কবি সাগর চক্রবর্তী-র কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

আমার প্রতিবাদের ভাষা ১
সাগর চক্রবর্তী

নাহ্, আমার কোনো কষ্ট হয়নি, কোনো যন্ত্রণাও নয় |
নাহ্, ভয় পাইনি মোটেও, তা হলে তো ওদেরই জয় |
হতাশা অথবা
বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ভঙ্গের অসহায় ক্রোধে
এক ফোঁটাও চোখের জল ফেলিনি |   জানতাম
এমনটাই হবে, হতে থাকবে ! নাহ্,
আমি কোনো গণত্কার বিজ্ঞাপিত রাজ-জ্যোতিষী নই !


প্রমাণিত হলো
যা হবার কথা ছিলো, ম্যাপের নকশার প্রতিটি ডিগ্রি মেনে
তা--ই হলো |
যাঁরা এখনো বিশ্বাস করে, বিশ্বাস ভঙ্গের হতাশায় হা-হুতাশ পদত্যাগ করে
মিটিং মিছিল করে রাজপথে হাততালি দিয়ে গান গায়
অদ্ভুত ভঙ্গিমা করে ক্যামেরার ফোকাসে তাকায়
তাঁদের বিশ্বাসে ভুল অঙ্ক ছিলো, কেননা তাঁদের
গভীর মাথায়
পড়তা লাভ মুনাফার একচেটিয়ায়
বিশ্বাস জন্মানো হয়েছিলো সুচতুর রাষ্ট্রীয় কায়দায় |
গোপনে বাজারদর মেনে
দু’পক্ষেরই সচেতন হিসেবনিকেশ শেষে
তাঁদের মগজ বুদ্ধি বোধ কান্ডজ্ঞান ও হৃদয়
কিনে নেওয়া হয়েছিলো | তাঁরা অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো
ওপরে উঠবার সিঁড়ি দেখে ! হাতে ধরা ছিলো
মানপত্র, সর্ত সনদ | এবং গলায়
সোনার মেডেল বক্ লস !
সকলেই অন্ধ নয় |
আলোর ভিতর যে-ই অন্ধকার ঘাপটি মেরে থাকে, অন্ধ করে
অন্ধকারের ভিতর যে-ই আলো থাকে----- সেই আলো
মুখোসের আড়ালে মুখের
.                        ভূগোল ও ইতিহাস জানে |
বলে দেয় মানবতা কোন্ পথে সঠিক নিশানে যাবে |
কোন্ পথে সর্বজয়ী নব মানবতার অভ্যুদয় |
সকলেই ক্রীতদাস কৃতদাস নয় |
ইতিহাস পাঠ করে যাঁরা সত্য জেনে নিয়েছিলো----
কে কখন কোন্ ভূমিকায়
অবতীর্ণ হবে, হবে সবটাই কর্তার ইচ্ছায়------


সবাই অন্ধ নয় | সেবাদাস সেবাদাসী নয় | তা-ই
যাদের কেবলমাত্র প্রয়োজনে শুধুমাত্র প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়
সেই সব সাধারণ অতিসাধারণ মানুষ
রঙিন চশমা খুলে
রাজপথে অলিতে গলিতে
.        রুখা শুখা খরা জলা মাঠে
.                  লুন্ঠিত খামারে নেমে পড়ে
নিজেদের মুক্তবাজারে বিক্রি করবার জন্য নয়  ;
নেমে পড়ে ঝান্ডা ডান্ডা হাঁসুয়া বল্লম সড়কি নিয়ে
বিক্ষোভের বিদ্রোহের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিলে মিছিলে ||

                                              ১৫.০৩.২০০৭


.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

আমার প্রতিবাদের ভাষা ২
সাগর চক্রবর্তী

সহস্র মহিলা আর শিশুদের
ঢাল সাজিয়ে সামনে রেখে যাঁরা
সশস্ত্র ব্যারিকেড গড়েছিলো, আর
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী প্রশিক্ষিত সৈনিকের ছদ্মবেশে যাঁরা
ব্যারিকেড ভেঙে গ্রাম দখল করতে এসেছিলো, আর
যুযুধান দু’পক্ষেই পর্দার আড়ালে যাঁরা ছিলো
বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক রাজনীতিক আর
.                            উচ্চাকাঙ্খী বণিকমহল
তাঁদের অন্তর্গত রক্তে কোনোদিন
কোনো বুদ্ধ শ্রীচৈতন্য গান্ধী
.                     রবীন্দ্রনাথ ইকবাল নজরুল
শুভবুদ্ধির কল্যাণের বীজ বপন করেনি |
হিটলার মুসোলিনী আয়ুব লাদেন বুশই
সেখানে সম্রাট মহারাজা !
ফলে রক্তের অন্ধকার উল্লাসে আতঙ্কে আর্তনাদে
ফেটে পড়েছিলো |

হতাশ হয়োনা | তুমি তবু
মানুষের কাছে যাও ; বলো : দল নয়, প্রথমে মানুষ !
বলো : নষ্ট রাজনীতির বলি ক্ষমতা ও অঞ্চল দখলের যুদ্ধ নয় |
নিহতের লাশ নিয়ে
ধর্ষিতার কান্না নিয়ে
.                     কোনো ব্যবসা নয় |
এসো, বিশ্বাস ও ভালোবাসার মানববন্ধনে
তুমিও মানুষ ; বলো  : বার বার ঠকেছো বিশ্বাস করে |
.                         সেটা কোনো অপরাধ নয় |
তাই এখন
বিশ্বাস করার আগে আলো জ্বেলে দেখে নাও
কাকে তুমি মুগ্ধতায় অন্ধ হয়ে লোভে কিম্বা ভয়ে
সঁপেছো ভবিষ্যৎ মগজ বুদ্ধি আর তোমার হৃদয় ||   

.                                                ১৫.০৪.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

প্রেমের সঙ্গীতে এসো
সাগর চক্রবর্তী

স্বপ্নের শহরগঞ্জ গ্রামে
আমরা মানুষ, কাঁধে তুলে রঙিলা নিশান বুকটান
মিছিলে সামিল হয়ে শ্রমের মুক্তি চেয়ে হাঁটি
দুনিয়া বদলাবো জেনে বাজি রাখি জান |
মানুষেরই নামে
ভালোবাসার গাই গান |
সেই গানে রুখাশুখা মাটি
অন্নপূর্ণা ; আমাদের খোকাখুকু ফুলের ভোরের মতো জাগে :
মনে হয় শতফুল বিকশিত নির্মেঘ বাগান |
মাটিতেই গড়ে ওঠে রাগে-অনুরাগে
মানুষের মানবিক সম্পর্কের ঘাঁটি |


কোথাও থাকে কি ঘাপটি মেরে
দাঁড়িপাল্লার ফেরতা ব্যবসাদারী ফাঁকি ?
কোথাও অন্ধ এক রাক্ষস থাকে কি হাঁটু গেড়ে
ঠোঁট চাটে ; কখন যে শুরু হবে নরমেধ যজ্ঞ অনুষ্ঠান !
ডানাবন্ধ করে ব’সে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়
.                        ক্ষমতার পিশাচ যতো শকুনি গৃধিনী নামে পাখি ?


হাড়গুঁড়ো করা শ্রমে যারা ঘর গেরস্তি সাজায়
শ্রম মুক্তি শ্রমিকের যুক্তির বিজ্ঞান
তারা জানে ?  মাঠে ঘাটে শুকনো নদীতে খুঁজে কচু কন্দ গুগলি পরিপাটি
জায়া ও জননী  যতো বিদুরের খুদকুঁড়ো অন্ন রেঁধে আনে
সে অন্নই পরমান্ন, নিয়ে যার হৃদয়ের অমৃত উথ্বানে |


একবার ভিতর পানে চোখ মেলে চাও
হে আমার সংগ্রামের লাগাতার সাথি,
কোন্ মহাজন এসে গলায় পরিয়ে দিলো ডলার বা পাউন্ডের হার ?
তারই সেবাদাসী হয়ে হাজার ঘরের আলো সোহাগের বাতি
নিভিয়ে নামিয়ে আনলে হাড় আর করোটির আমিষ আঁধার !
পর্দার আড়াল থেকে ডানা নমেলে উড়ে আসে মারণাস্ত্র, যার
ব্যবহার করে সেবাদাস অঞ্চল দখল করে নিতে গ্রামে গঞ্জে সন্ত্রাস নাচাও !
জানিনা কুকুর জন্মে কত সুখ মর্যাদা বা পাও ?

