কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবিতায় রাজনীতি করিনা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবিতায় রাজনীতি করি না আমি
কবিতা আমার কাছে নিঃশব্দ প্রেমের মত
গোপন চোরাই পথে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করে
রাজনীতির খোলা রাস্তা কবিতার মত
অত সহজ সরল নয়।
তবু কবিতার গোপন পথে
তবু কবিতার গোপন যাতায়াতের পথে
ক্ষুধার্ত শিশুটির কান্নার শব্দ পাই
ভালোবাসা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ে
কবিতা আমার ঘরে এসে বসলে
কবিতার গায়ে আঁশটে গন্ধ পাই
বস্তির ওই শিশু শ্রমিকটার গায়ে
যেমন আঁশটে গন্ধ বেরোয় দিনরাত
কবিতার গায়েও ঠিক তেমনি আঁশটে গন্ধ
কবিতা আমাকে আজকাল
তেমন আর ভালোবাসে না
আমার শরীরে মনে প্রচুর অভিযোগের বাক্যালাপ
তবু কবিতা ঘরে এলে তাকে আসন পেতে বসতে দিই
তার চোখের দিকে চোখ রেখে তাকাই
ঠিক যেমন করে শাসকের চোখে চোখ রেখে
প্রতিবাদে প্রতিরোধে উত্তাল করে ফেলি
রাজপথ থেকে গলি পথ
ঠিক তেমন করেই কবিতার চোখে চোখ রাখি
কবিতা ভেতর থেকে কুঁচকে যায়
কবিতাকে নাস্তা পানি দিই
হ্যাঁ নাস্তা পানি দিই জলখাবার নয়
সংখ্যালঘুর ভাষায় কথা বলি কবিতার সঙ্গে।
কবিতা আমার কথা বুঝতে পারেনা
কবিতা সংখ্যালঘুদের দিকে আঙুল তুলে
তাদের দেশ ছাড়া করার হুমকি দেয়
কবিতাকে আমার ঘর ছাড়তে বলি
কবিতা বল প্রয়োগে আমাকে অধিকার করতে চায়
কিন্তু একটা সময় তার অনধিকারের ফাক দিয়ে
আমি বেরিয়ে পড়ি খোলা রাস্তায়
মাঠে প্রান্তরে জনপদে মানুষের মধ্যে
কবিতায় রাজনীতি আমার খুব না পসন্দ...
****************************
কবিতা আমার কাছে নিঃশব্দ প্রেমের মত
গোপন চোরাই পথে মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করে
রাজনীতির খোলা রাস্তা কবিতার মত
অত সহজ সরল নয়।
তবু কবিতার গোপন পথে
তবু কবিতার গোপন যাতায়াতের পথে
ক্ষুধার্ত শিশুটির কান্নার শব্দ পাই
ভালোবাসা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ে
কবিতা আমার ঘরে এসে বসলে
কবিতার গায়ে আঁশটে গন্ধ পাই
বস্তির ওই শিশু শ্রমিকটার গায়ে
যেমন আঁশটে গন্ধ বেরোয় দিনরাত
কবিতার গায়েও ঠিক তেমনি আঁশটে গন্ধ
কবিতা আমাকে আজকাল
তেমন আর ভালোবাসে না
আমার শরীরে মনে প্রচুর অভিযোগের বাক্যালাপ
তবু কবিতা ঘরে এলে তাকে আসন পেতে বসতে দিই
তার চোখের দিকে চোখ রেখে তাকাই
ঠিক যেমন করে শাসকের চোখে চোখ রেখে
প্রতিবাদে প্রতিরোধে উত্তাল করে ফেলি
রাজপথ থেকে গলি পথ
ঠিক তেমন করেই কবিতার চোখে চোখ রাখি
কবিতা ভেতর থেকে কুঁচকে যায়
কবিতাকে নাস্তা পানি দিই
হ্যাঁ নাস্তা পানি দিই জলখাবার নয়
সংখ্যালঘুর ভাষায় কথা বলি কবিতার সঙ্গে।
কবিতা আমার কথা বুঝতে পারেনা
কবিতা সংখ্যালঘুদের দিকে আঙুল তুলে
তাদের দেশ ছাড়া করার হুমকি দেয়
কবিতাকে আমার ঘর ছাড়তে বলি
কবিতা বল প্রয়োগে আমাকে অধিকার করতে চায়
কিন্তু একটা সময় তার অনধিকারের ফাক দিয়ে
আমি বেরিয়ে পড়ি খোলা রাস্তায়
মাঠে প্রান্তরে জনপদে মানুষের মধ্যে
কবিতায় রাজনীতি আমার খুব না পসন্দ...
****************************
উবু দশ বিশ ত্রিশ...
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবার ছবি নিয়ে
সবাই হাসি হাসি মুখে
পোস্ট দিচ্ছে সমাজমাধ্যমে
শুভ বাবা দিবস- পিতৃ দিবসের
শুভেচ্ছা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোর অন্দর ও বাহির ...
বাবা তো মারা গেছে বছর দশেক আগেই
তবুও বাবা আজও অন্দর ও বাহিরে বিরাজ করে।
ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে যায়
সেই খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা আধ বুড়ো বাবা টাকেজজ্ঞঞছ
যে বাবাটা মেয়েটির চুলে উকুন বাছতে বাছতে
গন্ধক তেল লাগিয়ে দুই বিনুনি বেঁধে দিচ্ছে
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা তো হারিয়ে গেছে কত বছর আগে
তবু সেই বাবাটা চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে
যে কিনা সমস্ত বিরুদ্ধবাদীর বিপক্ষে দাঁড়িয়েও
মেয়ের স্বপক্ষে গর্জন করে ওঠে।
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা নেই তাও তো কত বছর হয়ে গেল
তবু বাবারা রয়েই যায় রক্তের প্রচণ্ড টানে
অথবা নিঃশব্দ বিপ্লবে
বাবারা হারায় না
বাবাদের হাত থেকে
মেয়েদের টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা নেই সন্তান আছে -- এমন বাবা তো বহু
তবু সেই বাবাটার চোখের জলে
সমগ্র সমাজ কেঁপে ওঠে
যার বাবা আছে মেয়ে নেই
মেয়েকে ধর্ষণ হত্যা- হত্যা ধর্ষণ- ধর্ষণ হত্যা
পর পর বিপ্লব আর প্রতিবিপ্লবের মতই ঘটে গেছে
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবাদের কাঁদতে নেই
মেয়েদের চোখের জল মুছে দিতে হয়।
আর যদি মেয়ের চোখে রক্তের বন্যা বয়
বাবার চিৎকার সমগ্র মানবজাতির চিৎকার
হয়ে ওঠে আসুন আজ আমরা সেই সব বাবাদের জন্য
চিৎকার করে শুভেচ্ছা জানাই
যে বাবারা তার সন্তানদের হারিয়েছে
সমাজের ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ের ময়দানে...
****************************
বাবার ছবি নিয়ে
সবাই হাসি হাসি মুখে
পোস্ট দিচ্ছে সমাজমাধ্যমে
শুভ বাবা দিবস- পিতৃ দিবসের
শুভেচ্ছা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোর অন্দর ও বাহির ...
বাবা তো মারা গেছে বছর দশেক আগেই
তবুও বাবা আজও অন্দর ও বাহিরে বিরাজ করে।
ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে যায়
সেই খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা আধ বুড়ো বাবা টাকেজজ্ঞঞছ
যে বাবাটা মেয়েটির চুলে উকুন বাছতে বাছতে
গন্ধক তেল লাগিয়ে দুই বিনুনি বেঁধে দিচ্ছে
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা তো হারিয়ে গেছে কত বছর আগে
তবু সেই বাবাটা চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে
যে কিনা সমস্ত বিরুদ্ধবাদীর বিপক্ষে দাঁড়িয়েও
মেয়ের স্বপক্ষে গর্জন করে ওঠে।
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা নেই তাও তো কত বছর হয়ে গেল
তবু বাবারা রয়েই যায় রক্তের প্রচণ্ড টানে
অথবা নিঃশব্দ বিপ্লবে
বাবারা হারায় না
বাবাদের হাত থেকে
মেয়েদের টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবা নেই সন্তান আছে -- এমন বাবা তো বহু
তবু সেই বাবাটার চোখের জলে
সমগ্র সমাজ কেঁপে ওঠে
যার বাবা আছে মেয়ে নেই
মেয়েকে ধর্ষণ হত্যা- হত্যা ধর্ষণ- ধর্ষণ হত্যা
পর পর বিপ্লব আর প্রতিবিপ্লবের মতই ঘটে গেছে
সেদিন নাকি বাবা দিবস
বাবাদের কাঁদতে নেই
মেয়েদের চোখের জল মুছে দিতে হয়।
আর যদি মেয়ের চোখে রক্তের বন্যা বয়
বাবার চিৎকার সমগ্র মানবজাতির চিৎকার
হয়ে ওঠে আসুন আজ আমরা সেই সব বাবাদের জন্য
চিৎকার করে শুভেচ্ছা জানাই
যে বাবারা তার সন্তানদের হারিয়েছে
সমাজের ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ের ময়দানে...
****************************
স্পর্শ
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
ঠিক সেই দিন সেই মুহূর্তে
সীমান্তের সব যুদ্ধ থেমে গেল
সৈনিকরা অস্ত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে
ঘরে ফিরে গিয়ে চাষবাস করল
ঘর সংসার সন্তান প্রতিপালন
এবং কাঁটাতার গুলো কারা যেন
উপরে নিয়ে গিয়ে
ঘরের জানলায় নেট হিসেবে
ব্যবহার করতে শুরু করে দিল
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
ঠিক সেই দিনই চারপাশের
অনেকগুলো শিশুরা
হইহই করে চলে এলো
যৌনপল্লীর অন্ধকার ঘর ছেড়ে।
যৌনতার কারবারিরা রে রে করে
তেড়ে আসছিল।
খুদে গুলোকে নিয়ে গিয়ে
আটকে ফেলার জন্য
অথচ তাদের এই হা হা করা হাসি
আর নবীন চোখের আলোয়
সব গোলমাল হয়ে গেল।
যৌনতার কারবারীরা কেমন যেন
বেবাক অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
ঠিক সেইদিনই এক আকাশ
আলোয় ভরে উঠল
বস্তির অন্ধকার ঘর গুলো
ইসরাইল ঠিক সেই দিনই
প্যালেস্টাইনের ওপর বোমাবর্ষণ বন্ধ করে
ভাঙচুর হয়ে যাওয়া গাজা শহরটাকে
নতুন করে নির্মাণে মন দিল
আর পুব আকাশের কোণে
এক টুকরো লাল আলো মাখা মেঘের সঙ্গে
মায়ের আঁচল কে গুলিয়ে ফেলল অনাথ শিশুটি
যার কাছে মা বলতে এতকাল
মাতাজির ছবি টুকুই ছিল সম্বল।
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
তুমি সহস্রজনের মধ্যেও চমকে উঠে তাকালে
ঠিক সেই দিনই পাহাড় চুড়ায় ঘন্টাধ্বনির মধ্যে দিয়ে তোমার হাত ধরে পথচলা শুরু হল
দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক সুন্দর সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে আমাদের এই পথ চলা আর কখনোই থামল না
****************************
ঠিক সেই দিন সেই মুহূর্তে
সীমান্তের সব যুদ্ধ থেমে গেল
সৈনিকরা অস্ত্র ছুড়ে ফেলে দিয়ে
ঘরে ফিরে গিয়ে চাষবাস করল
ঘর সংসার সন্তান প্রতিপালন
এবং কাঁটাতার গুলো কারা যেন
উপরে নিয়ে গিয়ে
ঘরের জানলায় নেট হিসেবে
ব্যবহার করতে শুরু করে দিল
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
ঠিক সেই দিনই চারপাশের
অনেকগুলো শিশুরা
হইহই করে চলে এলো
যৌনপল্লীর অন্ধকার ঘর ছেড়ে।
যৌনতার কারবারিরা রে রে করে
তেড়ে আসছিল।
খুদে গুলোকে নিয়ে গিয়ে
আটকে ফেলার জন্য
অথচ তাদের এই হা হা করা হাসি
আর নবীন চোখের আলোয়
সব গোলমাল হয়ে গেল।
যৌনতার কারবারীরা কেমন যেন
বেবাক অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
ঠিক সেইদিনই এক আকাশ
আলোয় ভরে উঠল
বস্তির অন্ধকার ঘর গুলো
ইসরাইল ঠিক সেই দিনই
প্যালেস্টাইনের ওপর বোমাবর্ষণ বন্ধ করে
ভাঙচুর হয়ে যাওয়া গাজা শহরটাকে
নতুন করে নির্মাণে মন দিল
আর পুব আকাশের কোণে
এক টুকরো লাল আলো মাখা মেঘের সঙ্গে
মায়ের আঁচল কে গুলিয়ে ফেলল অনাথ শিশুটি
যার কাছে মা বলতে এতকাল
মাতাজির ছবি টুকুই ছিল সম্বল।
যেদিন তোমার স্পর্শ পেলাম
তুমি সহস্রজনের মধ্যেও চমকে উঠে তাকালে
ঠিক সেই দিনই পাহাড় চুড়ায় ঘন্টাধ্বনির মধ্যে দিয়ে তোমার হাত ধরে পথচলা শুরু হল
দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক সুন্দর সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে আমাদের এই পথ চলা আর কখনোই থামল না
****************************
চশমা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আজ অনেকদিন পর
চশমাটা হারিয়ে ফেলেছি
চশমা হারানোটা এমন কোনো
বড় ব্যাপার নয়যে তার জন্য
সমাজ মানুষ অথবা ব্যক্তি আমি
কোথাও হার মেনে যাচ্ছি
তবুও চশমাটা যতদিন ছিল
ওটা চোখে দিলেই পেতাম
তোমার লাল নীল চোখের গভীরে সংকেত
অথবা অনেক দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে
মায়ের হাত ধরে হেঁটে চলেছি।
অনেক ভোর বেলায় চশমাটা পরে
কুয়াশা মেশানো কালো রাস্তায়
তোমার হাত ধরে হেঁটে গেছি
শ্রমিক বস্তি গুলোর ভেতরে
যেখানে তখন চিমনি দিয়ে
বেরোনো ধোঁয়ায় রুটি সেকছিল ভেলুর বউ।
আবার কোনোদিন চশমাটা পরে
সকাল দশটার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
দেখতে পেয়েছি স্কুল যাওয়া
ছেলেমেয়েদের খুচরো বন্ধুতা
চশমাটা পরেই একদিন দুপুর বেলায়
আমার ভাতের থালাটা সোনার হয়ে গিয়েছিল
তাতে জুঁই ফুল ভাতের পাশে সাজানো ছিল
পঞ্চ ব্যঞ্জন এর বাটি
যা কিনা মেয়ে মানুষ হবার সুবাদে
কোনদিনই চশমা খুলে দেখতে পাইনি।
মাসিমা পিসিমারা বলতো
মেয়েদের অত বাটি করে তরকারি দিতে নেই
ভাতের পাতে ঢেলে দিলেই হয়।
কিন্তু আশ্চর্য চশমা পড়ে
যখন বিকেলের আলোয় পথ হাঁটতাম
গাছের পাতা দের টুপটাপ শব্দের সঙ্গে
ঝরে পড়তো নরম সুন্দর আলো মাখা দিনটা
দিন পেরোলেই অন্ধকার কুপির আলো
ইলেকট্রিসিটি ঢোকেনি সে গ্রামে
মাটির ঘর, ভেঙে পড়া দাওয়ায় বসে
পান্তা খেতে খেতে
গফুর মিয়ার সঙ্গে গল্প করতে করতে
চশমা পরে দেখে নিয়েছি
উজ্জ্বল আলোয় ভরে গেছে চারপাশটা।
রাত আরো বেড়ে গেছে
অন্ধকার আরো জমাট
চশমাটা হারিয়ে গেছে আমার
আলোর খোঁজে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।
চারপাশে মারামারি হানাহানি দুর্নীতি অন্ধকার
আলো নেই আর চশমাটাও নেই
অথচ চশমা পরলেই অনেকগুলো আলো
ঝলকে উঠত সব অন্ধকারের বেড়া ভেদ করে
****************************
চশমাটা হারিয়ে ফেলেছি
চশমা হারানোটা এমন কোনো
বড় ব্যাপার নয়যে তার জন্য
সমাজ মানুষ অথবা ব্যক্তি আমি
কোথাও হার মেনে যাচ্ছি
তবুও চশমাটা যতদিন ছিল
ওটা চোখে দিলেই পেতাম
তোমার লাল নীল চোখের গভীরে সংকেত
অথবা অনেক দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে
মায়ের হাত ধরে হেঁটে চলেছি।
অনেক ভোর বেলায় চশমাটা পরে
কুয়াশা মেশানো কালো রাস্তায়
তোমার হাত ধরে হেঁটে গেছি
শ্রমিক বস্তি গুলোর ভেতরে
যেখানে তখন চিমনি দিয়ে
বেরোনো ধোঁয়ায় রুটি সেকছিল ভেলুর বউ।
আবার কোনোদিন চশমাটা পরে
সকাল দশটার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
দেখতে পেয়েছি স্কুল যাওয়া
ছেলেমেয়েদের খুচরো বন্ধুতা
চশমাটা পরেই একদিন দুপুর বেলায়
আমার ভাতের থালাটা সোনার হয়ে গিয়েছিল
তাতে জুঁই ফুল ভাতের পাশে সাজানো ছিল
পঞ্চ ব্যঞ্জন এর বাটি
যা কিনা মেয়ে মানুষ হবার সুবাদে
কোনদিনই চশমা খুলে দেখতে পাইনি।
মাসিমা পিসিমারা বলতো
মেয়েদের অত বাটি করে তরকারি দিতে নেই
ভাতের পাতে ঢেলে দিলেই হয়।
কিন্তু আশ্চর্য চশমা পড়ে
যখন বিকেলের আলোয় পথ হাঁটতাম
গাছের পাতা দের টুপটাপ শব্দের সঙ্গে
ঝরে পড়তো নরম সুন্দর আলো মাখা দিনটা
দিন পেরোলেই অন্ধকার কুপির আলো
ইলেকট্রিসিটি ঢোকেনি সে গ্রামে
মাটির ঘর, ভেঙে পড়া দাওয়ায় বসে
পান্তা খেতে খেতে
গফুর মিয়ার সঙ্গে গল্প করতে করতে
চশমা পরে দেখে নিয়েছি
উজ্জ্বল আলোয় ভরে গেছে চারপাশটা।
রাত আরো বেড়ে গেছে
অন্ধকার আরো জমাট
চশমাটা হারিয়ে গেছে আমার
আলোর খোঁজে হাতড়ে বেড়াচ্ছি।
চারপাশে মারামারি হানাহানি দুর্নীতি অন্ধকার
আলো নেই আর চশমাটাও নেই
অথচ চশমা পরলেই অনেকগুলো আলো
ঝলকে উঠত সব অন্ধকারের বেড়া ভেদ করে
****************************
ধর্ষণ কি আজই হল?
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কামদুনি পার্ক স্ট্রিট
আসলে অলক্ষ্যে তৈরি করে
অন্যায়ের, বৈষম্যের জমি,
রীতি, আচার, অভ্যাস ...
মেয়েরা ভাই, জামাই বা সন্তানের
মঙ্গল কামনায় উপোস করে,
অথচ মেয়েদের মঙ্গল কামনায়
কেউ উপোস করে না
মেয়েদের সমাদর সংস্কৃতিতে নেই
হয়রানি-নিগ্রহের অভিযোগ বাতাসে ভাসে
তদন্তে ঢিলেমি চলে
মামলা ঝুলে থাকে
লিগাল এড আসে না
রাষ্ট্রব্যবস্থার অবজ্ঞা
জীর্ণতাকে সবল করে প্রতিদিন প্রতিরাত
মেয়েরা শরীর-মন দিয়ে অন্যায্যতা বোঝে,
শুধু বোঝাতে পারে না।
এক নিরপরাধ, কর্তব্যপরায়ণ চিকিৎসকের
ক্ষতবিক্ষত শরীর সকলকে ধাক্কা দিয়ে জাগাল।
অপরাধের যুক্তি খোঁজাও অপরাধ,
এক ধর্ষককে শাসকের আশ্রয়দান সব মেয়ের
অপমান— লক্ষ লক্ষ পায়ের ছাপে
আজ সে কথাগুলো লেখা হয়ে গিয়েছে
পথে পথে। দাগ কেটেছে ইতিহাসের পাতাতেও।
****************************
আসলে অলক্ষ্যে তৈরি করে
অন্যায়ের, বৈষম্যের জমি,
রীতি, আচার, অভ্যাস ...
মেয়েরা ভাই, জামাই বা সন্তানের
মঙ্গল কামনায় উপোস করে,
অথচ মেয়েদের মঙ্গল কামনায়
কেউ উপোস করে না
মেয়েদের সমাদর সংস্কৃতিতে নেই
হয়রানি-নিগ্রহের অভিযোগ বাতাসে ভাসে
তদন্তে ঢিলেমি চলে
মামলা ঝুলে থাকে
লিগাল এড আসে না
রাষ্ট্রব্যবস্থার অবজ্ঞা
জীর্ণতাকে সবল করে প্রতিদিন প্রতিরাত
মেয়েরা শরীর-মন দিয়ে অন্যায্যতা বোঝে,
শুধু বোঝাতে পারে না।
এক নিরপরাধ, কর্তব্যপরায়ণ চিকিৎসকের
ক্ষতবিক্ষত শরীর সকলকে ধাক্কা দিয়ে জাগাল।
অপরাধের যুক্তি খোঁজাও অপরাধ,
এক ধর্ষককে শাসকের আশ্রয়দান সব মেয়ের
অপমান— লক্ষ লক্ষ পায়ের ছাপে
আজ সে কথাগুলো লেখা হয়ে গিয়েছে
পথে পথে। দাগ কেটেছে ইতিহাসের পাতাতেও।
****************************
তিলোত্তমা তোমার জন্য..
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
অকালবোধনের আলোয় আলোয় ভেসে যাচ্ছে গ্রাম নগর মাঠ প্রান্তর...
রাতের অন্ধকার কবে যেন ঘুচে গেছে... আকাশে আলোর সুর... তিলোত্তমা তোমার জন্য গণবিস্ফোরণ... পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায়.... দুশ্চিন্তার রাত দখল করে নেয় ঘর সংসারের এলো পাথাড়ি মেয়েরা ... প্রথম প্রথম কেউ সায় দেয়নি। হাড় জ্বালিয়ে খাবে এই ভাবনায় এলাকার সবার অমত। তবু শুরু হল রাত দখল। দিন পেরোলো... সপ্তাহও... শেষে পেরোলো মাস... শুরু হলো আলোর যাত্রা... সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপরিসীম পরিশ্রম করে সংসার গুছিয়ে তোলা... রাত গাঢ় হতেই আকাশে বাতাসে ভেসে ওঠে কলরব ....উই ওয়ান্ট জাস্টিস.... আমরা বিচার চাই... ঘরে, বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায়, সম্পর্কে, ভাবনায় আর কতদিন চলবে এই অবিচারের স্রোত... ভেতরের গর্জন রাতের অন্ধকারকে ছিঁড়ে ফালা ফালা করে দিল । কোনো মাইক লাগল না, কোনো পার্টির ব্যানার লাগল না, শুধু অজস্র নির্যাতিতার কণ্ঠস্বর সম্বল করে এগিয়ে চলল আলোর যাত্রা।শিলিগুড়ি থেকে শ্যামবাজার, হায়দ্রাবাদ থেকে পুনে, নিউ জার্সি থেকে কিংস্টন টাউনশিপ... এই যাত্রা পথের বিরাম নেই ... সব স্রোতস্বিনীর মুখ খুলে গেল আরজি করের ওই একটি মেয়ের মরা মুখের চোখের কোনা দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তের ফোঁটায়....
নিঃস্ব বাতাস ক্রমশ কমে আসছে। যত ভোর কাছে আসছে, ততই জোর বাড়ছে। রম্য গন্ধ ভরা মুখে সমাজ চেপে ধরছে বালির বালিশ। চেনা গন্ধ উড়ে যাচ্ছে । মিছিল এগিয়ে যাচ্ছে অমৃতের পথে। দুর্গা অষ্টমী এগিয়ে আসছে। কন্যাকুমারীর জামার বোতাম আর বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়ির সময় একমাত্র মৃতদেহবাহী ধর্ষকের পরিচয়। নাহ কোনো বৈতরণী নেই। ঝিঁঝিঁ ধরা বুক, ভাঙা সুষুম্না কান্ড, ফাটা করোটি চিতাকাঠ পেরিয়ে চিৎকার করে ওঠা ডাক্তারটি আজ বিচার চায়। তার কন্ঠ জুড়ে বিরামহীন রাগিনীর ঈশ্বর... শূন্য রাতের পূর্ণ পরিক্রমা... রাত হয়ে ওঠে রাজ তরঙ্গিনী... লড়াইটা পুরনো বাইনারি কে প্রকাশের নামিয়ে আনে। সুর বনাম অসুর এর লড়াই , রাষ্ট্র বনাম জনগণের লড়াই, নীরব সমর্থন বনাম সরব আর্তনাদের লড়াই, যৌথ আনন্দ বনাম ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই ,ব্যক্তিগত দ্বিধা বনাম তত্ত্বকথার লড়াই, জোর করে বিশ্বাস করানো বনাম বিশ্বাস অর্জনের লড়াই, পালিয়ে যাওয়া বনাম অজুহাত দেখানোর লড়াই।
তড়িঘড়ি পোড়ানো হলো মেয়েটার দেহ। শিগগিরই এক মালসা ছাই বেরিয়ে এলো। সেই ছাইও বালাই বলে ফেলে দেওয়া হলো জলে। তারপর .... ওই ভষ্মের কণাগুলো দপ করে জ্বলে উঠল। সমাজের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিল আলোর উৎসব। আলোকচিত্রে রাতের সব অন্ধকার দূর করে দিল। জেগে ওঠা আলোর কনাগুলো জোনাকের মতো ছড়িয়ে পড়ল শহরে গ্রামে রাজ্যে দেশে সারা বিশ্বে....
****************************
রাতের অন্ধকার কবে যেন ঘুচে গেছে... আকাশে আলোর সুর... তিলোত্তমা তোমার জন্য গণবিস্ফোরণ... পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায়.... দুশ্চিন্তার রাত দখল করে নেয় ঘর সংসারের এলো পাথাড়ি মেয়েরা ... প্রথম প্রথম কেউ সায় দেয়নি। হাড় জ্বালিয়ে খাবে এই ভাবনায় এলাকার সবার অমত। তবু শুরু হল রাত দখল। দিন পেরোলো... সপ্তাহও... শেষে পেরোলো মাস... শুরু হলো আলোর যাত্রা... সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপরিসীম পরিশ্রম করে সংসার গুছিয়ে তোলা... রাত গাঢ় হতেই আকাশে বাতাসে ভেসে ওঠে কলরব ....উই ওয়ান্ট জাস্টিস.... আমরা বিচার চাই... ঘরে, বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায়, সম্পর্কে, ভাবনায় আর কতদিন চলবে এই অবিচারের স্রোত... ভেতরের গর্জন রাতের অন্ধকারকে ছিঁড়ে ফালা ফালা করে দিল । কোনো মাইক লাগল না, কোনো পার্টির ব্যানার লাগল না, শুধু অজস্র নির্যাতিতার কণ্ঠস্বর সম্বল করে এগিয়ে চলল আলোর যাত্রা।শিলিগুড়ি থেকে শ্যামবাজার, হায়দ্রাবাদ থেকে পুনে, নিউ জার্সি থেকে কিংস্টন টাউনশিপ... এই যাত্রা পথের বিরাম নেই ... সব স্রোতস্বিনীর মুখ খুলে গেল আরজি করের ওই একটি মেয়ের মরা মুখের চোখের কোনা দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তের ফোঁটায়....
নিঃস্ব বাতাস ক্রমশ কমে আসছে। যত ভোর কাছে আসছে, ততই জোর বাড়ছে। রম্য গন্ধ ভরা মুখে সমাজ চেপে ধরছে বালির বালিশ। চেনা গন্ধ উড়ে যাচ্ছে । মিছিল এগিয়ে যাচ্ছে অমৃতের পথে। দুর্গা অষ্টমী এগিয়ে আসছে। কন্যাকুমারীর জামার বোতাম আর বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়ির সময় একমাত্র মৃতদেহবাহী ধর্ষকের পরিচয়। নাহ কোনো বৈতরণী নেই। ঝিঁঝিঁ ধরা বুক, ভাঙা সুষুম্না কান্ড, ফাটা করোটি চিতাকাঠ পেরিয়ে চিৎকার করে ওঠা ডাক্তারটি আজ বিচার চায়। তার কন্ঠ জুড়ে বিরামহীন রাগিনীর ঈশ্বর... শূন্য রাতের পূর্ণ পরিক্রমা... রাত হয়ে ওঠে রাজ তরঙ্গিনী... লড়াইটা পুরনো বাইনারি কে প্রকাশের নামিয়ে আনে। সুর বনাম অসুর এর লড়াই , রাষ্ট্র বনাম জনগণের লড়াই, নীরব সমর্থন বনাম সরব আর্তনাদের লড়াই, যৌথ আনন্দ বনাম ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই ,ব্যক্তিগত দ্বিধা বনাম তত্ত্বকথার লড়াই, জোর করে বিশ্বাস করানো বনাম বিশ্বাস অর্জনের লড়াই, পালিয়ে যাওয়া বনাম অজুহাত দেখানোর লড়াই।
তড়িঘড়ি পোড়ানো হলো মেয়েটার দেহ। শিগগিরই এক মালসা ছাই বেরিয়ে এলো। সেই ছাইও বালাই বলে ফেলে দেওয়া হলো জলে। তারপর .... ওই ভষ্মের কণাগুলো দপ করে জ্বলে উঠল। সমাজের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিল আলোর উৎসব। আলোকচিত্রে রাতের সব অন্ধকার দূর করে দিল। জেগে ওঠা আলোর কনাগুলো জোনাকের মতো ছড়িয়ে পড়ল শহরে গ্রামে রাজ্যে দেশে সারা বিশ্বে....
****************************
পদযাত্রা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
বোম বোম তারক বোম
যাচ্ছে কারা ? পদযাত্রী।
যাচ্ছি কোথায়? তারকেশ্বর।
আমরা কারা? বাবার চ্যালা।
যাচ্ছি কেন? বাবার মাথায় জল ঢালতে।
পায়ে পায়ে উসলে উঠছে ভারতবর্ষ
যৌবন তার সঙ্গে পথ খুঁজছে
নতুন দিনের পথ।
পথ হাঁটছে ভারত
পথ হাঁটছে মানুষ।
রব উঠেছে বিচার চাই।
বিচার চাই বিচার চাই...
দুই ভারত পায়ে হাঁটছে
পায়ে হাঁটছি আমি আর সে
বিচিত্র সব সহযাত্রী।
শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত...
চলছে তারা অনেকটা পথ...
এই পথ শ্রমিকের
এই পথ কৃষকের
এই পথ কর্মজীবীর
এই পথ বুদ্ধিজীবীর
এই পথ কবিতার
এই পথ বিজ্ঞানের
এই পথ স্বাধীনতার
এই পথ মানবতার
এই পথ জীবনের
এই পথ সৃষ্টির
এই পথ বিপ্লবের
বিপ্লব আর তীর্থক্ষেত্র মিলে যাচ্ছে
আমার দেশে আমার মাটিতে
মুক্তি আর সৃষ্টির এই পথে হাঁটছি
সোনাই আমি তোমাকেই খুঁজছি
বম বম তারক বোম
বিচার চাই বিচার দাও
ফুটপাত জেগে উঠছে মধ্যরাতে
****************************
যাচ্ছে কারা ? পদযাত্রী।
যাচ্ছি কোথায়? তারকেশ্বর।
আমরা কারা? বাবার চ্যালা।
যাচ্ছি কেন? বাবার মাথায় জল ঢালতে।
পায়ে পায়ে উসলে উঠছে ভারতবর্ষ
যৌবন তার সঙ্গে পথ খুঁজছে
নতুন দিনের পথ।
পথ হাঁটছে ভারত
পথ হাঁটছে মানুষ।
রব উঠেছে বিচার চাই।
বিচার চাই বিচার চাই...
দুই ভারত পায়ে হাঁটছে
পায়ে হাঁটছি আমি আর সে
বিচিত্র সব সহযাত্রী।
শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত...
চলছে তারা অনেকটা পথ...
এই পথ শ্রমিকের
এই পথ কৃষকের
এই পথ কর্মজীবীর
এই পথ বুদ্ধিজীবীর
এই পথ কবিতার
এই পথ বিজ্ঞানের
এই পথ স্বাধীনতার
এই পথ মানবতার
এই পথ জীবনের
এই পথ সৃষ্টির
এই পথ বিপ্লবের
বিপ্লব আর তীর্থক্ষেত্র মিলে যাচ্ছে
আমার দেশে আমার মাটিতে
মুক্তি আর সৃষ্টির এই পথে হাঁটছি
সোনাই আমি তোমাকেই খুঁজছি
বম বম তারক বোম
বিচার চাই বিচার দাও
ফুটপাত জেগে উঠছে মধ্যরাতে
****************************
ঘর হারানো মা আর সন্তান হারানো পিতার উদ্দেশ্যে
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
একটা যুদ্ধ... যা কিনা সমগ্র অন্ধকার ঢেলে দিয়েছিল
উর্মি মালার অদৃশ্য লবণকণায়, লৌহময় প্রান্তরে, বাতাসের সঙ্কীর্ণ গলিতে কিংবা বাতাস আর হিমবাহের বিলাসবহুল স্থাপত্যে...
পাথর আর চাষবাসের শবাচ্ছাদনে
অন্তিম পদপাতের নাক্ষত্রিক নির্জনতায়
উত্তুঙ্গ শঙ্কিল পাহাড়ের পথে
বিস্তীর্ণ সমুদ্রের গহন অন্দরে, হে মৃত্যু
আবৃত নৈঃশব্দের মেরুপ্রান্তিক গালচেতে
অশ্রুর উত্তুঙ্গ মগ্ন উত্তরাধিকারে হারিয়ে যেও না
আমি ভালবাসতে পারি না সেই সব পিতাদের
যারা কাঁধে করে শুধু বয়ে বেড়ায় সন্তানের লাশ
মাটি বিহীন জলরাশি বিহীন
এ সবই অলীক মৃত্যু আর পুনরুত্থানের গল্প বলে
কতবার শহরের হিমেল রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসে
উৎসবের রাতে কোমলমতি ভালবাসার সেই একই পুনরাবৃত্তি
ছুরি বিহীন কে বা কারা যেন
সতর্ক প্রহরা দেয় তাদের রক্ত
ক্রোধোন্মত্ত সঙ্কুচিত দাস ব্যবসায়ীর
বিষণ্ণ বাণিজ্যিকতার ধারাবাহিকতায়
আমার অন্তরে বাসা বাঁধে সেইসব মায়েরা
যাঁদের ঘর হারানোর কান্না মুছে গিয়েছিল
কবেকার সেই লড়াইয়ের ময়দানে ...
****************************
উর্মি মালার অদৃশ্য লবণকণায়, লৌহময় প্রান্তরে, বাতাসের সঙ্কীর্ণ গলিতে কিংবা বাতাস আর হিমবাহের বিলাসবহুল স্থাপত্যে...
পাথর আর চাষবাসের শবাচ্ছাদনে
অন্তিম পদপাতের নাক্ষত্রিক নির্জনতায়
উত্তুঙ্গ শঙ্কিল পাহাড়ের পথে
বিস্তীর্ণ সমুদ্রের গহন অন্দরে, হে মৃত্যু
আবৃত নৈঃশব্দের মেরুপ্রান্তিক গালচেতে
অশ্রুর উত্তুঙ্গ মগ্ন উত্তরাধিকারে হারিয়ে যেও না
আমি ভালবাসতে পারি না সেই সব পিতাদের
যারা কাঁধে করে শুধু বয়ে বেড়ায় সন্তানের লাশ
মাটি বিহীন জলরাশি বিহীন
এ সবই অলীক মৃত্যু আর পুনরুত্থানের গল্প বলে
কতবার শহরের হিমেল রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসে
উৎসবের রাতে কোমলমতি ভালবাসার সেই একই পুনরাবৃত্তি
ছুরি বিহীন কে বা কারা যেন
সতর্ক প্রহরা দেয় তাদের রক্ত
ক্রোধোন্মত্ত সঙ্কুচিত দাস ব্যবসায়ীর
বিষণ্ণ বাণিজ্যিকতার ধারাবাহিকতায়
আমার অন্তরে বাসা বাঁধে সেইসব মায়েরা
যাঁদের ঘর হারানোর কান্না মুছে গিয়েছিল
কবেকার সেই লড়াইয়ের ময়দানে ...
****************************
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কবিতা
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
আসুন কামরেড আজ আমরা
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কথা বলাবলি করি
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা শব্দটা শুনতে
বেশ গেরাম ভারী লাগে।
আমাদের গম্ভীর গম্ভীর মুখের সঙ্গে
মানিয়েও যায় ভালো
আর সঙ্গে সাদা পায়রা কাঁটাতার
এগুলো ঠিকঠাক ভাবে মিক্স আন্ড ম্যাচ
করে দিতে পারলে তো
খাপে খাপ পচার বাপ হয়ে যাবে ...
না কমরেড আমরা পচার বাপদের নিয়ে
খুব একটা কথা বলাবলি করি না
পচার বাপ পচাই খায়
পচাই খেয়ে দু দিন অন্তর
হাসপাতালে পেট উল্টিয়ে পড়ে থাকে
আমরা পচার বাপদের নিয়ে
কথা বলাবলি করলে
আমাদের প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়
সত্যি কথা বলতে পচার বাপদের
আমরা মিটিংয়ে মিছিলে ডেকে আনি
ওদের জন্য প্রচুর তোষক বালিশ ভাড়া করে
পার্টি অফিসের মেঝেতে ঘুমোতেও দিই
না নেতাদের জন্য বরাদ্দ খাট ওদের জন্য নয়।
পচার বাপ পচার মা তাদের ন্যাংটো ছোট ভাইটাকে
নিয়ে মিছিলের দিন সন্ধ্যেবেলা
কালীঘাটে ফুল চড়াতে যায়।
পিলে রোগী পচা যাতে সহজে সেরে ওঠে।
পরেরবার সাম্রাজ্যবাদীরাও তাদের মিছিলে
ওদের ভাড়া করে আনে ।
সাম্রাজ্যবাদীরা ওদের ভাড়ার রেট বেঁধে দিয়েছে
আমরা সেই রেট ধরে ওদের ভাড়া করি।
আর পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা আগ্রাসী বাণিজ্যের
ক্রীতদাস হয়ে ঘরে ঘরে বেড়ে ওঠে
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম
আমরা এসব ফিরেও দেখি না
আমাদের মিছিল লম্বা হয়
অনেক অনেক অনেক লম্বা
পিছনে পড়ে থাকে পচার বাপ
পচার মা পচার ন্যাঙটো ভাইটা এবং পিলেরোগী পচা।
****************************
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার কথা বলাবলি করি
সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা শব্দটা শুনতে
বেশ গেরাম ভারী লাগে।
আমাদের গম্ভীর গম্ভীর মুখের সঙ্গে
মানিয়েও যায় ভালো
আর সঙ্গে সাদা পায়রা কাঁটাতার
এগুলো ঠিকঠাক ভাবে মিক্স আন্ড ম্যাচ
করে দিতে পারলে তো
খাপে খাপ পচার বাপ হয়ে যাবে ...
না কমরেড আমরা পচার বাপদের নিয়ে
খুব একটা কথা বলাবলি করি না
পচার বাপ পচাই খায়
পচাই খেয়ে দু দিন অন্তর
হাসপাতালে পেট উল্টিয়ে পড়ে থাকে
আমরা পচার বাপদের নিয়ে
কথা বলাবলি করলে
আমাদের প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়
সত্যি কথা বলতে পচার বাপদের
আমরা মিটিংয়ে মিছিলে ডেকে আনি
ওদের জন্য প্রচুর তোষক বালিশ ভাড়া করে
পার্টি অফিসের মেঝেতে ঘুমোতেও দিই
না নেতাদের জন্য বরাদ্দ খাট ওদের জন্য নয়।
পচার বাপ পচার মা তাদের ন্যাংটো ছোট ভাইটাকে
নিয়ে মিছিলের দিন সন্ধ্যেবেলা
কালীঘাটে ফুল চড়াতে যায়।
পিলে রোগী পচা যাতে সহজে সেরে ওঠে।
পরেরবার সাম্রাজ্যবাদীরাও তাদের মিছিলে
ওদের ভাড়া করে আনে ।
সাম্রাজ্যবাদীরা ওদের ভাড়ার রেট বেঁধে দিয়েছে
আমরা সেই রেট ধরে ওদের ভাড়া করি।
আর পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা আগ্রাসী বাণিজ্যের
ক্রীতদাস হয়ে ঘরে ঘরে বেড়ে ওঠে
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম
আমরা এসব ফিরেও দেখি না
আমাদের মিছিল লম্বা হয়
অনেক অনেক অনেক লম্বা
পিছনে পড়ে থাকে পচার বাপ
পচার মা পচার ন্যাঙটো ভাইটা এবং পিলেরোগী পচা।
****************************
বাঙালি বিতাড়ন এবং ...
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবি সুতপা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৮.৫.২০২৩।
কবিতায় আমি এত বাঙালি বিতাড়ণ ,পরিযায়ী শ্রমিক এসব কথা বলতে চাই না... শুধু আমার ঘরের পাশে যাদবের ছেলেটা যখন বলে তিন পুরুষ ধরে এ শহরে থেকেও আমাদের বাড়িতে কেউ বাংলায় কথা বলে না তখন বুকের মধ্যেটা কেমন যেন কেঁপে ওঠে
ওপাশের ফ্লাটের গুপ্তা আঙ্কেলের ছোট নাতিটা
বাঙ্গালীদের নামে বড্ড গালাগালি দেয়
ওর নিজের ভাষাতেই দেয়
ছোট বলে আমরা ক্ষমা করে দিই।
আসলে আমরা জানি গুপ্তা আঙ্কেলের বিরুদ্ধে
কিছু বলা যাবে না
বললে আমাদের নিজেদের পাড়ায়
আমাদের তিন পুরুষের ভিটে মাটি থেকে
আমাদেরই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে ...
ওইদিকে ওই মাঠের ওপারে
জয়সওয়ালদের চব্বিশ বছরের নব্য যুবকটি যখন
কলার উঁচিয়ে হু হু করে বাইক চালিয়ে
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময়
বিরক্ত করার জন্যই জোরে জোরে হর্ন বাজায়
আমরা ওটাকে যৌবনের ধর্ম বলে মেনে নিই
আসলে আমরা জানি এই মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা আমরা বহুবছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি ...
তবু আমাদের কাজের মাসি কৃষ্ণাদির ছোট নাতিটা
সেদিন যখন আমাদের প্রিয় শহর ছেড়ে বম্বে চলে গেল কাজ খুঁজতে
দুচোখ ভরা জল নিয়ে কৃষ্ণা দি খুব কান্নাকাটি করছিল।
আমরা ওকে বোঝাতে পারিনি আমাদের রাজ্যে কাজ নেই।
আমাদের রাজ্যে শিল্প নেই।
আমাদের রাজ্যে বেকাররা কেবলই ভাতা পায়।
তবে মাত্র দুদিন আগে যখন
বুবলাইয়ের ছোটবেলার বন্ধুটা
বেঙ্গালুরু থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পথে
আটক হয়ে গেল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে
বাংলাদেশী বলে যখন তাকে চালান করার চেষ্টা শুরু করা হলো
তখন আমরা বুঝলাম আমাদের কোন দেশ নেই আমাদের কোন ভূমি নেই
আমাদের কোন ভাষা নেই
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা হেরো মানুষের দল
আমাদের কোনো পরিচয় নেই
আমরা বাঙালি অথবা বাংলাদেশি অথবা অন্য কিছু
তা নিয়ে যখন খুশি রাষ্ট্রনায়করা লোফালুফি খেলতে পারে
আমাদের মতো মানুষদের সারা বিশ্বেই কোনো পরিচয় নেই
আসলে গোটা পথিবীতেই মানুষের দুটো পরিচয়
একদল শাসক আর অন্য দল শোষিত...
শোষিতের অস্তিত্ব রক্ষার নামে
শোষন বারবার ই রঙ বদলায়...
চরিত্র বদলে দেয়... শুধু শাসকের পথ বদলায় না...
****************************
ওপাশের ফ্লাটের গুপ্তা আঙ্কেলের ছোট নাতিটা
বাঙ্গালীদের নামে বড্ড গালাগালি দেয়
ওর নিজের ভাষাতেই দেয়
ছোট বলে আমরা ক্ষমা করে দিই।
আসলে আমরা জানি গুপ্তা আঙ্কেলের বিরুদ্ধে
কিছু বলা যাবে না
বললে আমাদের নিজেদের পাড়ায়
আমাদের তিন পুরুষের ভিটে মাটি থেকে
আমাদেরই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে ...
ওইদিকে ওই মাঠের ওপারে
জয়সওয়ালদের চব্বিশ বছরের নব্য যুবকটি যখন
কলার উঁচিয়ে হু হু করে বাইক চালিয়ে
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময়
বিরক্ত করার জন্যই জোরে জোরে হর্ন বাজায়
আমরা ওটাকে যৌবনের ধর্ম বলে মেনে নিই
আসলে আমরা জানি এই মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা আমরা বহুবছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি ...
তবু আমাদের কাজের মাসি কৃষ্ণাদির ছোট নাতিটা
সেদিন যখন আমাদের প্রিয় শহর ছেড়ে বম্বে চলে গেল কাজ খুঁজতে
দুচোখ ভরা জল নিয়ে কৃষ্ণা দি খুব কান্নাকাটি করছিল।
আমরা ওকে বোঝাতে পারিনি আমাদের রাজ্যে কাজ নেই।
আমাদের রাজ্যে শিল্প নেই।
আমাদের রাজ্যে বেকাররা কেবলই ভাতা পায়।
তবে মাত্র দুদিন আগে যখন
বুবলাইয়ের ছোটবেলার বন্ধুটা
বেঙ্গালুরু থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসার পথে
আটক হয়ে গেল বাংলা ভাষা বলার অপরাধে
বাংলাদেশী বলে যখন তাকে চালান করার চেষ্টা শুরু করা হলো
তখন আমরা বুঝলাম আমাদের কোন দেশ নেই আমাদের কোন ভূমি নেই
আমাদের কোন ভাষা নেই
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা হেরো মানুষের দল
আমাদের কোনো পরিচয় নেই
আমরা বাঙালি অথবা বাংলাদেশি অথবা অন্য কিছু
তা নিয়ে যখন খুশি রাষ্ট্রনায়করা লোফালুফি খেলতে পারে
আমাদের মতো মানুষদের সারা বিশ্বেই কোনো পরিচয় নেই
আসলে গোটা পথিবীতেই মানুষের দুটো পরিচয়
একদল শাসক আর অন্য দল শোষিত...
শোষিতের অস্তিত্ব রক্ষার নামে
শোষন বারবার ই রঙ বদলায়...
চরিত্র বদলে দেয়... শুধু শাসকের পথ বদলায় না...
****************************
