কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর পরিচিতির পাতায় . . .
গরম ভাতের মঙ্গলকাব্য
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

তারপর? তারপর কি হলো?
ওরা বড়লোক, গরিবের ক্ষিদে বোঝেনা
শুভ্রতার পবিত্র শহরে ওরা শোষণ চালালো
ভিন্নরূপে, ভিন্নমুখে... তারপর ...

গরম ভাতের কোল ঘেঁষে, একমুঠো কলমী শাক
আলু ঝিঙের তরকারির ঝোল গড়িয়ে চললো --
সাদা ভাতের দিকে, বাটিভর্তি টলটলে ডাল।

কানা উঁচু ভাতের থালাটা কোলের কাছে টেনে
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল ছেলেটা
বাপ বেটাকে গোল করে দাঁড়িয়ে থাকা ভীড় বলছে
'ভাতের থালা সামনে রেখে কাঁদতে নেই বাবা'
ভাতের চুড়োয় আঙুল রেখে ছেলেটা তবু কাঁদে
কাঁদে, কাঁদে, কেঁদেই চলে...

বিশৃঙ্খল পোশাকের ধর্মযাজক
অপদার্থ আর সামন্ততন্ত্রী যত তরুণ প্রভু
আর উচ্ছৃঙ্খল সেনানায়ক
মুঠো যাদের ভর্তি থাকে টাকার তলানিতে
তোমার প্রাচীর ঘিরে অসহায় আর সরল বৃত্ত
দূষিত কুটনীতিক দের ছোটখাটো একটা বাহিনী
তার মধ্যেই রচিত হয় গরম ভাতের মঙ্গলকাব্য।

*********************









*
পুণ্যলক্ষীর ঘরসংসার
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

দিনগুলো অন্তহীন!

মাথার ওপর চাল উড়ছে,
প্রবল ঝড়ে একটা খুঁটি,
প্রাণপণে আগলে আছে পুণ্যলক্ষী
ঘন্টা দুয়েক কাটল এভাবেই --

এতগুলো মানুষ নিয়ে
এই যে সচল পৃথিবী
সত্যিই ভারী চমৎকার।

একমুঠো চালও মেলেনি
ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম।
বাচ্চারা খিদেয় কাঁদছে।

মজুতদার সম্বল
অসংলগ্ন পাহাড় ঠেলে
অর্থহীন গানের সুর
গোগ্রাসে গেলে।

তার অনেক পরে,
পুণ্যলক্ষী ফিরতে চায়
নিজের ঘরে...

*********************









*
রুক্মিনী
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

তার পিতা আছে
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে
এই নিস্তব্ধ অক্ষরেখার
বিশাল ব্যপ্তিতে।

নাম তার রুক্মিনী
অসুখটা ক্ষিদে
মানুষ আজ মনুষ্যেতর
যে হাত একদিন
কাজ করত
আজ সে ভিক্ষা করছে।

এ তল্লাটের সবকিছুই
বহন করে তার পিতা
চাল আলু আর দরকারি সামগ্রী।

সেই পিতা যখন রক্তাক্ত হাতে
এসে দাঁড়াল রুক্মিনীর আঙ্গিনায়
সে দেখতে পেল একটি ক্ষুধার্ত মানুষ
আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে নেমে আসছে...

আসলে ওটা কোনো আগুনের পাহাড় নয়,
ক্ষুধার্ত মানুষের ভয়াবহ উদ্গীরণ...

*********************









*
সায়রাবানুর বারোমাস্যা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

বাতাস থেকে বাতাসে শূন্য জালের মতো
পথে পথে রায়, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ায়
সচ্ছল সমৃদ্ধ পাতা
শরতের নিঃশব্দ যাওয়া আসা
বসন্ত আর গুচ্ছ গুচ্ছ নমিত ফসলের মাঝে,
অনবদ্য ভালোবাসা হাতে তুলে নেয়
দীঘল চাঁদের রেখা...

তার নাম সায়রাবানু
বছর তিনেক আগে
ফিরেছিল ঘরে --
পাকা দেওয়ালে খড়ের চাল
নোনা জল মিশে হলুদ হয়ে গেছে পাতা

ঝড়ের নিদারুণ উজ্জ্বলতায়
ইস্পাত রূপান্তরিত অম্লতার নৈঃশব্দ্যে
রাত্রিরা উন্মোচিত শেষ শষ্যকণায়,
পরিণীত স্বদেশ ভূমির আহত পরাগবিন্দুরা নিশ্চল।

চাল উড়ে গেছে সায়রাবানুর
ঘরদোর ভেসে গেছে শেষ সম্বল নিয়ে,
সাতফুটের মুরগির খামারে বেঁচে থাকার স্বপ্ন...