তুমি তোমরাও যাবে আবর্জনা স্তূপে
মাথার ভিতর যতো জটিলকুটিল নকশা বোনো চুপে চুপে
মানুষের শিশু নারী শস্যক্ষেত্র গোছানো সংসার
খেয়ে তুমি তোমরা আজো বেশ চমত্কার
নেতা অভিনেতা হয়ে ঋদ্ধি সিদ্ধি বাহবার হাততালি কামাও |
দেখবো কী করে তোমরা বঞ্চনার সাম্রাজ্য বাঁচাও
আ--  দিগন্ত বোধ-উদয়ে শুরু হলে ঘৃণার প্রহার !
প্রেমের সঙ্গীতে এসো, হয়ে ওঠো মানুষ আবার ||    
.                                                       ১৬.০৩.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

অঙ্ক তো আমরাও কষছি   
সাগর চক্রবর্তী

বিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান    ভেঙে ফ্যালো
শিল্প হবে | হাজার হাজার বেকার মানুষ
কাজ পাবে | কাজ পাওয়াটাই আজ বড়ো কথা |
গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি ভাঙো  ভেঙে ফ্যালো |
শিল্প হবে | হাজার হাজার বেকার মানুষ
কাজ পাবে | কাজ পাওয়াটাই আজ বড়ো কথা |
গ্রামীন বাজার হাট লাটে তুলে দাও   ভাঙো দোকানপসার |
শিল্প হবে | হাজার হাজার বেকার মানুষ
কাজ পাবে | কাজ পাওয়াটাই আজ বড়ো কথা |

ঘরগেরস্তির ধানের মরাই  মন্দির মসজিদ ভাঙ্গো
মানুষকে তাড়িয়ে মেরে ঘর জ্বলিয়ে জায়গা বানাও |
শিল্প হবে | হাজার হাজার বেকার মানুষ কাজ পাবে |
কাজ পাওয়াটাই আজ বড়ো কথা |

সোনার ফসলি জমি   অন্নপূর্ণা  অন্নদাত্রীকে
নীলামে চড়াও | জায়গা বানাও |  শিল্প হবে |
হাজার হাজার বেকার মানুষ
কাজ পাবে | কাজ পাওয়াটাই আজ বড়ো কথা |

এ কোন্ শিল্পের স্বর্গ গড়তে তুমি চাইছো, হে সরকার !

শিক্ষাহীন স্বাস্থ্যহীন এমনকি শান্তিতে ঘুমোবার কবর শ্মশান
তচ্ নচ করে নাচে বল্গাহীন উলঙ্গ সন্ত্রাস
স্নানের আরাম দিঘি পুকুর ও চোখের বিশ্রাম
সবুজে সবুজ গাছপালা আর বাগিচা বাগান
লন্ডভন্ড করে, কামারশালা ও তাঁত ঘর
মৃৎ ও মাদুর শিল্পে কাঠ-বাঁশ-বেতের কারবার
উচ্ছনে পাঠিয়ে, কোন্ কর্মহীন উন্নয়ন শিল্পের উল্লাস জয়গান !
সেই স্বর্গে আমরা, বলো মানুষ কোথায় পাতবো ঘর
আহ্লাদের নিবিড় সংসার ?

তোমার পতাকা আজ কার ঘরে কত দামে বিক্রি করছো ?

জবাব তোমাকে দিতে হবে | আমরাই যথার্থ জবাব
আদায় উসুল করে নেবো |  তোমার মতোই
আমরাও যোগবিয়োগ গুণভাগ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদকষার
অঙ্ক কষতে জানি ||      
                                                     ০১.০৫.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

প্রস্তাব   
সাগর চক্রবর্তী

সব চেয়ে ভালো জমি মানুষের মাথা
সে মাথা না থাকে যেন ফাঁকা------
তোমার মাথায় যদি চিরকাল রাখতে হয় সম্রাটের ছাতা
লাখ লাখ মানুষের মাথার ভিতরে তবে পুঁতে দাও
তোমার বিষয় আর বিশেষ পতাকা ||        
.                                                   ০৩.০৫.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

শিল্প ক্রীড়া   
সাগর চক্রবর্তী

আয় না খেলি বুদ্ধিজীবী বুদ্ধিজীবী মজার খেলা
তুই নাকি মুই ? ঝগড়া কিসের দু’জনেই তো বুদ্ধিজীবী  !
লাল নিবি না গেরুয়া নিবি, নাকি শাদা
জাহাজ নাকি নৌকো নাকি বেহুলার সেই কলার ভেলা ?
পার হওয়াটাই বড় কথা, বুঝলি দাদা !

মাঠের ঘাসের ফুল কি নিবি, বলনা সোজা খোলামেলা
বুদ্ধিজীবী কাস্তে কোদাল বেলচা ধানের শিস হাতুড়ি
ভীষণরাগে লাফ দেওয়া বাঘ------কে সুড়সুড়ি
দিচ্ছে পিঠে, তা চুলকাবি ?

