কবি দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ীতে। পিতা দ্বিপেন্দ্রনাথ
ঠাকুর ও মাতা সুশীলা দেবী।  দ্বিপেন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কবি দ্বিজেন্দ্রনাথ
ঠাকুর। তাঁর নামের আদি বানান ছিল দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ এই নামের বানান পরিবর্তন করে
রেখেছিলেন দিন+ইন্দ্র অর্থে দিনেন্দ্র। এই বানাটিই বহুলপ্রচারিত। আমরা তাঁর আদি বানানটিই ব্যবহার
করছি।

কবির মাত্র আট বছর বয়সে মাতৃবিয়োগ ঘটলে, পিতা দ্বিতীবার বিবাহ করেন
রাজা রামমোহন রায়ের
পৌত্রী
কবি হেমলতা দেবী কে।

দীনেন্দ্রনাথ কাশিয়াবাগান স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন।
পরে সিটি স্কুল থেকে তিনি প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পাশ করেন। এরপর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে
আইএসসিতে ভর্তি হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পরীক্ষা দেন নি। ১৯০৪ সালে তাঁকে ব্যারিষ্টারি
পড়ানোর জন্য লণ্ডনে পাঠানো হয় কিন্তু ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে সম্ভবত প্রপিতামহ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর  মৃত্যুর
কারণে দেশে ফিরে আসেন। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্যারিষ্টারি পড়ার জন্য পুনরায় লণ্ডনে যান। কিন্তু
এবারেও তিনি পরীক্ষা না দিয়েই দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু লণ্ডনে থেকে তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীতে তালিম
নেন এবং পাশ্চাত্য বাদ্যযন্ত্র বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।

১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তিনি রমণীমোহন চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা বীণাপাণি দেবীকে বিবাহ করেন। উল্লেখ্য
বীণাপাণি দেবী ছিলেন
কবি হেমলতা দেবীর ( দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৎ মা ) ভাইঝি এবং গগনেন্দ্রনাথ
ঠাকুরের বোন
কবি সুনয়নী দেবী-এর কন্যা। অল্প বয়সেই বীণাপাণিদেবী ডিপথেরিয়া রোগে মৃত্যুবরণ করেন
। ১৯০২ সালে কবি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন ক্ষেত্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের একমাত্র কন্যা কমলাদেবীকে।

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে দিনেন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শুরুতে তিনি বাংলা এবং
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়াতেন। পরে অন্যতম সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথাগত
অন্যান্য গানের সাথে সাথে তিনি ধীরে ধীরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন।
পরবর্তীকালে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের স্বরলিপি প্রণয়ন এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের অন্যতম শিক্ষক হিসাবে খ্যাতি
অর্জন করেন।

রবীন্দ্রসঙ্গীতের সূত্রে ইনি
রবীন্দ্রনাথের সহযোগী হয়ে পড়েন। রবীন্দ্রনাথ নূতন কোন গান রচনা করার
পরপরই ইনি স্বেচ্ছায় বা রবীন্দ্রনাথের নির্দেশে শিখে নিতেন। এরপর ইনি সে গানের স্বরলিপি করে সংরক্ষণ
করতেন এবং তা অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকে শিখিয়ে দিতেন। পরবর্তীকালে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ কোনো গান ভুলে
গেলে, তিনি দিনেন্দ্রনাথের স্মরণাপন্ন হতেন।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ফাল্গুনী  নাটকটি দিনেন্দ্রনাথকেই উৎসর্গ করেন
এবং তাঁকে “আমার সকল গানের ভাণ্ডারী” নামে অভিহিত করেন।

দীনেন্দ্রনাথের একটি কাব্যগ্রন্থ “বীণ” প্রকাশিত হয় সম্ভবত ১৯১২ সালে।

আমরা তাঁর রচিত কবিতা নিয়ে মিলনসাগরে চর্চা করছি। এবং বহু খুঁজে, দীনেন্দ্রনাথের মাত্র ছয়টি কবিতা
জোগাড় করতে পেরেছি। তাঁর জীবন ও সঙ্গীত নিয়ে বিশদভাবে পড়তে চাইলে অনুশীলন.অর্গ নামের
ওয়েবসাইটের পাতার এই প্রবন্ধটি অবশ্যপাঠ্য। তাই আমরা পাঠকদের জন্য
সেই পাতার লিংক এখানে
দিয়ে দিলাম।

আমরা  
মিলনসাগরে  কবি দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।   



উত্স -    শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩         
.             
অনুশীলন.অর্গ  ।     


কবি দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৭.০৯.২০১৫
...