কবি তপন সিংহ -  জন্ম গ্রহণ করেন কলকাতায়। তিনি বিহারের পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে
স্নাতক হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এম.এসসি লাভ করেন। তিনি বিয়ে করেন বাংলা
সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেত্রী অরুন্ধতি দেবীকে।

ব্যক্তিগত জীবনে, রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন বলে জানা যায়। হয়তো তাই তিনি
তাঁর বিভিন্ন সিনেমায় রবীন্দ্রসঙ্গীত এত ব্যবহার করেছেন।

পঞ্চাশের দশকে তপন সিংহ বিলেতে যাত্রা করেন সেখান থেকে ছায়াছবি তৈরীর কলা-কৌশল আয়ত্ত করার
জন্য। সেখানে থাকাকালীন তিনি সেখানকার পাইনউড স্টুডিওর ম্যানেজার ক্রাই হার্স্থ এর মাধ্যমে
“দ্য হন্টেড” খ্যাত নির্দেশক চার্লস ক্রাইটন এর দলে প্রথমে সাউণ্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ পান।

দেশে ফিরে ১৯৫৪ সালে নারায়ণ গঙ্গপাধ্যায়ের কাহিনী “সৈনিক”-এর অবলম্বনে তৈরী করেন তাঁর প্রথম
ছায়াছবি “অঙ্কুশ”, যার মুখ্য চরিত্রে ছিল একটি হাতি! এর পর তাঁর কাছ থেকে আমরা একের পর এক
অনবদ্য সব সিনেমা উপহার পেয়ে এসেছি, যার মধ্যে রয়েছে অঙ্কুশ (১৯৫৪), উপহার (১৯৫৫), টনসিল
(১৯৫৬), কাবুলিওয়ালা (১৯৫৭), লৌহ কপাট (১৯৫৮), কালা মাটি (১৯৫৮), ক্ষণিকের অতিথি (১৯৫৯), ক্ষুধিত
পাষাণ (১৯৬০), ঝিন্দের বন্দী (১৯৬১), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৬২), নির্জন সৈকতে (১৯৬৩), যতুগৃহ
(১৯৬৪), আরোহী (১৯৬৪), অতিথি (১৯৬৫), গল্প হলেও সত্যি (১৯৬৬), হাটে বাজারে (১৯৬৭), আপন জন
(১৯৬৮), সাগিনা মাহাতো (১৯৭০), সাগিনা (১৯৭০ হিন্দী), এখনই (১৯৭১), জিন্দগী জিন্দগী (১৯৭২ হিন্দী),
আঁধার পেরিয়ে (১৯৭৩), রাজা (১৯৭৫), হারমোনিয়াম (১৯৭৬), এক যে ছিল দেশ (১৯৭৭), সফেদ হাতী
(১৯৭৮ হিন্দী), সবুজ দ্বীপের রাজা (১৯৭৯), বাঞ্ছারামের বাগান (১৯৮০), আদালত ও একটি মেয়ে (১৯৮২),
আদমি ঔর ঔরত (১৯৮২ হিন্দী), মানুষ (১৯৮৩), দিদি (১৯৮৪), বৈদূর্য্য রহস্য (১৯৮৫), আতঙ্ক
(১৯৮৬), আজ কা রবিনহুড (১৯৮৭ হিন্দী), এক ডক্টর কী মৌত (১৯৯১ হিন্দী), অন্তর্ধান (১৯৯২), হুইল চেয়ার
(১৯৯৪), ডটার্স অফ দিস সেঞ্চুরি (১৯৯৯), হুতুমের নক্সা, আজব গাঁয়ের আজব কথা (১৯৯৯), অনোখা মোতি
(২০০০) প্রভৃতি।

বহু বহু জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত এই সিনেমার নির্দেশক ছিলেন একজন কবি। তাঁর লেখা
অনেক গান আমরা পেয়েছি তাঁর সিনেমার মধ্য দিয়ে। বেশ কয়েকটি তো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। তপন
সিংহ, সিনেমার ভাষায় বিভিন্ন সময়ে সমাজ ও রাজনীতির বহু পদস্খলনকে তুলে দেখিয়েছেন চোখে আঙুল
দিয়ে, নির্ভয়ে, ডান বামের পরোয়া না ক'রে। “এক যে ছিল দেশ” এর “আমি নরাধম অধমের অধম পাজি
আমি নচ্ছাড়...... আমি মস্তান--- আমি মস্তান--- আমি মস্তান...” গানটির চেয়ে এ যুগের রাজনেতা-নেত্রীদের
চরিত্র তুলে ধরতে আর কোন কবিতা বা গান রয়েছে!?

আমরা
মিলনসাগরে  কবি তপন সিংহের কয়েকটি কবিতা ও গান তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে
দিতে পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক মনে করবো।


কবি তপন সিংহের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন

উত্স -
http://www.ichchhamoti.org/index.php/chhobir-khobor-bosonto-songkhya-2009.html     
.             
http://en.wikipedia.org/wiki/Tapan_Sinha       


আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৫.৫.২০১৩
...