আসলে  তো মানবতার নামের বাজার-----
পড়তা বেশি কোথায়, সেটা ভাববি খোকা |
দাড়ি বা চুল লম্বা, জামা, কাঁধে ঝোলা
.                           সর্বহারা দলের প্রজার
লাসের ওপর ফাটকাবাজি !  খেল দ্যাখাবি |
দারোগা পুলিশ সাক্ষী রেখে খোলাবাজারে নাম লেখাবি |
বুদ্ধিজীবী মানে কি বল ------  গুড়ের পোকা ||
                                                  ১৪.০৬.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

আমরা জেনে গেছি   
সাগর চক্রবর্তী

তোমার হাতে অস্ত্র আছে
আইনি অস্ত্র |
কিন্তু সরকার, তোমার হাতে দেশি বিদেশি
অস্ত্র যোগাচ্ছে কে !

তোমার পক্ষে আইন আছে |  আছে
প্রচার মাধ্যম | জ্ঞানীগুনী শিল্পী সাংবাদিক আছেন তোমার |
কিন্তু সরকার, তোমার হয়ে
প্রচার চালাচ্ছে কে !
তুমি তোমার অস্ত্রধারীরা
মানুষকে খুন করো, গ্রাম কে গ্রাম
লুঠ করে ঘর জ্বালিয়ে ----- দিনের পর দিন দিনের পর দিন-----
তবু ভোটে তোমার বাক্সই আগে ভরে |
কিন্তু সরকার, কারা
দু’হাতে ভরে দেয় তোমার ভোটবাক্স !
আইন তোমার পক্ষে |
প্রচার মাধ্যম তোমার পক্ষে | কেননা
তুমিই গণতন্ত্র |

মুখ বন্ধ করাবার কায়দা তুমি জানো  |
কে তোমাকে মদৎ জোগায় | ভয় আর লোভের
দানাপানি ছড়িয়ে মানুষের মুখ তুমি বন্ধ করতে পারো |
কিন্তু সরকার, তোমার প্রশিক্ষিত কোনো ডাক্তার বদ্যিও
ক্ষতস্থানের মুখ লুন্ঠিতার ঘৃণা আর
রক্তের নীরব কথা বলা
বন্ধ করতে পারে না ||     
.                                                 ২০.০৭.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

মানা না মানার প্রশ্নে   
সাগর চক্রবর্তী

মানছিরে বাপ
মানছি |
এমনতরো চাপ
না মেনে বা উপায় কি ? বল্  |
এই দ্যাখনা পাপের কথায় চোখে আসছে জল |
হ্যাঁরে বাবা, চক্ষু বুজেই কানছি |

বাঘ সিংহ হাতি হরিণ হাঙর কাছিম কুমীর তিমিমাছ
কুকুর বেড়াল পাখপাখালি সাপ
শিকার করা হত্যা করা আইনি মহাপাপ  |
অর্থদন্ড হাজতবাস
হতে পারে সর্বনাশ |
তীরধনুক বা বন্দুক হাতে ফের যদি তুই যা’স
আমার মাথা খা’স  |
তার চেয়ে যা চুরি করে কাটগে’ জারুল শাল বা সেগুন গাছ
কিম্বা বনের ঘাস |

মানছিরে বাপ
এমনতরো ভারসাম্য রক্ষা করার চাপ
না  মেনে বা উপায় কি আর ? বল !
পুকুর দিঘি ডোবা ভরাট হর্ম বহুতল
বৃক্ষটৃক্ষ লোপাট
দরজা জানালার কপাট
ছাড়বি কোথায় হাঁপ !

কিন্তু দ্যাখো চক্ষু খুলে
গ্রাম শহরে মানুষ মেরে ঘুচিয়ে দিয়ে পাড়া
সোনার শহর গুঁড়িয়ে দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে
দিব্যি আছেন খোশমেজাজে রাজার হালে যাঁরা |
তাঁদের কেন জয়ধ্বনি , সমস্ত দোষ মাফ  !  
                                             ২৯ .০৭.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

কবে অস্ত্রের মুখ   
সাগর চক্রবর্তী

তুমি মরতে ভয় পাও |
আমিও | তুমি মারতে ভয় পাও |
আমিও | রক্তপাতের ভয়
.          শিরদাঁড়া কাঁপিয়ে দেয় |
কিন্তু কেউ কেউ মারতে ভয় পায় না |
তারা মরবার ভয় করে না | নিশ্চিন্ত
তাদের পক্ষে মহামহা আইনজীবী আছেন
মহামহা মান্যগণ্য মহাশয় আছেন | তাদের পক্ষে
মিছিল আছে, মিটিং আছে, প্রচার, অবরোধ, বন্ধ্ আছে |

তারা মানুষকে যন্ত্রণা দিয়ে মারে, মায়ের সামনে
শিশুকে দু’পা ধরে চিড়ে ফ্যালে ; কিশোরী তরুণীকে-----
নিশ্চয় তারা কিছু পায়, হয়তো আনন্দ ---- হয়তো বা
অন্য কিছু------
তারা জিপে, ট্রাকে মোটর বাইকে আসে
পুলিশ হয়ে সেনাবাহিনী হয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে
তারপর যা হবার নয়, তাই হয় |

‘এমন তো কতই হয়’ |
কিন্তু তুমি আমি
এই প্রাজ্ঞ সুসমাচারে নিশ্চিন্ত হতে পারি না |
আমি ভয় পাই |  তুমিও |

‘যা হয়েছে, যা ঘটেছে তাতে আমরা গর্বিত’ |
আহারে !  আর কি হতে পারতো !
আমরা ভীত সন্ত্রস্ত মানুষেরা
ভয়ের রাজত্বে মরুদ্যানে বাস করি আর
নিয়মিত খাজনা মাসুল জোগাই আর
ভাবি, কবে অস্ত্রের মুখ ঘুরে যাবে ||

                                             ৩০.০৭.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
আমার প্রতিবাদের ভাষা কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .

আমরা মানুষরাই পারি   
সাগর চক্রবর্তী

প্রথমে ধর্ম এলেন পতাকা উড়িয়ে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষজনকে একত্রিত করতে ; যেন নানা ফুলে বাঁধা তোড়া |
সংগঠনই শক্তির উত্স | হোকনা তা যুক্তিহীন ভক্তির |
তারপর এলেন গুরু-গোঁসাই মন্ত্রতন্ত্র আর নানাবিধ ব্রত-পূজা-অনুষ্ঠান নিয়ে |
সে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লেগে রইলো মানুষের মুগ্ধতা, ঘাম, চোখের জল
দীর্ঘশ্বাস আর রক্ত | হয়তো বা অভিশাপও | কেননা ভীত সন্ত্রস্ত অসহায়
মানুষের সান্ত্বনার অস্ত্র অভিশাপ |
ঈশ্বর ভাগ হয়ে গেলেন | মানুষও
বাঁধা পড়লো মন্ত্রতন্ত্রে অনুষ্ঠানের অনুশাসনে |

এরপর এলো রাজনীতি | এলেন সর্দার, দলপতি, মোড়ল রাজা | এলেন
নেতা উপনেতা | এলো নানা বিধিনিষেধ আইনকানুন শাসন | সেই সবে
লেগে রইলো মানুষের ঘাম, চোখের জল, দীর্ঘশ্বাস আর রক্ত হয়তো বা
অভিশাপও | কেননা ভীত সন্ত্রস্ত অসহায় মানুষের সান্তনার অস্ত্র অভিশাপ |
মানুষ মানুষের স্বদেশ পৃথিবী শ্রমের ও প্রেমের ভাগ হয়ে গেলো | মানুষ পুবে পশ্চিমে
উত্তরে দক্ষিণে বাঁধা পড়লো |
এলো অহঙ্কার | এলো দম্ভ | এলো ক্ষমতার লোভ | এলো বিচিত্র সব পতাকা
আর নিশান | এলো অস্ত্র ----- মারণাস্ত্র |   যুদ্ধ  | সন্ত্রাস |
ধর্মের নামে
রাজনীতির নামে মানুষ, মানুষের পৃথিবী শ্রমের ও প্রেমের
পৃথিবী ভাগ হয়ে গেলো |

নিহত হবার পর কোন অলৌকিক অপার্থিব রাজ্যে গেলো তারা !
সেখানে সব নদীই বুঝি দুধের ; সব বাগান বাগিচা নন্দন কানন ;
সব বৃক্ষ কল্প তরু অমৃত ফলের ! সমস্ত পুরুষ ও নারী অনন্ত যৌবনধারী
মৃত্যুহীন সঙ্গমে সক্ষম ? আর যারা পার্থিব লোকালয়ে বেঁচেবর্তে টিকে রইলো,
তারা কোন নিরাপদে, নিশ্চিন্তে সুখের স্বর্গে আছে |

তুমি হিন্দু হও অথবা মুসলমান হও জৈন বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান
তোমার ধর্ম তোমাকে পীড়ন -বঞ্চনা, অপমান এবং মৃত্যুর বিরুদ্ধে
কোন্ সঞ্জিবনী সহৃদয় সেবা দিচ্ছে ! তুমি ডান হও বা বাম হও অথবা
মধ্যপন্থী, চরম বা নরম পন্থী হও, তোমার রাজনীতি কোন্ সঞ্জিবনী
সুধা বা সেবা দিচ্ছে পীড়ন-বঞ্চনা-অপমান এবং ব্যাপক মৃত্যুর বিরুদ্ধে !

ধর্ম আর রাজনীতি মানুষের
মানুষেরই কথা ভাবলে মানুষের
ইতিহাস রক্তে নয়, ভালোবাসার বুকের গভীরে শব্দে সঙ্গীতে
লেখা হতো |
ভেবে দ্যাখো
এখনো মানুষের দিকে বুকের দরজা খুলে ঘুরে দাঁড়াবার
সময় শেষ হয়ে যায়নি ||  
                                             ১৫.০৭.২০০৭

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী



১. ভোরের আলোয় হে পারুল                ওসে ভেজা পাতায় পাতায়
.  হেসে উঠলে  | তুমি শুভ্রতা জানো |                আমি কতোকাল ধ’রে
.  অন্ধকার |  সাঁতার জানি না |

.  অবাক মেলেছো ভালোবাসা                ভালোবাসা পাপ এই দেশে
.  মাটিতে আকাশ জমে ঘৃণা                আমরা সেই নুনে রুটি খাই----

.  তুমি তার কিছুই নিলে না ?

.  এবার আমার হাত ধরো
.  বুকে ব্যথা নদী হয়ে আছে |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী



২. দুঃখে আমি ছুঁয়েছিলাম তোকে        টেনেছিলাম বিষাদবিদ্ধ বুকে----
.   ভোরের থালায় পঞ্চমুখী জবা        ডাগর আকাশ মেঘডমরা, চোখে
.   বোবামাটির কোমর ভাঙা ক্রোধ        বুকে -------- মাথার গভীরে যন্ত্রণা |
.   এই কি কুসুম ফোটার সম্ভাবনা !


.     হাতের তালুয় কাঁপছে ঘৃণা,  জ্বর----

.   এই নে আমার উপোস-বিষের জ্বালা            এই নে আমার বেকার সকাল দুপুর
.   দুঃখে আমি রাত্রি হয়ে গেছি                    ঘৃণায় হলাম কঠিন প্রস্তর
.   পাষাণে মোহন ময়ূর নাচবে না ?


.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী



৩. গাছ রে গাছ
.   এভাবে কেন বুকের ভিতর                বাগানে বাগানে
.   পাতা ঝরিয়ে ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছো !  তোমার পাতা
.   ঝরানোর শব্দে
.                  আমার ব্যথা
.                                কান্না হয়ে ওঠে রে গাছ !

.   গাছ রে গাছ
.   এভাবে কেন------

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৪.  রাতের বেলায় অন্ধকারের গোপনতায় যে ফুল ফোটে : রক্তজবা, সূর্যমুখী
.    তার এতো রঙ হয় কি করে !

.    বিজ্ঞান জানে |

.    অথচ দেখ, এই কথাটি ভাবতে ভাবতে
.    আমার চুল শাদা ;

.    রাতের অন্ধকারের গোপন কুঁড়ি        ভোরবেলাকার কুসুম
.    আমাকে বলে : আমরা এলাম | নরকটাকে এবার
.    আমূল বদলে দিয়ে আমরা বীজের দিকে যাবো |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৫.  তাকে তো কোথাও যেতে হবে      যেতেই হবে |
.    মিছিলে মিটিং-এ না গেলে           মন্দিরে মসজিদে
.    মন্দিরে মসজিদে না গেলে       খেলার মাঠে বা বেশ্যাপট্টীতে
.    যাবার মতো কতো জায়গা আছে |


.     সে যে কোথাও যাবে         ক্ষমতা নেই |
.    তাই সে তার বাড়ির উঠানে বাগান সাজায় |
.    বাগানে দেশি বিদেশি ফুলের চারা এনে     লাগায় ; জল ঢালে :
.    সার দেয়------

.    অনেক ঘাটের জল খেয়ে সে এখন
.    বাগানে ; এখন
.    বাগানই তার আশ্রয় |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৬.  শব্দের নানারকম    নানা সাইজের    নানা ঢংয়ের
.    পাথর    সাজিয়ে   সাজিয়ে  পাথর সাজিয়ে   সাজিয়ে
.    সে গড়তে চেয়েছিলো এক প্রাসাদ
.    সে প্রাসাদে সব ছিলো
.            ব্যথা আর আনন্দ
.            সুখ আর ঘৃণা
.    সমান মর্যাদায় সাজিয়ে রেখেছিলো সে
.                         সন তারিখের লেবেল এঁটে এঁটে

.    এই ছিলো তার কাজ |
.    যদি এটাকে কাজ বলা যায় !
.     একদিন
.     হাওয়া নেই   বাতাস নেই    রোদের তেমন চাপ নেই
.     বৃষ্টি বা খরার তেমন ধাক্কা নেই    তার প্রাসাদ
.     হুড়মুড় ক’রে ভেঙে পড়তে পড়তে ভেঙে পড়তে পড়তে
.     আচমকা মিলিয়ে গেলো কোথায় !
.        কান্ডটা ভাবো  তো |


.     সে তখন সে হাছনরাজা
.             ফাঁকা মাঠে   ফাঁকা জমিতে একা
.     দাঁড়িয়ে | কাঁদবে যে ----কেঁদে যে একটু  বুক জুড়োবে
.     হায়রে হায়, তাও হল কই ?


.       সে এখন
.    ফাঁকা মাঠে বাগান বানাতে লেগেছে  ভেবেছে  ফুলের পর ফুলের
.               সিঁড়ি বানিয়ে         সিঁড়ি বানিয়ে
.    আসমানে মিলিয়ে যাওয়া তার        হারানো প্রাসাদে
.    ফিরে যাবে |


.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৭.  এই যে হৃদপিন্ডের মতো লাল      সপ্তমুখীজবা,
.    হাওয়ায় ঘন সবুজ ডালপালা নিয়ে
.    দুলছে, অল্প-- অল্প----
.    আমি তাকে ফিসফিস ক’রে বললাম :
.    তুমি এতো লাল কেন ? আপোস জানো না ?


.    সে হাসলো আর আমাকে বললে :
.    মাটি জানে |

.    মাটি কোনো কথা বলে না | সে তো মানুষ নয় |
.    কোনো কথাই কি শোনে মাটি !
.    কেবল নিঃশব্দে যেন ধ্যানে ---- নিজের কাজ ক’রে যায় |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৮.  পঞ্চমুখী রক্তজবার কী এক আশ্চর্য তন্ত্র আছে---

.    অই লালে কি রয়েছে লেখা
.    রক্তাক্ত হবার গোপন ইতিহাস-----

.    আমার বাগানে       আমি ফুটিয়েছি    রক্তজবা

.    বিশ্বাস না হয়
.    এসে দেখে যাও      ছুঁয়েও দেখতে পারো    আলতো

.    তার আগে তোমাকে
.    হাত ধুয়ে আসতে হবে     তার আগে তোমাকে
.    নরম করতে হবে তোমার আঙুল আর হাত, তুমি
.    প্রিয় শিশুকে যেভাবে ছোঁও, তুমি
.    প্রিয় নারীকে যেভাবে -----

.    নত স্নিগ্ধ হয়ে এসো |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


৯.  গাছ তুমি কোনখানে যাবে !
.    যেখানে বেড়েছো তুমি মেলেছো শিকড় ডালপালা
.    সমস্ত উপড়ে নিয়ে ভিন্নতর ভুবনে তোমাকে
.    রোপন করলে, বলো, শুকিয়ে যাবে না ?

.    তুমি গাছ, কচি চারা নও |      সদ্য অঙ্কুরিত বীজ নও |
.    যেখানে বেড়েছো তুমি সেখানেই থাকো   গাছ হয়ে ; কোথাও যেয়ো না |

.    হাওয়া দিলে আজও খুশী হও
.    দেশি ভিনদেশি কোনো পাখি এসে বসলে তুমি খুশি হও
.    সামন্ততান্ত্রিক রক্তে বাজে আত্মীয়তা     নদীর উজান ভাঁটি গান |
.    এই টুকু আত্মীয়তা মেঘ বা রোদ্দুরে বাজে
.    বাজতে থাকে দুঃখ ভেঙে-----

.    ভিতরের আগুন তোমার     ফুল ফল না হয়ে এখন
.    পুড়িয়ে অঙ্গার করছে----- ভিতরে ভিতরে
.    হীরে হয়ে উঠবার কায়দা তুমি ছুঁয়েও দ্যাখোনি-----

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


১০.  কোথা থেকে এসেছিলো পাখি       কোনখানে ফের উড়াল দিয়ে
.      গেল
.      যেখান থেকে এসেছিলো সেইখানে ঠিক, নাকি------
.                        অন্য কোথাও যাবার ডাক কি পেল !


.      গাছটা গাছের ডালটা হলো ফাঁকা                আবার কবে আসবে বা
.      কোন্ পাখি
.      সেই জন্যেই গাছের বসে থাকা                ফুটিয়ে ফুল, দুলিয়ে ডাল
.      ডাকেঃ আয় |
.      পাখিরা আসে |  বসেও | চলে যায় |
.      থাকে না কেউ | বাঁধে না বাসা | থাকে
.      একাকী গাছ |  মাথায় নিয়ে মেঘ-রৌদ্রের প্রহার
.                    উপমাহীন বিপুল শূন্যতাকে ||


.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


১১.  আগাছা আর ঘাস উপড়িয়ে   খুরপি আর নিড়ুনি চালিয়ে
.      সার আর জল বিছিয়ে      চারা লাগালাম ফুলের |

.     ফুল ফুটবার আশায় দিন গুনি |

.       হায়রে হায়, কচিকচি পাতা      দু’দিন পরেই
.     কালো হয়ে কুঁকড়ে যায়   শুকিয়ে যায় চারাগুলো |

.     ছড়ানো দামী কোম্পানীর বীজ     অঙ্কুরই ছাড়ে না,
.     হায়রে হায় !

.       তবু বার বার
.     আগাছা আর ঘাস উপড়িয়ে
.     সার আর জল বিছিয়ে  চারা লাগাই
.     বীজ ছড়াই ফুলের
.     মরশুমী ফুলের-----

.     শতফুল বিকশিত হোক-----

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


১২.  গোলাপ গাছগুলিতে নতুন পাতা
.      কয়েকটায় কুঁড়ি এসেছে | এবার তবে
.      আশা করা যায় |


.        ফুল ফুটবে !

.        শুঁয়োপোকা
.     কোথা থেকে আসে ?  ছোটো ছোটো
.     পাতা খেকো পোকা-------এতো ছোটো
.                      চোখে ধরা পড়ে না !

.        পাতাগুলো শুকিয়ে যায়
.      শুকোতে থাকে ডাঁটা ||

.      বাঁচানো গেলো না একটাকেও |

.         আবার নতুন চারা লাগাতে হবে |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


১৩.   ঘুমের মধ্যে কে তাকে জোরে ধাক্কা দিলো
.       : আমরা মরে যাচ্ছি, তুমি
.       ঘুমুচ্ছো  !

.       ধড়মড় ক’রে সে উঠে বসলো, কই কেউ কোথাও নেই |
.       অথচ
.       আমরা মরে যাচ্ছি |
.       এখনো সত্যের মতো |
.       সে বাইরে এলো
.       বাইরে মানে এক চিলতে পৈত্রিক উঠোনে
.       তারই ধারে তার বাগান | শুক্লা চতুর্দশীর চাঁদের
.       ম্যাটমেটে আলোয় বাগান, ফুলের চারা গাছগুলি কেমন
.       ভৌতিক, মুমূর্ষু  |

.         তোমরা ম’রো না------
.      ফিসফিস করে বলে সে : বাঁচো !
.      বলো, কি সেই সঞ্জীবনী
.      যা পেলে তোমরা বাঁচবে ?  বলো !

.         বৃষ্টিহীন আকাশ, অনেক উঁচুতে স্থির, ছোঁয়া যায় না
.      পৌঁছায় না আমার আবেদন অতো উঁচুতে
.      আমার সমস্ত ক্ষমতাকে জড়ো করে ও
.      এক ফোঁটা বৃষ্টি আনতে পারি না !
.      বাছারা বলো ! কী হলে তোমরা বাঁচবে !

.       তারা শুধু বলে  : জানি না জানি না | শুধু
.       জানি আমরা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি, আমরা কষ্ট পেতে পেতে
.       মরে যাচ্ছি |
.       তার নিজের হাতে গড়া বাগানে
.       চৈত্ররাতের মধ্যযামে নিশি পাওয়া সে
.       অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে |

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর
*
রক্তজবার পাশে শাদা পিটুনিয়া কাব্যগ্রন্থ থেকে. . .
সাগর চক্রবর্তী


১৪.   আসল কথা হলো ধৈর্য, আমাকে
.       নতুন ক’রে শিখতে হবে |

.      বীজ তো ছড়ালাম দামী কোম্পানীর
.      অঙ্কুর আসছে না |
.      অপেক্ষা করতে হবে | ধৈর্য ধরতে হবে |


.      এলো না |
.      হয় বীজগুলোই খারাপ, নয়তো
.      মাটির দোষ | অথবা
.      আমি জানিই না ক্যামন করে
.      কোন্ বীজ থেকে কি গাছ বের করতে হয় !

.      আমার শুধু ধৈর্য ধরা আর
.      মাটি কোপানো   আর  জল বওয়া
.      আর সার ছিটানো |


.      এই জল, সার, আমার ঘামের ফোঁটা, বীজ  মাটিতে
.      জমা হচ্ছে না কোথাও ?     কোথাও  যাচ্ছে এই সব

.                   ****************                                                      
সূচিতে    


মিলনসাগর