উত্স - ডঃ শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।
.         
  সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত  ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালী চরিতাভিধান, ১৯৮৮।
.           
কটন কলেজ গৌহাটির ওয়েবসাইট   
.           
ট্যাগোরওয়েব.ইন      
.           
www.istishon.com           
.           বাংলাপেডিয়া           



কবি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩.৫.২০১৬
...
কবি প্রফুল্লচন্দ্র রায়
১। প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কবিতা      
২। প্রথম কবি(?) আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ( সংক্ষিপ্ত জীবনী )   
৩। দ্বিতীয় কবি(?) প্রফুল্লচন্দ্র রায় ( সংক্ষিপ্ত জীবনী )    
৪।
সিদ্ধান্ত এবং সর্বসমক্ষে আবেদন!        
৫।
উত্স     
প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কবিতা - পুরানো পত্রিকা ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমরা প্রফুল্লচন্দ্র রায় নামের এক কবির
একটি কবিতা পেয়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণের পরে, সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মাসিক
বসুমতী” পত্রিকার ভাদ্র ১৩৪৮ (অগাস্ট ১৯৪১) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল “রবি-প্রয়াণ”  নামক  এই  
কবিতাটি। কবির নামের জায়গায় ছাপা হয়  “শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র রায়”। আমরা ওই সময়কার (১৯৩২ থেকে
১৯৫৬ সময়কালের মধ্যে) বহু পত্র-পত্রিকায় খুঁজে দেখেছি। প্রকাশিত কবিদের মধ্যে আরেকজন ঐ নামের
কবি খুঁজে পাইনি। কিন্তু প্রফুল্লচন্দ্র রায় নামে সেই সময়ে দুজনের সন্ধান আমরা পেয়েছি। প্রথম জন
আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, যাঁর সঙ্গে মাসিক বসুমতীর সুসম্পর্ক ছিল এবং দ্বিতীয়জন গৌহাটির কটন কলেজের
ইংরেজীর বিশিষ্ট অধ্যাপক প্রফুল্লচন্দ্র রায়। দুজনেরই কবি-সত্তার কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে এর পূর্বে
ছিল না। তাই এই কবিতাটি কার লেখা তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারছিনা।

মাসিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্য কবি যেমন বিজয়চন্দ্র মজুমদার বা অপূর্বকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্যের নামের
সঙ্গে আগে বা পরে কোথাও কোথাও আচার্য্য শব্দটি ব্যবহার করা হলেও কবি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ক্ষেত্রে তা
করা হয়নি। কিন্তু মাসিক বসুমতী পত্রিকারই ভাদ্র ১৩৩৮ (অগাস্ট ১৯৩১) সংখ্যায় তাঁর “চা-পান ও দেশের
সর্বনাশ” প্রবন্ধের শেষে লেখকের জায়গায় রয়েছে শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র রায় (আচার্য্য)।  এমন হতে পারে যে
রবীন্দ্রনাথকে উত্সর্গ করা কবিতায় তিনি নিজেই নিষেধ করে থাকতে পারেন, তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বিনয়-ভাবের
জন্য।

আমাদের মনে হয়েছে যে তিনি এমন একটি কবিতা লিখতেই পারতেন। তাঁর বাংলাভাষার প্রতি দরদ ও
ভাষার উপর দখল বিতর্কের উর্ধে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধার।  

রবীন্দ্রনাথকে, ১৯১১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের তরফ থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল কলকাতায়, তাঁর
পঞ্চাশতম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে। এটাই ছিল কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলের, রবীন্দ্রনাথকে দেওয়া প্রথম বড়
সম্বর্ধনা, তাঁর নোবেল পাবার আগে। সেই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়। তাই
রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের পরে তিনি এরকম মর্মস্পর্ষী একটি কবিতা লিখবেন এতে বিস্মিত হবার কিছু নেই।

অন্যদিকে ২৫ অগ্রহায়ণ ১৩৩৯ (ডিসেম্বর ১৯৩২), কলকাতার টাউন হলে অনুষ্ঠিত আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের
সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উত্সবের সভায়, সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তাঁর ভাষণে আচার্যের প্রতি শ্রদ্ধার্পণ
করে বলেন . . .

“আমরা দুজনে সহযাত্রী।

কালের তরীতে আমরা প্রায় এক ঘাটে এসে পৌঁচেছি।  কর্মের  ব্রতেও বিধাতা আমাদের কিছু মিল ঘটিয়েছেন।

আমি প্রফুল্লচন্দ্রকে তাঁর সেই আসনে অভিবাদন জানাই, যে আসনে প্রতিষ্ঠিত থেকে তিনি তাঁর ছাত্রের চিত্তকে উদ্বোধিত করেছেন, ---
কেবলমাত্র তাকে জ্ঞান দেন নি, নিজেকে দিয়েছেন, যে দানের প্রভাবে ছাত্র নিজেকেই পেয়েছে।

বস্তুজগতে প্রচ্ছন্ন শক্তিকে উদ্‌ঘাটিত করেন বৈজ্ঞানিক, আচার্য প্রফুল্ল তার চেয়ে গভীরে প্রবেশ করেছেন, কত যুবকের মনোলোকে
ব্যক্ত করেচেন তার গুহাহিত অনভিব্যক্ত দৃষ্টিশক্তি, বিচারশক্তি, বোধশক্তি। সংসারে জ্ঞানতপস্বী দুর্লভ নয়, কিন্তু মানুষের মনের
মধ্যে চরিত্রের ক্রিয়া প্রভাবে তাকে ক্রিয়াবান করতে পারেন এমন মনীষী সংসারে কদাচ দেখতে পাওয়া যায়।

উপনিষদে কথিত আছে, যিনি এক তিনি বললেন, আমি বহু হব। সৃষ্টির মূলে এই আত্মবিসর্জনের ইচ্ছা। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের সৃষ্টিও
সেই ইচ্ছার নিয়মে। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে তিনি বহু হয়েচেন, নিজের চিত্তকে সঞ্জীবিত করেচেন বহু চিত্তের মধ্যে। নিজেকে
অকৃপণভাবে সম্পূর্ণ দান না করলে এ কখনো সম্ভব হোত না। এই যে আত্মদানমূলক সৃষ্টিশক্তি ও দৈবীশক্তি। আচার্যর এই শক্তির
মহিমা জরাগ্রস্ত হবে না। তরুণের হৃদয়ে হৃদয়ে নবনবোন্মেষশালিনী বুদ্ধির মধ্য দিয়ে তা দূরকালে প্রসারিত হবে। দুঃসাধ্য
অধ্যবসায়ে জয় করবে নব নব জ্ঞানের সম্পদ। আচার্য্য নিজের জয়কীর্ত্তি নিজে স্থাপন করেছেন উদ্যমশীল জীবনের ক্ষেত্রে, পাথর
দিয়ে নয় --- প্রেম দিয়ে। আমরাও তাঁর জয়ধ্বনি করি।

প্রথম বয়সে তাঁর প্রতিভা বিদ্যাবিতানে মুকুলিত হয়েছিল ; আজ তাঁর সেই প্রতিভার প্রফুল্লতা নানা দলবিকাশ করে দেশের হৃদয়ের
মধ্যে উদ্বারিত হোলো। সেই লোককান্ত প্রতিভা আজ অর্ঘ্যরূপে ভারতের বেদীমূলে নিবেদিত। ভারতবর্ষ তাকে গ্রহণ করেচেন, সে
তাঁর কণ্ঠমালায় ভূষণরূপে নিত্য হয়ে রইল। ভারতের আশীর্বাদের সঙ্গে আজ আমাদের সাধুবাদ মিলিত হয়ে তাঁর মাহাত্ম্য
উদঘোষণ করুক।”

যে পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণে লেখা কবিতাটি ছাপা হয়েছিল সেই “মাসিক বসুমতী” পত্রিকার সম্পাদক
সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আমরা দেখতে পাই, তাতে
মনে হচ্ছে যে তিনি এই কবিতাটি এই পত্রিকার জন্য লিখে পাঠিয়ে থাকতেও পারেন। সতীশচন্দ্রের পুত্র
রামচন্দ্রের মাত্র ২৪ বছর বয়সে অকস্মাৎ অকালমৃত্যুর পরে আচার্য্য একটি শোকবার্তা লিখে
পাঠিয়েছিলেন, যা মাসিক বসুমতীর ফাল্গুন ১৩৫০ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় প্রথম পাতাতে।

“অন্য কোনও বিশেষ কার্য্যভার গ্রহণ করিবার জন্য রামচন্দ্রের ডাক পড়িল --- ইহা মনে করিয়া তাহার
আত্মার ঊর্দ্ধগতি কামনা করি।”
--- আচার্য্য শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র রায়।

এর ঠিক দু মাসের মাথায় সতীশচন্দ্রর অকাল প্রয়াণ ঘটে। তখনও প্রফুল্লচন্দ্রের শোকবার্তা দেখতে পাই
মাসিক বসুমতীর বৈশাখ ১৩৫০ (এপ্রিল ১৯৪৪) এর সংখ্যার, প্রথম পাতাতেই। এর থেকে মনে হয় যে এই
পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্রের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল।

দ্বিতীয় প্রফুল্লচন্দ্র রায় এর মাসিক বসুমতী পত্রিকার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত স্তরের যোগাযোগ চোখে পড়েনি।
তিনি ইংরেজীর অধ্যাপক ছিলেন গৌহাটির কটন কলেজের, মানে আসামই ছিল তাঁর মূল কর্মভূমি।

যে দুজন প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে আমরা পেয়েছি, তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী নীচে দেওয়া হলো . . .
*
*
প্রথম কবি(?) আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (০২. ০৮. ১৮৬১ ~ ১৬. ০৬. ১৯৪৪ ) - জন্মগ্রহণ
করেন অবিভক্ত বাংলার যশোহর (পরবর্তীকালে খুলনা) জেলার রাড়ুলি গ্রামে। পিতা হরিশচন্দ্র রায় ও
মাতা ভূবনমোহিনী দেবী। তাঁরা ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী ছিলেন।

তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ, অধ্যাপক ও ভারতবর্ষের প্রথম রাসায়নিক শিল্প-প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল
কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি কলকাতার অ্যালবার্ট স্কুল থেকে ১৮৭৯ সালে এনট্রান্স পাশ করে, মেট্রোপলিটান ও প্রেসিডেন্সী কলেজ
ভর্তি হন। বি.এ. পরীক্ষার আগে গিলক্রাইস্ট বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিলেত যাত্রা করেন ১৮৮২ সালে।
সেখানে প্রথমে বি.এসসি পাশ করেন এবং ১৮৮৭ সালে রসায়নশাস্ত্রে মৌলিক গবেষণার জন্য এডিনবরা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.এসসি ডিগ্রি ও হোপ পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৮৮৮ সালে তিনি দেশে ফেরেন এবং
১৮৮৯ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজে রসায়নের সহকারী অধ্যাপকের কাজে যোগ দেন। ১৯১১ সালে তিনি প্রধান
অধ্যাপকের পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯১৬ সালে অবসর নিয়ে তিনি কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের
রসায়ন বিভাগে “পালিত অধ্যাপক” হন এবং ১৯৩৬ পর্যন্ত সেই পদেই কর্মরত থাকেন। ১৮৯৬ সালে তিনি
মার্কিউরাস নাইট্রেট তৈরীর পদ্ধতির উপর একটি পেপার পাবলিশ করেন ( আবিস্কার করেন )। এর জন্য
তাঁকে “ফাদার অফ নাইট্রেটস” বলা হয়।

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যাণ্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড” কারখানার। দেশী
শিল্প ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসারে তাঁর অদম্য উত্সাহ ছিল।

১৯২৪ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি “যাদপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়”-এর সভাপতি ছিলেন। ১৯২৪ সালে তাঁর
প্রেরণা ও অর্থ সাহায্যে “ইণ্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি” প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাঁর প্রকাশিত রচনার মধ্যে রয়েছে
India before and after the Mutiny (ইংল্যাণ্ডে থাকাকালীন প্রকাশিত,
১৮৮৫),
History of Hindu Chemistry (দুই খণ্ডে ১৯০২, ১৯০৯), বাঙ্গালীর মস্তিষ্ক ও তাহার অপব্যবহার
(১৯১০),
Life and Experiences of a Bengali Chemist (দুই খণ্ডে ১৯৩২, ১৯৩৫), অন্নসমস্যায় বাঙ্গালীর পরাজয়
ও তাহার প্রতিকার (১৯৩৬) প্রভৃতি।    

ইতিহাস, ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। ইংরেজি ও বাংলায় লেখা তাঁর
বহু প্রবন্ধ ও গ্রন্থাবলি তাঁর সাহিত্য সাধনার পরিচায়ক। বাংলাভাষায় বিজ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠনের
প্রবর্তনের তিনি একজন প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। ১৯১০ সালে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন
ও ১৯২০ সালে অনুষ্ঠিত ভারতীয় বিজ্ঞানসভার তিনিই সভাপতিত্ব করেছিলেন। ১৯৩১ - ১৯৩৪ সময়কালের
জন্য তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি পদে ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি সহকারী সভাপতির
পদ অলংকৃত করেছেন।

১৯০৩ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যালেই যোগদান করেন রসায়নের স্নাতকোত্তর রাজশেখর বসু যিনি
পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন চলন্তিকার মতো বাংলা অভিধান।

১৯১১ সালে আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে ব্রিটিশ সরকার
C.I.I. (Companion of the Order of the Indian Empire)
এবং ১৯১৭ সালে তাঁকে নাইটেড করা হয় অর্থাৎ Sir উপাধি প্রদান করা হয়। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়,
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, মিউনিখের ডয়েশ বিশ্ববিদ্যালয়
(Deutsche Akademie) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
তাঁকে সাম্মানিক ডিগ্রি দিয়ে ভূষিত করে।    

প্রফুল্লচন্দ্র চিরকুমার ছিলেন এবং এক দৃষ্টান্তমূলক অনাড়ম্ব জীবন যাপন করে গিয়েছেন। সর্ববিধ জাতীয়
শিক্ষা ও শিল্পোদ্যোগের প্রতি ছিল তাঁর অকৃপণ সহায়তা। মানব কল্যাণে তাঁর নিজস্ব উপার্জিত অর্থের
অকাতর বিতরণ তাঁকে দেশবাসীর অন্তরে বিশিষ্ট আসনে বসিয়েছে। তাঁর, শিক্ষা বিস্তারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে,
দরিদ্র ছাত্রদের অর্থসাহায্যের কথা প্রবাদপ্রতীম। জাতিভেদ, বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা প্রভৃতি সামাজিক
কুসংস্কারের তিনি বিরোধী ছিলেন। সর্বোপরি স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতি
ছিল। বৃটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে স্যার পি সি রায়ের নাম নাকি লেখা ছিল ‘বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী’। তিনি স্বদেশি
আন্দোলনের প্রথম পর্যায় থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৯০৫ এ বঙ্গভঙ্গর ঘোষণাকে কেন্দ্র
করে যখন বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলন সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন গোপনে অস্ত্র ক্রয়ের জন্য তিনি বিপ্লবীদের
অর্থ সাহায্য করতেন। ১৯১৬ সালে কলকাতায় তিনিই প্রথমবারের জন্য মহাত্মা গান্ধীর জনসভার আয়োজন
করেছিলেন।

তাঁর রচনাবলিতে তাঁর লেখা কোনো কবিতা রয়েছে কি না তা আমরা জানি না। কোনো পাঠক যদি তেমন
কোনো কবিতা খুঁজে পান তাহলে আমরা প্রেরকের নাম দিয়ে এখানে তা প্রকাশ করবো।
*
দ্বিতীয় কবি(?) প্রফুল্লচন্দ্র রায় ( ১৮৯০ - ১৯৭০ ) - সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু
সম্পাদিত “সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান” সংকলনে, রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের সময়কালে, এই বিশিষ্ট বাঙালী
অধ্যাপক, প্রফুল্লচন্দ্র রায় কে আমরা, পাই।  তিনি  ছিলেন বেহালার,  জমিদার সাবর্ণ চৌধুরী পরিবারের
সন্তান। ১৯১০ সালে তিনি গৌহাটির কটন কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০
সালে তিনি সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে
খ্যাতি লাভ
করেছিলেন। তাঁর, সমাজসেবা, সংগীত, নাটক ও খেলাধুলায় যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। অসমের লন টেনিস খেলার
জনক হিসেবে তাঁর নামই উঠে আসে। সেকালের কলকাতার কোন পত্র-পত্রিকাতেই, এখনও পর্যন্ত, অন্য
কোনো যায়গায় তাঁর উল্লেখ পাইনি বা তাঁর নাম উঠে আসেনি।  


এই কবির আমরা কোনো ছবি পাইনি।


তিনি কবি ছিলেন কি না আমরা জানি না। তাঁর লেখালেখি সম্বন্ধে আমরা কোনো তথ্যই যোগাড় করতে
পারিনি।

তাঁরও কোনো রচনাবলিতে তাঁর লেখা কোনো কবিতা রয়েছে কি না তা আমরা জানি না। কোনো পাঠক
যদি তেমন কোনো কবিতা খুঁজে পান তাহলে আমরা প্রেরকের নাম দিয়ে এখানে তা প্রকাশ করবো।
  
*
সিদ্ধান্ত - আমাদের মনে হচ্ছে যে এই কবিতাটি প্রথম প্রফুল্লচন্দ্র রায়েরই (আচার্য্য) লেখা হবার
সম্ভাবনা বেশী।
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো এই যে যে পত্রিকায় কবিতাটি ছাপা হয়েছিল,
সেই পত্রিকার সঙ্গে আমরা আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্রের যোগাযোগ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।


সর্বসমক্ষে আবেদন        
কোনো পাঠক যদি আমাদের সঠিক তথ্য-প্রমাণ সহ জানাতে পারেন যে এই কবিতাটি অন্য
কোনো কবির লেখা তাহলে আমরা, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ, তাঁর নাম এই পাতায় প্রকাশিত করবো
এইপাতার সংশোধনী সহ।



আমরা  মিলনসাগরে  কবি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।   
*
প্রথম কবি আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
<<< ছবি, সৌজন্যে
http://www.telegraphindia.com/
^^^এই পাতার উপরের সূচীতে . . .
^^^এই পাতার উপরের সূচীতে . . .
^^^এই পাতার উপরের সূচীতে . . .
^^^এই পাতার উপরের সূচীতে . . .
^^^এই পাতার উপরের সূচীতে . . .