*********************









*
অমৃত-ইয়াকুব গাথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

একজন বেহালার সুরে
অন্যজনকে ধরে রাখে
জগৎজোড়া উদ্ভাসে
উদ্ভাসিত হয় ওদের বন্ধুত্ব।

ওরা অমৃত আর ইয়াকুব
কতটা পথ হাঁটলে
একজনের কোলে মাথা রেখে
ঘুমিয়ে পড়া যায় জানত না ওরা --
তবু অমৃত ঘুমিয়ে পড়ে...

পথ -- পথই ওদের চিনিয়েছিল
সুরাট থেকে উত্তরপ্রদেশ
কাপড়ের কারখানার কাজ হারিয়ে
ঘরে ফিরছিল ওরা --
কিন্তু ঘর কোথায়!
পথের ক্লান্তি আর ধুলো মাখা দহন
কেড়ে নিল প্রাণ, জান, মান...

ইয়াকুবের কোলে মাথা রেখেই
অমৃতের পথযাত্রা...
ধর্ম নয়, বর্ণ নয়, বন্ধুতা--
বিলুপ্ত চূড়ার মতো
ঘোরানো সিড়িগুলো যার
রুক্ষ পাতার নিচে সম্পূর্ণ ঢাকা
ভূতত্ত্বের সোনায় এখন মগ্ন গভীর
উল্কায় জড়ানো কোনো তরবারি
কোমর দুর্বিনীত হাত ডুবিয়ে
গহনস্রোতে রাখল কপাল
বুদবুদের মতো মিলিয়ে যেতে যেতে...
ফিরে আসা জীর্ণ রিক্ত মানবিক বসন্তের কাছে।

*********************









*
দশরথের মেয়ে
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

আমি দশরথের মেয়ে বলছি
আমার মাটির কাছে আমি ঋণী
পাহাড় কেটে মানুষের চলাচলের জন্য
রাস্তা করেছিল আমার বাপটা
কাগজে ছবি উঠেছিল অনেক
টিভিতেও দেখিয়েছিল অনেকবার
কিন্তু সেই পথে পা রেখে
জল আনতে পারেনি আমার মা
গাঁয়ের মুরুব্বিরা পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল পথে।

পচা পুকুরের জল খেতে খেতে
মা-টা আমার ওলাউঠো হয়ে মরল
বুড়ো বাপটার হাতে পায়ে ঘা
চিনতে পারে না মানুষকে
ডাক্তার বলেছে জলের দোষ।
তাই আমি কুয়ো কাটতে
শুরু করেছি নিজের উঠোনেই।
আবার খবরের লোক এলো,ছবি তুলল
আমি কিন্তু থামিনি।

মাটি কেটেই চলেছি, কেটেই চলেছি...
মাটির অনেক নিচে জল
যে জলের অসুখে আমার মা মরেছে
আমার বাপ বিছানায়
সেই জল আর নয়...

মাটির কাছে জল... আহা জল...
জল আমাদের সকল জ্বালা জুড়িয়ে দেয়...

*********************









*
উপেনের বৌ
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

আমি উপেনের বৌ বলছি বাবুমশাইরা
হিঙ্গলগঞ্জ থেকে উপেনের বৌ
ছোট সুন্দর ঘর ছিল আমার
বারান্দায় কাপড়ে টাঙানো দোলনা
আমার ছোট মেয়েটা ঐ দোলনায়
শুয়ে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ত।

রঙিন গাছপালা আর বিশাল হাতের মুঠোয়
সচ্ছল পাতারা সব একরাতেই ধ্বঙস হয়ে গেছে।
সারাটা তল্লাট ছাড়খাড় হয়ে গেল ঝড়ে
অযুত বছর ধরে ধ্যানমগ্ন ঈশ্বরের
শান্ত প্রতিমূর্তিগুলো ছিন্নভিন্ন
মন্দিরগর্ভ থেকে বিচ্যুত।
আমার আর স্বপ্ন দেখার কোনো অবকাশ নেই।

দিনে রাতে ঝোড়ো হাওয়া দিলে
তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে
দড়ি ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে আমার সোয়ামিটা।
মাঝরাতে ঘুম চোখে উঠে বসে টর্চ জ্বেলে
পায়ের কাছটা দেখে নেয় আমার ভাসুরঠাকুর
কোনো সাপ টাপ ঘুরে গেল না তো!
সামনের বছর পরীক্ষা দেবে বড়মেয়েটা
সন্ধের দিকে পড়তে পারে না আলো নেই,
একটু জোর হাওয়াতেই মোমবাতি নিভে যায়।

নদী বাঁধের ওপর ঘর বেধেছি আমরা
প্লাস্টিক টাঙিয়ে, বাঁশের খুঁটি পুঁতে,
দূরে তাকিয়ে দেখি আমার গ্রামটা
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
দোমরানো মোচড়ানো খুঁটি ভাঙা
মৃত ঘরগুলোতে রয়ে গেছে
কালচে হয়ে যাওয়া গেরস্থালীর ছাপ।

*********************









*
শীতলকুচির মা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী

ঘরে তোমার হাহাকার ছিল
ছেলের কাছে ছিল অন্ধকার
দুজনের সামনেই ফুটে উঠছিল
জলপাই দানার স্তব্ধতা --

মাটির বুকে পোতা অরণ্যে
কালো অঙ্কুরের মতো লাশটা
বুকে বুক রেখে প্রতীক্ষা করছিল
প্রচন্ড একটা ঘুর্ণিঝড় আসার আগে
দুশমনদের বুকে চাবুকের মতো নির্মম
বারুদের ভয়াবহতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

এ পৃথিবী আর গৌরবের নগ্ন সন্তান
নিষ্ঠুরতার মৈনাকের বিরুদ্ধে
তুমি মাথা তুলে দাড়িয়েছিলে
শীতলকুচির মা --

লড়াইয়ের দিনগুলোতে
তুমি ছিলে আশ্চর্য সুন্দর
আগুনের দেবদূত
পৃথিবীর পবিত্রতম মা।

একদিন তুমি সঞ্চয় করতে
ফসল, ঘরবাড়ি, লোহা আর কাঠকুটো
তোমার হাতে ফুল ফুটত
আর ভোরের পেঁয়াজকলি;

তারপর হঠাৎ করেই একদিন
বিদ্যুতের আলোয় দেখলে
নির্মম অন্ধকারের মুখোমুখি
সন্তানহীনা তুমি দাঁড়িয়ে আছো
শীতলকুচির মা –

*********************









*
অথ রামায়ণ গাথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
এই রাম বাল্মিকীর সৃষ্টি নয়, আজকের। এমন হাজারো লাখো রাম অথবা রামেদের জন্য এ গাথা নিবেদন করা হলো --

হামি রাম বুইলছি বটেক !!!

হ হামি রাম বুইলছি
মুর কুনো ঘর ছিলনা
ইটভাটার মজুর রাম
ভাটার ধারে বস্তিঘরেই
মুর পরিবার সংসার
সব সব শব শব!!!

মুর মা মইরেছে হিথায়
মাটা খুউব ভুলো ছিল
সিবার পুজোর মাইসে
ধুম জ্বরের তাগিদে
বিছানায় সাঁটিয়ে ছিল
দশেরার আগুনজ্বালায়
পিছের খেইয়ে খেইয়ে
মইরে গেইল ভাটা
মইরে গেইল মা-টা!!

মা-টা মুইরলে বাপ-টা
পথে-বনে-মনে বেবাগী হইল
হামি আউর মুর ভাই লকশমন
ইসকুল পাঠশাল ছেইড়ে
পেট ভাতাড়ে ভাটাখানায়
লেইগে পড়লাম!!!

মুর বাপ হুই জঙ্গলে
প্যাট পাতলা করতে গিয়ে
খটটাসের কামড়ে
পিইঠে অ্যাত্তবড়ো খত নিয়ে
বিসনায় পইড়ে ভুগে ভুগে মইড়ল!!!

হামি রাম বুইলছি বটেক!!!
আজো হামি ইটভাটায়
দিনমজুর খাটি বটেক
হামার কুনো ঘর লাই
হামার কুনো ঠিকাও লাই
দিনভর খেইটে এসে
শোয়াবসার কুনো স্থান লাই
তাড়ি আর বিড়ির ধুয়ায়
জাতধরম সব গুলিয়ে যায়!!!

