কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
জামলো মকদম
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
আমি যা চাই তা হলো রুটি
যা কিছু ভালবাসা সব পেয়েছি এখানে
আর যা হারিয়েছি তা হলো নির্জনতা
মায়ের কোলঘেঁষা আদরের দুনিয়া
আর পুতুল খেলার ঘর।
আমি জামলো মকদম
ছোট্ট আঙুল দরকার ছিল
আর ছিল রুটির নিশ্চয়তা
জলও ছিল ঘরে অনেক।
দূর পাহাড়তলীর দেশে
ঘন্টা দুয়েক চললে হেঁটে
জল আনতে হতো না যেতে
ঘরের পাশেই টিউবকল
দোল খেলেই অনেক জল।
ঘর বলতে টানা ছাউনি
আশপাশেতে অনেক বাউনি
লঙ্কা ক্ষেতে আমিই সেরা
ছোট্ট আঙুল রয়েছে খাড়া।
কাজ বন্ধে নামল পথে
দাদি পিসি কাকি ও মাসি
সঙ্গে চলে আমিও হাসি
ঘরের পাশে রইল পড়ে
পুতুল আমার কান্না মেখে।
তার পরেতে অনেক বন
মাঠ জলাতে খানিকক্ষণ
বুনো ফল আকন্দ মূল
চলতি পথে অনেক ভুল।
ঘর তো এসেই পড়ল বলে
চলছি আমি হেলেদুলে
পায়ের ব্যাথায় ফোস্কা পড়ে
এবার পাটা চলছে ঘুরে।
উল্টো পথে হাঁটছি আমি
মাটির থেকেও আকাশ দামি
ঈশান কোণের ছোট্ট তারা
ডাকছে আমায় ঐ যে কারা।
মাগো আমি আসছি কাছে
ঠাঁই রেখো মা তোমার পাশে
আর কখনও যাবো না মা
তোমায় ছেড়ে চুপটি করে।
পথের পাশে নিথর দেহ
জামলো এখন প্রচার পেল
ছোট্ট মেয়ের চলার পথে
ফুল ঝরালো জঙলি গাছে।
জামলো এখন গল্প শুধুই
লোকের মুখে মুখে ঘোরে
আমরা সবাই পিছিয়ে পড়ি
জামলো একাই এগিয়ে চলে।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
আমি যা চাই তা হলো রুটি
যা কিছু ভালবাসা সব পেয়েছি এখানে
আর যা হারিয়েছি তা হলো নির্জনতা
মায়ের কোলঘেঁষা আদরের দুনিয়া
আর পুতুল খেলার ঘর।
আমি জামলো মকদম
ছোট্ট আঙুল দরকার ছিল
আর ছিল রুটির নিশ্চয়তা
জলও ছিল ঘরে অনেক।
দূর পাহাড়তলীর দেশে
ঘন্টা দুয়েক চললে হেঁটে
জল আনতে হতো না যেতে
ঘরের পাশেই টিউবকল
দোল খেলেই অনেক জল।
ঘর বলতে টানা ছাউনি
আশপাশেতে অনেক বাউনি
লঙ্কা ক্ষেতে আমিই সেরা
ছোট্ট আঙুল রয়েছে খাড়া।
কাজ বন্ধে নামল পথে
দাদি পিসি কাকি ও মাসি
সঙ্গে চলে আমিও হাসি
ঘরের পাশে রইল পড়ে
পুতুল আমার কান্না মেখে।
তার পরেতে অনেক বন
মাঠ জলাতে খানিকক্ষণ
বুনো ফল আকন্দ মূল
চলতি পথে অনেক ভুল।
ঘর তো এসেই পড়ল বলে
চলছি আমি হেলেদুলে
পায়ের ব্যাথায় ফোস্কা পড়ে
এবার পাটা চলছে ঘুরে।
উল্টো পথে হাঁটছি আমি
মাটির থেকেও আকাশ দামি
ঈশান কোণের ছোট্ট তারা
ডাকছে আমায় ঐ যে কারা।
মাগো আমি আসছি কাছে
ঠাঁই রেখো মা তোমার পাশে
আর কখনও যাবো না মা
তোমায় ছেড়ে চুপটি করে।
পথের পাশে নিথর দেহ
জামলো এখন প্রচার পেল
ছোট্ট মেয়ের চলার পথে
ফুল ঝরালো জঙলি গাছে।
জামলো এখন গল্প শুধুই
লোকের মুখে মুখে ঘোরে
আমরা সবাই পিছিয়ে পড়ি
জামলো একাই এগিয়ে চলে।
*********************
মেরি কম
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
হে শহর, আমাকে দাও
তোমার দুটো কালো ডানা
ঐ ডানায় ভর দিয়েই
উড়ে যাব মায়ের কাছে।
আমি মেরি কম
না হে ওসব বক্সার টক্সার নই
সামান্য এক চিঙ্কি গার্ল
দিনভর খাটুনির শেষে
ঘরে ফেরার পথে
রোজ যাকে শুনতে হয়
রেট কত? নাইটে কবার হবে?
প্রথমদিকে রাগ হতো খুব
আজকাল ভয় হয়
কোভিড ছড়িয়ে পড়ার পর
শহরটা কেমন মারমুখী হয়ে উঠেছে।
এই তো সেদিন ৬ নম্বর বেডে
ক্যাথিটার বদলাতে গিয়ে শুনলাম
না না এসব চিঙ্কি আয়া দেবেন না
কখন কি রোগ ছড়িয়ে দেয়।
আয়া নয় আমি নার্স
রাত জেগে কত বই পড়ে
নার্সিং পাস করেছি
সে কি শুধু এই দিনটার জন্য?
প্রশ্ন তোলার আগেই
বদলি হয়ে গেলাম
তিনতলা থেকে পাঁচতলায়
৬ নম্বর থেকে ২২ নম্বর বেডে।
সরকারি চাকরি জোটেনি এ শহরে
বেসরকারি নার্সিংহোমে এই দস্তুর
পেশেন্টপার্টিকে খুশি রাখতে হবে।
এ পর্যন্ত ঠিক ছিল
সেদিন যখন বাড়িওয়ালা বলল
ঘর ছাড়তে হবে
নার্সিং স্টাফ ভাড়া রাখলে
গোলমাল হচ্ছে পাড়ায়
শুধু বলল না চিঙ্কি হলেও
পাড়ায় রাখবে না আর
কোভিড ছড়াচ্ছি আমি আমরা
চুপ করে শুনলাম
কিছু বললাম না।
ওরা ভাবল ভয় পেয়েছি
আসলে ওরা জানেই না
চুপ করে থাকাটা
আমি অথবা আমাদের প্রতিবাদ।
আমার দেশ ভারতবর্ষ
বলতে পারি না আজ
ইমফল থেকে ঘন্টা চারেক বাসে
তারপর প্রাইভেটে আরো ঘন্টা খানেক
মা বাবা আরো তিন বোন
প্রদীপ জ্বালাতে মা রোজ তেল খোঁজেন।
২২ নম্বরের জ্বর কাশি
কোভিড কিনা জানতে চাইনা আর
চিঙ্কিদের জানতে নেই কিছু
হাসি মুখে মেনে নিতে হয়।
ওরা জানেনা ঐ হাসিমুখের আড়ালেই
গর্জে উঠছে আমার স্লোগান --
হে শহর দুটো কালো ডানা দাও
উড়ে যাব মায়ের কাছে
দীর্ঘশ্বাস ছাড়া যে মা
কোনোদিনই আলো জ্বালাতে পারে নি।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
হে শহর, আমাকে দাও
তোমার দুটো কালো ডানা
ঐ ডানায় ভর দিয়েই
উড়ে যাব মায়ের কাছে।
আমি মেরি কম
না হে ওসব বক্সার টক্সার নই
সামান্য এক চিঙ্কি গার্ল
দিনভর খাটুনির শেষে
ঘরে ফেরার পথে
রোজ যাকে শুনতে হয়
রেট কত? নাইটে কবার হবে?
প্রথমদিকে রাগ হতো খুব
আজকাল ভয় হয়
কোভিড ছড়িয়ে পড়ার পর
শহরটা কেমন মারমুখী হয়ে উঠেছে।
এই তো সেদিন ৬ নম্বর বেডে
ক্যাথিটার বদলাতে গিয়ে শুনলাম
না না এসব চিঙ্কি আয়া দেবেন না
কখন কি রোগ ছড়িয়ে দেয়।
আয়া নয় আমি নার্স
রাত জেগে কত বই পড়ে
নার্সিং পাস করেছি
সে কি শুধু এই দিনটার জন্য?
প্রশ্ন তোলার আগেই
বদলি হয়ে গেলাম
তিনতলা থেকে পাঁচতলায়
৬ নম্বর থেকে ২২ নম্বর বেডে।
সরকারি চাকরি জোটেনি এ শহরে
বেসরকারি নার্সিংহোমে এই দস্তুর
পেশেন্টপার্টিকে খুশি রাখতে হবে।
এ পর্যন্ত ঠিক ছিল
সেদিন যখন বাড়িওয়ালা বলল
ঘর ছাড়তে হবে
নার্সিং স্টাফ ভাড়া রাখলে
গোলমাল হচ্ছে পাড়ায়
শুধু বলল না চিঙ্কি হলেও
পাড়ায় রাখবে না আর
কোভিড ছড়াচ্ছি আমি আমরা
চুপ করে শুনলাম
কিছু বললাম না।
ওরা ভাবল ভয় পেয়েছি
আসলে ওরা জানেই না
চুপ করে থাকাটা
আমি অথবা আমাদের প্রতিবাদ।
আমার দেশ ভারতবর্ষ
বলতে পারি না আজ
ইমফল থেকে ঘন্টা চারেক বাসে
তারপর প্রাইভেটে আরো ঘন্টা খানেক
মা বাবা আরো তিন বোন
প্রদীপ জ্বালাতে মা রোজ তেল খোঁজেন।
২২ নম্বরের জ্বর কাশি
কোভিড কিনা জানতে চাইনা আর
চিঙ্কিদের জানতে নেই কিছু
হাসি মুখে মেনে নিতে হয়।
ওরা জানেনা ঐ হাসিমুখের আড়ালেই
গর্জে উঠছে আমার স্লোগান --
হে শহর দুটো কালো ডানা দাও
উড়ে যাব মায়ের কাছে
দীর্ঘশ্বাস ছাড়া যে মা
কোনোদিনই আলো জ্বালাতে পারে নি।
*********************
মঞ্জু যাদব
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
হ্যা ওকে আমি চিনি
বছরের পর বছর
আমি কাটিয়েছি ওর সঙ্গে
ওর সোনা রঙে কালি পড়েছে
লড়াই করতে করতে করতে...
ওর নাম মঞ্জু যাদব
ঠিকানা রামপুর চুঙ্গি
ঘর গাঁথত মঞ্জু
ইট বইতে বইতে
দু কাঁধে ওর কালো ছোপ ধরেছিল
বুকে বাঁধা থাকত একটা করে বাচ্চা।
বরটা ওকে ভালোবাসতে খুব
একদিন গাঁথুনির ঢালাই ছাদ থেকে পড়ে
বেবাক মরে গেল লোকটা।
মঞ্জু একাই পালছিল
পাঁচ পাঁচটা সন্তানকে।
পাঁচ সন্তানের মা মঞ্জু
লড়াই জারি রাখল একাই।
তারপর একদিন ওরা এল
বলল ঘর ছাড় মঞ্জু
অসুখ এসেছে দেশে
এ ঘরে তোদের আর রাখব না
মঞ্জু পা জড়িয়ে বলল --
কোথায় যাব কর্তা!
পাঁচ সন্তানের মা আমি
কোথায় যাব এতগুলো পেট নিয়ে?
কর্তা পা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল
যা যা অত ঠিকা আমি নিতে পারব না।
মঞ্জু পথে নামল --
কোথায় যাবে সে?
কোথায় ওর দেশবাড়ি?
বরটা বলত কোথায় কোন এক
নদীর ধারে টিনের চালে
টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে।
কোথায় সে দেশ জানেনা মঞ্জু
পথ ভরে ঘরমুখো মানুষ
ঘর কোথায় মঞ্জু আর তার পাঁচ সন্তানের?
গাছতলায় পাঁচ দিন পাঁচ রাত
দূরে নদীর রেখা রোজ দেখে মঞ্জু
ঐ নদীতেই পাঁচ পাঁচটা সন্তানকে ছুঁড়ে
নিজেকেও ভাসাতে গেল --
তারপর অনেক আলো অন্ধকারের গল্প।
মঞ্জুর কান্না ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে
দেশ মানে ভারতবর্ষ জানে না মঞ্জু
রামপুর চুঙ্গি নদীর রেখা আর বরের ভালবাসার
দাম দিতে দিতে মঞ্জু ইতিহাস হয়ে গেল।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
হ্যা ওকে আমি চিনি
বছরের পর বছর
আমি কাটিয়েছি ওর সঙ্গে
ওর সোনা রঙে কালি পড়েছে
লড়াই করতে করতে করতে...
ওর নাম মঞ্জু যাদব
ঠিকানা রামপুর চুঙ্গি
ঘর গাঁথত মঞ্জু
ইট বইতে বইতে
দু কাঁধে ওর কালো ছোপ ধরেছিল
বুকে বাঁধা থাকত একটা করে বাচ্চা।
বরটা ওকে ভালোবাসতে খুব
একদিন গাঁথুনির ঢালাই ছাদ থেকে পড়ে
বেবাক মরে গেল লোকটা।
মঞ্জু একাই পালছিল
পাঁচ পাঁচটা সন্তানকে।
পাঁচ সন্তানের মা মঞ্জু
লড়াই জারি রাখল একাই।
তারপর একদিন ওরা এল
বলল ঘর ছাড় মঞ্জু
অসুখ এসেছে দেশে
এ ঘরে তোদের আর রাখব না
মঞ্জু পা জড়িয়ে বলল --
কোথায় যাব কর্তা!
পাঁচ সন্তানের মা আমি
কোথায় যাব এতগুলো পেট নিয়ে?
কর্তা পা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল
যা যা অত ঠিকা আমি নিতে পারব না।
মঞ্জু পথে নামল --
কোথায় যাবে সে?
কোথায় ওর দেশবাড়ি?
বরটা বলত কোথায় কোন এক
নদীর ধারে টিনের চালে
টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে।
কোথায় সে দেশ জানেনা মঞ্জু
পথ ভরে ঘরমুখো মানুষ
ঘর কোথায় মঞ্জু আর তার পাঁচ সন্তানের?
গাছতলায় পাঁচ দিন পাঁচ রাত
দূরে নদীর রেখা রোজ দেখে মঞ্জু
ঐ নদীতেই পাঁচ পাঁচটা সন্তানকে ছুঁড়ে
নিজেকেও ভাসাতে গেল --
তারপর অনেক আলো অন্ধকারের গল্প।
মঞ্জুর কান্না ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে
দেশ মানে ভারতবর্ষ জানে না মঞ্জু
রামপুর চুঙ্গি নদীর রেখা আর বরের ভালবাসার
দাম দিতে দিতে মঞ্জু ইতিহাস হয়ে গেল।
*********************
বালি থেকে বেনারস
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
যখন বেজে ওঠে
হর্নের আওয়াজটা
এ পৃথিবীর সবকিছুই
তখন প্রস্তুত মনে হয়।
বালি থেকে বেনারস
দূরত্ব বড়ো কম নয়
পথে পড়ে থাকে
নদীনালা খালবিল
ঝোপজঙ্গল আর আমি।
আমি কিশোর সাউ
কোন ছোটবেলায়
খেতে না পেয়ে
পেটের টানে
গিয়েছিলাম কাশী।
তারপর...
বছরের পর বছর কাটল
গঙ্গায় এল কত শত
জোয়ারের জল আর ভাটার আগুন।
বালির কিশোর কুমার থেকে
বেনারসের দুলকি চালক হতে
সময় কিছু কম লাগেনি
এল অসুখ ধান্দা আর ধান্দাবাজির প্রকোপ।
বেনারস ছুঁড়ে দিল --
কিশোর এবার ফেরার তাগিদে
বেনারস থেকে বালি
উল্টোপথ বড়ো সহজ নয়।
ওরা শেকলে বাঁধা দেশটাকে
একসঙ্গে গাঁথল,বেজে উঠল
দ্রিমি দ্রিমি মাদলের একঘেয়ে সুর
আক্রমণের সাংকেতিক ধ্বনি
পেছু ফেরার রাস্তা হল কাটা।
বালির কিশোর সাউ
বেনারসের পথে রইল একা।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
যখন বেজে ওঠে
হর্নের আওয়াজটা
এ পৃথিবীর সবকিছুই
তখন প্রস্তুত মনে হয়।
বালি থেকে বেনারস
দূরত্ব বড়ো কম নয়
পথে পড়ে থাকে
নদীনালা খালবিল
ঝোপজঙ্গল আর আমি।
আমি কিশোর সাউ
কোন ছোটবেলায়
খেতে না পেয়ে
পেটের টানে
গিয়েছিলাম কাশী।
তারপর...
বছরের পর বছর কাটল
গঙ্গায় এল কত শত
জোয়ারের জল আর ভাটার আগুন।
বালির কিশোর কুমার থেকে
বেনারসের দুলকি চালক হতে
সময় কিছু কম লাগেনি
এল অসুখ ধান্দা আর ধান্দাবাজির প্রকোপ।
বেনারস ছুঁড়ে দিল --
কিশোর এবার ফেরার তাগিদে
বেনারস থেকে বালি
উল্টোপথ বড়ো সহজ নয়।
ওরা শেকলে বাঁধা দেশটাকে
একসঙ্গে গাঁথল,বেজে উঠল
দ্রিমি দ্রিমি মাদলের একঘেয়ে সুর
আক্রমণের সাংকেতিক ধ্বনি
পেছু ফেরার রাস্তা হল কাটা।
বালির কিশোর সাউ
বেনারসের পথে রইল একা।
*********************
গুরুপদ ভুইঞা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিথ্যে, এ সব মিথ্যে --
সত্যি শুধুই নৌকার পাটাতন
স্ত্রী পুত্র কন্যার ক্ষিদে
ভাঙা ঘর আর হাহাকার।
হপ্তাদুয়েক আগে নেতা এসেছিল
ত্রিপল চিঁড়েমুড়ি খই এর আশ্বাস
ঝড় এসেছিল তারো হপ্তাখানেক আগে
ভেঙেচুরে গেছে সব।
নেতা এসেছিল, ত্রিপল আসেনি।
ওর নাম গুরুপদ ভুইঞা
সরকারি খাতায় বহুবার তোলা হলো
নামানো হলো চিড়েমুড়িখৈ এল না।
নৌকার পাটাতনে গুরুপদর সঙসার
তিন ছেলে মেয়ে অসুস্থ স্ত্রী
আর একটা রঙচটা ঠাকুরের বেদি
জমি নেই ঘর নেই গুরুপদ আছে নৌকোতেই।
ঠাকুরের বেদি বড়ো বেশি বেবাক
গুরুপদ তবু ফি হপ্তায় ওখানে ফুল চড়ায়
আগামীর সন্ধানে।
মিথ্যে নির্দেশনামায় গুরুপদরা
শুনতে পায় সর্বহারার পদসঞ্চার
মুকুট সজ্জিত নেতাদের
ভুলুণ্ঠিত মুখের গর্জন
আর চলটা ওঠা বেদিতে
সেজে ওঠা রণভৈরবীর কন্ঠস্বর।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিথ্যে, এ সব মিথ্যে --
সত্যি শুধুই নৌকার পাটাতন
স্ত্রী পুত্র কন্যার ক্ষিদে
ভাঙা ঘর আর হাহাকার।
হপ্তাদুয়েক আগে নেতা এসেছিল
ত্রিপল চিঁড়েমুড়ি খই এর আশ্বাস
ঝড় এসেছিল তারো হপ্তাখানেক আগে
ভেঙেচুরে গেছে সব।
নেতা এসেছিল, ত্রিপল আসেনি।
ওর নাম গুরুপদ ভুইঞা
সরকারি খাতায় বহুবার তোলা হলো
নামানো হলো চিড়েমুড়িখৈ এল না।
নৌকার পাটাতনে গুরুপদর সঙসার
তিন ছেলে মেয়ে অসুস্থ স্ত্রী
আর একটা রঙচটা ঠাকুরের বেদি
জমি নেই ঘর নেই গুরুপদ আছে নৌকোতেই।
ঠাকুরের বেদি বড়ো বেশি বেবাক
গুরুপদ তবু ফি হপ্তায় ওখানে ফুল চড়ায়
আগামীর সন্ধানে।
মিথ্যে নির্দেশনামায় গুরুপদরা
শুনতে পায় সর্বহারার পদসঞ্চার
মুকুট সজ্জিত নেতাদের
ভুলুণ্ঠিত মুখের গর্জন
আর চলটা ওঠা বেদিতে
সেজে ওঠা রণভৈরবীর কন্ঠস্বর।
*********************
টুম্পা রায় এবং তাহারা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
চিঠিটা পৌঁছলে
কেঁপে উঠলো চেয়ারটা
হেডমাস্টারকে লিখেছে
টুম্পা, রুপসা, বিদিশা।
মাস্টারমশাই ঘর আমাদের উড়ে গেছে
সে তো ফি বছরই রায়, ঝড়ে ঝগড়ায় বন্যায়।
এবারটা একটু অন্যরকম হবে ভেবেছিলাম
অসুখ এসেছে, মাঝপথে থেমে গেছে পরীক্ষা।
হ্যা, আমি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী টুম্পা রায়
ওরা আমার বন্ধু বিদিশা ঢালি, রুপসা মন্ডল --
পরীক্ষা আটকে গেছে মাস তিনেক আগেই
ঝড় এসেছিল তাও তো দিন দশেক পেরিয়ে গেল
ঘর বাড়ি ভেঙে গেছে, খাবার দাবার নেই,
এসব তো চেনা অভিযোগ।
গত মাস তিনেক ধরেই কাজ নেই, খাবার নেই
এসব জানানোর জন্যও চিঠি লিখছি না --
আমাদের অ্যাডমিট কার্ড ভেসে গেছে মাস্টার মশাই।
ঝড়টা যখন এসেছিল খাবার দাবার গেরস্থালি সামলাতে গিয়ে
খেয়ালই করিনি অ্যাডমিট কার্ডের কথা,
খেয়াল যখন হলো অ্যাডমিট কার্ড তখন ভাসছে,
ভাইটা ড্রাইভ মারতে চেয়েছিল জলে,
আমিই দিইনি,গতবার এমনি করেই
সাঁতার দিয়ে ইতিহাস বইখানা আনতে গিয়ে
বাপটা আমার ভেসে গেছে।
বাপটা ফেরেনি, ইতিহাস বইটাও।
বই ছাড়াই নোটস টুকে ইতিহাস পড়েছি আমি,
নাহ, আমি একা নই,
আমার মতোই রুপসা, বিদিশা,আসগর, পল্টু
অনেকেরই বই ভেসে গেছে,
খাতা ভেসে গেছে,
অ্যাডমিট কার্ড উড়ে গেছে ঝড়ে বন্যায়,
ঝগড়ায়। আপনি আপনারা বিরক্ত হয়েছেন, কেশেছেন,
উপেক্ষা করে ট্রেনে চড়ে
দক্ষিণ শহরতলীর ফ্ল্যাটবাড়িতে চলেও গেছেন।
আমাদের সবার জন্য চিঠি লিখছি
আমরা স্বপ্ন দেখি মাস্টার মশাই
সুন্দর একটা জানলার স্বপ্ন
যে জানলা দিয়ে পৃথিবীটাকে খুব স্পষ্ট দেখা যায়।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
চিঠিটা পৌঁছলে
কেঁপে উঠলো চেয়ারটা
হেডমাস্টারকে লিখেছে
টুম্পা, রুপসা, বিদিশা।
মাস্টারমশাই ঘর আমাদের উড়ে গেছে
সে তো ফি বছরই রায়, ঝড়ে ঝগড়ায় বন্যায়।
এবারটা একটু অন্যরকম হবে ভেবেছিলাম
অসুখ এসেছে, মাঝপথে থেমে গেছে পরীক্ষা।
হ্যা, আমি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী টুম্পা রায়
ওরা আমার বন্ধু বিদিশা ঢালি, রুপসা মন্ডল --
পরীক্ষা আটকে গেছে মাস তিনেক আগেই
ঝড় এসেছিল তাও তো দিন দশেক পেরিয়ে গেল
ঘর বাড়ি ভেঙে গেছে, খাবার দাবার নেই,
এসব তো চেনা অভিযোগ।
গত মাস তিনেক ধরেই কাজ নেই, খাবার নেই
এসব জানানোর জন্যও চিঠি লিখছি না --
আমাদের অ্যাডমিট কার্ড ভেসে গেছে মাস্টার মশাই।
ঝড়টা যখন এসেছিল খাবার দাবার গেরস্থালি সামলাতে গিয়ে
খেয়ালই করিনি অ্যাডমিট কার্ডের কথা,
খেয়াল যখন হলো অ্যাডমিট কার্ড তখন ভাসছে,
ভাইটা ড্রাইভ মারতে চেয়েছিল জলে,
আমিই দিইনি,গতবার এমনি করেই
সাঁতার দিয়ে ইতিহাস বইখানা আনতে গিয়ে
বাপটা আমার ভেসে গেছে।
বাপটা ফেরেনি, ইতিহাস বইটাও।
বই ছাড়াই নোটস টুকে ইতিহাস পড়েছি আমি,
নাহ, আমি একা নই,
আমার মতোই রুপসা, বিদিশা,আসগর, পল্টু
অনেকেরই বই ভেসে গেছে,
খাতা ভেসে গেছে,
অ্যাডমিট কার্ড উড়ে গেছে ঝড়ে বন্যায়,
ঝগড়ায়। আপনি আপনারা বিরক্ত হয়েছেন, কেশেছেন,
উপেক্ষা করে ট্রেনে চড়ে
দক্ষিণ শহরতলীর ফ্ল্যাটবাড়িতে চলেও গেছেন।
আমাদের সবার জন্য চিঠি লিখছি
আমরা স্বপ্ন দেখি মাস্টার মশাই
সুন্দর একটা জানলার স্বপ্ন
যে জানলা দিয়ে পৃথিবীটাকে খুব স্পষ্ট দেখা যায়।
*********************
আলাউদ্দিনের মা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
রক্তাক্ত পদক্ষেপ
কখনো ইটভাটায়, কখনও গাছতলায়
কখনো বন্ধ কারখানার আশপাশে
কখনো আবার জাতীয় সড়কের ধারে
একফালি রুক্ষ মাটিতে
জন্ম নিয়েছে আলাউদ্দিন।
পুরাকালে ভারতবর্ষে এক সুলতান ছিলেন এ নামে
একালের আলাউদ্দিনের জন্মের আগেই
তার মাকে পিটিয়েছে নষ্ট শাসক
তার বাপটাকে জ্যান্ত কবর দিয়েছে
আলাউদ্দিনের হাড় মজ্জা চর্বি
বিক্রি করে দিয়েছে।
অথচ এসবের পরেও কবিতা লেখে আলাউদ্দিনের মা।
যাতে তার আহত অপমানিত স্বদেশ
নির্ভয়ে আকাশে উড়িয়ে দিতে পারে
নিজস্ব প্রজাপতিগুলোকে
এবং সঞ্চয় করতে পারে
দুর্লভ চুনি পান্না
যাতে শয়তান ঘাতকের কলঙ্কিত অস্ত্র
আর ঝরাতে না পারে অজস্র রক্তপাত।
এরপর গল্প বলতে শুরু করে আলাউদ্দিনের মা --
তারপর তুই এলি
তোকে নিয়ে হাজার মাইল পথ হেঁটে
পৌঁছলাম নিজের ভিটেয়
ঘর ছিল না সেখানে
মাটি লেপে বাখারি দিয়ে ঘর বাধলাম
তোকে দুধ দিলাম
তুই বেড়ে উঠলি
আগামীর দেশটাকে নিজের জন্য
গড়েপিটে নিবি বলে।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
রক্তাক্ত পদক্ষেপ
কখনো ইটভাটায়, কখনও গাছতলায়
কখনো বন্ধ কারখানার আশপাশে
কখনো আবার জাতীয় সড়কের ধারে
একফালি রুক্ষ মাটিতে
জন্ম নিয়েছে আলাউদ্দিন।
পুরাকালে ভারতবর্ষে এক সুলতান ছিলেন এ নামে
একালের আলাউদ্দিনের জন্মের আগেই
তার মাকে পিটিয়েছে নষ্ট শাসক
তার বাপটাকে জ্যান্ত কবর দিয়েছে
আলাউদ্দিনের হাড় মজ্জা চর্বি
বিক্রি করে দিয়েছে।
অথচ এসবের পরেও কবিতা লেখে আলাউদ্দিনের মা।
যাতে তার আহত অপমানিত স্বদেশ
নির্ভয়ে আকাশে উড়িয়ে দিতে পারে
নিজস্ব প্রজাপতিগুলোকে
এবং সঞ্চয় করতে পারে
দুর্লভ চুনি পান্না
যাতে শয়তান ঘাতকের কলঙ্কিত অস্ত্র
আর ঝরাতে না পারে অজস্র রক্তপাত।
এরপর গল্প বলতে শুরু করে আলাউদ্দিনের মা --
তারপর তুই এলি
তোকে নিয়ে হাজার মাইল পথ হেঁটে
পৌঁছলাম নিজের ভিটেয়
ঘর ছিল না সেখানে
মাটি লেপে বাখারি দিয়ে ঘর বাধলাম
তোকে দুধ দিলাম
তুই বেড়ে উঠলি
আগামীর দেশটাকে নিজের জন্য
গড়েপিটে নিবি বলে।
*********************
বইপাড়ার কান্না
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
ছুঁড়ে ফেলে দাও
শোকের কারুকার্য করা ওড়না
সঞ্চিত করো প্রতিটি অশ্রুবিন্দু
যতক্ষণ না তারা হয়ে ওঠে
একেকটা মারাত্মক অস্ত্র
যা দিয়ে আমরা দিনরাত
আঘাত হানতে পারি।
আমার নাম তনুশ্রী বসাক
বাসের লাইনে দুঘন্টা
তারপর আরো ঘন্টাখানেক
সোনারপুর থেকে বইপাড়া
দূরত্ব কম নয়, তবু --
টানটাতো মোছেনা একটুও।
ঝড় তুফান দুমাসের বন্ধ দোকান
এসব কিছু নিমেষে ভেসে যায়
যখন দেখি নর্দমায় নজরুল
রবিঠাকুর, বিবেকঠাকুররাও
ভাসছেন নিজস্ব পাটাতনে
সঙ্গে ভাসছে আমার ভবিষ্যৎ
জমে থাকা নোংরা কালো জলে।
ঘরে ফিরে কি কৈফিয়ত দেব?
অসুস্থ বাবা, ক্লান্ত মা
আর ছোট্ট আয়লা
ওর বাবা ফেলে গিয়েছিল
মেয়ে বলে চায়নি ওকে কেউ
আমরা গ্রহণ করেছি
ভালবাসায় গ্রাহ্যতায় আর
ছোট্ট বই দোকানের ভরসায়।
তৃষিত হায়েনাদের জন্য অভিশাপ
বর্বর মৃত্যু আর ভেসে আসা হিংস্র গর্জন
ক্রোধ, ভৎর্সনা আর চোখের জল ছাপিয়ে
অসহ্য যন্ত্রণা, দুঃসহ মরণবিদ্ধ মায়েরা আমার
লকডাউন আমফান উত্তীর্ণ সদ্যজাত
এই মহান দিনটির দিকে তাকাও,
জেনে রাখো ঐ নোংরা কালো জলে থাকা
রবি নজরুল আর বিবেকঠাকুররা
তোমার কান্নায় ভাসছে।
শুনতে কি পাচ্ছো --
বুড়ো জেলে সান্টিয়াগোর জীবন বেদ
মানুষকে ধ্বংস করা যেতে পারে
কিন্তু বইপড়া মানুষকে পরাজিত করা যায় না।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
ছুঁড়ে ফেলে দাও
শোকের কারুকার্য করা ওড়না
সঞ্চিত করো প্রতিটি অশ্রুবিন্দু
যতক্ষণ না তারা হয়ে ওঠে
একেকটা মারাত্মক অস্ত্র
যা দিয়ে আমরা দিনরাত
আঘাত হানতে পারি।
আমার নাম তনুশ্রী বসাক
বাসের লাইনে দুঘন্টা
তারপর আরো ঘন্টাখানেক
সোনারপুর থেকে বইপাড়া
দূরত্ব কম নয়, তবু --
টানটাতো মোছেনা একটুও।
ঝড় তুফান দুমাসের বন্ধ দোকান
এসব কিছু নিমেষে ভেসে যায়
যখন দেখি নর্দমায় নজরুল
রবিঠাকুর, বিবেকঠাকুররাও
ভাসছেন নিজস্ব পাটাতনে
সঙ্গে ভাসছে আমার ভবিষ্যৎ
জমে থাকা নোংরা কালো জলে।
ঘরে ফিরে কি কৈফিয়ত দেব?
অসুস্থ বাবা, ক্লান্ত মা
আর ছোট্ট আয়লা
ওর বাবা ফেলে গিয়েছিল
মেয়ে বলে চায়নি ওকে কেউ
আমরা গ্রহণ করেছি
ভালবাসায় গ্রাহ্যতায় আর
ছোট্ট বই দোকানের ভরসায়।
তৃষিত হায়েনাদের জন্য অভিশাপ
বর্বর মৃত্যু আর ভেসে আসা হিংস্র গর্জন
ক্রোধ, ভৎর্সনা আর চোখের জল ছাপিয়ে
অসহ্য যন্ত্রণা, দুঃসহ মরণবিদ্ধ মায়েরা আমার
লকডাউন আমফান উত্তীর্ণ সদ্যজাত
এই মহান দিনটির দিকে তাকাও,
জেনে রাখো ঐ নোংরা কালো জলে থাকা
রবি নজরুল আর বিবেকঠাকুররা
তোমার কান্নায় ভাসছে।
শুনতে কি পাচ্ছো --
বুড়ো জেলে সান্টিয়াগোর জীবন বেদ
মানুষকে ধ্বংস করা যেতে পারে
কিন্তু বইপড়া মানুষকে পরাজিত করা যায় না।
*********************
অথ দুর্গাবুড়ি কথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
উজ্জ্বল দিনগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়েছি
ইস্পাত রূপান্তরিত অম্লতার নিপুণ নৈঃশব্দ্যে
ঘর বলতে ছিল কয়েকটা ছেঁড়া প্লাস্টিক
আর মাথার ওপরের অনেকটা আকাশ।
আমি দুর্গাবুড়ি বলছি খালপাড় থেকে
আমার ঠিকানা লেখা কোনো কাগজ নেই
জোড়াবাগান থেকে শোভাবাজার
চাঁদনীচক থেকে মাঠপুকুর ধাপা
যেকোনও খালপাড়েই দুর্গাবুড়ির আস্তানা।
ঝড়ে উড়ে যাওয়া কুটোর মতোই
হারিয়েছি রূপ যৌবন আর সম্পদের অধিকার।
নেতা আসে, নেতা যায়, ঘর আসেনা
পুত্র কন্যা সন্তান আত্মীয় পরিজন আসেনা।
একদিন এক ভয়ানক ঝড়ের রাতে
দুর্গাবুড়ি মুখ উলটে পড়লো বাঁধের তলায়
বাঁধে ফাটল ধরেছে, হু হু করে জল ঢুকছে গ্রামে।
বাঁধের তলায় দুর্গাবুড়ি চিল চিৎকারে হাকছে
এসো... বাচো... বাঁচাও... গ্রাম ডুবছে...
দুর্গাবুড়ির হাকে ফিরে আসে মানুষ
হাতে তাদের গাইতি শাবল কোদাল
কোমর বেঁধে বাঁধ সামলাতে এল
দুর্গাবুড়ি বাঁধের তলায়, ওপরে মানুষ।
গন্ধকজাত শান্তির অতলে
বুদবুদের মতো মিলিয়ে গেল দুর্গাবুড়ি
ফিরে এল একগুচ্ছ মুখ আর স্খলিত মুখোশ
আর ক্ষিপ্ত আদিম সেইসব শিশু
যারা শঙ্কাতুর উপজাতির তুচ্ছ গাছটাকেও কাঁপায়।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
উজ্জ্বল দিনগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়েছি
ইস্পাত রূপান্তরিত অম্লতার নিপুণ নৈঃশব্দ্যে
ঘর বলতে ছিল কয়েকটা ছেঁড়া প্লাস্টিক
আর মাথার ওপরের অনেকটা আকাশ।
আমি দুর্গাবুড়ি বলছি খালপাড় থেকে
আমার ঠিকানা লেখা কোনো কাগজ নেই
জোড়াবাগান থেকে শোভাবাজার
চাঁদনীচক থেকে মাঠপুকুর ধাপা
যেকোনও খালপাড়েই দুর্গাবুড়ির আস্তানা।
ঝড়ে উড়ে যাওয়া কুটোর মতোই
হারিয়েছি রূপ যৌবন আর সম্পদের অধিকার।
নেতা আসে, নেতা যায়, ঘর আসেনা
পুত্র কন্যা সন্তান আত্মীয় পরিজন আসেনা।
একদিন এক ভয়ানক ঝড়ের রাতে
দুর্গাবুড়ি মুখ উলটে পড়লো বাঁধের তলায়
বাঁধে ফাটল ধরেছে, হু হু করে জল ঢুকছে গ্রামে।
বাঁধের তলায় দুর্গাবুড়ি চিল চিৎকারে হাকছে
এসো... বাচো... বাঁচাও... গ্রাম ডুবছে...
দুর্গাবুড়ির হাকে ফিরে আসে মানুষ
হাতে তাদের গাইতি শাবল কোদাল
কোমর বেঁধে বাঁধ সামলাতে এল
দুর্গাবুড়ি বাঁধের তলায়, ওপরে মানুষ।
গন্ধকজাত শান্তির অতলে
বুদবুদের মতো মিলিয়ে গেল দুর্গাবুড়ি
ফিরে এল একগুচ্ছ মুখ আর স্খলিত মুখোশ
আর ক্ষিপ্ত আদিম সেইসব শিশু
যারা শঙ্কাতুর উপজাতির তুচ্ছ গাছটাকেও কাঁপায়।
*********************
বিপ্লবী মা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মা
বিধ্বস্ত মানুষ
মেষপালক
অথবা সমুদ্র বন্দরের শিশু
লাঙ্গলের কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক
অথবা জনাকীর্ণ রাস্তার খেকি কুকুর
সবাই চিরকাল মায়ের প্রতীক্ষায় থাকে।
যে মা রাতভর হাইওয়েতে স্কুটি চালিয়ে
চোদ্দোশো কিলোমিটার পাড়ি দেয়
অথবা যে মা দূরত্বময় নৈকট্যের অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে
সমাজমাধ্যমে উল্কাবেগে ভাইরাল হয়
অথবা যে মা সস্তা কাপড়ের মুখবন্ধনীতে
আত্মসম্মানবোধ ঢাকে, তারা সবাই মা।
একলা মায়ের হাত ধরে পথে নামা শিশুটিও
তাই মাকেই খুঁজে নেয় হিউস্টন থেকে হিঙ্গলগঞ্জ।
এ যেন শস্যকণায় নিটোল অঙ্কুরিত স্তনের
পীতাভ কাহিনী, যার উন্মেষণের স্তরবৃন্তে
কোমর ভালবাসার একই পুনরাবৃত্তি ঘটে।
মায়েরা বিপ্লবী হয়েছে
সভ্যতার সেই আদিম কাল থেকে
কি যুদ্ধ, কি মহামারী
মায়েদের লড়াইটা জারি থাকেই।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মা
বিধ্বস্ত মানুষ
মেষপালক
অথবা সমুদ্র বন্দরের শিশু
লাঙ্গলের কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক
অথবা জনাকীর্ণ রাস্তার খেকি কুকুর
সবাই চিরকাল মায়ের প্রতীক্ষায় থাকে।
যে মা রাতভর হাইওয়েতে স্কুটি চালিয়ে
চোদ্দোশো কিলোমিটার পাড়ি দেয়
অথবা যে মা দূরত্বময় নৈকট্যের অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে
সমাজমাধ্যমে উল্কাবেগে ভাইরাল হয়
অথবা যে মা সস্তা কাপড়ের মুখবন্ধনীতে
আত্মসম্মানবোধ ঢাকে, তারা সবাই মা।
একলা মায়ের হাত ধরে পথে নামা শিশুটিও
তাই মাকেই খুঁজে নেয় হিউস্টন থেকে হিঙ্গলগঞ্জ।
এ যেন শস্যকণায় নিটোল অঙ্কুরিত স্তনের
পীতাভ কাহিনী, যার উন্মেষণের স্তরবৃন্তে
কোমর ভালবাসার একই পুনরাবৃত্তি ঘটে।
মায়েরা বিপ্লবী হয়েছে
সভ্যতার সেই আদিম কাল থেকে
কি যুদ্ধ, কি মহামারী
মায়েদের লড়াইটা জারি থাকেই।
*********************
