তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান
অনেক কাঁদায়ে অনেক সাধায়ে দরশ
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর   – পঙ্কজকুমার মল্লিক
শিল্পী  -- গীতশ্রী ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি – রাইকমল,  ১৯৫৫

অনেক কাঁদায়ে অনেক সাধায়ে দরশ
.                  মিললি মোরে
.         বঁধু আর না ছাড়িব তোরে |
নয়নে নয়ন লাগায়ে বঁধু হে, ছাড়িব মদন তীর
জরজর তনু সোহাগে তুলিব, যেখানে হিয়ার নীড়
আমি উচল বক্ষে, যতনে তুলিয়া দোলাব
.                     রসিক রাজে,
এই বসনের আড়, রাখিব না আর, ভুলিব
.                     সকল লাজে |
মান, ভয়, লাজ আমি, প্রিয় অনুরাগে সবই
.                     ভুলিব, ভুলিব |
মোহন চূড়াটি জড়ায়ে জড়ায়ে, বাঁধিব
.                     বেণীর ছন্দে
মুগ্ধ ভ্রমরে পিয়ায়িব মধু, তুলিয়া কমল গন্ধে
.                     প্রেম কমলের গন্ধে ||

.                  ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
বঁধু, তোমার গরবে গরবিনী আমি
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর  – পঙ্কজকুমার মল্লিক
শিল্পী – গীতশ্রী ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি – রাইকমল,  ১৯৫৫

বঁধু, তোমার গরবে গরবিনী আমি
.            রূপসী তোমার রূপে |
হেন মনে লয়, ও দুটি চরণ
.            সদা নিয়ে রাখি বুকে ||
অন্যের আছয়ে অনেক জনা
.            আমার কেবল তুমি,
পরাণ হইতে শত শত গুণ
.            প্রিয়তম বলি মানি ||

.                  ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
লাল পাগুড়ী বেঁধে মাথে রাজা হলে মথুরাতে
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর ---  সুধীন দাশগুপ্ত,
শিল্পী  -- মান্না দে
ছবি –   ডাক হরকরা,  ১৯৫৮

লাল পাগুড়ী বেঁধে মাথে রাজা হলে মথুরাতে,
.    বাঁশী ছেড়ে দণ্ড হাতে বঁধু হলে দণ্ডদাতা !
এখন, কলঙ্কিনী রাধায় দণ্ড না দিলে, মান থাকে কোথা
.    ও বঁধু, তুমি রাজা হয়ে কেন হলে হায় বিধাতা !
কাঁদে তোমার বাঁশি চূড়া,    তোমার নূপুর, পীত-ধড়া,
.    তমাল তলে কাঁদে বন্ধু   আমার হৃদয়-আসন পাতা
ঐ মণিমালার ছটায় লাজে হয় না আমার মালা গাঁথা
.    এখন আমি নালিশ করি,--- মাখন চুরি বসন চুরি,
.    শেষে মন অপহরি ফেরারী চোর গেল কোথা
বেঁধে এনে বিচার করো রাজা হে শুনবো নাকো ছুতোনাতা

.                  ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
মনরে আমার, হায় শুনলি না বারণ
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর   -----সুধীন দাশগুপ্ত
শিল্পী ---- মান্না দে
ছবি –ডাকহরকরা , ১৯৫৮

.       মনরে আমার, হায় শুনলি না বারণ,----
.    সোনার হরিণ ধরতে গেলি, ঘরে হল সীতা হরণ |
.   রসের সুতোয় ফাঁদ পাতিলি, নিজেই নিজে ধরা দিলি |
ও তুই জীবন-সুতোয় বুনলি যে ফাঁদ, সেই ফাঁদেতেই হল মরণ ||
.          অনেক হিসেব কোরে রে মন পেতেছিলি ফাঁদ,
.          ভেবেছিলি আকাশ থেকে আসবে নেমে চাঁদ |
.      মেঘের মাঝে চাঁদ হারালি, আপন ফাঁদে তুই জড়ালি,
এখন ফাঁদ কেটে হ’ প্রজাপতি, নইলে তো আর নাই বাঁচন ||

.                          ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কাঁচের চুড়ির ছটা ছেঁয়া বাজীর ছলনা
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর  ---- সুধীন দাশগুপ্ত
শিল্পী ---- গীতা দত্ত
ছবি – ডাক হরকরা,  ১৯৫৮

কাঁচের চুড়ির ছটা ছেঁয়া বাজীর ছলনা
আগুনেতে ছটা নাকি ছটায় আগুন বলনা !
.          ছটায় কি ফুল ফোটে
.          পরাণ পিদিম জ্বলে কি ওঠে
মনের পাখা গজাইলে হায় কাচের ছটায় ভুলোনা !
চুড়িতে হায় নাইকো ছটা ---ছটা আছে আগুনে
আগুন আমার নাচে দেখো চুড়িতে নয় নয়নে
.          সেই আগুনে ঝাঁপ দাও
.          মনের পাখা পুড়িয়ে নাও---
চুড়ি ?
চুড়ি পরে চুড়ি ভেঙে খেলি আমি খেলনা ||

.                          ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
ওরে আমার ভাই রে
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর ও শিল্পী – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ছবি –  হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,  ১৯৬২

.          ওরে আমার ভাই রে---
বলি তোর আলোর তরে ভাবনা কেন হায় রে,
অন্ধকারেই পরাণ-পাখি সেই দ্যাশেতে যায় রে ||
.  লম্ফ-পিদিম-চন্দ্র-সূর্য্য তাইরে নাইরে নাইরে
না থাক, আছে একজনা ভাই---- এগিয়ে এসে হাতটি বাড়ায়,
.   দুই চোখে তার দুইটি পিদিম, হায় সে কি রোশনাই রে !
.   সেই জনা মোর মনের মানুষ এইখানে খোঁজ পাই রে ||

.                          ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
হাঁসুলি বাঁকের কথা - বলব কারে হায়
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর ও শিল্পী – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ছবি –  হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,  ১৯৬২

হাঁসুলি বাঁকের কথা--- বলব কারে হায় |
কোপাই নদীর জলে কথা ভেসে যায় |
যে বাঁশেতে লাঠি হয় ভাই সে বাঁশে হয় বাঁশি
বাঁশবাদির বাঁশগুলিরে তাই তো ভালোবাসি |
বেলতলার বাবাঠাকুর কাহার ফুলের পিতা
বাঁশবনেতে থাকত বাহন অজগরো চিতা |
পরাণ-ভ্রমরে সে থাকত আগুলি,
ও হায় তা’রে দাহন ক’রে মারল করালী !
বাঁশের বেড়া বাঁশের ঝাপি তাহারই ভিতর
কাহর-ফুলের পরাণ-ভ্রমর বেঁধেছিল ঘর |
বাঁশের বেড়ার ঝাঁপি শেষে ভাঙলে মিলিটারি---
কাহারেরা, হায়রে বিধি, হল ভ্রমণকারী |
ঘর-ভোমরার মতো তারা ঘুরিয়ে বেড়ায়,
দুখের কথা বলব কারে হায় |
জল ফেলিতে নাই চোখে জল ফেলিতে নাই
বিধাতা বুড়োর খেলা দেখে যারে ভাই |
যে গড়ে ভাই সেই ভাঙেরে, যে ভাঙে ভাই সেই গড়ে
ভাঙ্গাগড়ার কারখানাতে তোরা দেখে আয়রে উঁকি মেরে
জল ফেলিতে নাই চোখে জল ফেলিতে নাই
বিধাতা বুড়োর খেলা দেখে যারে ভাই |

.                     ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
মরণ তোমার হার হল যে
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর  --- সুধীন দাশগুপ্ত
শিল্পী ---  মান্না দে
ছবি –  মঞ্জরী অপেরা,  ১৯৭০

মরণ তোমার হার হল যে
.        আমার মনের কাছে
ভাবলে যারে কেড়েই নিলে
.         সে যে আমার মনেই আছে ||
আমার মনে ভালোবাসার কদমতলা
.         চারযুগেতে বংশী বাজায় বংশীওয়ালা
হৃদয়েতে প্রেমের ধারার ঝরনা ঝরেই আছে ||
বিরহেরি কোথায় পালা
শুকায় নাতো মিলনমালা |
প্রাণের বাঁশি দিবানিশি
.         আকূল সুরে রাধায় যাচে ||

.                     ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কমল মুখ শুকায়ে গেছে
কথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সুর  --- মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
ছবি –  চাঁপাডাঙার বৌ,  ১৯৫৪

কমল মুখ শুকায়ে গেছে
.        আয় মা আয় মুছায়ে দি |
মায়ের কোলে শয়ন কর মা
.       শীতল পাটী বিছায়ে দি |
বল্ মা বল্ কানে কানে
.       কি দুখ পেলি কোমল প্রাণে
শ্মশান তাপে জ্বলছে দেহ
.       আঁচল বায়ে মুছায়ে দি |

.                   ************
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর