কবি অতীন্দ্রলাল দাশের কবিতা
*
বৃন্দাবনতত্ত্ব
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৭৮, “গোকুলানন্দ”
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

বৃন্দাবন-ধন বন্ধু করে উপদেশ
প্রিয় ভক্ত প্রতাপেরে কহে সবিশেষ,
“শুন এই বাণী মোর শুন দিয়া মন,
‘নিত্য’, ‘লীলা’, ‘ধাম’, এই বৃন্দাবন |
নিত্য-বৃন্দাবনে শুধু কৃষ্ণ করে বাস,
নাহি কোন সখা, সখী তাহার সকাশ,
লীলা-বৃন্দাবনে সদা যুগল কিশোর
নিত্যলীলা চলিতেছে রসেতে বিভোর |
ধাম-বৃন্দাবন হয় কাম্যবন হতে
বিস্তারিত বহৃদূর মানস সরতে
চৌরাশি ক্রোশ ব্যাপি পরিমাণ তার
অনন্ত কৃষ্ণের লীলা মহিমা অপার |”
প্রতাপ ভাবিছে মনে নিত্য বৃন্দাবন,
বন্ধু রূপে আছে তথা মদনমোহন |
অন্তরে ভাব বুঝি অন্তর্যামী কয়,
“অচিন্ত্যের চিন্তা কভু উচিৎ না হয়,
নিত্য-বৃন্দাবন কথা স্মরণে না এনে,
যুগল কিশোরে সদা ভজ মনে প্রাণে |”

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
গোকুলানন্দ
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৭৯, “গোকুলানন্দ”
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

প্রতাপেরে আদেশিল শ্রীবন্ধু সুন্দর
আজ্ঞামত খাতা আনে প্রতাপ সত্বর |
শ্রীহস্তে লেখনী ল’য়ে লিখিলা তখনি
মরমের মর্ম-কথা বন্ধু গুণমণি |
“বৃষভানু রাজা হয় শ্রীমতির পিতা,
মাতা হয় স্নেহময়ী জননী কৃতির্কা,
শ্বশুর সে নন্দকুলে নন্দ মহারাজ,
শ্বাশুড়ী সে যশোমতী ---এথে নাহি লাজ,
কৃষ্ণ স্বামী, কৃষ্ণ প্রভু, কৃষ্ণ হয় পতি,
প্রেমে নাচে, প্রেমে গায়, গৌর হয় গতি,
গুরু যে জগৎগুরু গুরু মাত্র বন্ধু,
গুরুপদ অরবিন্দ গুরু কৃপা সিন্ধু,
সেবা ধর্ম সেবা পুণ্য রাই-সেবা সার
ললিত-ললিতা দশা কি বলিব আর,
সাধন জানিবে সদা মধুর কীর্তন,
ভজনেতে মালা জপ অজপা জপন,
ভক্তি প্রেম পূর্ণ চিত্তে কঙ স্মরণ
কিশোর কিশোরী রূপে যুগল মিলন,
গৌর চন্দ্র সুধাকর নিয়ত দর্শন’
প্রেম-ভক্তি-চন্দ্রিকা সে সতত পঠন |”
“গোকুলানন্দই হবে প্রতাপের নাম
গুপ্ত ইহা রহিবেক এই মনস্কাম |”
“শিষ্য সে গোকুলানন্দ গুরু জগদ্বন্ধু”
“শ্রীমতি” লিখিয়া দিল অমৃতের বিন্দু |
শ্রীহস্ত লিখিল গ্রন্থ শিরেতে ধরিলা,
প্রতাপ পুলক ভরে নাচিতে লাগিলা ;
প্রভু বন্ধু এই মত করে নিত্য লীলা
ভক্ত আর ভগবানে কত রঙ্গ খেলা |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
কত অজানেরে
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮০, শ্রীহরকুমার রায়
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

কলিকাতা গিয়েছেন শ্রীবন্ধুসুন্দর
ইষ্টিশানে প্রতাপেরে বলিয়া সত্বর |
“ভকত প্রবর আছে হরকুমার রায়,
জোড়াসাঁকো বাড়ী তাঁর হেথা সিমলায়,
যাও সেথা বল তারে আসিয়াছি আমি |”
প্রতাপ ভাবিল মনে “আহারে না জানি”,
খোঁজ করি হর রায়ে সংবাদ দানিল,
সৌভাগ্য মানিয়া হর আনন্দে ভাসিল |
সমাদরে নিয়া আসে শ্রীবন্ধু রতনে,
ভকতি চন্দনে পুষ্পে পরম যতনে |
বন্ধু তারে লিখি দিলা পরম পাথেয়
অমৃত আনন্দময় নিত্য যাহা শ্রেয়ঃ |
“পাপ চর্চা তরে নহে মানব জীবন,
জীবন সার্থক কর সেবি কৃষ্ণ ধন,
বিলাসে ভোগেতে থাকি কিবা হবে হায়
কৃষ্ণ নাম গাহ সদা বেলা বয়ে যায় |”

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
অতুলের পূর্বরাগ
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

আড়া অঞ্চলেতে এক উচ্চ বিদ্যালয়
প্রধান শিক্ষক তার অতুল যে হয়!
হঠাৎ এসেছে সেথা মাতুল শ্বশুর
তাঁর ছাত্র সম এক কিশোর মধুর |
পূর্বে তার দেখা শুনা ঙইয়াছে কত,
যত তারে দেখিয়াছে আড়াআড়ি তত |
আজি তাঁর জীবনের নূতন উষায়,
নব রূপে সে কিশোর আসিয়াছে হায় |
কিবা রূপ কিবা কান্তি আঁখি ঢলঢল,
নিমেষে দেখিয়া যেন জীবন জুড়াল |
অপলকে চেয়ে রয় হৃদয় বিহ্বল,
দলে দলে বিকশিত বন্ধু শতদল!
জীবনের মহালগ্নে বন্ধু সুধাকর,
আবির্ভূত হইয়াছে আলোকি অম্বর!
অকুল জলধি জলে জাগিল জোয়ার,
উদ্বেলিত মহাসিন্ধু মত্ত পারাবার |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধু কিশোর
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

বয়সে নবীন বন্ধু কিশোর কোমল
বিকশিত মুখ পরে আঁখি ঢলঢল |
সরল চাহনি তার আবেশ মধুর,
প্রতি কথা প্রতি তান মধু মাখা সুর |
অঙ্গের লাবনী তার নবনী সরস,
অঙ্গুলি চম্পকদামে জাগায় হরষ !
অধরে মদির মাথা চকিত দাখিলী
দন্তরুচি খেলে যায় হৃদয় মোহিনী |
চরণে চরণে যেন বাজিছে নুপূর
চকিত হরিণী যেন ছন্দ সুমধুর,
কিবা রূপে দিল দেখা শ্রীবন্ধু সুন্দর
মদন মোহন কিবা শোভা মনোহর |
অতুলের হিয়া মন হইল মাতাল,
কি দেখিতে কি হইল প্রভাত সকাল |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
কে তুমি
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

প্রধান শিক্ষক আজি অতুল চম্পটি
কি যেন হইল তার প্রাণ মনটি |
নব জীবনের ঊষা হইল প্রভাত
নবারূণ পূর্বাচলে আর নাহি রাত |
বিদগ্ধ মনের তার শাশ্বত জিজ্ঞাসা,
“কে তুমি অরুণাচলে মোহঘুম নাশা ?
তুমি কি ব্রজের কানু নবঘন শ্যাম ?
গোকুলে চরাতে ধেনু কিশোর সুঠাম ?
বাজাতে মোহন ধেনু যমুনার কূলে,
ত্রিভঙ্গ দাঁড়াতে বুঝি বংশী বটমূলে ?
তুমি কি নদের গোরা সুরধুনী তীরে,
প্রেমে নাচ প্রেমে গাও ভাস আঁখি নীরে ?
তোমারে চিনেছি ওগো নবীন কিশোর,
হৃদয়ে ধরিব তোমা বন্ধু মনোচোর |”

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভাবান্তর
২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৮৪, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা –২২ / ০৯  / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

অতুলের হইয়াছে মহা ভাবান্তর
বন্ধু সঙ্গ লাভে সদা ব্যাকুল অন্তর
বিদ্যালয়ে যদি যায় বন্ধুরে না হেরে     
ক্ষণিকের অদেখা সে সহিবে কি করে |        
বিদ্যালয়ে যাবে না সে এই ভাবি মনে
কাটায় সময় বৃথা এখানে ওখানে !
বীণা বিনিন্দিত কন্ঠে বন্ধু ডেকে বলে
বেলা হল বিদ্যালয়ে যাও তুমি চলে |
চাল ডাল সিদ্ধ তবে দিয়া যাও মোরে |
এত শুনি চম্পটি স্কুলেতে গেল
বন্ধু হরি তার তরে মেসেতে কাটায় |
ক্ষণপরে শ্রীঅতুল ফিরিয়া আসিল |
আনমনে কত কিছু ভাবিতে লাগিল |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
চাঁদ ও চকোর
২য় খণ্ড, পৃঃ ৫৮৫, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২৩ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

বন্ধু চাঁদ উঠিয়াছে অতুল বিভায়,
অতুল চকোর যেন ধরিতে না পায় |
উতলা হৃদয় নিয়ে মিছে ঘুরে মরে,
কেমনে ধরিবে তারে বুঝিতে না পারে |
এত শিক্ষা এত জ্ঞান সব যায় ভেসে
জীবনের বন্ধু তার এল অবশেষে |
জীবন দেবতা আজি তুলিযাছে তান
হৃদয় যমুনা তাই বহিছে উজান |
নবঘন জলধর ঘিরেছে গগন
উষর মানস ক্ষেত্রে হয় বরিষণ |
শ্রেয় প্রেয় একাধারে  শ্রীবন্ধু মাতুল
জগতের বন্ধু হরি পেয়েছে অতুল |
ধর্মাধর্ম পাপ পুণ্য সকল বন্ধন
নিমেষে ঘুচায়ে দেয় ও রাঙ্গা চরণ |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
হে নিঠুর  
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২৩ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

কে তোমারে বলে বন্ধু করুণ দয়াল
রূপের লাবনী মাখা নিঠুর ভয়াল |
নরসিংহ সম তুমি ভক্তে দিয়া দুঃখ
আস্বাদন করিতেছে নিত্য লীলা সুখ |
তোমার রূপের ফাঁদে পড়িল যে জন,
বিরহ কন্ঠক জ্বালা তাহার ভূষণ |
তোমার নয়ন বান বিধিল যাহারে,
হৃদয় দহনজ্বালা ভুগে ভুগে মরে |
তোমার প্রেমের পাশে যে জন পড়িল
পাশ বদ্ধ মৃগ সম সকলি হারাল |
যারে টান তারে টান টান্ কর সার,
চপল নিঠুর তুমি এই আছ নাই,
ধরিবারে মরি ঘুরে ধরিতে না পাই |

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
কোথা তুমি
২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী
কবি অতীন্দ্র লাল দাশ
রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর
শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া

ওগো বন্ধু কৃপাসিন্ধু এস কৃপা করি,
তোমার বিরহ জ্বালা সহিতে না পারি |
তোমা বিনে শুষ্ক হল সকল জীবন,
কৃপাসিন্ধু বন্ধু কর কৃপা বরিষণ !
তোমা বিনে শূ্ণ্য দেখি আমার ভুবন,
কৃপা করি বন্ধু হরি দাও দরশন |
জীবনে ঘনাল মোর নিশার আঁধার
কোথা আছ নিশাপতি বন্ধু সুধা ধার |
জীবন বারিধি মোর তরঙ্গ অপার,
কোথা তুমি বন্ধু হরি ভব-কর্ণধার |
জরাজীর্ণ ডুবে যায় জীবন তরণী
কোথা তুমি লুকাইলে বন্ধু গুণমনি |
অতুল তোমার কৃপা না যায় কখন,
কোথা তুমি বন্ধু হরি বাঁচাও জীবন

.                    ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর