কবি কেদারানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
*
বাঙ্গালীটোলা
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

বাঙ্গালীটোলার পথে যেতে ভয় পাই,
ছড়াছড়ি বিল্বপত্র পোড়ে ঠাঁই ঠাঁই।
সূক্ষ্ম আচারীর হেথা বড়ই দুর্গতি,
পূজার পুষ্প মাড়িয়ে চলা সুকঠিন অতি।
স্থান হ’তে স্থানান্তরে --- পায়ে পায়ে সোরে ---
পূজার ফুল আর বিল্বপত্র, বেড়ায় ভ্রমণ কোরে
ষাঁড়গুলো তার কতক খেয়ে করে উপকার,
না হ’লে এসব পথে চলা হোতো ভার।
কাটান্ ছিড়েন্ আছে শুনি, --- “পুষ্পদন্তেশ্বরে” ---
দর্শনে পূজনে, এপাপ স্পর্শ নাহি করে।
ফি-হাত চিত্কারে চলে, --- “খোলা” আর “বন্ধ”,
ত্য-কর্ম্ম সকাল সন্ধ্যা --- জলের তরে দ্বন্দ্ব।
চার তলার ছাত থেকে ছটাক্ খানেক উঠোন্, ---
দেখলে বোধহয় পাহাড়েতে --- কূপ করেছে খনন।

.                     **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
সাধুর-হাট
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

বিশ্বনাথের দরবারেতে নাইক অভাব কিছু,---
উঁচু থেকে নেবে এসো যত পারো নীচু।
জটার ঝোড়া, কেউবা নেড়া, কারো লম্বা চুল,
কেউ দণ্ড, কেউ চিমটে, কেউ ধরে ত্রিশূল ;
হাড়ের মালা, মৃগছালা রক্ত ফোঁটা কা’রো,---
ফটিক্ গলে “রগ্” বগলে, চশমাটা সোনারও ;


.                     **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ঘাটের দৃশ্য
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

যুধিষ্ঠিরের নরক দেখা আর, বরের “কিসের” সরা,---
তার পরেতে স্বর্গ আর “কোণে” লাভ করা ;
দশাশ্বমেধ ঘাটে নাব্ বার আগে নর নারী---
উপরেই দেখে যান --- ময়লার ঝুড়ির সারি!
বিশ ত্রিশ টুকরির সেথা প্রাতে অধিষ্ঠান---
দর্শনান্তে স্নানলাভ করেন ভাগ্যবান।
ময়েলার গাড়ী এসে শেষ্ --- পথটা মেরে দাঁড়ান্,
স্নানান্তে সব ফেরবার সময়, ঝর্ তি মাল মাড়ান্।
গাড়ীর মধ্যে ঢালে যখন --- আবর্জ্জনার ঝুড়ি---
কুড়েমির এমন কেল্লা বড় শক্ত ভোলা,
যেথা, ---অন্নপূর্ণার রান্নাঘর চব্বিশ ঘন্টা খোলা।
ভাল’ যাঁরা ভালই আছেন, তাই আজও কাশী---
হ’য়ে আছেন মহাক্ষেত্র তীর্থ অবিনাশী।

.                     **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফেরারের সন্ধান
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

পালানো ছেলের যদি করতে হয় খোঁজ্---
গঙ্গাতীরে বৈকালেতে এলে তিনটি রোজ,
অথবা চায়ের আড্ডা, কিম্বা বাজার বেলা,
নিঃসন্দেহ বাবাজীকে যাবে ধোরে ফেলা।

.                  **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
অহল্যা-ঘাটের বত্রিশ সিংহাসন
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

বৈকালে অহল্যাঘাটে বেজায় মজ্ লিস্---
সপ্তমেতে চ’ড়ে যেন লড়িছে মহিষ।
কোন’ প্রৌঢ় উচ্চ কণ্ঠে পড়েন “রাজলক্ষী”
বৃদ্ধেরা শোনেন বসি --- হ’য়ে গরুড় পক্ষী!
শ্রীশঙ্কর, রামানুজ কিম্বা শ্রীচৈতন্য---
সর্ব্বদাই শশঙ্কিত ইহাদের জন্য ;


.                     **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
পেন্ সনার ও বিপত্নীকের পিঁজরাপোল্
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

পেন্ সনার আর বিপত্নীকের পিঁজরাপোলের মত-
কাশীধামের অনেক অংশই --- হ’চ্ছে পরিণত।
বিপত্নীক কাশী এলে --- থাকেন শুনি বেশ,---
অনেকেরই ভুগতে হয় না --- অনেক রকম ক্লেশ!
বেশ্যারাও এখন দেখি --- বয়স গেলে পর ---
দেশ ছেড়ে এখানে এসে, ক’র্ চে ভরম্ভর।
অভাগা বাঙ্গালীর টাকা --- আসছে হেথা ভেসে,
ন-দেবায় ন-ধর্ম্মায় --- ডুব্ তেছে বিদেশে!
বিরাগ ভরে বিলাস ছেড়ে --- আসেন কাশীধাম,---
এমন ভক্তেরে করি সহস্র প্রণাম।

.                  **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
গ্রহণেচ কাশী
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

চিরদিনই শোনা ছিল --- “গ্রহণেচ কাশী”
সচক্ষে তার প্রভাব আজ দেখলাম হেথা আসি
বিস্ময়-স্তম্ভিত হয়ে সেই দৃশ্য দেখে,---
আপনি উচ্ছ্বাসি উঠে --- স্তব্ধ প্রাণ থেকে---
---“একি কাণ্ড ওহে নাথ ব্রহ্মাণ্ডের স্বামী,
গ্রহণে করিতে স্নান আসিয়াছি নামি!
কত রূপে কত ভাবে, কত ক্লেশ সয়ে,---
একি মেলা একি খেলা, এত রূপ হয়ে!


.                  **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ্রীষাঁড় মহাশয়
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

হৃষ্ট পুষ্ট ক্ষুদ্র হাতী, --- ফিরতেছে ষাঁড়গুলো,
যার পেলে খেলে, আর যেথা পেলে শুলো।
জমীদারের ছেলে যেন’, চিন্তা নাইক’ কিছু,
বে-পরোয়া চলে যায়, চায়না আগু পিছু ;
অলি গলি রাস্তা ঘাটে --- ভাগীরথী তীরে---
কেউ দাঁড়ায়ে কেউ বা শুয়ে, --- কেউবা বেড়ায় ফিরে
আদরে আহারে বেশ নাদুশ্ নুদুশ্,
কে আসে কে যায়, তার নাহি কিছু হুঁস্।
কথা বার্ত্তায় “কেয়ার” নেই---চড়ে বা চাপড়ে,---
বাদশাহী চালে থাকে --- কিছুতে না নড়ে।
দক্ষ ডিপ্লোম্যাট্ সম, ঘুতুঁতে চাহে না,
মতলব হাসিল্ তরে মাথাটি নাড়ে না ;
চোরেরাই পুঁট্ লি সরায়, --- পাওনাদারে টানে,
পূর্ব্বাপর এই রীতি --- সকলে বাখানে।


.                  **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ্রীমান বানর
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

ত্রেতাযুগে পোষ্যপুত্র নিলা রঘুমণি,---
অনিষ্টের অবতার --- দুষ্ট শিরোমণি!
অমর হইল সবে, সেতু বেঁধে তাঁর,
এখন সে কেতু হ’য়ে ভাঙে ঘর দ্বার!
বাঙালীটোলার তারা নিয়েছে ইজারা,


.                  **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
মা গঙ্গার নাভিশ্বাস
কবি কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দি শর্মার “কাশীর কিঞ্চিৎ” থেকে নেওয়া।

অনেক হিন্দু রাজা রাণী --- আলো করেন হিন্দুস্থান,
অনেকেরি অনেক কীর্ত্তি --- কাশী ক্ষেত্রে বর্ত্তমান।
কারো ঘাট কারো প্রাসাদ --- মন্দির মঠ অতিথশালা,---
চারি দিকে সানাই বাজে, --- পূর্ব্ব কীর্ত্তির যশোমালা।


.                             **************************  
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর