কবি দেবকুমার রায়চৌধুরীর কবিতা
*
অদৃষ্ট
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
সরলা দেবীচৌধুরাণী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার ভাদ্র ১৩১০ (অগাস্ট ১৯০৩) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

(১)
প্রত্যূষ হতে সন্ধ্যা অবধি,---
শৈশব হতে মরণে,
তব বিচিত্র বিধানে বিশ্ব
লুণ্ঠিত তব চরণে!


.      **********************     

.                                                                                      
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
আবেশ
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
সরলা দেবীচৌধুরাণী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার ভাদ্র ১৩১০ (অগাস্ট ১৯০৩) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

ঘুমঘোরে ছিনু অচেতন ;
সহসা কোকিলকণ্ঠ জানাইয়া দিল মোরে
বসন্তের শুভ আগমন।


.      **********************     

.                                                                                      
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
সাগর উদ্দেশে
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩১৬ (মে ১৯০৯) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

সামাহীন ওগো পারাবার,
বহু বর্ষ পরে আজি হ’ল যদি দেখা,
শোন তবে একবার, শুধু একবার,


.      **********************     

.                                                                                      
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
প্রয়াণ
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার পৌষ ১৩১৭ (ডিসেম্বর ১৯১০) সংখ্যা থেকে
নেওয়া।

( প্রাঃস্মরণীয়া ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের স্বর্গগমনোপলক্ষে )

নিবিড় নীরদ-কোলে অপরূপ ইন্দ্রধনুসম
মলিন এ মহীমাঝে অভিরাম চির-অনুপম,
তুমি ফুটেছিলে দেবি,---আপনার স্বর্গীয় প্রভায়
শুচি-স্নাত করি’ এহি পাপে পূর্ণ, পঙ্কিল ধরায়।
হিংসা-দ্বেষ-নির্যাতনে নিত্য বিশ্ব কাঁদে হাহাকারে,
স্বজন শোনিত পান করে সুখে স্বার্ছের আঁধারে ;---
এ শ্মশানে শুধু তুমি মৌন প্রেমে, শান্ত গরিমায়
ধ্যান-মগ্ন ছিলে বসি’ মরতের মঙ্গল-চিন্তায়!
জগত-জননীসম আর্ত্ত-দুঃখে আত্ম-বিস্মরিয়া
অসহায় আতুরের সর্ব জ্বালা দিলে জুড়াইয়া!
করে তব শান্তি-সুধা-মুখে তব সান্ত্বনা সরস,
মুমূর্ষু মেলিত আঁখি লভি তব সস্নেহ পরশ ;
আজি ওগো জ্যোতির্ম্ময়ী, কোথা চলি’ গেলে নাহি জানি।
আঁধারে ছাইছে বিশ্ব তোমা’ বিনা হে দেবি কল্যাণী!


.                  **********************     

.                                                                              
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
*
দুঃখিনী
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার পৌষ ১৩১৭ (জানুয়ারী ১৯১১) সংখ্যা থেকে
নেওয়া।

খে’তে পায়নি দু’দিন ধরে’ ;
অন্বেষণ
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার চৈত্র ১৩১৭ (মার্চ ১৯১১) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

একি       বিশ্বের মাঝে            বিয়াকুল প্রাণ
নিয়ত কাহারে চাহে?
কাহার লাগিয়া, মরে সে কাঁদিয়া
দারুণ মর্ম-দাহে


.                  **********************     

.                                                                              
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর


.                  **********************     

.                                                                                           
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
মাঙ্গলিক
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার বৈশাখ ১৩১৮ (এপ্রিল ১৯১১) সংখ্যা থেকে
নেওয়া।

অতীব তুচ্ছ হই আমি যদি
হে জননি, তাহে নাহি কোন ক্ষতি!---
তুমি যদি শুধু মোরে লহ তুলি’
পদ মূল হ’তে কখনো বা ভুলি’,
বারেকের তরে মম শিরোপরে
রাখিয়া তোমার কল্যাণ-করে,
স্নেহ-সকরুণ রাজীব নয়ন
মেলি মোর পানে, অভয় বচন
কহ দয়াময়ি ;--- তখনি পুলক
জাগিবে জীবনে ; ভুলি’ দুঃখ শোক
তখনি ব্যর্থ জীবনে আমার,
ক্ষীণ হৃদি-তারে শত ঝঙ্কার
উঠিবে।
.        ভারতি, সে শুভ লগনে
হ’ব ত্রিতন্ত্রী তোমারি চরণে!


.                  **********************     

.                                                                             
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
পূর্ণিমায়
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত ভারতী পত্রিকার বৈশাখ ১৩১৮ (এপ্রিল ১৯১১) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

সুখ-সূপ্ত এ ধরায়                          মৃদু-মন্দ মধু-বায়
আবেশ বহিয়া আনে ধীরে---অতি ধীরে ;
বাসন্তী পূর্ণিমা নিশা                        পরিপূর্ণ দশদিশা।
কি আনন্দ,---কি আনন্দ! সুগন্ধি সমীরে
দূর হ’তে আসে বহি’                ‘কুহু’ ধ্বনি রহি রহি’ ;
বিশ্ব কোথা মুছে গেছে,---নাহি যায় দেখা!
জ্যোত্স্না-স্নাত বসুন্ধরা                নিবিড় স্তব্ধতা ভরা ;
আর কোথা কিছু নাহি, শুধু আমি একা!
অনন্ত অম্বর পরে                          ভাব-সমীরণ ভরে
অসীম অমৃত-সিন্ধু আনন্দে মথিয়া,
অশ্রান্ত এ “কুহু”-তান,                    তা’র সনে এহি প্রাণ,
---দুইটি প্রার্থনাসম চলিল ভাসিয়া!


.                  **********************         

.                                                                             
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
মহানিদ্রা
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার আষাঢ় ১৩১৩ (জুন ১৯০৬) সংখ্যা থেকে
নেওয়া।

সংখ্যাতীত তনয়ের জননী আমার,
বুক ফেটে যায় মাগো, হেরিয়া তোমার
হেন দশা! ছিলে রাজ-রাজেন্দ্রাণী দেবী,
কৃতার্থ মানিত বিশ্ব শ্রীচরণ-সেবি’।


.                  **********************         

.                                                                              
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
কন্যার প্রতি
কবি দেবকুমার রায়চৌধুরী
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার অগ্রহায়ণ ১৩১৩ (নভেম্বর ১৯০৬) সংখ্যা থেকে নেওয়া।

ধে’য়ে, নেচে’ নেচে’ আয় ওরে দুলালী আমার!
হাসি হাসি মুখখানি তোর
হেরিলে, নয়ন আমি ফিরা’তে না পারি আর ;
তোরে পেলে হইরে বিভোর!
আয়রে সোনার যাদু, বুকে করে’ রাখি তোরে ;
গণ্ডে দেই শত চুমা আয় ;
দিব আয় রাঙা ফুলে রাঙা দুটি মুঠো ভরে’
আলতা পরা’য়ে দিব পায়।
‘বিছে-হার’ ভাল হ’লে, মোরে কিন্তু দিতে হ’বে
দুই গালে সলোল চুম্বন।
সংগ্রামে বিক্ষত আমি ; ---তুই চুমা দিস্ যবে,
আসে প্রাণে নব-সঞ্জীবন!


.                  **********************              

.                                                                              
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর