কবি গৌতম দত্তর কবিতা
*
আমি ও মুখোশ
কবি গৌতম দত্ত

আমায় চিনি না আমি। এই ভাল, এই মন্দ। সবকিছু ধন্দ মনে হয়।
এই মেঘ, এই রোদ। কেন হয় পাপবোধ ? কেন এত মনের সংশয় ?
মাঝে মাঝে অনেক সময়, এপাশ ওপাশ দেখে কেন ; মন হয়ে ওঠে গাঢ় -
আকন্দের আঠা যেন, কিম্বা ফনী মনসা'র সাদা দুধ বেরোল আবারো।
চলমান ছবি ভাসে মনের আকাশে দ্রুত। ভাঙাগড়া, ওঠাপড়া যত -  
নদীর জলের মত, কখন যে কোনখানে, ভেসে যায় ! আমারই মতো।
নোনতা জলের স্বাদ পেয়ে গেছে ভাবীকাল। বন্দুকে উদ্যত হাতগুলো,
তন্ত্রের সাধনা সারে – সংখ্যায় অবিচারে,  দ্রুত, সব চেনা মুখগুলো –
গুহার আড়াল খোঁজে। অচেনা মুখোশ ভাসে – চারিদিকে কালো কালো।
মনের আরাম খুঁজে ঘরে ফেরা দিনগুলো, আজ যেন কোথায় হারালো !

বিকেলের আলো পড়ে শহরে গ্রামে কিম্বা দূর কোন শহরতলীতে –
আমি খুঁজি মুখোশটা, বিপ্লবের কাছ থেকে কত খানি রয়েছে দূরেতে !

.                             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
সকাল
কবি গৌতম দত্ত

শুধু মনে পড়ে, কত রাত ভোরে তুমি আর আমি, - দুইজনে
দেখিয়াছি কতো, ভোর মাখা আলো ফুটে ওঠে। গাছের পাতায় –
চকমকি সোনা রোদ এলিয়ে রয়েছে যত । তুমি গুনে গুনে,
অবাক ঝাপসা চোখে চেয়ে থাকো অই সব সবুজের গায়।
সংখ্যা ভুলে দুই ঠোঁটে, কামড়া-কামড়ি ক’রে রাগে অনুরাগে
চোখের পাতায় জেগে থাকে অবিরল সুখ। রোদের সে খেলা -
জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে করবীর লাল গালে । যেন জাগে,
তোমার সে ঘুম-ঘোর ; সবুজ পাতার সাথে, ভিজে ওঠে গলা।
গাল বেয়ে ঝরে যায় নোনতা চোখের জল। ভালোবাসা ভাসে,
নরম নরম বুকে । হলুদ কমলা মুখে দেখি আমি আলো –
আমায় ভাসালো কত সুখে, সকাল গড়াল । এত কিছু মিশে,
অপার অপার সুখে, বিস্ময়ে চেয়ে দেখি সকাল ফুরোলো।

.                             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
খেলা
কবি গৌতম দত্ত

যদি তুমি সারারাত, আমার হাতে’তে হাত, রাখো –
আমি তবে চাইবোই - তোমার শরীরে শুধু মাখো  
বকুলের ঝাঁঝে ভরা কিম্বা কামিনী’র ফুলে মেশা
সুরভিত সে সুবাস। তখন ভাসিব আমি, নেশা
কাকে বলে জেনে গিয়ে তোমার নরম বুকে, খেলা
হবে বাকি রাত। আরো হবে কত শত কথা বলা –
তোমার কাঁধেতে মাথা রেখে। চাঁদে’র সে আলো জ্বলে -
জ্বলে ডুবে যাবে, দূর আকাশের গায়। পাখা মেলে
উড়ে যাবে রাত জাগা পাখী ডানা মেলে হায় ! চার
চোখে ইকিড় মিকিড় খেলা শেষ হবে রাত পার
হলে। পূব আকাশের গা’য় শুরু হয়ে যাবে যত
কিছু রঙ আছে তার - ঝকমকি সুর। আরো কতো
সুরে সুরে ডেকে যাবে কত পাখী – তাহাদের শীষে –
ভরে যাবে চার পাশ, আমাদের কানে কানে মিশে
যাবে সেই সব গান, তোমার সে সারা গায়ে ঢেলে
দেব কত শত মিঠে মিঠে চুমু তোমার সে গালে।  
তারপরে, দিন যবে দেবে আলো আমাদের গা’য়
লজ্জা রাঙা মুখে তুমি যাবে চলে ফেলে যে আমায় !

.                     ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
সেদিন যখন
কবি গৌতম দত্ত

সে ছিল আমার প্রথম আলাপ
কত কথা ছিল মনে
অনেক কথাই সুর বেধেঁছিল
সে দিন সবুজ বনে।

তোমার খোঁপায় ফুটে ছিল ফুল
হলুদ কিংবা সাদা -  
এতদিন পরে স্মৃতি হ’ল ভুল
রজনী ? অথবা গাঁদা ?

খোঁপাই ছিল তো তোমার মাথায়
নাকি দুই বেণী ঝুলে – ?
কপালে যে ছিল কুমকুমে টিপ,
সেটা তো যাইনি ভুলে।

চোখের পাতায় ছিল দিগন্ত
মুখেতে সলাজ নেশা,  
পরনে কি, – ছিল ডোরাকাটা শাড়ী ?
হলুদ জামা’য় মেশা ?

সব কিছু মিলে ফুল হয়ে এলে
সেদিন কিশোর মনে –
প্রজাপতি যেন উড়ে চলে যাবে
তক্ষুনি দূর বনে।

লালচে ঠোঁটের সেই ঈশারায়
আমায় পাগল ক’রে -
দুটি হাত দিয়ে ডাকলে আমায়
আলতা রাঙানো স্বরে।

বনের কিনারে ভেসে গেল যেন
তোমার সে কলতান,
লতানো আদলে কাপঁলো শরীর
দুচোখে মায়াবী স্নান।

হঠাত যখনি সরে গেলে দূরে
সবুজ গাছের ফাঁকে -
ঝরা পাতা সব লজ্জা ঢাকল
তোমার পায়ের চাপে।

মনে হল যেন এখুনি বলবে
এসো না আমায় ছূঁতে –
সবুজ আড়ালে হল লুকোচুরি,
আনন্দ, বনে মাতে।

তারপর দূরে সন্ধ্যা ঘনাল –
আকাশটা লালে লাল,
তোমার আঁচল হাতের মুঠোয়,
চেয়ে দেখে মহাকাল।

.          ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
অধিকার
কবি গৌতম দত্ত

সপ্তপদীর রোমান্সে - বর্ণিল স্পর্শে  
মন যখন উলুধ্বনির গমগমে আওয়াজে দিশেহারা,
তখন কি চোখে পড়ে - ?
মেয়েটির অপাপবিদ্ধ মনের অজানা আশঙ্কা।
বেনারসীর খসখসে আওয়াজে,
ঢেকে যায় সব।
মন, আত্মা, শরীর সব, সবকিছু।
আর সবকিছু ছাপিয়ে মাথা তুলতে থাকে,
প্রবাল দ্বীপের মতো
অধিকারের চিরন্তন লালসা।
সে কার ?
মুক্তমনা সেই পুরুষশ্রেষ্ঠের, নাকি –
আজন্মলালিত পুতুলখেলায় বেড়ে ওঠা,
সেই শিহরিত কুমারী’র।
কত আশা, কত স্বপ্ন,
কত প্রতিশ্রুতির
জ্বলজ্বলে তারাগুলো –
ক্রমে ক্রমে পরিণত হয়
উল্কাপিন্ডে।
চার চোখের চাওয়ার সে ঐশ্বর্যের দাম
লাদাখের নেড়া পাহাড়ের মত
প্রতি ক্ষণে দেখা দিতে থাকে।
মধুচন্দ্রিমার সমুদ্রসৈকত ছেড়ে –
উত্তরবায়ুর টানে
ধুসর মরুভূমি এগিয়ে আসতে থাকে, থাকেই।
দিন যায় –
প্রবাহিত নদীর স্রোতের ঘর্ষণে খাঁজ কাটা
পাড়ের পাথরগুলোর মত,
সংসার বহে চলে।
কখনো দুর্মর বেগ,
কখনো বা একটানা প্রবাহে।
এরি মাঝে মাথা তুলে উঠতে থাকে –
অধিকারের গোড়ে মালা গুলো।
আর সেই ধারায় স্নান করতে থাকে –
করতেই থাকে, চিরন্তন
সেই -
মেনে নেওয়ার চিরহরিৎ
মূর্খতার সরু পথ।
কন্যা-জায়া-জননী’র
সেই চলমান ছায়া –
আস্তে আস্তে গিলে খায়,
অধিকারের পাপ।
আর সেই অধিকারের গর্বে গর্বিত
মুখগুলো –
খসে যেতে থাকে চেনা মুখের মুখোশে।
জীবন চলে জীবনের জোয়ার ভাঁটায়।

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রেম
কবি গৌতম দত্ত

মনের গভীরে কখনো যদি বা
অগোচরে প্রেম আসে,
পারবে কি তাকে সাজিয়ে তুলতে  -
বাঁধভাঙা উচ্ছাসে।  
সীমা যদি আজ গাণিতিক জালে  
বাঙ্ময় হতে চায় –
দুরাশা তখন ঘিরবেই জানি
জীবনের আঙিনায়।
বাসো যত ভালো, ততই আমার
সুরের সাতটা তার –
হাসিতে খুশীতে ছন্দে সুরেতে,
মিলেমিশে একাকার।
সেকালের প্রেমে ছিল কত বাধা
লুকোচুরি মাখা রাত –
এখন রঙীন দুনিয়া জুড়েই,
প্রেমহীন উৎপাত।
হৃদয় কি তবে নতুন প্রেমের
সন্ধান খুঁজে ফেরে –
নতুন রঙেতে রাঙিয়ে তুলতে,
মনের’ই অগোচরে।
সাদা আর কালো এই দুটো রঙে
হিরোশিমা আজো ভিজে -
প্রকৃতি আবার মেলেছে পাখনা,
আপন খেয়ালে নিজে !
তবুও এখনো প্রেম জেগে আছে
মানুষ মানুষী মাঝে –
তামাম দুনিয়া সেই মাতনেই,
ফলে ফুলে আজ সাজে।
অচেনা প্রকৃতি দিনে দিনে খোলে
নতুন নতুন রূপে,
জাগাতে প্রেমের সে ভরা জোয়ার,
নির্বাক নিশ্চুপে।

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
সুনীল সাগরে
কবি গৌতম দত্ত

কবিতা যখন কথকতা বলে
সুরের ছন্দে গানে –
তখন তোমার লেখাগুলো ছোটে  
কত না সুদূর পানে।  

নীরার মতন রানী পেয়েছিলে
তোমার জীবন প্রাতে –
নীল আকাশের বুকে ভাসমান
টুকরো মেঘের সাথে।

কত না দুপুর কাটিয়ে দিয়েছি
তোমাকেই নিয়ে বুকে –
চিনেছি শব্দ অক্ষরে মাখা
মুক্তোর মতো ; সুখে।

ছোট ছোট কত ঘটনায় ঘেরা
রঙ বেরঙের মালা –
পড়া শেষ হয়, তবু থেকে যায়,
মনের ভেতরে জ্বালা।

কবিতা, তোমার বাগানের ফুল
প্রজাপতি ওড়া রোদ –
রজনীগন্ধে ভোরের হাওয়ায় –
প্রকৃতির দাম শোধ।

চাঁদের নীলাভ রঙে ভরে ওঠে -
নীরার বিষাদ মুখ;
ঊনিশে বিধবা, গর্ভেতে ধরে -
অপাপবিদ্ধ সুখ।   

তুমিই দিয়েছিলে স্পর্ধার মুখ -
কলেজ মুখর দিনে,
এনেছিলে কত রাতের মোহনা
সেদিনের ফাল্গুনে।

আজো তুমি আছো আমাদের পাশে –
বয়স বেড়েছে বেশ,
পাতা ওল্টালে এখনো হঠাৎ -
কবেকার সেই রেশ।

কত না নীরা’রা এখনো খুঁজছে -
সারা কলকাতা জুড়ে ;
তোমার মতোই প্রেমিকের দেখা –
অন্তরে অন্তরে।

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
মাতৃভূমি
কবি গৌতম দত্ত

কু ঝিক ঝিক স্মৃতির মননে আজ,  
তান্ডব লীলা উড্ডীন গরিয়ান-
স্বপ্ন বিগত, হারিয়েছে বহুদূরে -
অপু দূর্গার হাসিমাখা মুখ ম্লান।

অধিকার আজ ঝান্ডার ঝড়ে উঁচু
স্পর্ধিত মুখ কালো মুখোশেতে ঢাকা ;
পরমাত্মীয় পর হয়ে আসে পথে
কু ঝিক ঝিকে চলে দ্রুতগামী চাকা।

উপলখন্ড হাতে হাতে ফেরে দেখি -
শত-অর্জুন নিবিড় লক্ষ্যে স্থির,
যুদ্ধে হাজির কত না দ্বিপদজন ;
পিছনে কি তবে রাজনীতি গম্ভীর ?

“পুরুষোত্তম” শব্দটা বেঁচে আছে ?
কোন অভিধান কি মানে লিখছে আজ,
নতুন শতকে সবকিছু বদলেছে –
বিপ্লব আজ স্থবির ডাকের সাজ।

তবুতো এখনো মাঝে মাঝে যেন শুনি –
চেতনা আনবে মুক্তি এ পোড়া দেশে।
আধুনিক যত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে,
ভুল হয়েছিল স্বীকৃত অবশেষে।

যাপিত জীবন দিন দিন অধোগামী,
মা বোন ঠাকুমা দিদিমারা ভয়ে বাঁচে –
মাঠে ঘাটে পথে শিকারী শিয়াল জনে, -
এই বুঝি ফেলে গনগনে লাল আঁচে।

নারী শুধু নারী, নারী চাই শুধু রোজ –
যেভাবেই হোক, মারো, ধরো, দাও ফেলে
ঘরে বা বাইরে ধর্ষিতা প্রতি ক্ষণে,
সংখ্যাতত্ত্বে সংখ্যা মাপাই চলে।

জাতীয় লিষ্টে আমাদেরো পরে আছে
সান্ধ্য মেজাজে কত না বক্তা বকে ;
রাত নামলেই সেই নেতা করে খোঁজ
তার মেয়েটা কি ফিরেছে কলেজ থেকে !

দ্বিচারিতা আর চলবে না বেশিদিন –
জাগছে মানুষ, হটবেই নানা মত,
সব শ্রীমতীই যেন ঘরে ফেরে রোজ
এই শপথেই মিলবেই জানি পথ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
স্বাধীনতা
কবি গৌতম দত্ত

স্বাধীনতা মানে নেশায় গভীর রাত,
স্বাধীনতা মানে গলায় তরল জ্বালা –
স্বাধীনতা মানে মাইক ফাটানো ব্যথা,
স্বাধীনতা মানে রাইসের চাঁদ-মালা।

স্বাধীনতা কবে এসেছিল,- মনে পড়ে ?
আকাশে কি ছিল বারুদের বোঝাপড়া ?
কি জানি এখন, আমরা তো মৃতপ্রায় –
ইতিহাস শুধু নেতাদের মন গড়া।

ক্ষুদিরাম নাকি গ্যাস খেয়ে পেল ফাঁসী –
যতীন্দ্রনাথ আজো কি আছেন বেঁচে ?
স্বপ্নে যদি বা চাটগাঁ কখনো আসে –
টনটনে মনে ক্ষোভ আসে নেচে নেচে।

কচিকাঁচা আজ নেতাজী বলতে বোঝে,
পকেটে গোলাপ শিশুদের নিয়ে খেলা -  
আমরাও তাই স্মৃতিকে দিয়েছি ঠেলে –
গোপন গুদামে পচে মরে কথামালা।

বিপ্লবী সব সন্ত্রাসবাদী, লোকে বলে,
রাসবিহারী’র টিকিও পারেনি ছুঁতে -
সুভাষ কি করে কোথায় হারিয়ে গেল ?  
বিনয় বাদল দীনেশে’রা বি-বা-দী’তে।

টিকটিকিগুলো আজো পেনশন পায় –
কত না বিধবা বাড়ীর বাসন মাজে,
তাঁদের স্বামীর রঙীন নকশীকাঁথা –
কেঁদে কেঁদে ফেরে তাঁদের মনের মাঝে।

ঝুটা আজাদীর সেই সব বুলি আজ,
আলকাতরার কালো রঙ দিয়ে মেখে –
প্রশ্ন শুধোয়; কারা কবে বলেছিল ?
নির্‌লজ্জতা হেসে ফেলে মুখ ঢেকে।

আরো আছে কথা, তোজোর কুকুর আজ-
নিজের বানানো দলের ঘরেতে ছবি।
দেখিনা বলতে, “ইতিহাস খুঁড়ে দেখো”,
মিলে মিশে আজ একতারে বাঁধা সব’ই।

স্বাধীনতা মানে দেখেছি লড়াই কতো !
স্বাধীনতা মানে  চুক্তির আলপনা ?
স্বাধীনতা মানে টুকরো টুকরো দেশ ?
স্বাধীনতা মানে শুধুই কি দিন গোনা।
 
স্বাধীনতা শুধু বিভেদ বাড়ায় কেন ?
কেন স্বাধীনতা রাস্তায় ছেঁড়া শাড়ী ?
দুমুঠো ভাতের কেন স্বাধীনতা নেই ?
খরা বন্যায় বারে বারে মহামারী ?

স্বাধীনতা শুধু খদ্দরে মেলে পাখা ?
স্বাধীনতা কেন চরকায় সূতো বোনে ?
স্বাধীনতা আজ ভেঁপুটি বাজিয়ে চলা ?
কেন স্বাধীনতা সবে’তে বিভেদ আনে ?

স্বাধীনতা আজ চুক্তির নোটে ভরা –
দেয়নি শিক্ষা, দেয়নি ঘরের আলো।
তাইতো এমন লুকোচুরি খেলা আজ,
স্বাধীনতা শুধু শ্লোগানে’তে জমকালো।

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
হৃদয় পুড়লে
কবি গৌতম দত্ত

হৃদয় পুড়লে ক্ষতি আছে নাকি কিছু ?
ভালোবাসা শুধু ক্ষণিকের আলাপন ?
তাহলে আমার হৃদয় যাক না পুড়ে,
বুঁদ হয়ে যাবে মনের গোপন কোন।

নেশা কাকে বলে জানি না এখনো আমি
মহুয়ার নেশা শুনেছি জীবনভোর,
কখনো যদি বা হৃদয়ে আগুন জ্বলে
কি দিয়ে নেভাবো আমার হৃদয়-ডোর ?

মাতাল হলে কি ভুলে যাওয়া যায় সব ?
সে কথা যে জানে রোজকার মাতালিয়া-
গভীর নেশায় সে কোন গহন পথে –
বাঁশী কি বাজায় এ কালের বাঁশরিয়া ?

.             ***************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর