কবি শেখ গুমানী দেওয়ান - কবির নাম কোখাও শেখ গুমানী, কোখাও গুমানী দেওয়ান ও কোথাও
শেখ গুমানী দেওয়ান পেয়েছি। কবি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি থানার
জিনদিঘি গ্রামে। পিতা মালিয়াত দেওয়ান ও মাতা আসমানি বিবি ওরফে আরমানি বিবি। কবি এক
বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন।  

কবি, কোনো স্কুল কলেজে পড়াশুনা করেননি। শৈশব থেকেই গান ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। বাল্যকাল থেকেই
তাঁর কবিতার হাত ধরা পড়ে। জিনদিঘির পাশের গাঁ বন্যেশ্বরে জনার্দন কর্মকার নামে এক কবিয়াল ছিলেন।
গুমানী সেখানে প্রায়ই যেতেন। সেখানে কবির লড়াই দেখতেন। বিপক্ষের প্রশ্নের উত্তরে সপক্ষের
উত্তর সুরের সঙ্গে রচনা করে দেওয়া দেখতেন।  সেই রচনা  পরিস্ফুট  না হলে মাঝে মাঝে তা সংশোধন
করে দিতেন। পরে তিনি সম্পূর্ণ রচনা তৈরী করে দিতেন। কিন্তু শাস্ত্রকথা জানতেন না বলে জনার্দন মহাশয়
উত্তর বলে দিতেন। জনার্দন কবিয়াল বুঝতে পারেন এই কিশোরের প্রতিভা এবং তিনিই গুমানীকে শাস্ত্র
অধ্যয়ন করার উপদেশ দেন।

একদিন দুই পাল্লাদারের পাল্লা চলছে। ভোর রাত্রে জনার্দন কর্মকারের অনুরোধে গুমানী মঞ্চে উঠে
একটি পদ মুখে মুখে রচনা করে গান করলেন। রচনার নতুনত্ব এবং ভাষা ও সুরের মাধুর্য মানুষকে আকৃষ্ট
করলো, চারিদিকে হই হই পড়ে গেল। বিপক্ষের পাল্লাদার এই দেখে সকলের অগোচরে সরে পড়লেন।
এরপর গুমানী এককভাবে পাল্লা করার সাহস ও অনুপ্রেরণা পেলেন ভালোবাসার মানুষজনের কাছ থেকে।
এর একবছরের মধ্যে বিখ্যাত কবিয়াল জীবন উড়ের সঙ্গে পাল্লা লড়লেন। জীবন উড়ে সভাস্থলেই তাঁকে
আশীর্বাদ করলেন।

কবিগানে গুমানী প্রথা ভাঙলেন। তিনি প্রথমে ঈশ্বর-বন্দনার সঙ্গে সঞ্জোযন করলেন মানুষের বন্দনার। তাঁর
রচিত বহু গানে রয়েছে মানুষের দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা-স্বাধীনতা নিয়ে রচনা।

তাঁর জীবনে তিনি অসংখ্য আসরে ৬০-৭০ জন কবিয়ালের সঙ্গে পালাগান করেছেন। সাহিত্যরত্ন হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় গুমানীকে “বাণীকণ্ঠ” আখ্যা দেন। সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁকে “চারণ সম্রাট” বলেন। তিনি
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক ভট্টাচার্য, অন্নদাশঙ্কর রায়, শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রমুখদের
সান্নিধ্য লাভ করেন ও প্রসংশা পান।

কবিয়ালদের সমৃদ্ধি ও  যথাযোগ্য সম্মানের  জন্য “চারণকবি সমিতি”  প্রতিষ্ঠার জন্য গুমানী বিশেষ ভূমিকা
নেন। সমিতি তৈরী হওয়ার পরে নানা কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কবিগানের মানোন্নয়নের জন্য কবিগান শিক্ষা
প্রতিষ্ঠার গড়তেও তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং দু-বিঘা জমিও দান করেছিলেন। কিন্তু তাও বাস্তবায়িত
করা সম্ভব হয়নি।

প্রতি ২১শে ফাল্গুন, কবিয়ালের জন্মদিনে, জিনদিঘি গ্রামে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে কবিয়াল মেলা হয়।
  
আমরা
মিলনসাগরে  কবিয়াল শেখ গুমানী দেওয়ানের গান ও কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে
দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে সার্থক বলে মনে করবো।


কবি শেখ গুমানী দেওয়ানের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স - লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে,

.        
 দীপক বিশ্বাস রচিত “কবিগান” (২০০৪) গ্রন্থ


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩.৬.২০১৬
...