কবি ও শিল্পী অসিতকুমার হালদার - নব্যবঙ্গীয় চিত্রকলার (Bengal School of Art) অন্যতম শিল্পী।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাঁকোতে। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাগিনেয় হতেন। পিতা সুকুমার
হালদার এবং পিতামহ রাখালদাস হালদার, দুজনেই ছিলেন চিত্রকলায় পারদর্শী শিল্পী।

১৯০৪ সালে তিনি কলকাতার সরকারী আর্ট কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৫ সালে তিনি কলকাতার যদু পাল,
বক্কেশ্বর পাল এবং লিওনার্ড জেন্নিংগস এর কাছে ভাস্কর্য শিক্ষা লাভ করেন। ১৯০৯ থেকে ১৯১১ সাল
সময়কাল তিনি অজন্তার গুহাচিত্রের অধ্যয়ন ও অঙ্কন করেন। ১৯২১ সালে তিনি বাঘগুহার অভিযানে যান
এবং সেই গুহার ছবি আঁকার কাজ করেন।

১৯১১ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত তিনি শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনা করেন। ১৯১১ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত তিনি
কলাভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন, ১৯২৪ সালে তিনি জয়পুরের মহারাজা স্কুল অফ আর্ট অ্যাণ্ড ক্রাফ্ট এর অধ্যক্ষ
হয়েছিলেন, ১৯২৫ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত লক্ষনৌ গভমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যণ্ড ক্রাফ্ট এর অধ্যক্ষ
ছিলেন। তিনি বরোদা মিউজিয়াম ও কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির ভিসিটিং লেকচারারও ছিলেন।

তাঁর প্রাপ্ত সম্মানের মধ্যে রয়েছে ১৯৩৪ সালে লণ্ডনের রয়াল সোসাইটি অফ আর্টের ফেলোর সম্মান। ১৯৩৮
সালে এলাহাবাদের মিউজিয়ামে তাঁরই নামের “হালদার হল" উদ্ধোধন করেন তিনি। তিনিই প্রথম ভারতীয়,
যিনি কোনো সরকারী আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথসহ শান্তিনিকেতনের পরিবেশ তাঁকে কবিতা থেকে দূরে থাকতে দেয়নি। তিনি কবি
হিসেবেও স্থান  করে নেন।  তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন কালিদাসের কাব্য “ঋতুসংহার” (১৯৪৪) ও
“মেঘদূত” (১৯৪৭)।

তাঁর অন্যান্য মৃল্যবান রচনার মধ্যে রয়েছে “অজন্তা” (১৯১৩), রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা সম্বলিত “বাঘগুহা ও
রামগড়” (১৯২১), “ইউরোপের শিল্পকথা” (১৯৪০) প্রভৃতি গ্রন্থগুলি শিল্প বিষয়ক সাহিত্যধারায় মূল্যবান
সংযোজন। তাঁর স্মৃতিচিত্র “রবিতীর্থে” (১৯৫৮) একটি সুখপাঠ্য গ্রন্থ।

তিনি “ভারতী”, “রংমশাল” সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কবিতা লিখে গেছেন।


আমরা  
মিলনসাগরে  কবি ও শিল্পী অসিতকুমার হালদারের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে
দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা
।   



উত্স - শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩
.       
    উইকিপেডিয়া  
         
    

কবি অসিতকুমার হালদারের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩০.০৭.২০১৫

...