কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর পরিচিতির পাতায় . . .
পা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।

রক্ত চোবানো পা
হাঁটে বিদিশা পেরিয়ে
থেকে মিথিলার দিকে
মাটিতে রক্তের ছোপ
দাগহীন উন্মুখ চেতনায়।

পায়ের তলায় মাটি হীন
পৃথিবী এখন খোলাবাজারে
বিক্রি হয় আলু পটলের দরে।
চাল ডাল মধু গম
বড্ড সস্তার জিনিস
ওসবে কাব্যি হয় নাকি!
রক্তের ছোপ লাগা
পায়েরা হেঁটে যায়
অস্তিত্বের যাত্রাপথে...

পায়েরা লাখো হয়ে
রুখে দেয় ফ্যাসিবাদ
চিৎকার করে
সব চাষাদের বলে
মরে গেলে তো হেরে গেলি
পায়ে ভর দিয়ে
মাথা খাড়া করে উঠ
ই হালচষা মাটি বাবুলোগ
আর গাঁ গেরামের মাঝে
বাবু আর বেনিয়াদের
ব্যাওসার ফাঁদ থাকে
আরো হাজার হাজার
লাখ অ লাখ অ
চাষীদের পাহারা দিবার লাগে
হাল গরু আর লাঙলের হাতে
সদদারের পারা তুই যা

রুখে দাঁড়া পায়েরা সব ---
রুখে দাঁড়ানো পায়েরাই আজ
একটা বিনম্র বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়।

*********************









*
আঁধার আলোয় ফেরা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।

আঁধার আলোয় আকাশ ডাকে
ঘরের বাঁকে একলা মেয়ে
সোয়ামি প্রেমী জলাঞ্জলি
লুকিয়ে ফেরে চাল নিয়ে

মেয়েমানুষ ভাত রাঁধবে
উঠোন জুড়ে ছড়া দেবে
ভাত রাঁধতে চাল কৈ
বলতে গেলে বাপটা ঠাঙায়
মায়ের ঘরেও শ্বশুর ঘরেও
ছড়া দেওয়ার উঠোন চাই
মেয়েমানুষের ঘরই নাই

মেয়েমানুষ একলা পথে
ঘরের টানে বেঘোরে মরে
পথিক তাকে বেশ্যা ডাকে
সাধু ডাকে পুজোর ফাঁকে

মেয়েমানুষ নদীর মতো
স্রোতের জীবন একলা চলে
ঘর ভরতি দেওর ভাশুর
বাপ দাদার কথা মানে।
মেয়েমানুষ মান্যতা পায়
মা দিদি আর ননদ জায়ে
মেয়েমানুষ একলা কাঁদে
শূন্য হাঁড়ি আর ফাঁকা মনে।

*********************









*
স্রোত
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।

চলমান জীবনের স্রোত
মাথায় হাড়ি পাতিল
কাঁধে দুটো ছেলে বাচ্চা
মেয়েবাচ্চাটার আঙুলে
বুক ভাঙা স্রোত ----
মেয়েমানুষের তো
কই মাছের জান...

বাপমা খুড়াখুড়ি
সব্বাই মিলে চলেছে
দেশ-গা-ঘরের টানে
নগরের ভাড়াঘরে
চাল উড়ে গেছে
ঘরের জল কোমরে
ভাতের হাঁড়িতে চাল
মাঙসের কুঁচিতে
হাড্ডিসার পাঁজরের
কঙ্কালময় শরীর।

অনেকদিনের পুরনো
দিগদর্শন যন্ত্রের
হাকুপাকু আওয়াজে
স্বর ওঠেনা আর।
দেশের বাপটা
পথ চেয়ে থাকে
শহর জুড়ে তার
বহু সন্ততি
সব্বাই আজ ঘরের পথে
মাথায় হাঁড়ি পাতিল
কাঁধে আরো সন্ততি
মেয়ে বাচ্চাটার
বুকভাঙা জল
ভাড়াঘরের চাল উড়ে গেছে
জীবনের স্রোত ঘরের পথে।

*********************









*
সাম্প্রতিক
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।

কি প্রখর রোদ ছিল গতকাল !!
অনিশ্চিত ছুটে যাওয়ার দিনে
সঙগ্রামের অধিকারের অবহেলায়
সেই কথা কতবার যেন বলেছি
দুটি সাহসের শর্ত কেউ দেখায়নি।

কুয়াশা নদীর অশ্রুভেজা তীরে,
নেমে এলে নীল সিঁড়ি বেয়ে
ধর্মের নামে জল ঢেলে দিয়ে
স্বচ্ছতায় ঘৃণার ঢেউ তুলে
অফুরন্ত শব্দগুলির নিচে পড়ে
লাঞ্ছিত মূঢ় কান্নারা আমার...

যারা সঙঘদাস, পেশির আলোয়
অন্ধ করে যায় দর্শনের ভান্ডার
অস্থায়ী শিবিরে ঘরে ফেরা ভাই
ধানের নাড়ায় লাশ হয়ে যায়
পিতামহর প্রাণ অম্বলে বিবমিষায়
রাত্রি রাত্রিময়, বর্ণময় তোমার তালুক।

বাঙলার ক্রীতদাস যারা বর্ণান্ধের পান্ডা
শানিয়েছে গোপনে মাথা নিড়ানোর ক্ষুর!
কিছুই চূড়ান্ত নয়, যাকে শেষ মনে হয়
তাইই অন্য এক আরম্ভের আয়োজন !!!

*********************









*
হেরো মানুষের কাব্য
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।

ঘরপোড়ার পরে বাজে ভুই
কাব্যি লেখা ধরল বাঁশের কলমে...

ক্যামাক স্ট্রিটের ছেঁড়া বুট পায়ে
সে রোজ হেঁটে যেত দগ্ধ ঘাসের মতো
ঘাড় গুঁজে ভুট-ভুটি কাটতে কাটতে কাটতে
ইতর জীবনের অনির্বচনীয় হুন্ডির মতো
বারবার ঘুরেও ভাঙতি হতো না
নিমিত্তের ভাগীর মতো স্বপ্নচারীর কলমের ডগায়...

জেগে থাকা ক্ষয়িষ্ণু সময়ের পাড়ে
সমস্ত রঙের প্রলেপ মুছে দিয়ে
জেগে উঠল কোজাগরি চাঁদ
হাওয়ায় ভেসে থাকা সভ্যতার সামনে
মানুষের কান্না ছড়িয়ে পড়তে শুনল চরাচরে...

সময়ের অনুশাসন ক্রীতদাসের কাছে
হাতজোড় করে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এল
হেরো মানুষটা মহাকালের ঘুম দেখল
সভ্যতাকে হারাতে হারাতে ফিরে পেল
মহাকালের রাতের বাজারে
দরদাম সন্দেহ আর চাবুকের আঘাতে
হেরো মানুষটা জানতেই পারলো না
সভ্যতার মারণ উৎসবের মধ্যেও
জেগে থাকে শিশুভ্রুণের অনাবিল ঘ্রাণ...

*********************









*
অমৃতস্য পুত্র
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৮.২০২৩।

বাতাস থেকে বাতাসে
শূন্য জালের মতো
উড়ে যায় তাহার মৃত্যু সংবাদ
সতীর্থরা নামে পথে পথে
সচ্ছল সমৃদ্ধ পরিপার্শ্বে
বসন্ত আর ভরা বর্ষায়
নমিত ফসলের মাঝে
অনন্ত ভালোবাসায়
জেগে ওঠো তুমি
অমৃতস্য পুত্র...

*********************









*
হাঘরে মেয়ে
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২১.৮.২০২৩।

হাঘরে কন্যার কথায়
অম্লতার নিপুণ নৈঃশব্দ
রাত্রিরা উন্মোচিত হয়
তাহাদের শেষ শষ্যকণায়।

বিলুপ্ত চূড়ার মতো
ঘোরানো সিঁড়িগুলো
রুক্ষ পাতার নিচে
সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত।

ক্ষিপ্ত আদিম শরতের
সেই সব শিশু কন্যারা
কাঁপিয়ে দিয়ে যায়
শঙ্কাতুর উপজাতির
তুচ্ছ গাছটিকেও।

*********************