কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
এক মজুরকন্যার আত্মকথন
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
নেশাটা চড়ে বসেছিল
এক অনাবিল সন্ধ্যায়
ধর্মঘটের আগেরদিন
চিমনির ধোঁয়া মাপছিল যারা
তাঁদের মধ্যেই কোনো একজন
চিৎকার করে হাক ছাড়লো
দেখতো হে... এটা কি এখানে?
কিলবিলিয়ে ওঠা পোকাদের মধ্যে
নড়েচড়া করছিল দু চোখের
দুটো ঘষাটে মাণিক্য
জানান দিচ্ছিল কন্যা সন্তানের উপস্থিতি...
ভিড়ের মধ্যে থেকেই
কেউ একটা বলে উঠল
মানুষের বাচ্চা যখন
মা বাপ কেউ তো একটা আছেই
কিন্তু তার নিঃশব্দ উপস্থিতিতে
কোনো সাড়া পাওয়া গেল না।
শুধু কারখানার সেলাই ঘর থেকে
একটা ছেলেমেয়ের দঙ্গল
ছুরি কাঁচি হাতে বেরিয়ে এসে
ওর নাড়ি কেটে জন্মকালের
ঘোষণা করল নিজেদের মতো করেই।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শঙ্খধ্বণির পরিবর্তে
কে বা কারা যেন চিৎকার করে বলে উঠল
জবাব চাই জবাব দাও, জবাব চাই জবাব দাও....
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
নেশাটা চড়ে বসেছিল
এক অনাবিল সন্ধ্যায়
ধর্মঘটের আগেরদিন
চিমনির ধোঁয়া মাপছিল যারা
তাঁদের মধ্যেই কোনো একজন
চিৎকার করে হাক ছাড়লো
দেখতো হে... এটা কি এখানে?
কিলবিলিয়ে ওঠা পোকাদের মধ্যে
নড়েচড়া করছিল দু চোখের
দুটো ঘষাটে মাণিক্য
জানান দিচ্ছিল কন্যা সন্তানের উপস্থিতি...
ভিড়ের মধ্যে থেকেই
কেউ একটা বলে উঠল
মানুষের বাচ্চা যখন
মা বাপ কেউ তো একটা আছেই
কিন্তু তার নিঃশব্দ উপস্থিতিতে
কোনো সাড়া পাওয়া গেল না।
শুধু কারখানার সেলাই ঘর থেকে
একটা ছেলেমেয়ের দঙ্গল
ছুরি কাঁচি হাতে বেরিয়ে এসে
ওর নাড়ি কেটে জন্মকালের
ঘোষণা করল নিজেদের মতো করেই।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শঙ্খধ্বণির পরিবর্তে
কে বা কারা যেন চিৎকার করে বলে উঠল
জবাব চাই জবাব দাও, জবাব চাই জবাব দাও....
*********************
একটি যুদ্ধবিরোধী গাথা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
যুদ্ধটা যখন শুরু হয়
আকাশে তখন লালচে
মেঘ ছিল কিছুটা
খনিগহ্বর থেকে কালো মানুষেরা
চিৎকার করে মাকে ডাকছিল
কলসি কাঁখে মেয়েদের হাত ধরা
সন্তানের মুখে ছিল অনাবিল হাসি।
তারপর ...
সাঁজোয়া বাহিনীর নাবিকদের
উল্লাস আর মত্ততায় মশগুল হল জনপদ
রক্তিম হরিণীর ভীরু চোখ
আশ্রয় খুঁজে নিল ঝোপের আড়ালে।
যুদ্ধ আসলে একটা নির্মম অন্ধকার
তা ভেদ করে নরম আলোর ঝলকানিতে
ভেসে আসে সুন্দর অরণ্যানী
আর ভৈরোর আবাহনী....
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
যুদ্ধটা যখন শুরু হয়
আকাশে তখন লালচে
মেঘ ছিল কিছুটা
খনিগহ্বর থেকে কালো মানুষেরা
চিৎকার করে মাকে ডাকছিল
কলসি কাঁখে মেয়েদের হাত ধরা
সন্তানের মুখে ছিল অনাবিল হাসি।
তারপর ...
সাঁজোয়া বাহিনীর নাবিকদের
উল্লাস আর মত্ততায় মশগুল হল জনপদ
রক্তিম হরিণীর ভীরু চোখ
আশ্রয় খুঁজে নিল ঝোপের আড়ালে।
যুদ্ধ আসলে একটা নির্মম অন্ধকার
তা ভেদ করে নরম আলোর ঝলকানিতে
ভেসে আসে সুন্দর অরণ্যানী
আর ভৈরোর আবাহনী....
*********************
তবুও স্বাধীনতা !!!
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
গলাজলে দাঁড়িয়ে আমাদের পতাকা তোলাটা
ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সহজেই
কিন্তু আমাদের খিদের লড়াই
স্কুল যাওয়ার জন্য সাঁতার কাটা
এগুলো চোখের পাতায় আটকেছিল
অনায়াস ভঙ্গিমার বৃষ্টির ফোঁটার মতো।
বন্যায় আমাদের ঘর ভেসে যাওয়ার দিনে
রাস্তায় ত্রিপল খাটানো খিচুড়ি রান্নার সময়ে
মায়ের মুখে পড়া কমলা রঙের আলোটা
ভাইরাল হয়নি... ওগুলো ভাইরাল হয়না....
নদী আমাদের ঘর ভেঙেছে... প্রেম ও...
এবার আমাদের ইস্কুল ভাঙবে
বইপড়া বাবুবিবিরা ফিতে টেনে টেনে
কতবার আমাদের দুঃখ মাপল... ভালবাসাও...
শুধু আমাদের স্বাধীনতা মাপল না কেউ ...
এক চিলতে একটা ঘরই আমার ভারত
বলেছিল যে মেয়েটা সে আমার ছোট বোন
বাপটা পরের জমিতে ধান কাটতে চলে যেত
মা’টা বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে খুকখুক কাশত
আমি রেঁধে বেড়ে সবাইকে খাইয়ে ও খেয়ে
এক কাঁধ বই খাতা নিয়ে ইস্কুলে যেতাম
আমার ভারত হঠাৎ করে ছোট হয়ে গেল
বড়ো ঘরের বিয়ের কথা পাকা হয়ে যেতে...
আমি কাঁচা হয়ে গেলাম...চিৎকার করে গলা ফুলিয়ে
স্বাধীনতা চাইলাম ... অনেকটা আকাশ চাইলাম
আমার ভারত দু হাত বাড়িয়ে দিল তেরঙ্গা আঁচলে ...
দিনমজুরের মেয়ের আবার পড়িলিখির শখ
ফি হপ্তায় পেশা বদলায় আমার মা বাবা
শুনেছি আগের দিনে বাপ্ ঠাকুর্দাও বদলিয়ে যেত
এখন অনেকটা ঘরেলু হয়েছি
ফিরি করতে শুরু করেছি উৎসব ভালবাসা সম্মান
কখন আবার তেরঙাও বিককিরি করেছি
কালো কাঁচের আড়ালে ...
স্বাধীনতা আমাদের স্বপ্ন বিক্রি করতে দেয়নি
ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে উড়ে গিয়েছিল আমার স্বাধীনতা
কাটা ঘুড়ি গোঁত্তা খাচ্ছিল এখানে ওখানে সেখানে ...
সেখান থেকে সবজি বাজার হয়ে সোওওওজা
এশিয়াডের স্টেডিয়াম ...কাঁধে সোনা ...বুকে তেরঙ্গা
দেশ ,কাল , জনপদ ...সব পেরিয়ে আজ সোনাজয়ী
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে এক আকাশ আলো...
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
গলাজলে দাঁড়িয়ে আমাদের পতাকা তোলাটা
ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সহজেই
কিন্তু আমাদের খিদের লড়াই
স্কুল যাওয়ার জন্য সাঁতার কাটা
এগুলো চোখের পাতায় আটকেছিল
অনায়াস ভঙ্গিমার বৃষ্টির ফোঁটার মতো।
বন্যায় আমাদের ঘর ভেসে যাওয়ার দিনে
রাস্তায় ত্রিপল খাটানো খিচুড়ি রান্নার সময়ে
মায়ের মুখে পড়া কমলা রঙের আলোটা
ভাইরাল হয়নি... ওগুলো ভাইরাল হয়না....
নদী আমাদের ঘর ভেঙেছে... প্রেম ও...
এবার আমাদের ইস্কুল ভাঙবে
বইপড়া বাবুবিবিরা ফিতে টেনে টেনে
কতবার আমাদের দুঃখ মাপল... ভালবাসাও...
শুধু আমাদের স্বাধীনতা মাপল না কেউ ...
এক চিলতে একটা ঘরই আমার ভারত
বলেছিল যে মেয়েটা সে আমার ছোট বোন
বাপটা পরের জমিতে ধান কাটতে চলে যেত
মা’টা বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে খুকখুক কাশত
আমি রেঁধে বেড়ে সবাইকে খাইয়ে ও খেয়ে
এক কাঁধ বই খাতা নিয়ে ইস্কুলে যেতাম
আমার ভারত হঠাৎ করে ছোট হয়ে গেল
বড়ো ঘরের বিয়ের কথা পাকা হয়ে যেতে...
আমি কাঁচা হয়ে গেলাম...চিৎকার করে গলা ফুলিয়ে
স্বাধীনতা চাইলাম ... অনেকটা আকাশ চাইলাম
আমার ভারত দু হাত বাড়িয়ে দিল তেরঙ্গা আঁচলে ...
দিনমজুরের মেয়ের আবার পড়িলিখির শখ
ফি হপ্তায় পেশা বদলায় আমার মা বাবা
শুনেছি আগের দিনে বাপ্ ঠাকুর্দাও বদলিয়ে যেত
এখন অনেকটা ঘরেলু হয়েছি
ফিরি করতে শুরু করেছি উৎসব ভালবাসা সম্মান
কখন আবার তেরঙাও বিককিরি করেছি
কালো কাঁচের আড়ালে ...
স্বাধীনতা আমাদের স্বপ্ন বিক্রি করতে দেয়নি
ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে উড়ে গিয়েছিল আমার স্বাধীনতা
কাটা ঘুড়ি গোঁত্তা খাচ্ছিল এখানে ওখানে সেখানে ...
সেখান থেকে সবজি বাজার হয়ে সোওওওজা
এশিয়াডের স্টেডিয়াম ...কাঁধে সোনা ...বুকে তেরঙ্গা
দেশ ,কাল , জনপদ ...সব পেরিয়ে আজ সোনাজয়ী
আমার কাছে স্বাধীনতা মানে এক আকাশ আলো...
*********************
মুঠো ছুঁড়ে দাও
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
মুঠো ছুঁড়ে দিও শুণ্যে
অন্ধকারে জোড় হাত নয়
হাত জুড়ে দিলে প্রণাম হয়
প্রণাম তো সম্মান দেখায়...
বরং যখন সময় হবে
নুড়ি পাথর ও কাঁচের টুকরো
ছুঁড়ে দিও অনামুখোদের মুখে
রাস্তাঘাট মই আর কাকর বিছানো
পথগুলোই চিনিয়ে দেবে ওদের গন্তব্য।
মুঠোরা কখনোই উড়তে পারে না
অথবা গাছেদের শাখা প্রশাখায়
ফুল অথবা ফলেদের মতো
ঝুলে থাকতে পারে না
বরং প্রতিটি মুঠো
ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে
সঙগ্রামের গল্প বলে...
গুচ্ছ গুচ্ছ ঘন কালো মুঠোরা
ক্রমশ আরও শক্ত হতে থাকে
এক্কেবারে গণ্ডারের শিং এর মতো
ছায়াময় বস্তুতে ওরা নিজেদের
বদলিয়ে নেয় ওই ঝরে যাওয়া
গোলাপের পাপড়ির ভঙ্গিমায়
এই অন্ধকারের মুঠোরা
কখনো থামে না কোথাও
ঘন্টার পর ঘন্টা একটানা
বিরামহীন শুণ্যে ছোঁড়া হয়
যতক্ষণ না অন্ধকারটা থমকে দাঁড়ায়।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
মুঠো ছুঁড়ে দিও শুণ্যে
অন্ধকারে জোড় হাত নয়
হাত জুড়ে দিলে প্রণাম হয়
প্রণাম তো সম্মান দেখায়...
বরং যখন সময় হবে
নুড়ি পাথর ও কাঁচের টুকরো
ছুঁড়ে দিও অনামুখোদের মুখে
রাস্তাঘাট মই আর কাকর বিছানো
পথগুলোই চিনিয়ে দেবে ওদের গন্তব্য।
মুঠোরা কখনোই উড়তে পারে না
অথবা গাছেদের শাখা প্রশাখায়
ফুল অথবা ফলেদের মতো
ঝুলে থাকতে পারে না
বরং প্রতিটি মুঠো
ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে
সঙগ্রামের গল্প বলে...
গুচ্ছ গুচ্ছ ঘন কালো মুঠোরা
ক্রমশ আরও শক্ত হতে থাকে
এক্কেবারে গণ্ডারের শিং এর মতো
ছায়াময় বস্তুতে ওরা নিজেদের
বদলিয়ে নেয় ওই ঝরে যাওয়া
গোলাপের পাপড়ির ভঙ্গিমায়
এই অন্ধকারের মুঠোরা
কখনো থামে না কোথাও
ঘন্টার পর ঘন্টা একটানা
বিরামহীন শুণ্যে ছোঁড়া হয়
যতক্ষণ না অন্ধকারটা থমকে দাঁড়ায়।
*********************
দুর্গা দুর্গতিনাশিনী
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আমাদের দুর্গা দূর গাঁ থেকে
রঙিন জামা পরে শহরে আসে
বাপ ভাইয়ের হাতের মুঠিটা
শক্ত হাতে ধরে
অবাক চোখে শহর দেখে।
আমাদের দুর্গা পুজোর মঞ্চে
চটুল ছন্দে নেচে গেয়ে
মা বোনেদের ঘরে
খামে ভরে টাকা পাঠায়
আমাদের দুর্গা হাসপাতালে
রাতজাগা ডিউটি করতে করতে
ভিডিও কলে সন্তানের সঙ্গে
উৎসবমুখর জনপদকে ছুঁয়ে দেয়
আমাদের দুর্গা পাড়ায় ঘরে
মহল্লায় মহল্লায় রাতজাগা
ডিউটি করতে গিয়ে
শ্বশুরবাড়ির বদনাম কুড়োয়
আমাদের দুর্গা স্বামীর হাতে
মার খেয়ে দাগ ঢাকতে
লিপস্টিক লাগিয়ে ষষঠির
উপোস করে তিনপুরুষের
কল্যাণ কামনা করে
আমাদের দুর্গা...
দুর্গা এবার অন্তত দুর্গতিনাশিনী
হয়ে ওঠো।
রক্ত করবীর নন্দিনী হয়ে
লাল আলোর মালায় সজ্জিত হয়ে
অসুর নিধনে মত্ত হয়ে যাও।
দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী
আলোয় ভাসিয়ে দাও চরাচর।
শারদ প্রভাত এ তোমার অপেক্ষায়
সকল দুর্গতিনাশিনী দের শুভেচ্ছা জানাই।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আমাদের দুর্গা দূর গাঁ থেকে
রঙিন জামা পরে শহরে আসে
বাপ ভাইয়ের হাতের মুঠিটা
শক্ত হাতে ধরে
অবাক চোখে শহর দেখে।
আমাদের দুর্গা পুজোর মঞ্চে
চটুল ছন্দে নেচে গেয়ে
মা বোনেদের ঘরে
খামে ভরে টাকা পাঠায়
আমাদের দুর্গা হাসপাতালে
রাতজাগা ডিউটি করতে করতে
ভিডিও কলে সন্তানের সঙ্গে
উৎসবমুখর জনপদকে ছুঁয়ে দেয়
আমাদের দুর্গা পাড়ায় ঘরে
মহল্লায় মহল্লায় রাতজাগা
ডিউটি করতে গিয়ে
শ্বশুরবাড়ির বদনাম কুড়োয়
আমাদের দুর্গা স্বামীর হাতে
মার খেয়ে দাগ ঢাকতে
লিপস্টিক লাগিয়ে ষষঠির
উপোস করে তিনপুরুষের
কল্যাণ কামনা করে
আমাদের দুর্গা...
দুর্গা এবার অন্তত দুর্গতিনাশিনী
হয়ে ওঠো।
রক্ত করবীর নন্দিনী হয়ে
লাল আলোর মালায় সজ্জিত হয়ে
অসুর নিধনে মত্ত হয়ে যাও।
দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী
আলোয় ভাসিয়ে দাও চরাচর।
শারদ প্রভাত এ তোমার অপেক্ষায়
সকল দুর্গতিনাশিনী দের শুভেচ্ছা জানাই।
*********************
পুজো আসছে
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
যে ছেলেটা জোমাটো ব্যাগ নিয়ে
ভোর না হতেই রোজ ছোটে
তার কাছে ওপরতলার খবর এল
পুজো আসছে.... সব ছুটি বাতিল
সে জিগ্যেস করল আমি কি করব?
ওপরওয়ালার প্রয়োজন মেটাতে
আশ্বিনের পেঁজা তুলো মেঘেরা
তাকে ছুটি দিয়ে দিল চিরদিনের মতো....
ঢাকির কাঁধে চড়ে যে ছেলেটা
কাসি বাজাতে ফি বচ্ছর শহরে আসে
তার জামার ছেঁড়া টুকরোটায়
মায়ের হাতে করা রিপু জ্বলজ্বল করছে
পুজো শেষে কুড়িয়ে পাওয়া জামাকাপডে
লেগে থাকে গভীর আনন্দের উৎসব।
পুজো মানেই যাদের কাছে রাতজাগা
তাল তাল মাটি মেখে প্রতিমার চক্ষুদান
সেই কুমোর টুলির অন্ধ মেয়েদের
ভালো করে দেখেই না খদ্দেররা
অথচ তাদের অগভীর অন্ধকারের ভেতরেই
প্রতিদিন একটু একটু করে জন্ম নেয় দেবী দুর্গা
আলোয় আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস
শিউলি ঝরা সকালে মর্তে পা রাখেন স্বর্গের সুধাময়ী
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
যে ছেলেটা জোমাটো ব্যাগ নিয়ে
ভোর না হতেই রোজ ছোটে
তার কাছে ওপরতলার খবর এল
পুজো আসছে.... সব ছুটি বাতিল
সে জিগ্যেস করল আমি কি করব?
ওপরওয়ালার প্রয়োজন মেটাতে
আশ্বিনের পেঁজা তুলো মেঘেরা
তাকে ছুটি দিয়ে দিল চিরদিনের মতো....
ঢাকির কাঁধে চড়ে যে ছেলেটা
কাসি বাজাতে ফি বচ্ছর শহরে আসে
তার জামার ছেঁড়া টুকরোটায়
মায়ের হাতে করা রিপু জ্বলজ্বল করছে
পুজো শেষে কুড়িয়ে পাওয়া জামাকাপডে
লেগে থাকে গভীর আনন্দের উৎসব।
পুজো মানেই যাদের কাছে রাতজাগা
তাল তাল মাটি মেখে প্রতিমার চক্ষুদান
সেই কুমোর টুলির অন্ধ মেয়েদের
ভালো করে দেখেই না খদ্দেররা
অথচ তাদের অগভীর অন্ধকারের ভেতরেই
প্রতিদিন একটু একটু করে জন্ম নেয় দেবী দুর্গা
আলোয় আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস
শিউলি ঝরা সকালে মর্তে পা রাখেন স্বর্গের সুধাময়ী
*********************
বিক্রয়যোগ্য গণতন্ত্র
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
গণতন্ত্র বিককিরি হয় কিনা
সেটা ঠিক জানা ছিল না
জানলাম সেইদিন যেদিন
কসাইরা পাড়াগুলোকে
ভেঙেচুরে তছনছ করে দিল
নির্যাতনের সেই ইতিহাসে
নরম কাদার শিশুরা দেখল
মায়েদের মুখের হাসিটা
উবে গেছে কবেই
মায়ের লাল পাড় সাদা
শাড়িতে রক্তের ছোপ
ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া
হরিণের মতো ভীরু
আস্তানায় ফিরে তারা
বুঝতেই পারল না
কেন তাদের বেঁধে
চাবকানো হচ্ছে
মৃত্যুর সারাটা পথ জুড়ে
তারা শুধু শুনতে পেল
ঝুমুরের চটুল ছন্দ...
আহা হা মোচ্ছব লেগেছে
গণতন্ত্র বিককিরির মহোৎসব
মানুষ আর ঈশ্বরের মহান
গৌরব জানবার মতো
আর কেউই অবশিষ্ট রইল না
কেবল ক্রুশকাঠের আকারে
শক্ত করে বাঁধা নগ্ন অস্থি ছাড়া।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
গণতন্ত্র বিককিরি হয় কিনা
সেটা ঠিক জানা ছিল না
জানলাম সেইদিন যেদিন
কসাইরা পাড়াগুলোকে
ভেঙেচুরে তছনছ করে দিল
নির্যাতনের সেই ইতিহাসে
নরম কাদার শিশুরা দেখল
মায়েদের মুখের হাসিটা
উবে গেছে কবেই
মায়ের লাল পাড় সাদা
শাড়িতে রক্তের ছোপ
ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া
হরিণের মতো ভীরু
আস্তানায় ফিরে তারা
বুঝতেই পারল না
কেন তাদের বেঁধে
চাবকানো হচ্ছে
মৃত্যুর সারাটা পথ জুড়ে
তারা শুধু শুনতে পেল
ঝুমুরের চটুল ছন্দ...
আহা হা মোচ্ছব লেগেছে
গণতন্ত্র বিককিরির মহোৎসব
মানুষ আর ঈশ্বরের মহান
গৌরব জানবার মতো
আর কেউই অবশিষ্ট রইল না
কেবল ক্রুশকাঠের আকারে
শক্ত করে বাঁধা নগ্ন অস্থি ছাড়া।
*********************
গন্তব্য
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
ঘর সঙসার
ভালো থাকাথাকি
সবার জন্য নয়
তবুও কোনো এক
অনাবিল মুহুর্তে
স্বপ্ন দেখা
শুরু হয়ে যায় ...
ধুয়ে যায়
সমগ্র অভিজ্ঞান
বহমান সেতু
অতিক্রম শেষে
আরও দীর্ঘ সেতুপথ
সাধারণ বৃক্ষলতাগুলো
তোমার শরীর বেয়ে
উঠে গেল আকাশের দিকে
স্থির চেয়ে থাকো যাত্রাপথে।
ধারক সরণী বেয়ে পথ চলি
কাকে জানাব এই ক্ষতস্থান
দুই পাশে অমসৃণ ভূমি
ও পাথর নিয়ে গোপনীয় রক্তপাত
মুখোমুখি হই মৃত্যুর অথবা তোমার।
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
ঘর সঙসার
ভালো থাকাথাকি
সবার জন্য নয়
তবুও কোনো এক
অনাবিল মুহুর্তে
স্বপ্ন দেখা
শুরু হয়ে যায় ...
ধুয়ে যায়
সমগ্র অভিজ্ঞান
বহমান সেতু
অতিক্রম শেষে
আরও দীর্ঘ সেতুপথ
সাধারণ বৃক্ষলতাগুলো
তোমার শরীর বেয়ে
উঠে গেল আকাশের দিকে
স্থির চেয়ে থাকো যাত্রাপথে।
ধারক সরণী বেয়ে পথ চলি
কাকে জানাব এই ক্ষতস্থান
দুই পাশে অমসৃণ ভূমি
ও পাথর নিয়ে গোপনীয় রক্তপাত
মুখোমুখি হই মৃত্যুর অথবা তোমার।
*********************
বুলডোজারের বর্ণমালা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়
গুড়িয়ে যায় স্বপ্নের দিনমান
বুলডোজারের আক্ষেপে আটক
বর্ণমালার ক্রমানুপাত...
তবুও শৃঙ্খল ভেঙে আসে প্রেম
ছোট আঁধারের ঝুপড়ি ভরে যায়
মানবতার কলকাকলিতে
বুলডোজারের মতিভ্রম ঘটিয়ে
বেপথু পথে অভিসারের নিয়ম ভেঙে
পতপত করে ওড়ে মায়ের লাল আঁচল
আইটি সেক্টরে বারো ঘন্টা খেটে আসা
ছোট কাকা ক্লান্তি কাটিয়ে হাঁক দেয়---
ওহে, আজ তো মে দিবস
রক্ত পতাকা টাঙাতে হবে যে ---
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়
গুড়িয়ে যায় স্বপ্নের দিনমান
বুলডোজারের আক্ষেপে আটক
বর্ণমালার ক্রমানুপাত...
তবুও শৃঙ্খল ভেঙে আসে প্রেম
ছোট আঁধারের ঝুপড়ি ভরে যায়
মানবতার কলকাকলিতে
বুলডোজারের মতিভ্রম ঘটিয়ে
বেপথু পথে অভিসারের নিয়ম ভেঙে
পতপত করে ওড়ে মায়ের লাল আঁচল
আইটি সেক্টরে বারো ঘন্টা খেটে আসা
ছোট কাকা ক্লান্তি কাটিয়ে হাঁক দেয়---
ওহে, আজ তো মে দিবস
রক্ত পতাকা টাঙাতে হবে যে ---
*********************
মানুষের দিব্যি
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবিতা লেখালিখি
ওসব বড়ো কঠিন বস্তু
মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়...
অকবি আর কবির ফারাক
বুঝতে দেখে নিই
পাঞ্জাবির রং, ডিজাইন
আর সরু সুতোর কাজ।
অথচ আমার হৃদয়
ভারী হয়ে ওঠে
আনিশের বাপের কান্নায়
পুলিশের গুতোয়
পাচামির যে মেয়েটার
পেট পচে গিয়েছিল
তার আর্তনাদে...
বর্ধমানের ঐ মেয়েটা
যার জিন্দা লাশ
ঝুলিয়ে দিয়েছিল
শাসকের ঔদ্ধত্য
ওদের যন্ত্রণা আর্তনাদ
আর আগুন পারা জীবন
রোজ একটু একটু করে
ভরে দেয় আমার কবিতার
অগভীর পঙতিমালা....
*********************
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবিতা লেখালিখি
ওসব বড়ো কঠিন বস্তু
মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়...
অকবি আর কবির ফারাক
বুঝতে দেখে নিই
পাঞ্জাবির রং, ডিজাইন
আর সরু সুতোর কাজ।
অথচ আমার হৃদয়
ভারী হয়ে ওঠে
আনিশের বাপের কান্নায়
পুলিশের গুতোয়
পাচামির যে মেয়েটার
পেট পচে গিয়েছিল
তার আর্তনাদে...
বর্ধমানের ঐ মেয়েটা
যার জিন্দা লাশ
ঝুলিয়ে দিয়েছিল
শাসকের ঔদ্ধত্য
ওদের যন্ত্রণা আর্তনাদ
আর আগুন পারা জীবন
রোজ একটু একটু করে
ভরে দেয় আমার কবিতার
অগভীর পঙতিমালা....
*********************
