কেউ যদি এই কবি সম্বন্ধে আরও তথ্য এবং তাঁর একটি ভাল ছবি আমাদের পাঠান তাহলে আমরা
কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।

আমরা  মিলনসাগরে  কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে  দিতে পারলে
এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।




কবি রমণীমোহন ঘোষের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।       


উত্স -
  • প্রিয়নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ “স্বর্গীয় রমণীমোহন ঘোষ”, “মানসী ও মর্ম্মবাণী” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫
    (জুন ১৯২৮) সংখ্যা।
  • হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য বিদ্যাবিনোদ, কাব্য-ব্যাকরণ-পুরাণ-কৃততীর্থ সম্পাদিত "মাতৃবন্দনা, দেশাত্মবোধক
    সঙ্গীত ও কবিতার সংকলন (১৭৪১-১৯৪৭)", ১৯৬০।
  • নন্দিতা বসু ও কবি দিলীপ কুমার বসু, নন্দিতা বসুর ফেসবুক পোস্ট, ২৩.৭.২০২০।
  • র্কাইভ.অর্গ ওয়েবসাইট থেকে কবির "মুকুর" কাব্যগ্রন্থ এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।
  • West Bengal Public Library Network থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।
  • ক্রসএশিয়া.অর্গ থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।
  • উইকিসোর্স থেকে "আর্য্যবর্ত্ত" পত্রিকার একটি কবিতা।
  • আন্তর্জাতিক ওয়েবনিয়ার ‘বাংলা বিপ্লবী উপন্যাসের ধারা’ অনুষ্ঠিত নিউজজি ডেস্ক, ১৯ জুলাই ,
    ২০২০।




আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     



৯টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৯.১.২০১৬।
৬৭টি নতুন কবিতা ও ছবি সহ মোট ৭৬টি কবিতা নিয়ে এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১১.৮.২০২০।




...                                                                                             পাতার উপরে . . .    
কবি রমণীমোহন ঘোষ - ১৯৬০ সালে প্রকাশিত,
হেমেন্দ্র ভট্টাচার্য্য সংকলিত ও সম্পাদিত “মাতৃবন্দনা”
দেশাত্মবোধক  সঙ্গীত  ও  কবিতার  সঙ্কলন অনুযায়ী
কবি জন্মগ্রহণ করেন রাজশাহী জেলায়। কিন্তু
মহারাজ
জগদিন্দ্রনাথ  রায়    ও   প্রভাতকুমার   মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৫ (জুন ১৯২৮) সংখ্যায় প্রকাশিত প্রিয়নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
তাঁর প্রবন্ধ “স্বর্গীয় রমণীমোহন ঘোষ”-এ  লিখেছেন যে কবির  জন্ম  হয়  ১৮৭৫ সালে, ঢাকা জেলার অন্তর্গত
মাণিকগঞ্জ মবকুমার বগুরী গ্রামে।  

কবির পিতা প্যারীমোহন ঘোষ ছিলেন কালেক্টারীর সেরেস্তাদার। তাঁদের  নিবাস ছিল  ঢাকা। কবির  মাত্র
২ বছর বয়সে তাঁর পিতৃবিয়োগ  হয় এবং তাঁকে মানুষ  করেন তাঁর  জ্যাঠমশাই  হরিমোহন  ঘোষ, যিনি
ছিলেন পুলিশ ইনস্পেক্টর।  

ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনে তিনি দুইবার বিবাহ করেছিলেন। প্রথম পক্ষের পুত্র নলিনীমোহন ঘোষ এম.
এ. ক’রে ওকালতী পাশ করেন। কবির অকস্মাৎ মৃত্যুর পরে নলিনীমোহনকে সরকার থেকে,
ডাক বিভাগের  সুপারিন্টেনডেন্ট পদে  বহাল  করা  হয়। কবির  তিন  কন্যার  কথাও  কবির  বন্ধু  
প্রিয়নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,  
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায়প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত "মানসী ও
মর্ম্মবাণী" পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ  ১৩৩৫ সংখ্যায় (জুন ১৯২৮) প্রকাশিত “স্বর্গীয় রমণীমোহন ঘোষ” প্রবন্ধে উল্লেখ
করেছেন। কবির মৃত্যুর  সময়ে  তাঁর প্রথম পক্ষের কন্যাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কবির  প্রথমা  পত্নী-
বিয়োগের  পরে  মূলত  তাঁর  মায়ের  পীড়াপীড়িতেই বহুদিন পরে তিনি আবার বিবাহ করেন। উক্ত প্রবন্ধে
কবির দ্বিতীয় পক্ষের  সন্তানদের উল্লেখ থাকলেও, তাঁরা কবির মৃত্যুর  সময়ে  নাবালক  ছিলেন  বলে  
উল্লেখ করা রয়েছে।  তাঁদের মধ্যে পুত্র-কন্যা কয়জন ছিলেন তার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

কলকাতার ভবানীপুরের জাস্টিস রমেশচন্দ্র মিত্র রোডে তিনি  নিজের  বাসভবন  নির্মান ক’রে বসবাস শুরু
করেছিলেন।
কবি রমণীমোহন ঘোষের শিক্ষা জীবন     
কবি রমণীমোহন ঘোষের কর্ম জীবন   
কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা    
কবি রমণীমোহন ঘোষের রচনাসম্ভার   
*
কবি রমণীমোহন ঘোষের শিক্ষা জীবন -                                          পাতার উপরে . . .    
তাঁর স্কুলজীবন সম্বন্ধে কিছু জানা না গেলেও কবি  রমণীমোহন ঘোষ  তাঁর কলেজ জীবন কাটান কলকাতার
প্রেসিডেন্সী কলেজে। যদুনাথ সরকার (পরবর্তীতে স্যার) সেই সময় প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যাপনা করতেন।
কবি ইডেন  হিন্দু  হস্টেল  থেকে  যদুনাথ  সরকারের  সহযোগিতায়  একটি  সাময়িক  পত্রিকা  প্রকাশিত
করেছিলেন, এই কাজের জন্য তাঁর সুখ্যাতিও হয়েছিল।
*
কবি রমণীমোহন ঘোষের কর্ম জীবন -                                            পাতার উপরে . . .    
কবি রমণীমোহন ঘোষ  তাঁর  কর্মজীবনে  বহু  যায়গায়  ডাকবিভাগের  নানা  পদ  অলঙ্কৃত  করেন। তিনি
কলকাতায় ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলের উচ্চপদেও উন্নীত হয়েছিলেন। এর পরে তিনি পোস্ট অ্যাণ্ড
টেলিগ্রাফ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডাইরেকটর জেনারেল হয়ে দিল্লীতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি
ডাক-কর্মীদের কাজের সুবিধা এবং অধিকার নিয়েও কাজ করেছিলেন। দিল্লীর পশ্চিম প্যাটেল নগরে, “দাদা
ঘোষ ভবন”  নামে  একটি  ডাকঘর  রয়েছে।  তাঁরই  স্মৃতিতে  এই ডাকঘরটির নামকরণ করা হয়েছিল।
অধ্যাপক নন্দিতা বসুর ২৩.৭.২০২০ তারিখের  ফেসবুক  পোস্টে,  
কবি দিলীপ কুমার বসুর দেওয়া তথ্য
অনুযায়ী আমরা এই কথা জানতে পারি।
সেই পোস্টে যেতে . . .
*
কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা -                                                   পাতার উপরে . . .    
মূলত রোমান্টিক কবি, রমণীমোহন ঘোষের বেশ কয়েকটি কবিতা, গান হয়ে স্বদেশী আন্দোলনকারীদের
মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছিল, যা আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সংকলনে দেখতে পাই।

তাঁর লেখা গান, স্বদেশীদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করা, ব্রিটিশ সরকারের ভ্রুকুটির যথেষ্ট কারণ হয়ে
দাঁড়িয়েছিল। উচ্চপদস্থ সরকারী চাকুরে থাকার সুবাদে তাঁর উপরে নিশ্চয়ই চাপ ছিল ব্রিটিশ সরকারের
বিষনজর  বাঁচিয়ে  চলার।  সম্ভবত  সেই  কারণেই  তাঁকে  আমরা  দেখি, ১৯১১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর,
ইংল্যাণ্ডের রাজা ৫ম জর্জ ও রাণী মেরীর কলকাতায় আগমন উপলক্ষে “বঙ্গমঙ্গল” নামক কবিতাটি লিখে
“ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন” পত্রিকায় প্রকাশিত করতে। এই পত্রিকাটিতে বাংলা ও ইংরেজী, দুটি  ভাষায়
লেখা থাকতো। স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজী ভাষার পাঠককুলের নাগালের মধ্যেই ছিল এই পত্রিকা।

“বঙ্গমঙ্গল” কবিতাটি জুড়ে ব্রিটিশ রাজা-রাণীর বন্দনা না করে তিনি বঙ্গদেশ ও বঙ্গমাতার বর্ণনা-বন্দনা  
করেছেন। শেষে রাজা-রাণীকে এ দেশ ঘুরে দেখে, প্রকৃতির শোভায় আনন্দলাভ করতে বলে প্রীতি-অর্ঘ্য  
উপহার জানিয়েছেন। কবিতার শেষ স্তবকে কবি রাজাকে বলেছেন . . .

এসগো বঙ্গে মহিষী সঙ্গে,
.        হের প্রকৃতির মোহন সাজ ;
নির্ম্মল পূত প্রীতি অর্ঘ্য
.        লহ উপহার, ভারত-রাজ
!

বদলির চাকরি ছিল বলে, কবিকে কর্মসূত্রে বিভিন্ন  স্থানে  গিয়ে  থাকতে  হয়েছিল। তাঁর সেই প্রবাসকালে
বাংলায় শরতের আগমনে তাঁর বিরহ ব্যথা ব্যক্ত  করেছেন  তাঁর  “প্রবাসী” কবিতায়। অনেক কবিতাতেই
তাঁর প্রিয়জন বিচ্ছেদ ও বিরহ প্রাধান্য পেয়েছে।

কবির “শিবাজী ও সুন্দরী” কবিতাটিও আজকের দিনে,  আরেকটি অতি উল্লেখযোগ্য কবিতা। মারাঠাধীশ
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি ঐতিহাসিক  সত্য  ঘটনাকে  কেন্দ্র  করে লেখা এই কবিতাটি। একবার
কল্যাণের শাসক মুল্লা আহমেদ কে  যুদ্ধে  পরাজিত ক’রে, তাঁর পরিবারবর্গকে শিবাজীর সেনাপতি আবাজী
সোণদেব  আটক  করেন।  তাঁদের  মধ্যে  মুল্লা আহমেদের  অতীব সুন্দরী পুত্রবধুও ছিলেন। এই রমণীকে,  
শিবাজীর কাছে নিয়ে এলে, শিবাজীর আদেশ দেন মেয়েদের সসম্মানে সেই পরাজিত শাসকের কাছে ফিরিয়ে
দেবার। এই  ঘটনাটি  শিবাজীর  চরিত্রের  সততার  প্রমাণ  হিসেবে  ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গিয়েছে  
স্বর্ণাক্ষরে।

কিন্তু ঘটনাটিকে নিয়ে বিনায়ক দামোদর সাভারকার তাঁর
Six Glorious Epochs গ্রন্থের (ST Gogbole দ্বারা  
ইংরেজীতে অনূদিত ও প্রকাশিত, ১৯৭১) ১৭৯-পৃষ্ঠায়, ৪৫১-এ ও ৪৫২ অনুচ্ছেদে, শিবাজীকে প্রশংসা করার
বদলে, ভর্ৎসনা করে লিখেছেন . . .

“. . . But because of the then prevalent perverted religious ideas about chivalry to women, which ultimately
proved highly detrimental to the Hindu community, neither Shivaji Maharaj nor Chimaji Appa could do such
wrongs to the Muslim women. It was the suicidal Hindu idea of chivalry to women which saved the Muslim
women (simply because they were women) from the heavy punishments of committing indescribable sins
and crimes against the Hindu women.”  

এর থেকে, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নায়ক সাভারকারের আশ্চর্যজনক, প্রায় অবিশ্বাস্য, নেতিবাচক ও
বিপথগামী চিন্তাধার বহির্প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। নারীর সম্মান রক্ষা, সাভারকারের ভাষায়
“perverted
religious ideas about chivalry”
!  তিনি  যুদ্ধে  বিজিতা  বিধর্মী,  বিশেষ  করে  যবন  নারীদের  বলপূর্বক
শয্যাসঙ্গিনী করে তাঁদের “নষ্ট” বা “অপবিত্র” করে দেবার পক্ষপাতি ছিলেন সেই কথাও তিনি উপরোক্ত গ্রন্থে
লিখে গিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় অন্য  ধর্মের  রাজা-বাদশাদের এই কাজ করতে দেখা গেছে। কিন্তু হিন্দু
রাজারা এই কাজটি করা থেকে বিরত থেকেছেন বলেই আমরা জানি। শিবাজীও তাঁদের থেকে ভিন্ন ছিলেন
না। কিন্তু আধুনিক কালের এক অগ্রণী ব্যক্তির  কাছ  থেকে  এরকম মানসিকতা অকল্পনীয়। ইনি তাও
জীবিত মুসলমান  নারীদের জন্য এই নিদান দিয়েছিলেন! ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশের একটি জনসভা থেকে
সাভারকারের  মতাদর্শে বেড়ে ওঠা হিন্দুত্ববাদী দলের এক নেতা, মৃত মুসলমান নারীদের কবর থেকে তুলে
এনে ধর্ষণ করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পরবর্তী হবু মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
যিনি আবার পবিত্র গেরুয়া রঙের বস্ত্র পরিধান করেন! সেদিন তাঁকে ঔ বক্তব্যের কোনও প্রতিবাদ করতে
দেখা যায় নি। শত যুক্তি দিয়েও এই কথা মেনে নেওয়া সম্বব নয় বলে বাধ্য হলাম বিষয়টি এখানে উত্থাপন
করতে। পাঠক এর জন্য আমাদের মার্জনা করবেন।
*
কবি রমণীমোহন ঘোষের রচনাসম্ভার -                                               পাতার উপরে . . .    
কবি রমণীমোহন ঘোষের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “মুকুর” (১৮৯৯), “দীপশিখা”, “মঞ্জরী”, “ঊর্মিকা”
প্রভৃতি। “দীপশিখা” কবির মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। আমরা কবির কবিতা পেয়েছি আর্য্যাবর্ত্ত, ভারত-
মহিলা, বীরভূমি, ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন, মানসী, মানসী ও মর্ম্মবাণী, প্রবাসী, সাহিত্য, সৌরভ, ভারতী
প্রভৃতি পত্রিকা থেকে।

আর্কাইভ.অর্গের সৌজন্যে আমাদের হাতে আসে কবির “মুকুর” কাব্যগ্রন্থটি । গ্রন্থটিতে দুটিপাতা না থাকায়,
উপমা (৯৬-পৃষ্ঠা) ও তরীযাত্রা (৯৭-পৃষ্ঠা) শিরোনামের কবিতা দুটি তোলা সম্ভব হয়নি। এই দুটি ছাড়া ঐ
গ্রন্থ থেকে বাদবাকি সব ক’টি কবিতাই এখানে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।