কবি  সুতপা সেনগুপ্তর কবিতা
*
ছোকরা ছোকরা শ্যাম রায়-বাই
কাব্যগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত অংশ
কবি সুতপা সেনগুপ্ত

১।

আবার বুকের মধ্যে আমের বোলের মতো ব্যথা
কত বছরের পর, শ্যাম রায়, তোমার জন্যেই এল
এদিক ওদিক বহু কথা হলো পাশাপাশি শুয়ে খোলা রোদে
অন্ধকার উলটে পাল্টে ফিসফিসিয়ে পাথুরে খাদানে

তোমাকে বুকের মধ্যে নেবে বলে টান টান আকাশ
মেলে দিয়েছে চড়া তাপে বীরভূমের লালপাহাড়ি দেশ
তোমার গালের নীল আভা থেকে লেগেছে শিহর
টক-ঝাল তারিণ্য মেখে ফেঁসে গেছে বেশিবয়সি মেয়ে                             
সূচিতে . . .   



২।

কথাবার্তা নেই কোনো, এসে পড়লে
যেন এখানেই
তোমার আসার কথা ছিল আগে থেকে, বহু আগে

যেন কত জন্ম ধরে আসছ আসছই

এ জন্মে দেখা হয়ে গেল, কেন,
.                        কেন দেখা হলো ?
না এলেই ভাল হতো, হতো না কি, বলো শ্যাম রায়

এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে সব বুঝেছি                                       
সূচিতে . . .   



৪।

প্রেরণা থইথই করছে, শ্যাম রায়, তোমার দৌলতে
গরিবখানায় এল, মারহাব্বা,
.                        ইদী টুকরো চাঁদ
যত্ন করে রেখে দেব, নষ্ট হতে দেব না কখনো

যে দৌলতে পেয়ে গেছি জিনে কা ফান্ডা, পুরো
.                        একজীবন বাঁচার আসান                                    
সূচিতে . . .   



৫।

শ্যাম রায়কে দেখা হবে আর ?
শ্যাম রায় কোন্ আবাসনে থাকে জানি, ওখানে যাবার
বাধা নেই, ট্র্যফিক সিগনাল
থাকবে না সিওর, তবু মোটেই যাব না মেরি জান

তোমার ঘরেই থাকব
কোনদিন সন্ধেয়
টুকিটাকি কিনে আনব, কোলন, টাইপিন
ওসবের কিছু আমি শ্যাম রায়কে দেব না

খুব চাইলে দিতে পারি সবজে-কালো সাপ
.                চওড়া কব্জিতে জড়িয়ে শ্যাম রায়
ব্যামিন্টন খেললে তোবা তোবা মরে যাব
মরব মেরি জান                                                                       
সূচিতে . . .   



৬।

শ্যাম রায় ঘুমিয়ে থাকে কুল ক্যাট ট্রেনের জানলায়
ঝাঁকি মেরে জেগে উঠে ঘন ঘন তাকায় এদিকে

অত্যন্ত নরজ করে খুঁটিনাটি সমস্ত আমার
পড়ন্ত কফিটি সামলে যাচ্ছেতাই শিভালরি দেখায়

‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলতেই, হেসে, বসে পড়ে পাশের কুর্সিতে

তারপর ছাড়ে না আর, জেঁকে ধরে, লেপ্টে যায়, সাপটে তোলে
.                                                ডেসপ্যারেট
.                                        কমবখ্ত যৌবন                                  
সূচিতে . . .   



৭।

এ কেমন হাওয়া দিচ্ছে এ কেমন গজরাচ্ছে রোদের
ঠা ঠা সকালের আলো, এ কেমন ফোসলাচ্ছে আমাকে
আমার বয়স থেকে চেনা গল্পগাছা ভেঙে চুরে
এ কেমন কুমতলবি, এ কেমন আহ্লাদ ইয়ার

যতই শয়তানি করো, ও হাসিতে ভুলছি না কো মোটে
সুতো ছাড়ছি দেখে ভাবছ কাঁচা মাঞ্জা খেলায় নেমেছি ?
উড়ে যাব যতদূর পারি, আর তারপর তোমার
কিচাইন করে দেব, গুডি গুডি ছোকরা শ্যাম রায়                                    
সূচিতে . . .   



৮।

দ্যাখো শ্যাম রায় আমি বলে দিচ্ছি, লাস্ট ওয়ার্নিং---
আছো ভাবনায় আছে, স্বপ্নে এসে ওস্তাদি মেরো না
ওখানে নিজের মতো থাকতে দাও আমাকে আর সে-বিচ্ছু ছোঁড়াকে
যাকে ভেবে খিদে পাচ্ছে, এত খিদে, খাচ্ছি না কিছুই

স্বপ্নে আমি তাকে নিয়ে খেতে যাব সঙ্গম ধাবায়
চাইলে সঙ্গে আসতো পারো,

.                মির্চি মোহব্বৎ পারো, স্টুপিড শ্যাম রায় ?                            
সূচিতে . . .   



১০।

হয়তো ও ওরকমই, ছল্লিবাজ, মেয়ে দেখলে আলাপ
হয়তো আমারই ভুল হয়েছিল---আমিই বা কোন তুলসী তামা

যা হোক গে, অনেক রাত শুয়ে পড়ি, কাল ভোরে ছেলের ইস্কুল
ছেলে তো বুঝবে না, আর পুলকার দারোয়ান প্রেয়ার-ঘন্টা আরো বুঝবে না

টুফুন বাক্স, স্কুলড্রেস, জলের বোতলও বুঝতে চাইবে না মোটেই
স্টুডেন্টের মায়ের কেন ছোকরা ছোকরা শ্যাম রায়-বাই                              
সূচিতে . . .   



১১।

‘মননে আকর্ষণীয়া’ সে তো বড্ড বড় বড় কথা
কীই বা মমন আর কীসের আকর্ষণ,
.                                শ্যাম রায় ?

পাশে বসে কথা বললে বাতাস গরম লাগে, শীত কমে আসে
এর বেশি আর কিছু বুঝবার কী দরকার আমার
উষ্ণতা, শ্যাম রায়, উষ্ণতার অবাব কি জেনেছ কখনও ?
তাহলে কী করে বুঝবে চল্লিশোর্ধ্বা কেন এত হেসে উঠতে চায়                        
সূচিতে . . .   



১৪।

উচ্চতা মাঝারি, নম্র, ঋজু---যেন তরুণ শালের
সবুজ পাতার মতো আলো-খেলে-যাওয়া

তোমার শরীর খুহ মুগ্ধ করে,
.                        আর
আঝোর বৃষ্টিতে নেমে ছাতা মেলে ধরা

কেন এত ভয়ে ভয়ে না ছুঁয়ে থেকেছ
ভেবেছ যত্নই নেব, আদর নেব না ?                                                    
সূচিতে . . .   



১৬।

কী দেখা দেখেছ গুরু, শ্যাম রায়সাহেব
আর কোনো চোখ আমি চোখ বলে ভাবতেই পারছি না

কী বিচ্ছিরি হ্যালো বল কী অপূর্ব বাজে বকতে পারো
কী সুইট শুদুমুদু খুঁটে দাও গাল থেকে আঁচড়

নেশা নেশা হয়ে বলো, ‘দেখা হবে ?’
.                        দেখা,
হবে দেখা, ট্রেন বলে, বাউলের গুবগুবি বলছে, জয় রাধে
হবে---

.        কী কী সব ঘটে যাচ্ছে
.                চোখ সরাও, ইশ্ শ্ শ্                                                   
সূচিতে . . .  



১৭।

ভীষণ জ্বালাচ্ছ তুমি, চটে যাচ্ছি খুব
যদিও সকলে বলছে
.                এনকোর এনকোর
বাহবা পেতেই বুঝি ফেলেছি ভালোবেসে
---টুসকিতে ফেলে দিই তাহলে ?

অত বোকা নই, পাশে বসিয়েছি বাবু
সে শুধু জ্বলার জন্যে ?---তোমাকেও ব্যাপক জ্বালাব                                   
সূচিতে . . .  



২৩।

আবার শ্যাম রায় ? যাও, যথেষ্ট হয়েছে, বাড়ি যাও
বউকে নিয়ে লং ড্রাইভ, পার্টি শার্টি, বিলিয়ার্ড, হেলথ ক্লাব
.                                যেখানে যা খুশি
যাচ্ছেতাই করো, প্লিজ---হাতজোড়---আর কাছে এসো না

এসো না বললেই স্রেফ চলে যাবে ? মাইরি আচ্ছা ছেলে

টিপিকাল মেয়ে নই বলে কখনো কি মুখে না না
.                        মনে মনে হ্যাঁ বলতে পারি না ?                                
সূচিতে . . .  



২৫।

সিগারেট খাচ্ছি, তুমি হাত রেখেছ পিঠের দেয়ালে
ট্রেনের দুলুনি লেগে একটু-একটু ছুঁয়ে যাচ্ছে পিঠ
অসম্ভব শান্তি লাগছে

.                        ক বছর উপোসি শরীর
গরিবের খাওয়ার মতো অল্প অল্প করে মেখে নিয়ে
অনেকটা সময় ধরে পেতে চাইছে হাতের আস্বাদ

একটা সিগারেট শেষ, আবার ধরাচ্ছি, ফের, আরেকটা, আবার . . .

ফাঁকা করিডোর জুড়ে না-বোঝার ভান করছে
.                        খয়েরি পিঠ আর ফরসা হাত                                   
সূচিতে . . .  



২৬।

জামা বদলাব না আমি, যে জ্যাকেট নিয়ে পড়েছিলে
জড়িয়ে-পাকিয়ে তাকে শুয়ে থাকব অবেলার খাটে
রোদ এসে কানকি মারবে, বলবে, ওঠো ইস্কুল যাবে না ?
ক্লাসরুম পড়ে আছে বোকা মাস্টারনির অপেক্ষায়

উঠে পড়ে স্নান করব, স্নান করতে করতে ভাবব, আজ
আরেকবার দেখা হতে পারে নাকি স্টেশনে আবার
কফিকাপ চলকে যাবে, নেমে এসে গড়াবে কাপড়ে
তবু বদলাব না আমি যে জামা ছুঁয়েছে শ্যাম রায়                                       
সূচিতে . . .  



২৯।

এভাবে তোমার সঙ্গে দেখা---আর ফিদা হওয়া
চূড়ান্ত ফ্যানটাসি

বুক-ওঠার সময় যে স্বপ্নের বাসস্টপে
প্রত্যেকটা মেয়ের জন্যে রাজপুত্র বাইক নিয়ে আসে

আমারও এসেছে,
কিন্তু কারপর এতগুলো বছর যেভাবে

খুচরো, ভাহা, তেতো, ফালতু
ভুলে যাব
.        রাজপুত্র
.                এসো, আজ সব পুষিয়ে দাও                                            
সূচিতে . . .  



৩১।

ভেবেছ কি ছেড়ে দেব, শোধ নেব না চান্স মাত্র পেলে ?
যে-মুহুর্তে ঢুকবে এসে আমার ঘরের দরজা ঠেলে---

আমি তো ভদ্রই থাকি, ট্রেনে বেশ আলগা আলগা বসি
কাঁধে কাঁধ ছড়ে যাওয়া সে ছিল তো প্রথম-প্রথম

কিন্তু সেদিন যে তুমি ‘একটু শুনুন’ বলে টুক করে ঘাড়ে অল্প চুমু

কী ইচ্ছে করল কি জানো কী কী সব ইচ্ছে সব
.                        কামরাভর্তি লোকের সামনেই                                     
সূচিতে . . .  



৩২।

ইয়ার্কি মেরো না অত, তুমি নও দিল-ও-জানম
যখন যেখানে বলবে সেখানেই দেখা করতে হবে ?

এ জান ছুঁকছুঁক তবু,
.                আত্মগরিমার মাথা খেয়ে
থামাতে পারছে না এই ঘন ঘন দেখা হয়ে যাওয়া

তোমারও তো একই দশা, হচ্ছে কি হচ্ছে না জলদি বলো
নম্বর লাগাও আর ভিতু স্বরে
.                        ‘হ্যালো, মিসেস এস---’

তারপর ভবানীপুর, ফাঁকা চীনে রেস্তোরাঁয় মোমো
সুপের বাটিকে মধ্যে রেখে দ্রুত ঘনঘোর চুমু                                             
সূচিতে . . .  



৩৩।

এভাবে লুকিয়ে দেখা, এভাবে চুরিয়ে প্রেম
এ-বয়সে কি ভালো, না খারাপ ?

এ বয়েস কোন্ বয়েস ? তোমার বত্রিশ, আর
আমি বেয়াল্লিশ হবো আসছে নভেম্বরে

তোমার তো লক্ষ্মীটি বউ, বেশ সুন্দরীই বলা যায়
আমার স্বামীও দীর্ঘ হ্যান্ডসাম, খুব ম্যাচো, ব্যরিটোন ভয়েস

তবু কেন অকারণ এ-বুক দুটো তুখোড় হয়
অসভ্য বদমাইশ ছেলে
.        স্যাম রায়, তোমার তাবায়                                                        
সূচিতে . . .  



৩৫।

বৌদিবাজি করছ নাকি ? লোকে বলছে তাই ?
আমি মাত্র ক-টা দিন বনলতা সেন

মুখোমুখি বসে আমরা খুলে ফেলছি কাপড় ?
তারপর কীভাবে যেন পিকাসো-পেন্টিং

এটা-ওটা-সেটা বলছে ?
.                        অমুক তমুক ?

ওদের জানিয়ে দাও আমি তোমার বন্ধু মিসেস এস                                    
সূচিতে . . .  



৩৬।

দান্তের কমেডি থেকে কয়েকটা নরক এনে
ঢেলে দিচ্ছি সামনের মাটিতে

ও দিব্য ল্যাম্পটা, তুমি সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে
একমুহূর্ত শ্যাম রায়-শরীরে
এ জীবনে একটি বার

বিবাহিত পুরুষের গলায় জড়িয়ে গিয়ে---
শুষে খাই

.        আপেল, নিষেধ                                                                   
সূচিতে . . .  



৩৭।

দুজনেই পড়েছিলাম হোলি চাইল্ড, বিডন স্ট্রিট---আমার ক্লাস এইট
তুমি মন্টেসারি-ছাত্র, নিশ্চয় গাল টিপে দিয়েছি তোমাকে পুতুল . . .
নানা সে কী করে হবে, বিল্ডিং আলাদা ছিল
তবে হয়তো একসিবিশনেই
ইয়েস অফ কোর্স আই রিমেমবার একটাকে রোজ বারবার কী চটকে আদর

সে কি তুমি নও, সে কি তুমি---ভেবে মিশে যাচ্ছে আমাদের শরীর

এত বছরের সেই বিরহের খোঁয়ারি থেকে
.                                আমাদের কে বাঁচাবে কিউপিড                       
সূচিতে . . .  



৩৮।

বুড়ি শালিকের ঘাড়ে চেগে গেছে রোঁ
ভরা দেহে চাপ দিচ্ছ, হাত দুটো পাগল
শীত করছে, গায়ের কাঁটা, সইতে পারছি না
মরে যাব, ঠোঁট ওঠাও, শ্যাম, ঠোঁট ওঠাও                                              
সূচিতে . . .  



৩৯।

তোমার সকালবেলা উন্মাদ দাঁড়ানো এসে
তোমার মুখের মুগ্ধ শ্বাস
বিকেলে ভোরের ফুল উপহার দেওয়া দেখে
খুলে যাচ্ছে জামাপ বোতাম

তোমার অস্থির চুমু, ছটফটে হাতের আঁচ
ভারী ও নিটোল দুটো থাম
সব নিংড়ে নেব আমি, হাতে ধরে পায়ে ঠেলে
কামকলা শেখাব, কাঁচা শ্যাম                                                             
সূচিতে . . .  



৪১।

গালে ব্রণ ফুটে গেছে, এ বছর, পড়ন্ত দুপুরে

কীভাবে সারাব ব্রণ ? তোমার গালের ঘষা লেগে

ফেটে গেছে, জ্বালা ধরেছে, তবু আমি পারছি না সরাতে
শ্যাম রায়, শ্যাম রায়, তোমার শরীর তুমি তুলে দাও
.                        আরেকবার আমার শরীরে                                       
সূচিতে . . .  



৪২।

তোমার নরন ভারী শরীরের নীচে শুয়ে
ফিরে আসছে আমারও পুরোনো
খেলা ও খেলুড়িপনা, পুরুষ ছোঁয়ার মজা
শঙ্খ-লাগা অমৃ ছোবল

তুমিও কি অপরূপ শিখে নিচ্ছ ভাঙা-গড়া
ঠোটে কামড়ে বুকে পিষে ফেলে
বলেছ রোয়াব নিয়ে, আমিই শাসন করব
---কিছুই বোঝ না, বাচ্চা ছেলে                                                           
সূচিতে . . .  



৪৩।

চোখ শুষে স্বাদ পেয়েছে গলানো চিজের
ঠোঁটদুটো ভরাট জামফল
শরীরে কিসের গন্ধ, কামার্ত বাঘের ?

আর পারা যাচ্ছে না শ্যাম রায়

কীভাবে নিয়েছ টেনে, বসিয়েছ কোলের ওপর
আছড়ে পড়ে ডুবেছি ভেতরে---

কয়েক শো বছর পরে শ্যাম রায় খেয়েছি বলে
বৃষ্টি এল, ইণ্ডিয়া জিতেছে                                                                
সূচিতে . . .  



৪৪।

হইহই কোরো না অত, একটি ধীর স্থির হয়ে বোসো
ছটফটে ছেলে, শোনো, মাঝে মধ্যে শান্ত হয়ে থাকা
তেমন খারাপ নয়, সে-দুপুরে তুমিও তো আমার ভেতরে
এলে নির্দ্বিধায়,
আর সর্বস্ব হারালে দ্বিধা ফেলে
এমন প্রেমের দাম কে দিয়েছে কোন্ গিন প্রকাশ্য সমাজে ?

---ওসব গোপন থাক্, প্রকাশ কোরো না
.                        লেডি চ্যাটার্লির যুবা                                              
সূচিতে . . .  



৪৬।

ধাক্কা দিচ্ছ ধাক্কা দিচ্ছ
চাপা শ্বাসে বলে উঠছ ‘সেক্সি মহিলা’

বাইরে দুপুর ঠা ঠা

ঘরে আগুনের মধ্যে শিশিরের ফোঁটা                                                     
সূচিতে . . .  





৪৯।

দু-চোখের শান্তি তুমি, শ্যাম রায়, এ পোড়া শহরে
তুমি না থাকলে যে আমি কীরকম দমবন্ধ কী তেষ্টাকাতর

অথচ তোমাকে আমি কদ্দিন দেখেছি, বলো
.                                মাত্র ক-টা দিন ?

একো বলে আলো-খাওয়া, বলে পিঁপড়ের পাখা                                          
সূচিতে . . .  




৫২।

এখনও আশা ছাড়িনি আমি, বুঝলে শ্যাম রায়
এখনও তুমি আসতে পার ভেবে
এমন সাজসরঞ্জাম,
.                চেয়ার পেতে বসা
.                বারান্দার একলা চোরা থাম

চোখ নামিয়ে অপেক্ষার গানের পরে গানে
রফি কিশোর মান্না দে-র মরণমুখী টান---

রাতের টোকা পাবার আশায়

ফর্সা জামা পড়া

সাবান মেখে অনেকক্ষণ চান                                                               
সূচিতে . . .  



৫৫।

সে আমার সঙ্গে মেশে কান অব্দি প্রেমে পড়ে, তারপর ছেড়ে চলে যায়
আচমকা একদিন ফের দুম করে ফিরে আসে, ঠিক যেরকম হওয়া চাই

লজের পুরোনো জানলার কাছে টেনে এনে বলে, নাও, ভাল করে চুমু খাও
ওহো হো হো এভাবেই রাত কেটে ভোর হলে
.                                কারো কিছু বলার আছে ?

অবশ্য বলার আছে
এরকম শ্যাম রায়
.                একশো জন্মে দু-এক পিস জোটে                                        
সূচিতে . . .  




৫৬।

আবার এসেছ তুমি, অন্ধকার ঘরে ফের দাউ দাউ আগুন
আবার সেঁকতাপ দিচ্ছি, তাড়িত যৌবন নিয়ে দরজায় এসেছ

কতদিন পরে আমি আবার বরাত পেয়ে শেখাচ্ছি সমস্ত সূক্ষ্ম কাজ

হাঁটু গেড়ে বসে, ফের
.                দাঁড়াচ্ছে খাপখোলা উঠে        ধাঁধা লাগা শান

গলে যাচ্ছ        ডাঁটো হচ্ছো        দারালো ফলার মতো এসপার ওসপার

দুমড়ে ফেলেছি        টেনে তুলছি        কত কষ্টে কী কষ্টে যে
.                                তৈরি করছি পুরুষ শ্যাম রায়   



.                      *************************  

.                                                                                       
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর