শহরবাসী গো পল্লীবাসীর দুঃখ বুঝি যাবে না কবি শেখ গুমানী দেওয়ান লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে, দীপক বিশ্বাস রচিত “কবিগান” (২০০৪) গ্রন্থ থেকে।
শহরবাসী গো পল্লীবাসীর দুঃখ বুঝি যাবে না। সবাই পাবে স্বাধীনতা, এরাই শুধু পাবে না॥
ভারত স্বাধীন, আমরা স্বাধীন, কানে মোরা শুনতে পাই। খুঁজতে গেলেই, বুঝতে পারি, কী স্বাধীনতা আমরা চাই॥ সেই পরাধীনের ভগ্ন দেহ, গড়তে বুঝি নাইরে কেহ। নগ্রপ্রাণের অগ্নিদাহ কি শীতল বারি পাবে না॥
শোবার ঘরে চাঁদের আলো খড় জোটে না ছাউনিতে। বৃষ্টি ভেজা দৃষ্টিহারা কোটর চোখের চাইনি তে॥ শীতে গিয়ে ছিন্ন কাঁথা, বৈশাখে রোদে পুড়ে মাথা। বুকে ব্যথা, জানেনা কথা, তাই কি গো কেউ চাবে না॥
শোষণ পথে তোমরা সাজো, অজ্ঞজাতির প্রাণনাথ। দানের বেলা, সাজো তখন, হাত-পা ঠুটো জগন্নাথ॥ বুঝলেম ইংরেজ বণিক গেল, শোষণ বন্ধু ধনিক এল। খরের খির মালিক গেলে, ঘানিটানা আর রবে না॥
স্বার্থ হরে মুগ্ধ হতে ভাঙলো না কেন ঘুম ঘোর। শহরবাসী থাকলো সেজে মত্ত মাতাল, গাঁজাখোর॥ পল্লির আসে মৃত্যু আবর, তার পাশেই যে তোমার কবর। নামের বেলা বাদশা বাবর, দেশের খবর নেবে না॥ . ****************** . সূচিতে . . .
শুন ভাই পল্লীবাসী, মাঠের চাষি কৃষকের দল কবি শেখ গুমানী দেওয়ান লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে, দীপক বিশ্বাস রচিত “কবিগান” (২০০৪) গ্রন্থ থেকে।
শুন ভাই পল্লীবাসী, মাঠের চাষি কৃষকের দল। মাটি হলি, মাটি খুঁড়ে, ধন্য করে ধরাতল॥
রাত্রিতে বাদুড়ে চুষে, দিনে চুষে ভীমরুল॥ আমবাগানে আমের বদল, কামড় দিস ভাই আমরুল॥ মানুষের যা নেহাত দাবী, লুকায়ে মরল সবাই। তোরা এমনি করে যদি রবি, মানুষ হবার কীবা ফল॥
পেটের তলায় গামছা বেঁধে না খেয়ে জনম কাটালি। ফুটিফাটা রোদের তলে বুকের পাঁজর ফাটালি॥ আজব-স্বাধীন দেশে, ওই ফাটা বুকের রক্ত শোষে। আমাদের দোষে কি বিধির দোষে, ভাঙলো না সে জাঁতিকল॥
ক্যানেল করে আর বাজার দরে, তাজা রক্ত চুষে খায়। হাজার মাথা ভাঙিস যদি চাষির তবু মুক্তি নাই॥ যত দিন যায় ততই জমে, করের বোঝা বাড়ে। এবার ওঝা হয়ে দে ভাই ঝেড়ে, বিষ নেমে যাক রসাতল॥ . ****************** . সূচিতে . . .