হামি রাম বুইলছি বটেক
উসব মন্দির টন্দির লাইগবে না হামার
মুরে একঠো ঘর দাও, একটুখানি উঠোন
আর একটা ছোট্ট জানলা
যিথায় ধুয়ার লগে স্বপন আইসে...

এই ইটভাটার মজুর সর্বহারা রামের সঙ্গে কোনো বাল্মিকীর দেখা হয়েছিল কিনা জানা নেই। যদি দেখা হতো তবে অবশ্যই অন্য এক রামায়ণের জন্ম হতো এটা নিশ্চিত। আগামীকাল সেই রামায়ণের অপেক্ষায় রইলাম আমরা সবাই...

*********************









*
অথ রামায়ণ গাথা ২
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
এই রাম-সীতা বাল্মিকীর নয়, আজকের। এমন হাজারো লাখো রাম সীতার জন্য এ গাথা নিবেদন করা হলো --

হামি রাম বুইলছি বটেক !!!

হ হামি রাম বুইলছি
অযোধ্যায় মুর ঘর বাড়ি ছিলেক বটে
মুর বাপ দশরথ ভুখা প্যাটে
ডুবরি কেটে মরাইছিল বটেক

হ হামি রাম বুইলছি
মুর মা কৌশল্যা কামিন খাইটতে গিয়া
বাবুদের লালচের শিকার হলো বটেক

হ হামি রাম বুইলছি
মুর পরিবার সীতা ছিল বটেক
ঘরদুর সাফসুতরো রাখত
রাঁধাবাড়া কইরত,জল আইনত

মুরা ভিনজাত ছিল বটেক
গাঁয়ের বড়ো কুয়োয় মুইদের জল মিলতো না
উয়ারা ভিনগায় যেইত জল আইনতে
মেলা বৌঝি যেইত উয়াদের সনে...

হ হামি রাম বুইলছি
একদিন সাঝবেলায় জল লিয়ে উ আর আইল না
অন্য বৌঝিদের মুখ চাপাচাপি
আগুন জ্বালাই দিল হামার মাথায়

হ হামি রাম বুইলছি
আমি দ্যাবতা নৈ
খেটে খাওয়া কুলিকামিন রাম
সীতার ছেড়াখোড়া লাশটো
পাগলা কইরে দিল মুরে

হ হামি রাম বুইলছি
ঘর হারানো পরিবার জ্বলে যাওয়া
পাগলাটে রাম মোক্তবের সুমুখে বসে
কৌটো নাড়াই, দুমুঠ খানা ঠিক জুটে যায়
শুধু ঘর জোটে না...

হ হামি রাম বুইলছি
মন্দির টন্দির নয়, মুরে একঠো ঘর দাও হে
হইখানে ছেলেপুলান লিয়ে
ভালো করে খেইয়ে পইরে বাঁইচতে পারি!!!

হামি সীতা বুইলছি বটেক !!!

হ হামি সীতা বুইলছি
জনক রাজার কইন্যা লয়
হামি একালের সীতা
কালো কুলো হামার গায়
অনেক চ্যাপ্টাচুপ্টো দাগ আছে গো

ভাতারটো হামায় সাধ করে পিট্টেছিল
আদর আহ্লাদও কিছু কম করেনি
আর করবেলনাই বা কেন
বাবুবাড়ি খেইটে পয়সাগুলান
যে উয়ার তাড়ির গেলাসে ঢেইলে দিতাম

মিছা বলব লাই গো
বাবু বেলাউজের ফাঁক
দিয়ে এটা ওটা দিয়ে দিত
বৌদিমণিকে লুকিয়ে

কিন্তু যেদিন উয়ারা
ডাইন বলে তাড়া কুইরলো
এক গা জ্বর দিয়ে
দৌড় দৌড় দৌড়...

সেইদিন না বাবুলোগ
না হামার তাড়িখোড় সোয়ামি
কেউ বাঁচাতে আইল না...

গা-ঘর-নিকোনো উঠোন সব ছেড়ে দিগন্তের পথে পা বাড়ানো সীতার সঙ্গে অথবা সর্বহারা রামের সঙ্গে কোনো বাল্মিকীর দেখা হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু এই রাম-সীতারা আজ হোক কাল হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম দেবে। দেবেই। সেই ভবিষ্যৎ কিন্তু একদিন না একদিন তার বাপমায়ের প্রতি সামাজিক অনাচারের হিসাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেবে। সেদিনের জন্য প্রস্তুত থাকি আমরা সবাই।

*********************