কবি  সুতপা সেনগুপ্তর কবিতা
*
যাত্রা
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

ও আমার মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ ও আমার পতিত-উদ্ধার
ও আমার খৃস্টীয় জপমালা ও আমার জীবনের উল্টোপাল্টা দিক
ও আমার সরস্বতীরঙা শাড়ি ও আমার দরজাবন্ধ ঘর
ও আমার বন্ধুবান্ধবীর মেলাও আমার আত্মগুমোর
ও আমার দ্বিপ্রহরে কেঁদে ওঠা ও আমার মল্লিকাবাহার
ও আমার বঙ্গীয় চেতনা ও আমার ফরাসী নিরিখ
ও আমার স্নান করিবার পরে ভিজা কালো চুল
ও আমার একা একা ট্রামভ্রমণ ও আমার চিলে নিশ্বাস
সকলে এসেছে আজ এ ডিঙায় থাকো মিলজুল
চলিয়া যাইব আমি এ দেশ ছাড়িয়া নিজ দেশে
ও আমার ডাক ছাড়ি কান্না লাগে ও আমার গোছগাছ শেষে

.             *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিরুদ্ধমর্মর
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

পুষ্পশোভা অকরুণ নিয়তির বেশে
আমাকে দিয়েছে যেন জ্বলন্ত কাঠের
বিশুদ্ধ তাপের রূপ, অসহ্য বোবায়
যে সান্নিধ্য উপহার দেয় মুক প্রাণী

আদিগন্ত খ্যাতি তার, একগুঁয়ে বিস্তার
মুখোমুখি, জীবন্ত সে ভেসেছে বাতাসে
ইতস্তত, সর্বনেশে, নিছক অস্তিত্ব ধরে রাখা
কী দৃপ্ত ভঙ্গিমা যেন নিশ্বাসে শত্রুতা

মুহূর্তে মুহূর্তে কী অপ্রত্যাশিত
ফোঁটা ফোঁটা করে যেন রক্ত নিংড়ে নেবে
তবু কী অশ্রুর আঠা দুচক্ষু জুড়েছে
জীর্ণ সেই সুন্দরের কঠিন জামফল

যেন স্তন, ভেসে ওঠা তুহিন তুষার
হেমন্ত ঝরানো, একলা, নীচু, শুষে ফেলা
শীতের ভয় ধরানো সে বিষন্নতা-গাঢ়
সন্ধের মুঠোয় পিষ্ট দিব্য অন্ধকার

পাতালে যাবার পূর্বে অরণ্য, মেঘের
সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দেওয়া বিরুদ্ধ মর্মর

.         *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
আগুনটান
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

এক

দু’চক্ষের শান্তি তুমি এ পোড়া শহরে
তুমি না থাকলে যে আমি কীরকম দমবন্ধ কী তেষ্টাকাতর

অথচ তোমাকে আমি কদ্দিন দেখেছি, বলো
মাত্র ক-টা দিন ?

একে বলে আলো-খাওয়া, বলে পিঁপড়ের পাখা ওঠা


দুই

ফাল্গুন মাসেও শীত ? বিধবা তো নই
বুড়ি আইবুড়োর মতো অল্পে জড়সড় ?

পাশে বসা আগুনের আঁচে বদভ্যাস

কী করলাম, শ্যামরায়, নতুন আলাপে

.         *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
মন্ত্র
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

লাল মদ আর নীল ছবি আর হলুদ বই
কাজললতা আলতা কাঁথা গোলাপসই

বালির ঘড়ি ঠাণ্টা মেশিন খাট্টা মিঠা
সর্বনাশের পৌষ মাসে গুড়ের পিঠা

শনিঠাকুর পুণ্যিপুকুর সারকুমারী
রেসজুয়াড়ি কলের চাকা বাইজিবাড়ি

বরের চিঠি হাতপাখাটি মেয়েমহল্লা
ঘরজ্বালানি পারভালানি কেচ্ছাবাহার

সুখের গোলা পায়রা জোড়া ছুটির বেলা
হাই উঠে যায় ঘণ্টা বাজে ঘুমের কেলাস

উড়নি টেড়ি মাছের ভেড়ি টাকার গন্ধ
গঙ্গাবক্ষে বাতাস বহে মৃদুমন্দ

পাখির শিস আর ধানের শীষ আর রূপাসীসা
মিলেজুলে টাকার হিসাব কড়ির হিসাব

ওথলানো দুধ, ঘন যামিনীর মাঝে না বলা
কালের ফোড়ন, শেষ রন্ধন, বাঁশের দোলা

.           *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাশীবাসিনী
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

এখানে যে বাবা বিশ্বনাথের চরণে প্রসাদ পড়ে
তার ইহকাল পরকাল এক, গলিত জীবনস্তূপ
সারারাত ধরে গাঁজা ও জুয়াড়ি, বারবনিতার লীলা
কীবাবে বাঁচাবে তোকে অভাগিনী পূণ্য নরকবাস

সকালে নীর কোলাহল ভেঙে কথকতা উঠে আসে
পায়রার মতো তীর্থযাত্রী খুঁটে খুঁটে খায় দানা
বিকেলে বাতাসা হরির লুটের ঘন্টাধ্বনি ওঠে
আরতিশেষের আঁধারে বিধবা মেয়েরা বেশ্যা হয়

তবি দ্যাখো ওই কাশীবাসিনীর শরত্চন্দ্র এলে
যে বুকে মেরেছে যন্ত্রণাসাড়, সে ঘোমটাগুলি ওড়ে
ঘাটের সিঁড়িতে পড়ে থেকে শুধু বলেছে চোখের জল
সাদা জ্যোত্স্নার কানে সারি সারি সাদা ঘোমটার কথা

.                *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
রোহিত
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

জানো, আমি অনেক আগেই তোমায় দেখেছিলাম,
করতলের স্পর্ষ পাবার অনেক আগে

ওরা তোমায় বালক বলক,
ওরা তোমায় সর্বনাশও বলে

নখের মৃদুসীমায় তুমি জবাকুসুম তোল

ধীবর, তোমার মারণ জালে
অনেক বছর আগে আমি
গোপনে এক ছিদ্র করেছিলাম

.     *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর