কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
গামছাটায় রক্তের দাগ....
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
গামছাটায় রক্তের দাগ লেগে আছে আজো ...
গামছাটাই সাদা জমিনের উপর লাল সুতোর কাজ দেখেই হাওয়ারা বলে উঠলো এই গামছা এ তো আমাদের দেশের ... আমাদের মাটির... আমাদের ভালোবাসার গন্ধ মিশে আছে ওটায়...
আমাদের দেশে নতুন মানুষ এলেই ওই গামছা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হত আমরা এখনো গামছার মধ্যেই বুনে দিই আমাদের ভালোবাসার গল্প আর ফেলে আসা জীবনের দিনগুলো
হাওয়ারা কবে কত সাল আগে তার দেশ ছেড়ে এই ভূমে এসেছিল এখন আর তা মনেও পড়ে না... শুধু মনে পড়ে তার গায়ে এখনও নদীর গন্ধ... সোঁদা মাটির ঝিরঝিরে শব্দ। তার অনাবিল চুলের গোছায় গানের সুর তবু সে সব ছেড়ে চলে আসতে হয় ...
আসলে এভাবেই মানুষ চলে আসে এক দেশ ছেড়ে... আরেক দেশে... দায়ে পড়ে বাধ্য হয়ে কাজের খোঁজে ঘরের খোঁজে এক দেশ ছেড়ে আর এক দেশে চলে যাওয়া হেরো মানুষের দল ওই গামছার মধ্যে বয়ে নিয়ে যায় সমাজ জীবন ...খাবার-দাবার ...টুকরো টুকরো টাকাপয়সা ...বাসন আর গেরস্থালির টুকরো ভালো লাগা ...
আসলে গামছায় লেখা থাকে দেশের নাম ...মায়ের নাম... মাটির সোঁদা গন্ধ... আরো অনেকটাই ফেলে আসা দিনের অনাবিল জীবনী ...আমরাই গামছায় অন্য জীবনের মধ্যে ভালোবাসা খুঁজি... খুঁজে নিই পুরনো দিন আর অনেকগুলো হেরে যাওয়ার অথবা হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা...
****************************
আমাদের দেশে নতুন মানুষ এলেই ওই গামছা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হত আমরা এখনো গামছার মধ্যেই বুনে দিই আমাদের ভালোবাসার গল্প আর ফেলে আসা জীবনের দিনগুলো
হাওয়ারা কবে কত সাল আগে তার দেশ ছেড়ে এই ভূমে এসেছিল এখন আর তা মনেও পড়ে না... শুধু মনে পড়ে তার গায়ে এখনও নদীর গন্ধ... সোঁদা মাটির ঝিরঝিরে শব্দ। তার অনাবিল চুলের গোছায় গানের সুর তবু সে সব ছেড়ে চলে আসতে হয় ...
আসলে এভাবেই মানুষ চলে আসে এক দেশ ছেড়ে... আরেক দেশে... দায়ে পড়ে বাধ্য হয়ে কাজের খোঁজে ঘরের খোঁজে এক দেশ ছেড়ে আর এক দেশে চলে যাওয়া হেরো মানুষের দল ওই গামছার মধ্যে বয়ে নিয়ে যায় সমাজ জীবন ...খাবার-দাবার ...টুকরো টুকরো টাকাপয়সা ...বাসন আর গেরস্থালির টুকরো ভালো লাগা ...
আসলে গামছায় লেখা থাকে দেশের নাম ...মায়ের নাম... মাটির সোঁদা গন্ধ... আরো অনেকটাই ফেলে আসা দিনের অনাবিল জীবনী ...আমরাই গামছায় অন্য জীবনের মধ্যে ভালোবাসা খুঁজি... খুঁজে নিই পুরনো দিন আর অনেকগুলো হেরে যাওয়ার অথবা হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা...
****************************
মুছে যাওয়া ভারত বর্ষ আর মশাল আলোয় পদাতিক মানুষের গল্প
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
ভারতবর্ষের মানচিত্রটা আমরা যদি একটু ফিরে দেখতে চাই দেখতে পাবো সুদূর আফগানিস্তান থেকে পুবের বার্মা দেশ পর্যন্ত পুরোটাই ছড়িয়ে আছে এক অনাবিল জাতির মনুষ্যত্ব। এসব অবশ্য অনেক আগের শতকের গল্প । এরপর ভয়ংকর উপনিবেশবাদের প্রসারে পশ্চিম দেশ থেকে চলে আসা মানুষের দল নিজেদের সুবিধার্থে লোভের চরিতার্থতার কারণে এই বিশাল জনপদকে টুকরো টুকরো করে ভেঙেছে। এই ভাঙ্গনের মধ্যে কখনো তারা অজুহাত দিয়েছে প্রশাসনিক অসুবিধার। কখনো আবার অন্যান্য কারণ দেখাতেও ছাড়েনি। আসলেই সুদূরপ্রসারিত ভূমিতে মানুষের মধ্যে যে বহুত্ববাদ যে মানবিক চেতনা ছড়িয়ে আছে তা বারবারই শাসকের কাছে অন্যতম প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই তারা ক্রমাগত থামিয়ে দিতে চেয়েছে এই ভারতবর্ষকে। আসলে মানুষের প্রতিরোধ শাসকের কাছে সবসময়ই ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাঙালি জাতির একটি অভিশাপ আছে। যখনই পায়ের তলায় একটুখানি শক্ত মাটির খোঁজে জোর করে দাঁড়াতে শিখেছে। তখনই পায়ের তলার মাটিটা গিয়েছে টলে। সেই শত বছরেরও আগের সময়কালে ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে গেল ব্রিটিশ রাজ ... বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে দুই বাঙালির এপার ওপার যাতায়াতের পথ বেঁধে দিয়েছিল বন্ধনহীন গ্রন্থী ... আরো পরে স্বাধীনতার রক্ত ভেজা পথে দেশ ঘর গা সব ছেড়ে নিজে ভূম ছেড়ে পরবাসী হয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা বারবারই বাঙ্গালীকে ভেঙেচুরের তছনছ করে দিয়েছে তবুও বাঙ্গালী নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছে তুলসী তলা অথবা নামাজ পড়ার এক টুকরো ছোট্ট জায়গা। আসলে বাঙ্গালীদের এই যে আবেগ এই ভালোবাসা বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা লড়াই এর মধ্যে নিজেকে এবং নিজের লোকেদের নিয়ে পথ চলা এটা কে বরাবরই বুঝতে ভুল করেছে ভারতবর্ষের শাসক... শাসকের যদিও কোন চরিত্র হয় না বিদেশি স্বদেশী বলে কিছু হয় না শাসক শাসকই হয়... সেই শাসকের কোপে বারবার বাঙালি নিজের ঘর হারিয়েছে নিজের সন্তান পরিজন ভালবাসার মানুষ প্রিয় গাছ-গাছালি পাক পাখালি সবকিছুর থেকে। অনেকটা দূরে সরে গেছে কিন্তু এই পদ্ধতিতে দমিয়ে রাখা যায়নি। হেরে যেতে যেতে ও হারিয়ে যায়নি পথ চলেছে মশাল জ্বালিয়ে অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত হয়েছে তার নিজস্বতার আলো ...সেই আলোতেই পথ চলেছে মানুষ... আর এই জায়গাটাই শাসকের কাছে চক্ষুশূল হয়েছে... ফলত সেকালের বৃটিশ থেকে একালের বৃটিশদের দালালরা বারবারই প্রতিবাদী প্রতিরোধী নাগরিকদের ওপরে অসম আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। ইদানিং কালে বাঙালির ওপর সেই অসম আক্রমণের তীক্ষ্ণতা বোঝাতে আরো কিছু নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে। ঘুষপেটিয়া/ রোহিঙ্গা!
কৃষ্ণা নস্করও ঘুষপেটিয়া/রোহিঙ্গা!
"হতভাগিনী, জনমদুখিনী গো কৃষ্ণা দি আমাদের! দুখে দুখেই কেটে গেল সারাটা জীবন। এই বুড়ো বয়সে আবার ভোটার লিস্ট থেকে নামটাই কেটে দিল! নাম তোলার জন্য আজ এখানে কাল সেখানে ঘুরছে দিনের পর দিন।" -- গভীর আক্ষেপ ও বেদনার সাথে কথাগুলো বলছিলেন শান্ত-শুষ্ক বিষণ্ণবদনা কৃষ্ণা নস্কর। হ্যাঁ, বাবা আদর করে এই নামই রেখেছিলেন। কৃষ্ণা নস্করের জন্ম বারুইপুর থানার একটি অজ পাড়াগাঁয়ে। বিয়েও হয়েছিল নিকটবর্তী একটি গ্রামে। তিন ছেলের জন্ম দেওয়ার পর ঘরের অভাব সহ্য করতে না পেরে পথে নামলেন কৃষ্ণা ও হরি নস্কর।
সে এক ধূসর স্মৃতি। প্রায় ৩৫/৩৬ বছর আগের কথা। তারপর থেকে শুরু হল এক অসম লড়াই। ছেলে-মেয়েকে কোলে-কাঁখে করে বেরিয়ে পড়েন ভাগ্যান্বেষণে। অকূলপাথারে ভাসতে ভাসতে হরি কৃষ্ণার জীবনতরী নোঙর করে গড়িয়ার কাছে। সেখানেই তাঁর বর্তমান ঠিকানা। আরো অনেকের মতো তিনিও গায়েগতরে খেটে খাস জমিতে কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নির্মাণ করেন। যদিও জমির পাট্টা আজও পাননি! ষাট ছুঁই ছুঁই নারী আক্ষরিক অর্থেই সাত বাড়িতে কাজ করে পেট চালান। বাসন ধোয়া, ঘর মোছা, কাপড়চোপড় কাচা অর্থাৎ পরিচারিকার কাজ। এই কাজ করেই তিন ছেলেকে পড়িয়েছেন ক্লাস সেভেন এইট পর্যন্ত। একটু সেয়ানা হতেই তারা সব বিয়ে সাদী করে ঘর বেঁধে নিয়েছে। ছেলে মেয়ে নাতি পুতিতে ঘর ভরে রেখে চোলাই এ পেট ভরিয়ে ড্যাঙড্যাঙ করে ওপারের পথে পাড়ি দিয়েছেন হরি নস্কর। কৃষ্ণা এখনও পাঁচ বাড়ি ঘুরে ঘুরে ঠিকে কাজ করে।
কৃষ্ণার বাবা মারা গিয়েছেন বহুদিন আগে। মাও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নিজের এবং মায়ের নাম আছে। তার আরও তিন বোন, এক ভাই। এবারের এসআইআর তালিকায় মায়ের, ভাইয়ের এবং দুই বোনের নাম আছে। নাম আছে নিজের ছেলে-মেয়ে এবং বৌমারও। তাঁর নিজের নামও ছিল। তাঁকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। তিনি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, খাদ্য সুরক্ষা কার্ড, পৌরসভার দেওয়া স্থায়ী বসবাসের সার্টিফিকেট ইত্যাদি সবকিছু দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে তার নামটি কেটে দেওয়া হয়েছে! কেন কাটা হল -- এই অপার জিজ্ঞাসা ও অতলান্ত বেদনা তাঁর বিস্মিত চোখেমুখে।
তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে আরো অনেকেরই নাম কাটা গেছে। কেউ কেউ নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন, অনেকে এখনো আবেদনই করেননি! বোঝা গেল, নাম কাটা যাওয়ার কত দিনের মধ্যে আবেদন করার নিয়ম-নীতি তার সম্পর্কেই সবাই অবহিত নন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করার কারণে কত মানুষ যে বেনাগরিক হয়ে যাবেন তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।আজ স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম নির্বাচন এবং স্বাধীনতার ৮ দশক পর এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার তুলনা করতে গেলে যা দেখতে পাই তা সত্যি সত্যিই দুঃখজনক।
****************************
বাঙালি জাতির একটি অভিশাপ আছে। যখনই পায়ের তলায় একটুখানি শক্ত মাটির খোঁজে জোর করে দাঁড়াতে শিখেছে। তখনই পায়ের তলার মাটিটা গিয়েছে টলে। সেই শত বছরেরও আগের সময়কালে ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে গেল ব্রিটিশ রাজ ... বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে দুই বাঙালির এপার ওপার যাতায়াতের পথ বেঁধে দিয়েছিল বন্ধনহীন গ্রন্থী ... আরো পরে স্বাধীনতার রক্ত ভেজা পথে দেশ ঘর গা সব ছেড়ে নিজে ভূম ছেড়ে পরবাসী হয়ে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা বারবারই বাঙ্গালীকে ভেঙেচুরের তছনছ করে দিয়েছে তবুও বাঙ্গালী নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছে তুলসী তলা অথবা নামাজ পড়ার এক টুকরো ছোট্ট জায়গা। আসলে বাঙ্গালীদের এই যে আবেগ এই ভালোবাসা বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা লড়াই এর মধ্যে নিজেকে এবং নিজের লোকেদের নিয়ে পথ চলা এটা কে বরাবরই বুঝতে ভুল করেছে ভারতবর্ষের শাসক... শাসকের যদিও কোন চরিত্র হয় না বিদেশি স্বদেশী বলে কিছু হয় না শাসক শাসকই হয়... সেই শাসকের কোপে বারবার বাঙালি নিজের ঘর হারিয়েছে নিজের সন্তান পরিজন ভালবাসার মানুষ প্রিয় গাছ-গাছালি পাক পাখালি সবকিছুর থেকে। অনেকটা দূরে সরে গেছে কিন্তু এই পদ্ধতিতে দমিয়ে রাখা যায়নি। হেরে যেতে যেতে ও হারিয়ে যায়নি পথ চলেছে মশাল জ্বালিয়ে অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত হয়েছে তার নিজস্বতার আলো ...সেই আলোতেই পথ চলেছে মানুষ... আর এই জায়গাটাই শাসকের কাছে চক্ষুশূল হয়েছে... ফলত সেকালের বৃটিশ থেকে একালের বৃটিশদের দালালরা বারবারই প্রতিবাদী প্রতিরোধী নাগরিকদের ওপরে অসম আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। ইদানিং কালে বাঙালির ওপর সেই অসম আক্রমণের তীক্ষ্ণতা বোঝাতে আরো কিছু নতুন শব্দ যুক্ত হয়েছে। ঘুষপেটিয়া/ রোহিঙ্গা!
কৃষ্ণা নস্করও ঘুষপেটিয়া/রোহিঙ্গা!
"হতভাগিনী, জনমদুখিনী গো কৃষ্ণা দি আমাদের! দুখে দুখেই কেটে গেল সারাটা জীবন। এই বুড়ো বয়সে আবার ভোটার লিস্ট থেকে নামটাই কেটে দিল! নাম তোলার জন্য আজ এখানে কাল সেখানে ঘুরছে দিনের পর দিন।" -- গভীর আক্ষেপ ও বেদনার সাথে কথাগুলো বলছিলেন শান্ত-শুষ্ক বিষণ্ণবদনা কৃষ্ণা নস্কর। হ্যাঁ, বাবা আদর করে এই নামই রেখেছিলেন। কৃষ্ণা নস্করের জন্ম বারুইপুর থানার একটি অজ পাড়াগাঁয়ে। বিয়েও হয়েছিল নিকটবর্তী একটি গ্রামে। তিন ছেলের জন্ম দেওয়ার পর ঘরের অভাব সহ্য করতে না পেরে পথে নামলেন কৃষ্ণা ও হরি নস্কর।
সে এক ধূসর স্মৃতি। প্রায় ৩৫/৩৬ বছর আগের কথা। তারপর থেকে শুরু হল এক অসম লড়াই। ছেলে-মেয়েকে কোলে-কাঁখে করে বেরিয়ে পড়েন ভাগ্যান্বেষণে। অকূলপাথারে ভাসতে ভাসতে হরি কৃষ্ণার জীবনতরী নোঙর করে গড়িয়ার কাছে। সেখানেই তাঁর বর্তমান ঠিকানা। আরো অনেকের মতো তিনিও গায়েগতরে খেটে খাস জমিতে কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নির্মাণ করেন। যদিও জমির পাট্টা আজও পাননি! ষাট ছুঁই ছুঁই নারী আক্ষরিক অর্থেই সাত বাড়িতে কাজ করে পেট চালান। বাসন ধোয়া, ঘর মোছা, কাপড়চোপড় কাচা অর্থাৎ পরিচারিকার কাজ। এই কাজ করেই তিন ছেলেকে পড়িয়েছেন ক্লাস সেভেন এইট পর্যন্ত। একটু সেয়ানা হতেই তারা সব বিয়ে সাদী করে ঘর বেঁধে নিয়েছে। ছেলে মেয়ে নাতি পুতিতে ঘর ভরে রেখে চোলাই এ পেট ভরিয়ে ড্যাঙড্যাঙ করে ওপারের পথে পাড়ি দিয়েছেন হরি নস্কর। কৃষ্ণা এখনও পাঁচ বাড়ি ঘুরে ঘুরে ঠিকে কাজ করে।
কৃষ্ণার বাবা মারা গিয়েছেন বহুদিন আগে। মাও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নিজের এবং মায়ের নাম আছে। তার আরও তিন বোন, এক ভাই। এবারের এসআইআর তালিকায় মায়ের, ভাইয়ের এবং দুই বোনের নাম আছে। নাম আছে নিজের ছেলে-মেয়ে এবং বৌমারও। তাঁর নিজের নামও ছিল। তাঁকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। তিনি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, খাদ্য সুরক্ষা কার্ড, পৌরসভার দেওয়া স্থায়ী বসবাসের সার্টিফিকেট ইত্যাদি সবকিছু দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে তার নামটি কেটে দেওয়া হয়েছে! কেন কাটা হল -- এই অপার জিজ্ঞাসা ও অতলান্ত বেদনা তাঁর বিস্মিত চোখেমুখে।
তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে আরো অনেকেরই নাম কাটা গেছে। কেউ কেউ নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন, অনেকে এখনো আবেদনই করেননি! বোঝা গেল, নাম কাটা যাওয়ার কত দিনের মধ্যে আবেদন করার নিয়ম-নীতি তার সম্পর্কেই সবাই অবহিত নন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করার কারণে কত মানুষ যে বেনাগরিক হয়ে যাবেন তা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।আজ স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম নির্বাচন এবং স্বাধীনতার ৮ দশক পর এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার তুলনা করতে গেলে যা দেখতে পাই তা সত্যি সত্যিই দুঃখজনক।
****************************
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক কমরেড
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক কমরেড
বিপ্লবের শায়িত দেহের উপর দিয়ে
আমরা হেঁটে যাই
আমরা হেঁটে যাই অন্ধকার থেকে
গাঢ়তর অন্ধকারের দিকে
আমাদের দুপাশে পড়ে থাকে
ধ্বংস হয়ে যাওয়া
স্তুপীকৃত ইস্কুল হাসপাতাল
নষ্ট হয়ে যাওয়া মায়েরা
সন্তানের রক্ত মেখে
নিজের আখের গোছানোর আগে
দুফোঁটা চোখের জল মেশানো আবেগ
আর একরাশ ঘৃণা নিয়ে
পথ হেঁটে যাই অন্ধকার থেকে
আরও অন্ধকারের দিকে
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক কমরেড...
****************************
বিপ্লবের শায়িত দেহের উপর দিয়ে
আমরা হেঁটে যাই
আমরা হেঁটে যাই অন্ধকার থেকে
গাঢ়তর অন্ধকারের দিকে
আমাদের দুপাশে পড়ে থাকে
ধ্বংস হয়ে যাওয়া
স্তুপীকৃত ইস্কুল হাসপাতাল
নষ্ট হয়ে যাওয়া মায়েরা
সন্তানের রক্ত মেখে
নিজের আখের গোছানোর আগে
দুফোঁটা চোখের জল মেশানো আবেগ
আর একরাশ ঘৃণা নিয়ে
পথ হেঁটে যাই অন্ধকার থেকে
আরও অন্ধকারের দিকে
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক কমরেড...
****************************
ভাষাহীন এক একুশে সকালে...
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
ফিবছর একুশ এলেই লাল রঙের জরিপাড়ে
সাদা জমিনের ঢাকাই শাড়িতে সাজিয়ে গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি
হাতে রজনীগন্ধার গোড়ে মালা কপালে চন্দনের ফোঁটা
চোখে কাজলের সরু রেখা ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক
খোঁপাতেও ফুল থাকে এটাতেই ট্রেন্ড কামাল হয়ে যায়
মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে পথে পা রাখতেই যখন চোখে পড়ে যায় যৌনকর্মীদের বাচ্চা মেয়েগুলো অত সকালে উঠে গিয়েই সস্তার প্রসাধন মেখে নানান অঙ্গভঙ্গি করে খদ্দের ধরার তাল করছে ভাষাহীন হয়ে যাই...
এক বৃদ্ধা মাকে যখন দেখি পরনের পোশাকের বান্ডিল নিয়ে ফুটপাতের থেকে একটু দূরে বসে বেচাকেনা করছে সন্তানের অপত্য স্নেহ অথবা স্বামীর ভালোবাসা আরও একবার ভাষাহীন হয়ে যাই ...
ঝাণ্ডার রং বদলাতে গিয়ে নবীন রাজনীতিকদের যখন দেখি অর্থের লোলুপ আকাঙ্খার সঙ্গে কি দারুণ মানিয়ে নিয়ে পথ চলার ব্যবস্থা করে নিচ্ছেন বেবাক চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি ভাষাহীনতার অন্ধকারে...
ক্ষয় চিহ্নিত সমাজ যখন মুখের ওপর থাপ্পড় মেরে যৌবনের অজুহাত দিতে দিতে শহীদদের মুর্তি ভাঙা থেকে আরও নানা অপমানে মত্ত হয়ে যায়
তখন ঠিক তখনই প্রচণ্ড আবেগে কান্নায় ব্যর্থতার যন্ত্রণায় ভাষাহীন হয়ে যাই...
তবুও একুশ আসে...
লাল পাড় শাড়িতে আল্পনায় কবিতায় গানে ভালবাসায় নেশায় মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে গেয়ে উঠি 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...'ভাষা উদ্যানের পলাশ গাছটার দুচারটে ফুল ঝরে পড়ে বেদিটার সমগ্র অপরিচ্ছন্নতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ...
জনপ্রিয় একটি সংবাদপত্র ভেতরের দিকে দুপাতা জুড়ে ছবি টবি দিয়ে খবর করে দেয়
এবছর ভাষাশহীদদের স্মরণে কেউ ফুল মালা দেয়নি। নিন্দুকরা বলল খবরের কাগজে পাতা ভরানোর জন্য খবর পায়নি বেচারারা...কি আর করবে...
****************************
সাদা জমিনের ঢাকাই শাড়িতে সাজিয়ে গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি
হাতে রজনীগন্ধার গোড়ে মালা কপালে চন্দনের ফোঁটা
চোখে কাজলের সরু রেখা ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক
খোঁপাতেও ফুল থাকে এটাতেই ট্রেন্ড কামাল হয়ে যায়
মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে পথে পা রাখতেই যখন চোখে পড়ে যায় যৌনকর্মীদের বাচ্চা মেয়েগুলো অত সকালে উঠে গিয়েই সস্তার প্রসাধন মেখে নানান অঙ্গভঙ্গি করে খদ্দের ধরার তাল করছে ভাষাহীন হয়ে যাই...
এক বৃদ্ধা মাকে যখন দেখি পরনের পোশাকের বান্ডিল নিয়ে ফুটপাতের থেকে একটু দূরে বসে বেচাকেনা করছে সন্তানের অপত্য স্নেহ অথবা স্বামীর ভালোবাসা আরও একবার ভাষাহীন হয়ে যাই ...
ঝাণ্ডার রং বদলাতে গিয়ে নবীন রাজনীতিকদের যখন দেখি অর্থের লোলুপ আকাঙ্খার সঙ্গে কি দারুণ মানিয়ে নিয়ে পথ চলার ব্যবস্থা করে নিচ্ছেন বেবাক চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি ভাষাহীনতার অন্ধকারে...
ক্ষয় চিহ্নিত সমাজ যখন মুখের ওপর থাপ্পড় মেরে যৌবনের অজুহাত দিতে দিতে শহীদদের মুর্তি ভাঙা থেকে আরও নানা অপমানে মত্ত হয়ে যায়
তখন ঠিক তখনই প্রচণ্ড আবেগে কান্নায় ব্যর্থতার যন্ত্রণায় ভাষাহীন হয়ে যাই...
তবুও একুশ আসে...
লাল পাড় শাড়িতে আল্পনায় কবিতায় গানে ভালবাসায় নেশায় মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে গেয়ে উঠি 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...'ভাষা উদ্যানের পলাশ গাছটার দুচারটে ফুল ঝরে পড়ে বেদিটার সমগ্র অপরিচ্ছন্নতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ...
জনপ্রিয় একটি সংবাদপত্র ভেতরের দিকে দুপাতা জুড়ে ছবি টবি দিয়ে খবর করে দেয়
এবছর ভাষাশহীদদের স্মরণে কেউ ফুল মালা দেয়নি। নিন্দুকরা বলল খবরের কাগজে পাতা ভরানোর জন্য খবর পায়নি বেচারারা...কি আর করবে...
****************************
এবং প্রজাতন্ত্র
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
প্রজাতন্ত্র না সাধারণতন্ত্র
প্রজা নাকি সাধারণ মানুষ
এই নিয়ে বিতর্কটা
ছোট থেকেই গুবলেট হয়ে যেত ।
প্রজা শব্দটার মধ্যে কেমন একটা
রাজা রাজা গন্ধ আছে
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ
এত বেশি ভাবতে শেখেনি।
আবার ঠিক এই দিনেই এক প্রান্তিক প্রজা
তার কাগজ দেখানোর জন্য
একটা গোটা ট্রাঙ্ক মাথায় করে
নিয়ে এল রাজার কাছে।
রাজা বলেছে কাগজ আনো
অক্ষরজ্ঞানহীন প্রজা,
ঘরের সব কাগজ বাক্সবন্দী করে
রাজার দফতরে হাজির
রাজার পেয়াদা বেজায় খুশি
এমন প্রজা মেলে কম।
পেয়াদারা বাক্স খুলল
ভেতরে একটা চটের থলে
প্রজা বলল বাপটা
চটকলে কাজ করতে গিয়ে পেয়েছিল
থলে খুলতে বেরিয়ে এল
গোলাপফুল আঁকা টিনের শুটকেস
প্রজা লাজুক হেসে বলল
বিয়ের সময় কিনেছিলাম
ভিতরে একটা কার্ডবোর্ডের বাক্স
প্রজা গর্ব করে জানাল
প্রথম সন্তানের পোশাক এনেছিলাম
ওই বাক্স করে
তার ভেতরে আরো একটি বাক্স
ওর ভেতরে আরো একটি ...
দিনভর পেয়াদা বাক্স খুলেই গেল।
ঘাম টস টস করে ঝরতে শুরু করেছে
বড় পেয়াদা রেগে মেগে বললো ---
এসব কি এনেছো?
কিন্তু কোথায় কি ?
পেয়াদার দল হুড়োহুড়ি করে
একটার পর একটা একটার পর একটা
বাক্স খুলতে খুলতে খুলতে
শেষমেষ খুঁজে পেল
একখানা কাগজের টুকরো
সুন্দর ঝকঝরে হাতের লেখায়,
পুরো কাগজ জুড়ে লেখা
ভারতবর্ষ শব্দটি জ্বলজ্বল করছিল।
প্রজাটি উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে বলল
আমার সন্তানের লেখা প্রথম শব্দ।
পেয়াদা রেগে মেগে অস্থির হয়ে উঠল
আর প্রজাটি তখন
অনেক দূরে মাঠে গিয়ে হাল চষে
দেশের সাধারণ মানুষের জন্য
খাবার তৈরি করতে শুরু করল
অথবা খেটে খাওয়া প্রজাটি তখন
কারখানায় গিয়ে পোশাক
তৈরি করতে শুরু করল
নগ্ন রাজাকে পরাবে বলে।
****************************
প্রজা নাকি সাধারণ মানুষ
এই নিয়ে বিতর্কটা
ছোট থেকেই গুবলেট হয়ে যেত ।
প্রজা শব্দটার মধ্যে কেমন একটা
রাজা রাজা গন্ধ আছে
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ
এত বেশি ভাবতে শেখেনি।
আবার ঠিক এই দিনেই এক প্রান্তিক প্রজা
তার কাগজ দেখানোর জন্য
একটা গোটা ট্রাঙ্ক মাথায় করে
নিয়ে এল রাজার কাছে।
রাজা বলেছে কাগজ আনো
অক্ষরজ্ঞানহীন প্রজা,
ঘরের সব কাগজ বাক্সবন্দী করে
রাজার দফতরে হাজির
রাজার পেয়াদা বেজায় খুশি
এমন প্রজা মেলে কম।
পেয়াদারা বাক্স খুলল
ভেতরে একটা চটের থলে
প্রজা বলল বাপটা
চটকলে কাজ করতে গিয়ে পেয়েছিল
থলে খুলতে বেরিয়ে এল
গোলাপফুল আঁকা টিনের শুটকেস
প্রজা লাজুক হেসে বলল
বিয়ের সময় কিনেছিলাম
ভিতরে একটা কার্ডবোর্ডের বাক্স
প্রজা গর্ব করে জানাল
প্রথম সন্তানের পোশাক এনেছিলাম
ওই বাক্স করে
তার ভেতরে আরো একটি বাক্স
ওর ভেতরে আরো একটি ...
দিনভর পেয়াদা বাক্স খুলেই গেল।
ঘাম টস টস করে ঝরতে শুরু করেছে
বড় পেয়াদা রেগে মেগে বললো ---
এসব কি এনেছো?
কিন্তু কোথায় কি ?
পেয়াদার দল হুড়োহুড়ি করে
একটার পর একটা একটার পর একটা
বাক্স খুলতে খুলতে খুলতে
শেষমেষ খুঁজে পেল
একখানা কাগজের টুকরো
সুন্দর ঝকঝরে হাতের লেখায়,
পুরো কাগজ জুড়ে লেখা
ভারতবর্ষ শব্দটি জ্বলজ্বল করছিল।
প্রজাটি উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে বলল
আমার সন্তানের লেখা প্রথম শব্দ।
পেয়াদা রেগে মেগে অস্থির হয়ে উঠল
আর প্রজাটি তখন
অনেক দূরে মাঠে গিয়ে হাল চষে
দেশের সাধারণ মানুষের জন্য
খাবার তৈরি করতে শুরু করল
অথবা খেটে খাওয়া প্রজাটি তখন
কারখানায় গিয়ে পোশাক
তৈরি করতে শুরু করল
নগ্ন রাজাকে পরাবে বলে।
****************************
প্রয়াণ দিনের লেলিন এবং
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
আর শাসক ঠিক তার আগের দিনের রাতে
লেনিনের বোনের ঘর আটকে রেখেছিল।
বোনটা চিৎকার করছিল
আমাকে বেরোতে দাও
আমার সাথীরা স্বাস্থ্য ভবন যাবে
আমিও যাব ওদের সাথে
শাসক শাসকের দালাল শক্ত হাতে
লেনিনের বোনের গলা আটকে ধরেছিল
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
লেনিনের আরো অনেকগুলো বোনকে
ট্রেন থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাচ্ছিল শাসকের দালাল
তাদের পথে ফেলে দিয়েছিল কাঁটার টুকরো
ভাঙ্গার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল
লেনিনের বোনেদের ঢুকতে দেবে না বলে
তাড়া করছিল শাসকের দালাল
শহরের প্রাচীর ভেদ করে লেনিন তখন
মিটি মিটি হাসছিল ধর্মতলার ট্রাম গুমটিতে দাঁড়িয়ে
দিনটা একটু একটু করে গড়িয়ে যাচ্ছিল
লেলিনের বোনদের রক্তে জ্বলছিল আগুন
পথ ছাড়েনি শাসকের বোন
রংচং মেখে লেনিনের বোনের পাশে এসে
দাঁড়িয়ে বলল ভাই তোমার কি দরকার আমায় বলো
আমি তোমার পাশে আছি
লেলিনের বোনদের জেদ ক্ষোভ কান্না
গর্জন হয়ে বেরিয়ে এল
আর ঠিক এই সময়েই
লেনিন তার লাল টুকটুকে পোশাকটা
খুলে ছুঁড়ে দিল বোনেদের দিকে
বোনেদের রাগ জেদ কান্না ক্ষোভ
সব মিশে গেল টুকটুকে লাল রঙের সঙ্গে
শহরটা বেগুনি রংয়ে মেতে উঠল একটু একটু করে...
****************************
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
আর শাসক ঠিক তার আগের দিনের রাতে
লেনিনের বোনের ঘর আটকে রেখেছিল।
বোনটা চিৎকার করছিল
আমাকে বেরোতে দাও
আমার সাথীরা স্বাস্থ্য ভবন যাবে
আমিও যাব ওদের সাথে
শাসক শাসকের দালাল শক্ত হাতে
লেনিনের বোনের গলা আটকে ধরেছিল
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
দিনটা ছিল একুশে জানুয়ারি
লেনিনের আরো অনেকগুলো বোনকে
ট্রেন থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাচ্ছিল শাসকের দালাল
তাদের পথে ফেলে দিয়েছিল কাঁটার টুকরো
ভাঙ্গার জন্য সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল
লেনিনের বোনেদের ঢুকতে দেবে না বলে
তাড়া করছিল শাসকের দালাল
শহরের প্রাচীর ভেদ করে লেনিন তখন
মিটি মিটি হাসছিল ধর্মতলার ট্রাম গুমটিতে দাঁড়িয়ে
দিনটা একটু একটু করে গড়িয়ে যাচ্ছিল
লেলিনের বোনদের রক্তে জ্বলছিল আগুন
পথ ছাড়েনি শাসকের বোন
রংচং মেখে লেনিনের বোনের পাশে এসে
দাঁড়িয়ে বলল ভাই তোমার কি দরকার আমায় বলো
আমি তোমার পাশে আছি
লেলিনের বোনদের জেদ ক্ষোভ কান্না
গর্জন হয়ে বেরিয়ে এল
আর ঠিক এই সময়েই
লেনিন তার লাল টুকটুকে পোশাকটা
খুলে ছুঁড়ে দিল বোনেদের দিকে
বোনেদের রাগ জেদ কান্না ক্ষোভ
সব মিশে গেল টুকটুকে লাল রঙের সঙ্গে
শহরটা বেগুনি রংয়ে মেতে উঠল একটু একটু করে...
****************************
লড়াই
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আসলে আমাদের সব লড়াই
জমির কেন্দ্রস্থল থেকে উঠে আসে
জমির লড়াই ভাতের লড়াইয়ে বদলে যায়
ভাতের লড়াই ধর্মে ধর্মে
যুদ্ধের লড়াইয়ে পরিণত হয়।
অথবা ধর্মযুদ্ধ থেকে মারণ উন্মাদনা অথবা ...
আসলে আমরা সবাই এক একটা
উন্মাদনার বোড়ে হয়ে গেছি।
মানুষ কাগজ খুঁজছে সারাদিন।
জুলু জুলু চোখে ফর্মের দিকে তাকিয়ে
অবুঝ মানুষ বুঝতে চাইছে কেন কেন কেন ?
যে মেয়ে কিশোরী বয়সে
"বখাটে" ছেলের সঙ্গে প্রেম করেছে বলে
বাপ- মা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে
সে কার প্রমাণ দেবে? কোন সম্পর্কের প্রমাণ?
মানুষ জানতে চাইছে আমি কি তাহলে বাদ??
সেই কবে থেকে মানুষ কাগজ দেখিয়েই আসছে। ভবিষ্যৎ পিছনের দিকে এগোচ্ছে...!
সারা জীবন ধরে যারা এ দেশের মাটিতে বীজ রুইলো, এ দেশের ইমারত গড়লো, যারা "দ্যাশ" এর বদলে "দেশ" বলতে শিখল, যারা ছেলে মেয়েদের খাতায় "আমার দেশ আমার গর্ব" লেখালো, তারা সবাই এখন প্রশ্নের সামনে ঝুলে আছে...
মোহনবাবু যে কদিন বেঁচে ছিলেন সেই কদিন ভাবতেন পূর্ব বাংলায় ফেরত যাবেন, ও দ্যাশের জল হাওয়ার সাথে তার বাপ মা জড়িয়ে আছে যে। ওই যে কলের ধার যেখানে ভুল করে কাঁচা সিমেন্টে পা দেওয়ায় মায়ের পায়ের ছাপ খোদাই হয়ে গেছিল ...
লালগড়, লেনিনগড়, অশোকনগর, রাজারহাট, কেষ্টপুর, আজাদগড়,বিজয়গড় - কত কত নাম! কলোনির পর কলোনিতে তিন চার প্রজন্ম ধরে মানুষ রইলো। আর এখন প্রমাণ করতে হবে তারা এ দেশের নাগরিক!!
জুলু জুলু চোখে লাইন দেয় সবাই!!
সেই স্বাধীনতা থেকে লাইন দেয় তারা...
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম... লাইনই দিয়ে চলেছে।
খাবার জন্য, বাসার জন্য, বাঁচার জন্য!!
আসলে আমরা সবাই এক লড়াইয়ে বেঁচে আছি
****************************
জমির কেন্দ্রস্থল থেকে উঠে আসে
জমির লড়াই ভাতের লড়াইয়ে বদলে যায়
ভাতের লড়াই ধর্মে ধর্মে
যুদ্ধের লড়াইয়ে পরিণত হয়।
অথবা ধর্মযুদ্ধ থেকে মারণ উন্মাদনা অথবা ...
আসলে আমরা সবাই এক একটা
উন্মাদনার বোড়ে হয়ে গেছি।
মানুষ কাগজ খুঁজছে সারাদিন।
জুলু জুলু চোখে ফর্মের দিকে তাকিয়ে
অবুঝ মানুষ বুঝতে চাইছে কেন কেন কেন ?
যে মেয়ে কিশোরী বয়সে
"বখাটে" ছেলের সঙ্গে প্রেম করেছে বলে
বাপ- মা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে
সে কার প্রমাণ দেবে? কোন সম্পর্কের প্রমাণ?
মানুষ জানতে চাইছে আমি কি তাহলে বাদ??
সেই কবে থেকে মানুষ কাগজ দেখিয়েই আসছে। ভবিষ্যৎ পিছনের দিকে এগোচ্ছে...!
সারা জীবন ধরে যারা এ দেশের মাটিতে বীজ রুইলো, এ দেশের ইমারত গড়লো, যারা "দ্যাশ" এর বদলে "দেশ" বলতে শিখল, যারা ছেলে মেয়েদের খাতায় "আমার দেশ আমার গর্ব" লেখালো, তারা সবাই এখন প্রশ্নের সামনে ঝুলে আছে...
মোহনবাবু যে কদিন বেঁচে ছিলেন সেই কদিন ভাবতেন পূর্ব বাংলায় ফেরত যাবেন, ও দ্যাশের জল হাওয়ার সাথে তার বাপ মা জড়িয়ে আছে যে। ওই যে কলের ধার যেখানে ভুল করে কাঁচা সিমেন্টে পা দেওয়ায় মায়ের পায়ের ছাপ খোদাই হয়ে গেছিল ...
লালগড়, লেনিনগড়, অশোকনগর, রাজারহাট, কেষ্টপুর, আজাদগড়,বিজয়গড় - কত কত নাম! কলোনির পর কলোনিতে তিন চার প্রজন্ম ধরে মানুষ রইলো। আর এখন প্রমাণ করতে হবে তারা এ দেশের নাগরিক!!
জুলু জুলু চোখে লাইন দেয় সবাই!!
সেই স্বাধীনতা থেকে লাইন দেয় তারা...
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম... লাইনই দিয়ে চলেছে।
খাবার জন্য, বাসার জন্য, বাঁচার জন্য!!
আসলে আমরা সবাই এক লড়াইয়ে বেঁচে আছি
****************************
ভাঙ্গন
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আমরা আর মেয়েটির কথা বলি না
আমরা আর সেমিনার রুমের কথা বলি না
আমরা আর কখনোই
মেয়েদের উপর ঘটে যাওয়া
নির্যাতনের কথাও বলি না
শুধু বলে যাই তোমার আমার
গভীর গহন প্রেমের কথা
প্রেমের কথা বলি অথচ
আমরা আর কখনোই
পরস্পরের দিকে চোখ তুলে তাকাই না
হাসিনা নিজেদের মধ্যে বাক্যালাপ ও করি না
কারণ আমাদের সব কথা
সেদিনই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল
যেদিন আমরা মেয়ে টির লাশ দেখতে পেয়েছিলাম
অথবা লাশ দেখতে পাওয়ার আগেই সেই লাশ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
আমরা সেই দিন থেকে ভাঙ্গনের কারিগর হয়ে গেছি অথবা পুরনো সমাজ ভেঙে এক নতুন সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে পরস্পরের হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলেছি অন্ধকার মুক্ত এক জীবনের খোঁজে
****************************
আমরা আর সেমিনার রুমের কথা বলি না
আমরা আর কখনোই
মেয়েদের উপর ঘটে যাওয়া
নির্যাতনের কথাও বলি না
শুধু বলে যাই তোমার আমার
গভীর গহন প্রেমের কথা
প্রেমের কথা বলি অথচ
আমরা আর কখনোই
পরস্পরের দিকে চোখ তুলে তাকাই না
হাসিনা নিজেদের মধ্যে বাক্যালাপ ও করি না
কারণ আমাদের সব কথা
সেদিনই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল
যেদিন আমরা মেয়ে টির লাশ দেখতে পেয়েছিলাম
অথবা লাশ দেখতে পাওয়ার আগেই সেই লাশ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
আমরা সেই দিন থেকে ভাঙ্গনের কারিগর হয়ে গেছি অথবা পুরনো সমাজ ভেঙে এক নতুন সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে পরস্পরের হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলেছি অন্ধকার মুক্ত এক জীবনের খোঁজে
****************************
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কবিতা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আসুন কামরেড আজ আমরা
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কথা বলাবলি করি
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা শব্দটা শুনতে
বেশ গেরাম ভারী লাগে।
আমাদের গম্ভীর গম্ভীর মুখের সঙ্গে
মানিয়েও যায় ভালো
আর সঙ্গে সাদা পায়রা কাঁটাতার
এগুলো ঠিকঠাক ভাবে মিক্স আন্ড ম্যাচ
করে দিতে পারলে তো
খাপে খাপ পচার বাপ হয়ে যাবে ...
না কমরেড আমরা পচার বাপদের নিয়ে
খুব একটা কথা বলাবলি করি না
পচার বাপ পচাই খায়
পচাই খেয়ে দু দিন অন্তর
হাসপাতালে পেট উল্টিয়ে পড়ে থাকে
আমরা পচার বাপদের নিয়ে
কথা বলাবলি করলে
আমাদের প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়
সত্যি কথা বলতে পচার বাপদের
আমরা মিটিংয়ে মিছিলে ডেকে আনি
ওদের জন্য প্রচুর তোষক বালিশ ভাড়া করে
পার্টি অফিসের মেঝেতে ঘুমোতেও দিই
না নেতাদের জন্য বরাদ্দ খাট ওদের জন্য নয়।
পচার বাপ পচার মা তাদের ন্যাংটো ছোট ভাইটাকে
নিয়ে মিছিলের দিন সন্ধ্যেবেলা
কালীঘাটে ফুল চড়াতে যায়।
পিলে রোগী পচা যাতে সহজে সেরে ওঠে।
পরেরবার সাম্রাজ্যবাদীরাও তাদের মিছিলে
ওদের ভাড়া করে আনে ।
সাম্রাজ্যবাদীরা ওদের ভাড়ার রেট বেঁধে দিয়েছে
আমরা সেই রেট ধরে ওদের ভাড়া করি।
আর পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা আগ্রাসী বাণিজ্যের
ক্রীতদাস হয়ে ঘরে ঘরে বেড়ে ওঠে
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম
আমরা এসব ফিরেও দেখি না
আমাদের মিছিল লম্বা হয়
অনেক অনেক অনেক লম্বা
পিছনে পড়ে থাকে পচার বাপ
পচার মা পচার ন্যাঙটো ভাইটা এবং পিলেরোগী পচা।
****************************
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কথা বলাবলি করি
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা শব্দটা শুনতে
বেশ গেরাম ভারী লাগে।
আমাদের গম্ভীর গম্ভীর মুখের সঙ্গে
মানিয়েও যায় ভালো
আর সঙ্গে সাদা পায়রা কাঁটাতার
এগুলো ঠিকঠাক ভাবে মিক্স আন্ড ম্যাচ
করে দিতে পারলে তো
খাপে খাপ পচার বাপ হয়ে যাবে ...
না কমরেড আমরা পচার বাপদের নিয়ে
খুব একটা কথা বলাবলি করি না
পচার বাপ পচাই খায়
পচাই খেয়ে দু দিন অন্তর
হাসপাতালে পেট উল্টিয়ে পড়ে থাকে
আমরা পচার বাপদের নিয়ে
কথা বলাবলি করলে
আমাদের প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়
সত্যি কথা বলতে পচার বাপদের
আমরা মিটিংয়ে মিছিলে ডেকে আনি
ওদের জন্য প্রচুর তোষক বালিশ ভাড়া করে
পার্টি অফিসের মেঝেতে ঘুমোতেও দিই
না নেতাদের জন্য বরাদ্দ খাট ওদের জন্য নয়।
পচার বাপ পচার মা তাদের ন্যাংটো ছোট ভাইটাকে
নিয়ে মিছিলের দিন সন্ধ্যেবেলা
কালীঘাটে ফুল চড়াতে যায়।
পিলে রোগী পচা যাতে সহজে সেরে ওঠে।
পরেরবার সাম্রাজ্যবাদীরাও তাদের মিছিলে
ওদের ভাড়া করে আনে ।
সাম্রাজ্যবাদীরা ওদের ভাড়ার রেট বেঁধে দিয়েছে
আমরা সেই রেট ধরে ওদের ভাড়া করি।
আর পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা আগ্রাসী বাণিজ্যের
ক্রীতদাস হয়ে ঘরে ঘরে বেড়ে ওঠে
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম
আমরা এসব ফিরেও দেখি না
আমাদের মিছিল লম্বা হয়
অনেক অনেক অনেক লম্বা
পিছনে পড়ে থাকে পচার বাপ
পচার মা পচার ন্যাঙটো ভাইটা এবং পিলেরোগী পচা।
****************************
বাঙালি বিতাড়ন এবং ...
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবিতায় আমি এত বাঙালি বিতাড়ণ ,পরিযায়ী শ্রমিক এসব কথা বলতে চাই না... শুধু আমার ঘরের পাশে যাদবের ছেলেটা যখন বলে তিন পুরুষ ধরে এ শহরে থেকেও আমাদের বাড়িতে কেউ বাংলায় কথা বলে না তখন বুকের মধ্যেটা কেমন যেন কেঁপে ওঠে
ওপাশের ফ্লাটের গুপ্তা আঙ্কেলের ছোট নাতিটা
বাঙ্গালীদের নামে বড্ড গালাগালি দেয়
ওর নিজের ভাষাতেই দেয়
ছোট বলে আমরা ক্ষমা করে দিই।
আসলে আমরা জানি গুপ্তা আঙ্কেলের বিরুদ্ধে
কিছু বলা যাবে না
বললে আমাদের নিজেদের পাড়ায়
আমাদের তিন পুরুষের ভিটে মাটি থেকে
আমাদেরই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে ...
ওইদিকে ওই মাঠের ওপারে
জয়সওয়ালদের চব্বিশ বছরের নব্য যুবকটি যখন
কলার উঁচিয়ে হু হু করে বাইক চালিয়ে
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময়
বিরক্ত করার জন্যই জোরে জোরে হর্ন বাজায়
আমরা ওটাকে যৌবনের ধর্ম বলে মেনে নিই
আসলে আমরা জানি এই মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা আমরা বহুবছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি ...
তবু আমাদের কাজের মাসি কৃষ্ণাদির ছোট নাতিটা
সেদিন যখন আমাদের প্রিয় শহর ছেড়ে বম্বে চলে গেল কাজ খুঁজতে
দুচোখ ভরা জল নিয়ে কৃষ্ণা দি খুব কান্নাকাটি করছিল।
আমরা ওকে বোঝাতে পারিনি আমাদের রাজ্যে কাজ নেই।
আমাদের রাজ্যে শিল্প নেই।
আমাদের রাজ্যে বেকাররা কেবলই ভাতা পায়।
তবে মাত্র দুদিন আগে যখন
বুবলাইয়ের ছোটবেলার বন্ধুটা
বেঙ্গালুরু থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পথে
আটক হয়ে গেল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে
বাংলাদেশী বলে যখন তাকে চালান করার চেষ্টা শুরু করা হলো
তখন আমরা বুঝলাম আমাদের কোন দেশ নেই আমাদের কোন ভূমি নেই
আমাদের কোন ভাষা নেই
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা হেরো মানুষের দল
আমাদের কোনো পরিচয় নেই
আমরা বাঙালি অথবা বাংলাদেশি অথবা অন্য কিছু
তা নিয়ে যখন খুশি রাষ্ট্রনায়করা লোফালুফি খেলতে পারে
আমাদের মতো মানুষদের সারা বিশ্বেই কোনো পরিচয় নেই
আসলে গোটা পথিবীতেই মানুষের দুটো পরিচয়
একদল শাসক আর অন্য দল শোষিত...
শোষিতের অস্তিত্ব রক্ষার নামে
শোষন বারবার ই রঙ বদলায়...
চরিত্র বদলে দেয়... শুধু শাসকের পথ বদলায় না...
****************************
ওপাশের ফ্লাটের গুপ্তা আঙ্কেলের ছোট নাতিটা
বাঙ্গালীদের নামে বড্ড গালাগালি দেয়
ওর নিজের ভাষাতেই দেয়
ছোট বলে আমরা ক্ষমা করে দিই।
আসলে আমরা জানি গুপ্তা আঙ্কেলের বিরুদ্ধে
কিছু বলা যাবে না
বললে আমাদের নিজেদের পাড়ায়
আমাদের তিন পুরুষের ভিটে মাটি থেকে
আমাদেরই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে ...
ওইদিকে ওই মাঠের ওপারে
জয়সওয়ালদের চব্বিশ বছরের নব্য যুবকটি যখন
কলার উঁচিয়ে হু হু করে বাইক চালিয়ে
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময়
বিরক্ত করার জন্যই জোরে জোরে হর্ন বাজায়
আমরা ওটাকে যৌবনের ধর্ম বলে মেনে নিই
আসলে আমরা জানি এই মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা আমরা বহুবছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি ...
তবু আমাদের কাজের মাসি কৃষ্ণাদির ছোট নাতিটা
সেদিন যখন আমাদের প্রিয় শহর ছেড়ে বম্বে চলে গেল কাজ খুঁজতে
দুচোখ ভরা জল নিয়ে কৃষ্ণা দি খুব কান্নাকাটি করছিল।
আমরা ওকে বোঝাতে পারিনি আমাদের রাজ্যে কাজ নেই।
আমাদের রাজ্যে শিল্প নেই।
আমাদের রাজ্যে বেকাররা কেবলই ভাতা পায়।
তবে মাত্র দুদিন আগে যখন
বুবলাইয়ের ছোটবেলার বন্ধুটা
বেঙ্গালুরু থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পথে
আটক হয়ে গেল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে
বাংলাদেশী বলে যখন তাকে চালান করার চেষ্টা শুরু করা হলো
তখন আমরা বুঝলাম আমাদের কোন দেশ নেই আমাদের কোন ভূমি নেই
আমাদের কোন ভাষা নেই
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা হেরো মানুষের দল
আমাদের কোনো পরিচয় নেই
আমরা বাঙালি অথবা বাংলাদেশি অথবা অন্য কিছু
তা নিয়ে যখন খুশি রাষ্ট্রনায়করা লোফালুফি খেলতে পারে
আমাদের মতো মানুষদের সারা বিশ্বেই কোনো পরিচয় নেই
আসলে গোটা পথিবীতেই মানুষের দুটো পরিচয়
একদল শাসক আর অন্য দল শোষিত...
শোষিতের অস্তিত্ব রক্ষার নামে
শোষন বারবার ই রঙ বদলায়...
চরিত্র বদলে দেয়... শুধু শাসকের পথ বদলায় না...
****************************
