কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
*
অনন্ত যাত্রা
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

খোলা  বারান্দার কোনে বসে
দেখেছি অন্যমনে
জলহীন মেঘের খেলা
সূর্য ডোবার বেলা
দেখেছি রঙের খেলা ...
সাদা মেঘে গোলাপি সোনায় ,
খোলা জানলায় অধীর আগ্রহে
দেখেছি  রাত্রি  শেষে
সোনালী আকাশে রক্তিম সূর্য কে
বারে বারে ডাকি
আয় এই ঘরে
অর্চিষ্মান - এখানে রয়েছে শুয়ে
আমার মামনি
তো কে  ডেকে ডেকে
দিন চলে  যায়
মিথ্যা আশায় ;
তুই এলিনা কেন
এই জানলায় ,
খোলা বারান্দায়  তোকে  ডুবে  যেতে
দেখি রোজ অনন্ত  যাত্রায়।

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
আমরা কবির কাছে কৃতজ্ঞ কারণ এই সব কবিতাই কবি নিজে আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন।
*
ফেলে আসা সুখ
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

কি আছে দূর নীলিমায় মিশে!
কি আছে সবুজ ঘাসের ডগায়
কি আছে সোনালী ধানের শিষে
কি বা আছে সাগরের গরিমায়

ভাঙ্গা এ হৃদয়
হারানো ভালোবাসা
ফেলে আসা সুখ
আমার পরিচয়

পথ বেয়ে চলে গেল যারা
কালের পিছনে অন্ধকারে মিশে
মনের গভীরে ভাসে তারা
ধরা দিলনা বাহু-পাশে

আকাশে বাতাসে গাছের শাখায়
দোলে ছোটো ছোটো সুখ
আমি নীলিমায়
চোখ রাখি
স্মৃতি সাগরে দেখি মুখ

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
মৃত্যু
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

মৃত্যু কতো কাছ দিয়ে চলে গেলে
এখন ভাবলে মিথ্যা মনে হয়
মনে হয় আসনই তুমি
শুধু ছায়া ফেলে ছিলে
তবে কেন কেউ জীবন কে ধরে রাখে
মৃত্যু তুমি অসহনীয় যন্ত্রণা রূপে
ছুঁয়ে , জীবন কে মিথ্যা বলে গেলে,

তোমার ছুঁয়ে থাকা দণ্ডে দণ্ডে পলে পলে
তোমার হিম অশ্রুজলে
পিচ্ছল জীবন ,
বুঝে ও তবু না বোঝার ভাণ
জানি থাকবেনা
তবু আঁকড়ে রাখি প্রাণ
যতদিন আছে থাক
ডেকোনা আমায়
এখনো যে হয়নি সময়
এখনো অনেক বাকি
কতকিছু হলনা যে শুরু
শেষ দেখা বাকি আছে কতো
ফিরে যাও ফিরে যাও
জীবন কে ভালবাসতে দাও
আরও কিছু দিন
পূর্ণ করতে হবে প্রতিশ্রুতি কত
বাকি আছে ঋণ
দয়া করো আজ যাও
এসো পরে অন্য কোনও দিন

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুধু মাত্র তোকে ফিরে চাই
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

আজ তুই কত দুরে
কোন সে স্বপ্ন পুরে
একা নাকি সঙ্গী আছে আরও !
কেন তুই গেলি চলে
নিষ্ঠুর কথা বলে
নিজের জগত নিজে গড়ো !

আমি অতি সাধারণ
এক ই পথে বিচরণ
তোকে বিনা শূন্য পৃথিবী
এখন একলা বসে
জীবন অঙ্ক কষে
বুঝে গেছি নেই অন্য গতি

তাই পথ চেয়ে থাকি
ফিরে কেউ আসবে কি
সূর্য পাটে নেমে গাছে ওই
আকুল ব্যাকুল প্রাণ
শুধু করে আন চান
আমার সে চোখের আলো কোই

ফিরে আয় ফিরে আয় ফিরে আয় বুকে
স্নেহের আঁচলে দেবো ঢেকে
যত কষ্ট তোর
আমার না বলা কথা
বুক ফাটা কষ্ট ব্যথা
হবে নাকি ভোর !
যাসনা যাসনা ছেড়ে
ফিরে আয় মাতৃ ক্রোড়ে
ওরে অভিমানী
যতো ডাকি যতো কাঁদি
আছে আরও কত বাকি
আমি কি তা জানি !

যাক সব রসাতলে
পুড়ে যাক দাবানলে
সব কিছু পুরে হক ছাই
শুধু তুই আয় ফিরে
সব স্বপ্ন তোকে ঘিরে
শুধু মাত্র তোকে ফিরে চাই

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
আমি উড়তে চেয়েছি
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

আমি উড়তে চেয়েছি চিরকাল
মাটিতে ছিলনা পা আমার
হয়তো পারিনি যেতে যত দূর
যাওয়া যেতো , পাইনি অনেক কিছু
মাটিতে রাখলে পা যত কিছু
পাওয়া যেতো , যা সকলে চায় !
তবু দিনশেষে এসে , খুশি খুশি
দেখেছি আকাশে মেঘের দল
আমারই মনের ধাঁচে গড়া
আজ ও আমি হাঁটিনা পথে
চড়িনা কল্প রথে , মন বলে
পেয়েছি যা তাই বা কে পায় !

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
বড় ব্যথা পাই
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

হৃদয় কে বেঁধে রাখি
ডাকিনা তোমায় মনে মনে
তবু কেনো ভুলতে পারিনা
যে কথা লিখেছ গানে গানে !
সুরে সুরে ভেসে আসে বাতাসের সাথে
ভুলে যাওয়া গন্ধ তোমার
ভেজা চুল শ্রাবণের রাতে ,
যে রাতে ছিলে তুমি প্রেয়সী আমার
হাত রেখেছিলে এই হাতে!

হাত ছেড়ে পথ ছেড়ে
চলে গেছো দুরে
আগুনের তাপে পুরে ছাই
তোমার গানের কলি তবু কেন
ভুলি না যে
ফিরে ফিরে ঘিরে ধরে
বড় ব্যথা পাই

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
তবু আজ মন চায় তাই
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

কবি তোমার কথা ছুঁয়ে যায় মন
মন বলে শুনেছি এ সব কিছু
অন্য দেশে অন্য কালে
দুজনাতে ছিলাম যখন
এক সুরে বাঁধা তারে বিনার মতন ,
তুমি খুঁজে ছিলে যাকে প্রিয়া বলে ডেকে
আসেনি তোমার বুকে , ব্যথা পেলে তাই
সে যে ছিল কালের ও পারে
আজ আমার মাঝারে ;
বল ,কেমন করে যেতাম কাল ফুঁড়ে
অতীতে তোমার বুকে ,
মাথা রাখি - তবু আজ মন
চায় তাই !

.           ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
সে কি এলো
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

কালের আগমনে চোখ পেতে রাখি
এসেছে কি
বাতাসের নির্ঝরে শুনি পদশব্দ
সে কি এলো!
জানি চলে গেছে বিগত সে
তবু কেন ফিরে ফিরে আসে
ছায়া ঘন চোখের মায়ায়
বুক ভাঙ্গা যন্ত্রণা,
আশাহীন নীরবতা,
তছ নছ করে ডাকে
এই তো সে আমার ছায়ার সাথে
পায়ে পায়ে হেঁটে চলে
অন্ধকারে মিশে
দেখিনা শুনিনা তাকে
স্পর্শ না করি
তবু সে আমারই স্বপ্ন
আমার বেদনা
আমার সকল দিয়ে গড়া
কল্পনা
অতীতের অভিমান
আজও তাকে নিয়ে চলি বোয়ে,
বর্তমান
অভিমান
ছাড়াতে না পারি যদি
যাবে সাথে সাথে
আগামী আলোতে
অন্ধকার হোয়ে

.        ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
আমরা পারিনা
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

বোলনা এমন কথা কবি
তুমি যা কিছুই পারো
আমরা পারিনা তা
মৃত্যুর নীরবতা
জীবনের শেষ কথা
কি করেই বা ভালোবাসি
যা নিশ্চিত তাকে ফেরাতে চায়
প্রাণ, এ তো পরিহাস জনমের
জীবনের দাম মৃত্যুর ঘরে হবে জমা
আমরা তা জানি - তবু
যত টুকু শ্বাস বর্তমান,
মৃত্যু কে ফেরাবেই প্রাণ -
মৃত্যুর শীতলতা ছুঁয়ে যায়
প্রাণ করে হায় হায়
ভালোবাসি জীবন কে যত কষ্ট পাই
মৃত্যু না চাই
কবি তুমি পারো - আরও আরও আরও
মরণে মাঝে ভালবাসা
সে গভীরতা
আমাদের নেই কারো

.        ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর
*
আমি তোর কাছে ঋণী
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়

জীবনের আনন্দ ভিতরেই থাকে
তাকে বৃথা হন্য হয়ে খুঁজি
তারপর দুঃখ ছেয়ে যায়
অধরা খুশির আশায়
কাঁদে প্রাণ মন, তখন
গভীর দুঃখ ভারী হতে থাকে
অন্ধকার চারি ধার
আনন্দের এলো খুঁজে ফেরে
শরীর মন এক সাথে বেদনার
পাঁকে ডুবে যায় - সে কালো
তরলে মন তরণী ভাসায়,
চুপি চুপি টুপ টাপ
ঝরে পরে জল - অনন্ত অতল
এক আনন্দ সাগরে,
কবি বাস করে
বেদনার রঙ দিয়ে ছবি এঁকে যায়
অচেনা ভাষায়

আমি দেখি আমি শুনি
সে গভীর আনন্দ সাগরে দিয়ে ডুব
কবি, আমি তোর কাছে ঋণী

.        ****************  
.                                                                               
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর