কবি সৈয়দ আফসার-এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
ডাক

নিগুঢ় গুঞ্জনে খসে পড়ো জিভ
খোলা চোখে নয়, লালার ফাঁকে
দেবী, প্রগাঢ় জলের রহস্য কি?
ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নেয়া!...

বিভাজিত হলে অবগাহন কালে
কে প্রান্ত ছুঁয়ে এলো স্তব্ধতা ফেলে
তুমি ঘুরে দাঁড়ালে আমি লুকাবো বাষ্পে—
ফিরে আসবে অঙ্গ খেলে; নিগুঢ় গুঞ্জনে

.                   ****************                                                            
সূচি   


মিলনসাগর
*
পূর্ণহৃদয়জুড়ে

এখনই যাবে, এই ভরসন্ধ্যা বেলায়?
যাও তবে, প্রতীক্ষায় থাকলো চোখ—
ক্ষুধার্ত বুক, আরো কিছু প্রহর…

নীরবে যতদূরে যাও মিশে আছো ঊর্ধ্বশ্বাসে
শুধু অজানা কতটুকু নিঃশ্বাস জড়াবে বিরহে
দৃষ্টি যতদূর যাবে আমিহীন রাত্রিবহর খুলে
মনেরকথা রেখে যাবে কিন্তু পূর্ণহৃদয়জুড়ে


.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
সংশয়

ইচ্ছে ছিল তোর সাথে যাবো
.        ভরা বর্ষায়!
তাই ভিজে গেলো শরীর
.        উলটো হাওয়ায়

ভরা বর্ষায় বাড়ির চারপাশ জুড়ে
জলভাঙার শব্দে গুঁড়োবৃষ্টিতে মিলায়
ঝরে চিলেকোঠায়, বারান্দায়
তুই কী জানিস— এইখানে
আমাদের জলকেলি খেলা নিয়ে
জলে-স্থলে কত সংশয়

.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
ক্রিষ্টাল

চুপ চর্চায় পেয়েছিলাম অসত্যভাষণ
ক্রিষ্টালের গলায় ঝুলা অনাসক্ত শোষণ
মৃদু হাসলে প্রস্তুত রাখো তোমার—
.                ঠোঁটের আলোড়ন!
এবার এসো, অ-স্থির হয়ে বসি; স্বপ্নের মুখোমুখি
ঘরে ফেরার শিথানে দাঁড়াবে কী? ঘুমহীন পাখি

.              ****************                                                                
সূচি     


মিলনসাগর
*
পোড়ামাংসের বাজার

সংকোচ মৃতকথার আঁচে পুরো রেঁনেসা
যার ত্রিকালে ধরাবাঁধা; প্রথাভাঙা আশা

কথার ভেতর থাকে কাঁটাঅলা কথাটথা তাও দামী
লুকানো রূপ চোখে দেখি না, অপদার্থ এই আমি!

বিস্ময় রেখে শব্দটি বিঁধে গেল চিকণশ্বাসে
এভাবেই পিছুটান ক্ষুদ্র মন-ঘরনার পাশে

তুলে রাখি প্রেরণাসহ কাঁচা হলুদে যত ক্ষতদাগ
আলোবাহকের শ্লেষে দেহলতায় বাড়াও অনুরাগ

নিজের ভেতর অন্য ক্ষরণ নেই বলে
আমার পোড়ামাংসের বাজার বিফলে
.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
শব্দ

ছায়ার নিচে সে যদি রোদ কুড়ায় তবে
সেলাইকলের টানাটানা শব্দগুলো
বাদ যাবে কেন, কলঘরের একটানা শব্দও
.                       কুড়াক
নৈঃশব্দ জানে না সোনামুখী সুইয়ের ছিদ্রকথা-
সুতোহীন দীর্ঘশ্বাসে যতটা থেকে যায়; ওড়াটাই
.            শুকনো পালকে জ্বররুগ্নতা...
সেও যদি উড়তে পারে তবে বালুচরে না-হেঁটেও
চোখের ভেতর জেগে উঠবে চর- তারপর
নিঃশ্বাসে মশলার ঘ্রাণে লোভ বাড়ে; কলকব্জা-হাড়ে
দগ্ধপাঁজর জুড়ে চুম্বনের হাসি পাবে, মাংশ খোললে  

.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
ধ্যান ও বর্ণ

দাঁড়াও রোদে, আমি দেখি সালোকসংশ্লেষন
নিয়নের মতো এ্যাতো বায়না ধরো সর্বাঙ্গে
আপাদমস্তক টানাটানি প্রীতিসহ গভীর চোখে

শোধ পাবার আশায় আমাকেও ঋণী করো
স্পষ্টবর্ণে, বহ্নির ধ্যানে দূরঅব্দি বানাও
.                     বোবাদর্শক...

নিজেকে খুঁজি স্বপ্নমহিমায়, মশারির আলোয়
ভাগ্যিস আমি আজও বেঁচে আছি সতর্কতায়
ভরাদৃশ্য অচেনা মোহে নয়, কাছে দাঁড়ালে—
তোর বিশ্বস্ত চোখ আমাকে শিখায় নীরবতা
.                     জলপ্রাচুর্য, জলপতন

আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নিশ্চুপ, তোর মাতালচিবুক

.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
দূরত্ব নির্ণয়

যেহেতু তুমিও সরে যাচ্ছো দূরে; আংশিক দূরত্বে
আমাকেও দূরে রাখা ভালো অর্ধেক উত্তরাধিকারে
দূরত্ব নির্ণয় হলেই সম্পর্কের ঘনত্ব বাড়ে; আর—
ইচ্ছা বুঝাতে অনন্তঃ দূরে থাকো; হৃদানুভব ছিঁড়ে

লজ্জা ঠেলে আসা; খোলা ফিতার জামা যেন জটিল অংক
সব স্মৃতি বয়সের মুখোমুখি; আমাকে পরাও পুরনোসর্ম্পক

আমি পড়ে আছি পাহারায়; গোপন বাষ্পের ভেতর
মন খারাপ থাকা; ছুঁড়ে দাও শূন্যতা; বন্ধন মায়ার

.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
বিস্ময়

বাতাস কেঁপে উঠে ডালে উগ্র হাওয়ায়
একেলা দু’হাত পেতেছি আকাশে—
তোর শরীর ফেটেছে পাতায়
এই মর্মে তোর শরীর জড়াতে আসবে শীতজন্ম
সেমিজের আগে... কিংবা কাঁথায়
আকাশ ছোঁয়া যাবে না, তওবা-ছায়াকে জানাই
বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখি বুক—
.               বুক ঘষলেই টের পাই
তোকে জড়িয়ে না-থাকার বিকল্প শুধু বিস্ময়!

.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
বুকটান

একা পড়তে চেয়েছি বোঝাপড়া; সারকথা
.                 ভীতি ও প্রলাপ
একটি বাকরুদ্ধ-কথা আমি লিখে রাখলেই কৌতূহল
যারা আমাকে দেখে গেছে পরজন্মে পরশু-তরশুদের
.                                                    বাড়ি
যদিও ঘটনাচক্রে তেমন কিছু পাওয়ার নেই
আজ শুধু এসো, পাশাপাশি বসি

আঙুলফুল গুনে আমার পতন ঠেকানো যাবে না
কারণও খোলাসা; বলছি আঙুলফল
চাষে সমাসবদ্ধ-আমিও আত্মীয়জীবনী
বহুদিন যে তাকে বুকে টানিনি।


.              ****************                                                                 
সূচি     


মিলনসাগর
*
নিত্য ধূপ জ্বেলে

একান্ত বিশ্বাসে সেও লেগে আছে জলে শৈবালে
মিশেল ফুকো’র  মতো সত্যপথের ধ্যান কুড়াবার
বদলে শূন্যতা-বিষব্যথা জাগে শুষ্ক দেহের ছালে
আততায়ীচোখ আমাকে স্লো করে রাখে ধূম্র-প্রতীক্ষায়
নোখে-আঙুলে সুতরাং দাঁড়িয়ে থাকার ছলে বুকের
ক্ষত ছ্যাঁৎ করে ওঠে কোর্তায় তোমাদের জামার  পকেটে
দেহ থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে ভ্রমজাল, গা-মাছির জলে তৈরি
হচ্ছে বাসনাফুল  কৌশলে; নিত্য ধূপ জ্বেলে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
আমি আর ছায়া

আমি আর ছায়া একইস্মৃতি মাড়িয়ে একসাথে হাঁটি
আমি আর ছায়া জঙ্গলবাড়ির আর্শিবাদে ধূলি ও খুঁটি

সে আর আমি আগুন পোড়ানোর গল্প লিখে যাই

সুখের পেছনে হাঁটতে-হাঁটতে ক্লান্ত আমি আর ছায়া…
ছায়ায় হাত দিয়ে দেখি; সে আর আমি একই কায়া!
.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
উষ্ণফুল

দেহের উষ্ণফুল! এতো দিন মনে হতো
সেও দ্যুতিময়; হয়ত সীমিত আকরে
অভিজ্ঞতাগুলো ঠুকে রাখে স্থিতমনে আর-
চুপিচুপি আবিষ্কার করে কীভাবে—
দেহে উষ্ণফুল ফুটে

কিন্তু তুমি পূর্ণতাসন্ধানে দেহের আকর গিলে পড়ে গেলে ফাঁদে
অপূর্ণতা ক্রমে ক্রমে মিলিয়ে যাচ্ছে দেখো শেষ বিকেলের রোদে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
শুকনো পাতা

শুনে ভীষণ ভালো লাগে যখন দেখি
তোর চোখের কাছে জমা বহুকালের
.             আহত স্মৃতি
বলছে তারও রয়েছে চারচোখা ইর্ষার বাতি
ভাবছি পরস্পর কিছুই ঘটেনি; যতটা এগুলে
তোর গতির চাইতে বাড়তি অনুভূতি
বিগত দিনের ব্যথা এখনিই ভুলে যাবার কথা
তাতে কতটুকু দূরে দাঁড়ানো ফলধরা ব্যর্থতা
কিছুই জানলি না-
কিন্তু কী আশ্চর্য! এমন ভালো  লাগার সাথে
লুপ্ত ছিল তার টান-টান গভীরতা
.     তুমিও চিনে রাখো শুকনো


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
সংঘর্ষ

অসাড় হাওয়ায় কী অদ্ভুত কাণ্ডে এসব ঘটল
কাল ওই ধাক্কাটা সহসা বেগে ব্যথা পেল
কী অলক্ষণে তা স্থানচ্যুত হল
শেষ পর্যন্ত সিঁড়ি বেয়ে পায়ের সাথে
জোড়ায় জোড়ায় শব্দগুলো উপরে উঠল
শরীরে হাত দিয়ে ধাক্কাটা অনুভব হয়নি
কোথায় হারালো—
যে যাই বলো; সেদিন কেন এমন হল
ধাক্কাটা বুকের ভেতর ঘূর্ণির মতো নাড়াল

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
গতি  

গতি-দাহ নিয়ে সন্দিহান চোখে; সেও আসতে পারে এমন কথা কাউকে বলা যাবে না দু-জনের
সন্দেহে; এরকম চিন্তায় আমাদের সম্পর্ক মিশে যেতে পারে আ-ছোঁয়া ভ্রমর বাতাসে রূপকথার
স্মৃতি বলতে আসিনি যা বলবো শুধু, শুধুই নিজের কাহিনী


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
মনব্যথা  

খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন দেখে
আমার দুঃখরা খুব একা একা থাকে
কি আর বলিব : জোড়াচোখ জানে—
কপোলের নিচে আপনিও জেগে আছেন
মনের ব্যথা…
জমানো আরো কিছু কথা লুকোচুরি খেলছে জেনে
আপনি হাসছেন! আর জানতে চাচ্ছেন মোহাবহ
আমি ঘুমিয়ে পড়ার আগে ঘুমিয়ে থাকেন চোখে
আহা'রে, আমার খুব হাসি পাচ্ছে এখন
আপনাকে আপসকামী দেখে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
সুনসান  

চোখে চোখে কথা হলেই সহৃদয় সুনসান আর
.                        বর্ষাদিন!
দৃষ্টির ঠিক পেছনে দেখি পুরাতন ভাব বিনিময়
আমাকে জড়াতে চায় গুহামুখ আর মাটির বাকল
আমাকে খুলে রাখিও একেলা; ওহো খোলা জানালা
কান্নারও যদি অদল-বদলে হয় বিশ্বাসে; শঙ্খমালায়

কুয়াশার চাদর ফেরাও দৃষ্টি; অদৃশ্যে হই আত্মভোলা
সহস্রকুয়াশামুখ দেখে আমাকে বেরুতে হয় সকালবেলা!


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
ফেরা   

ফিরতে চাই গর্বে কমপক্ষে তিন ক্রোশ দূরে
তোর হাসির আপসেট জেনে শেষ ভরসা মনে
তোর কাছে যাওয়ার রহস্য ভালো লাগা রিপ্লে
.                 -অন্তরঙ্গ-তিনকোণে
যা কিছু ফেলে আসা হলো, হাতে তুলে নাও
ধুলো-বালু সরাও, জল ঢালো স্নান করাও
ফ্রেমে বাঁধো তারে; ড্রয়িংরুম সাজাও
অন্যরা দেখুক, শিখুক কীভাবে জোড়াআদর
ভালো লাগা, চিরকাল মন খায় লুটে

জানুক আর্তনাদ পুষে কতটুকু দূরে থাকা নিরাপদ!
.                       অ-পোষণঠোঁটে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
আচঁল  

নীরবে বসে থাকার মানে কি? বেদনা ও বিবিধ
প্রথম বর্ষায় যাতনা গাছে সই পেতেছি, দাঁড়ালেই
প্রেম! শুধু জানলে না কে তাড়া দিচ্ছে পেছনে

এই হাতের শুষ্কতা হয়ত দাবী করে নেবে!
ওই হাত না-ছুঁলে দেহ কেন পূর্ণতা পাবে?

জ্যোৎস্না রাতে তারার সাথে আমি গেঁথে রই
প্রলুব্ধক্ষণ ভেঙে নড়েচড়ে উঠি চাঁদের কোলে
প্রণয়ালো প্রকাশ্যে ফুটেছে তোর শাড়ির আঁচলে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
যদি কথাই হয়  

যদি কথাই হয়; সারা দিয়ে যাবো
প্রয়োজনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে র’বো
.               —আড়াআড়ি
শুধু অপেক্ষা একটি শোবার ঘরে
চারটি দেয়াল খাড়া
তিনটি অন্ধঘড়ির কাঁটায় লাফিয়ে উঠছে
নিঝুম-অন্ধকার; অন্ধহাওয়া

দৃষ্টি আমার জন্য কিছু না-কিছু জমিয়ে রাখে
সরে দাঁড়ায়; সেও কথা শোনে না…
কোথায় যে উড়াল দিয়ে যাবো; কোন রাত্তিতে
একা জাগিয়াছো অন্ধফুলকলি; জ্যোৎস্নাহীন নিশ্চয়তা
শেষরাতে কিচিরমিচির শব্দেও মিলে গভীর নীরবতা


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
দগ্ধ পিপাসা  

মন যদি ভাঙো তুলে দিতে পারি
দেহভার
বলো, প্রশ্রয় দেবে দেবে কি? একা
রক্তাক্ত হবার
উইড়্যা যাবে তো যাও চিহ্ন না-রেখে
যেও রেখা চোখে, ধার পিপাসায়
আমি একা—
একাই কুড়িয়ে তুলি দগ্ধ পিপাসা
পাতালে টেনে রাখি পাহারা ও ভয়

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
জলের বিপরীত জল  

চিন্তা থেকে তুলে আনি কথা, অর্ধেক নীরবতা
নীরবতার ভেতর চিন্তা আসে, আসে দুশ্চিন্তা
ফলে, শূন্যতা ঘিরে রাখো তুমি নীতিবাক্য জপে
বিশ্বাসে মনোবল বাড়াও, বাড়ে পরিচিত আশা
আত্মকথনের ছলে, ভঙিমা গিলে

আঁজলার ফাঁকে আর কতটুকু জল ধরে রাখছো
কুশলতা উড়ে যাবার ঠিক কতটুকু আগে?
আমারওতো চিন্তাশিকল ভাঙার ইচ্ছে জাগে—
চোখদ্ধয় পাতি, সাধ জাগে, ঠিক পরিমান কত?
কিছুই বললে না; দেহমিনার আমাকে মাপ করেন
যথার্থ বিশ্বাস আমিও পুষি জলের বিপরীত জলে


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
মোহরস   

মোহরস গিলে জাগাতে পারো বিষব্যথা
শোধ দেবার আগে বাতি নেভানো সহ্য
করতে পারি না; জল পানে তৃষ্ণা নেই
যখন ঘুমাই সাধারণ অভিমানে ঘুমাই
.                     বুঝলে...
প্লীজ! তথাগত নিয়মে চ্যাঁচামেচি করো না
সংকোচ থাকলে রাত্রিঠোঁট খুলে নিতে পারো
পুরো অনুভব... তোমার কৃপায় দাঁড়ায় যদি
অনিদ্রিতচোখ তাই কি ভালো নয়
কিছুই বললে না অপূর্ণ প্রাণসুরা—
সে আর ফিরবে না জেনে পোড়া দেহে বিষব্যথা
থেকেই যাচ্ছে; আর ভাবাচ্ছে চেনা, অচেনা টানে
তুমি দুষ্টুমি করো না মনে-মনে নীরব অভিমানে


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
জ্বরস্পর্শ  

তুমি রাখছো আচ্ছন্নতায়, সুতোপথে
পৃথক সত্তায়
নিজেকে ব্যবহৃত করি পৃথক অর্থে—
ডালের ছায়ায়
ভরা ভাদরে জ্বরস্পর্শ ছুঁয়ে আসো
কথা ও ঘটনায়
আমাকে বিদ্ধ করো যাচ্ছো বারবার যৌনহাওয়ায়
যাত্রাপথে কতবার শীতজন্ম চুরি করেছো মেঘহৃদয়?


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
দৃশ্য-অদৃশ্য  

বিচিত্র দৃশ্য অন্যত্রে গিয়ে ফের এসেছে নিকটে
নিকটজন যেমন ফেরে ঝেড়ে দীর্ঘশ্বাস—
শৈশব-স্কেলে স্মৃতিরা মাপ-জোক করে, আহারে
.                      বোধের দাস
ভবিষ্যরঙের রূপগুলো পাশ-জানালা ঠাস খেয়ে
নামছে অবসরে, আর আমি তাদের রঙ মেখে
সন্ধ্যান করছি আমার শুভ্র-প্রিয়-কথা
বলি দেহের আঁচে জেগে ওঠো তুমি সন্ধ্যেছায়া
.           নৈকট্যজনের টোকায় টোকায়
দৃশ্য-অদৃশ্য পথের কাছে ঋণী অন্য মজমায়

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
স্বাদ   

জিহ্বায় জল এলে লবণের কী স্বাদ পাবে
পিপাসা শেষে দু-চুমুক, তিন-চুমুক দাও
তবে—
আঘাত করো না দাঁত, যতক্ষণ না ঠোঁটে ঠোঁট চাটে
সাড়া দেবে না কক্ষনো, সেও দুঃখ নিয়ে যাবে খুঁটে

পেয়ারা চুরি করে খেলে দাঁতের স্থায়ীত্ব কতটুকু বাড়ে
কলা খেলে বাকল কি ফেলে দিতে হয় রাস্তার ধারে

লবণের যতটুকু স্বাদ, জিহ্বা ঠিক ততটুকু বুঝে
মিশ্র স্বাদ পেতে পেয়ারা কখনো কি কলার স্বাদ খুঁজে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
চুম্বক   

চুম্বকের আর্কষন ধরে-রাখ শোষণক্ষমতা
বিপরীত মেরুর সঙ্ঘবোধ টানেল পাতা

ইচ্ছে শিকে কাঁদুক নম্রতার চুম্বাকর্ষণ
দিনভর তাক্ করে রাখি স্পর্শের ঘ্রাণ...

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ভাল থেকো, দংশন হউক নিদ্রা

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
শখ  

নিষ্ঠুর যত শখ ছিল তারাও একা একা পাঠ করে গেল
একটিও পূরণ হয়নি দেখে স্বতস্ফুর্ততা সেও আশাহত
বললো সত্যিই চমৎকার বদলা নাও; অস্ফুটশৈশব
কাছে যা পাও খুলে নাও তুলে নাও; পূর্ণদুপুর সাজাও
স্পর্শ-প্রীতিপ্রবণতা আমাকে বেঁধেছে তিন-তিনটা শীতকাল
উষ্ণতা ছাড়া একাই টেনে তুলি চোখসহ দৃষ্টি ও চুম্বন

দুঃখের দিনে তুমিও টইটুম্বুর; ঝড়-বৃষ্টি আনকোরা ভায়োলিন
ঘুমের নগরে দাঁড়িয়ে থাক বছরান্তর আর ক’টা অলস সময়
বিরহীদিন বড়োজোর হৃদয়-টিদয় নাড়ায়; ক্ষতদাগ দু-একটা
মিলায়, অসময়ে তুমিও অভিমানি সমঝদার হলে নিজের ভেতর

দেহের অনেক শখ চুপচাপ আচমকাই হলো রাতের সবক
আড়চোখে মুখটি না-দেখা ওঠা কী পাপ, নাকি নির্বাক?

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
কাচ   

দূরত্ব জানতে শব্দ করে ভাঙে কাচ
একা বাজে গোপন গুনগুন, বোবাপ্রাণ
কাচবৃষ্টি, কাচস্বপ্ন আর ভাঙার আহ্বানে
নিমার্ণশব্দ শুনলেই কাচের স্থায়ীত্ব বাড়ে
তাই—
অপেক্ষার তড়িৎ গতিতে কাচ ভাঙতে নেই
গতি ঝংকারে হারাবে নিঃশব্দ কম্পাংক
যদি পারো শূন্যে ভাঙো জলকাচ, সমআঁচ
আরো ভাঙো প্রাণের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র যত নিঃশ্বাস
এভাবে থেমে যাচ্ছে কি আমাদের বিশ্বাস?

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
সেলাই গাছের কারখানা   

দেখুন,
আশার পায়ে লেপে রাখছি গন্ধভেজাজল
জলফুল, মনফুল ব্যথার প্রায়শ্চিত্য শিখুক
তার নিচে লিখে রাখছেন বন্ধপথ, ভর-মাটি
স্পর্শের শির শির… হাত নেড়ে এটুকুই বল্লেন!
ঘুম, আপনিও কি বলবেন? হারানো শক্তিই
.                   কেবল বিশ্রামাগার

জানালেন,
সর্বাঙ্গে গতিফুলের প্রত্যাশা, কি ভীষণ নেশাতুর
ফলে বহুকালের দুঃখবোধ সাজিয়ে আমরাই...
আমরাই আপন ব্যূহ সাজিয়ে মুখোমুখি হই, কেননা
পাশে জলফুল, ছায়াফুল, সেলাই গাছের কারখানা
ভাগ্যিস, ভরা রোদে আমার সমস্ত শরীর ভ্রমনস্মৃতি
.                     ছায়ায় আমি স্থির

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
ফেরারি পর্ব ৪  

আর ক’টা দিন পর পূর্ণতা পাবে, পূর্ণ হবে ষোলকলা; সেদিন তোমার শোকাচ্ছন্ন হাসির উপর
দাঁড়িয়ে রবে আমার কান্না... কথা বলার আগে গাথা-গল্পকথা শুনে শুকিয়ে যাচ্ছে গলা। যদি
বলি পুরোটাই ভুল টার্মের হাত ধরে ঘুরে আসা লতানো কথা-টথা। অন্য ধারাবাহিকতা। আর
ক’টা দিন পর আমিও হারাবো পাঁচ-দশ-বিশ পয়সার মত অঙ্গের সচলতা। তুমি তাকালেই
দেখবে জল থেকে উড়ে আসা হিমেল বাতাস, তিন টুকরো সিগারেটের ছাই, অঙ্গে চেপে ধরা
অসুখ-বিসুখ কিংবা ঘুমের রেনেসাঁ... ভিনদেশে মায়ের কথা আজ বেশি মনে পড়ছে। কারণ
নিরানন্দে সময় কাটে প্যান্ট পকেটে চাবি-শব্দের গান শুনে, হবো অধিকার বিনয়! মূল্যবান
নিঃসঙ্গতায়... তাই মনগড়া শরীর ঘেঁসে বসা প্রগলভ সমঝোতা। আর ক’টা দিন পর আসা
যাওয়া পশ্চ্যাত ব্যাকুলতা

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
বাড়ি নাম্বার ৩২  

বুঝতে শিখেছি ‘ঘরের লগ্ন বারান্দায়’ আর জানতে শিখেছি এমন বাসনায় বাকিটাও পোড়াও!
হাঁটতে-হাঁটতে একটি বাড়ির স্মৃতি নিজের মতো করে খুঁজি; মুঠো খুলে দেখি রহস্য-স্মৃতি হাতের
তালুতে খলবল করছে ভয়াবহ দাগের চিহ্ন; যা দেখে
পূর্ণ-দিবসে তুমিও জন্মাতে পারো হা-করা বুকের স্বাদ কিছুটা জিজ্ঞাসাবাদ...। তোমাকেই বলতাম
গোপন বেদনার কথা যত অপেক্ষা ওই দুঃখিত পথের আড়াল
তাকে দেখি সিন্নিকটে এলে অশ্রুপতনের দায় ফেলে সেও বলে শত অপেক্ষায় দাঁড়ানো আমি
বত্রিশের বোবা চার দেয়াল

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
মেহেদির রঙ  

বৃষ্টিতে ঝরে পড়ো, ভেঙে দাও দাগ
নির্বাক চোখে
স্বীকার করি স্বাভাবিকভাবে তুমি-
তুমি এত ঘুরে এসো আড়াআড়ি পথে
পথে যে রয়ে যায় সংশয়- নিস্পৃহ রীতি

নামবো কি জলে উড়ু হাওয়া বলুক
পাপড়ি ছিটানো হলো কার বিপরীতে, ফলে
বৃষ্টির দু’হাতে আজ দেখি মেহদির রঙ


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
বিবিধ  

ওইখানে গোটাও অভিপ্রায় যত
পাঠ করো দু-হাত নেড়ে...
যতদিন মিশে-থাকা যায়
রোদের তীব্রতা গিলে

তুমি আর আসবে না-
ফিরবে না কভু একথা বলোনি যে আগে
তাই কতটা অপেক্ষা করতে পারে বলো বহমান স্রোত

মেঘে মেঘে এখনো ভাবনা জাগে তবু মনে পড়ে না
এত যে মিশে-থাকা কার জন্য অস্পষ্ট বেড়াজালে


.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
লক্ষ্য  

কে যেন চলে গেল বেলা শেষে
বৃষ্টির মতো হঠাৎ ঘূর্ণিবাতাসে
আমাকে লক্ষ রাখছে ওই দুটি চোখ আশ্বাসে
মোহবন্ধনে; তার পাশে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
পাখি ভাবনা   

কী করে ছুঁয়ে দেখা যায় ভয়
তা জেনে অঙ্গগুলো মৃদু দুলে ওঠে
কে কাকে ছুঁল জানি না- বুঝলাম
হাতের সৌকর্যে
আমাকে ছুঁবে না কেউ; শরীর কেঁপে ওঠে

কীভাবে উড়তে শিখে পাখি- ছুটে যায় নীড়ে
আশাহত পাখিনী একা বসে কাঁদে দূরে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
শীতনিদ্রা   

কতটা ওজন জেনেছো তুমি বন্দরে এসে
কতটা শিখেছো ভালোবাসাবাসি অগোচরে
এলোমেলো ঘুরে
আমি তবে কেন যাব দূরে; শীতনিদ্রা ফেলে

তুমি বরং ফিরে এসো এই পথ ধরে
দেখবো কার উষ্ণতা নিয়ে জেগেছে শীতনিদ্রা
নগর-বন্দরে

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর
*
আবছায়া   

জলে ভাসে জল, চোখ হয় লীন
রহস্যে ঘিরে রাখো সব, স্থির থাকে মায়া
রাত্রি গভীর হলে ঘুরে আসে যে মুখ
সে কি তুমি?

দক্ষিণে সমুদ্রমহাল, উত্তরে আবছায়া...

.              ****************                                                                 
সূচি     




মিলনসাগর