মেয়ে যায়গো পূজার ঘরে,
শুনি যখন সেই সে বধূ ফু দিয়ে যায় শাঁখে
চোখের উপর দেখি আমি লক্ষ্মী আমার মাকে
বেহুস হয়ে একলা যখন থাকি জ্বরের ঘোরে
কপালে জল পটি দেয় যায় গো বাতাস করে,
আমার মাথায় যখন কোমল সে হাত পরশটি তার রাখে
দুচোখ ভরে দেখি আমার স্নেহময়ী মাকে |
ঘুমায় যখন সারাটা দেশ নিশুতি রাত নামে
কাজের শেষে বাড়ীর দোরে চরণ আমার থামে
যখন দেখি দুটি পথ চাওয়া চোখ দরজাটার ওই ফাঁকে
দেখি অন্ন নিয়ে রাত জাগা মোর অন্নপূর্ণা মাকে |
আত্মীয় আর স্বজন যখন করে অবহেলা
ধনির সমাজ গরীব বলে করে হেলা ফেলা
তখন গল্প কথায় ভোলায় যে মোর মনের দুঃখটাকে
তারই মাঝে দেখি আমার করুণাময়ী মাকে |
এমনি করেই সব কটা দিন কাটিয়ে যাব আমি
মা যে আমার তিন ভূবনের সোনার চেয়ে দামী,
কলহ ভুলে সারা দেয় মায়ের হাজার ডাকে
দেখবো শুধু বিভোর হয়ে মায়ের মমতাকে |

.               ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - সুধীন দাশগুপ্ত
শিল্পী - অরুন্ধতী হোমচৌধুরী

এত বড় আকাশটাকে ভরলে জোছনায়,
ওগো চাঁদ, এ রাতে আর তোমায় বোঝা দায় ||
শুধু কি চন্দ্রমুখী, দিয়ে যায় সবাই উঁকি
যুথী আর হাস্নুহানা একই চোখে চায় ||
কে তোমার আলোর কণাসব আগে মাখবে গায়ে----
নদীর ওই ঢেউগুলো তাই পড়েছে তীরের পায়ে |
আমারও বুকের মাঝে কী যে হয় বুঝি না যে
কী যেন হঠাৎ চোখে সবই ভেসে যায় ||

.               ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - নচিকেতা ঘোষ
শিল্পী - আরতি মুখোপাধ্যায়, ছবি - বিলম্বিত লয়

আঁকা বাঁকা পথে যদি মন হয়ে যায় নদী
তীর ছুঁয়ে বসে থাকি না-----
আমাকে ধরে রাখি না ||
খোলা আকাশের নীচে ছুটে চলি সারা বেলা
ছায়া দিয়ে পথ ঢাকি না---
আমাকে ধরে রাখি না  ||
ওই যে যাযাবর পাখি ডানা মেলে
পালকে কিছু লিখে দিয়ে গেল ফেলে--
ওখানে ভেসে গেছি উজানে মিশে গেছি--
কাউকে পিছু ডাকি না ||
এই যে দূর থেকে আরও দূরে ভেসে
নিজেকে নিয়ে চলি নামহারা দেশে ;
পাথেয় হলো শুধু পথেরই ভালোবাসা ---
কাউকে পিছু ডাকি না ||

.          ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - নচিকেতা ঘোষ,
শিল্পী - আরতি মুখোপাধ্যায়, ছবি - বিলম্বিত লয়

এক বৈশাখে দেখা হলো দু’জনায় --- জষ্ঠিতে হলো পরিচয় ;
আসছে আষাঢ় মাস, মন তাই ভাবছে কী হয়, কী হয় !
.                                    কী জানি কী হয় !
তখনই তো হলো দেখা যেই না নয়ন কিছু চেয়েছে,
জানাজানি হয়ে গেছে অধর যখনই কথা পেয়েছে---
জানি না তো কি যে হবে এর পরে কিছু পেলে এ হৃদয়  ||
প্রথমে চমক ছিল, তারপরে ভালোলাগা এসেছে,
ডুবে গেছে সেই মন, যে মন খুশির স্রোতে ভেসেছে--
জানি না তো কী যে হবে সব কিছু হয়ে গেলে তন্ময় ||

.                 ********************                    
.                                                                                            
সূচিতে    


মিলনসাগর