কবি রীনা তালুকদারের কবিতা
*
মিথ্যে করে ভালোবাসি বলো না
কবি রীনা তালুকদার

ভালো যাদের বেসেছি
বাসেনি ভালো তারা কেউ
প্রয়োজনে সবাই আসে কাছে
যায় চলে দূরেও তাক ধিন না ধিন
প্রসাদ প্রার্থী ক্ষুধিত পাষাণ
চাই চাই কামনার কাতরতা থাকে জেগে
মন মহলের খোঁপে খোঁপে
ঝোঁপ বুঝে খুলে বসে চাহিদার ঝাঁপি
প্রত্যাশিত ফল না হলেও ভাল নেই ক্ষতি
প্রচার কাজে প্রাথমিক পুঁজি বিনিয়োগ
ভাল না বাসতে পারলে থাক অভিনয়
ভালোবাসা শব্দটির ব্যাঙের সাথে সখ্যতা
লাফিয়ে বেড়ায় ইচ্ছের ঘাস ফড়িং
যতক্ষণ যাকে যায় ভালোবাসা
ততক্ষণই ভালোবাসা হয় মূল্যায়িত
মানুষ একের অধিক ভালোবাসে
এই-ই স্বভাব সুলভ মানসিকতা
ভালোবাসি মিথ্যের বৃথা বাক্যালাপ
সত্য বলা তার চেয়ে ঢের ভাল; বাসি না ভালো
কিছুটা কষ্টের করাঘাতে না হয় দুলবে
ফের ওঠবে জেগে অন্যরকম কোনো স্বপ্নে
গ্যালাক্সি জোটের আকর্ষণে যাবে ছুটে নতুন সন্ধানে
কেনো জানি হয় মনে; না তুমিও যাবে চলে
অন্য দশজন মানুষ যেভাবে হয় অদৃশ্য!

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভুট্টা সমাচার
কবি রীনা তালুকদার

রবি শস্য ভুট্টার বিবিধ নামকরণ
শিশু ভুট্টার বিশেষ গুণে ভেজিটেবল
বেবিকর্ণ ছাড়া স্যুপ সালাদ সুস্বাদ কম
হৃষ্টরূপে কয়লা যোগে হাওয়া ফ্যানের
বাতাসে টক জালে মুখে রুচি নানা বয়েসি
বয়সের প্রৌঢ়ে খই ভাজা নাম পপ কর্ণ
আয়েশে যাচ্ছি খেয়ে তুমি দেখছ পলকহীন
দু’হাতে সোহাগী বাধন না যায় ছুটে
তোমার স্থির চোখে কত কত কথার ফুল কলি
ঠোঁটে এসে জিবে জল নামে তা থৈ থৈ
স্পর্শের সর্টগান স্বাদ শেষ হলে বাদ
মস্ত জীবন টেনে টুনে সাঁকোর পাড়
বিস্মৃত ভাবনার আয়নায় শত মুখের ভিড়
নগদ নারায়ণের মিছে ভাবনা নিঃ¯প্রয়োজন
আছে যা বস্তু দৃশ্যত জীব বিজ্ঞানের অধ্যায়
ভুট্টার পাউডার কর্নফ্লাওয়ার গুলে গুলে
রসিকের সময় পার স্যুপের বাটি সুড়ৎ সুড়ৎ
কালো কয়লায় ফ্রাই করা ভুট্টা সাবাড়
ডাটি ফেলে দিতেই ...
যায় ছুটে তোমার চেতন চোখ
বস্তুরও পরিণাম থাকে মানুষেরও !

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভালোবাসার যুদ্ধ
কবি রীনা তালুকদার

ভালো যে বাসে যুদ্ধটা তার সাথেই
না বাসলে ভালো কংক্রিট যুদ্ধ কিসের
দুঃখ সুখের ভাগাভাগি কারণ অকারণ
অন্ধকারে পথ চলা সঙ্গী বেলা অবেলা
না হলে কী এমন দায় ঠেকা
বৃথা সময়ক্ষেপণ টু এ্যাঙ্গেল ভাবনা
ভালোবাসা বলেই পাজরের অঙ্কুরোদগম শীত
দলিত মথিত করে হরহামেশা
বিরহ জাগলে পোড়ায় কষ্টের নীল পাথুরে আগুনে
মিলনের সুরে ডাকে বসন্ত পাখি
ভালোবাসার উদ্বেলিত ফাগুনে ফোটে রক্ত পলাশ
উষ্ণতার জলোজল তাপে
মানুষকে হতে হয় ভালোবাসার কাঙাল
প্রাত্যহিক সময়ের সমরে ছটজলদি প্রস্তুতি

ভালোবাসাতেই জীবন শ্যামসুন্দর
মধুময় অদূর সুদূর বৃহস্পতি।

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
উত্তরাধিকারী দুঃখ
কবি রীনা তালুকদার

খয়রাতী দুঃখরা থাকে না এখন নিভৃতে
নেয় ভাগ করে ঝর্ণার সুতীব্র ধারা
নৈমিত্তিকতায় হয় যুক্ত
যেভাবে যার খুশি দেয় রকমারী দুঃখ
বলি না কিছুই ; কেউ থাকলে ভাল থাক
এনজাইম দুঃখের আড়াটেকা বিষ
শিখেছে বেমালুম হজম করতে
প্রতিক্রিয়ায় মস্তিস্ক ভোগে না তেজস্ক্রিয়ায়
দেখে দেখে উত্তরাধিকারী দুঃখ
যায় মিলে পুরনো পরম্পরা ইতিহাস
গোপনে ব্যবচ্ছেদ হতে থাকে
অন্তঃস্থলের বিষয়ভিত্তিক বিশ্বাস।

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
দুঃখ আঁচল পাতা
কবি রীনা তালুকদার

কিছু কথা কাউকে যায় না বলা
কিছু কথা যায় না বলা বন্ধুকে
কিছু কিছু জীবন সঙ্গীকে
সবাইকে বলার জন্য সার্বজনীন থাকে কিছু কথা
বলতে হয় কথা কোথাও না কোথাও
হাইপোথালামাস সমান্তরাল প্রক্রিয়ায়
তাড়ন তাপে সুস্থ রাখে
ঘরে বাইরে আজকাল বড় দুঃসময়
ছোট খাটো দুঃখ হতে থাকে জমা বুক পকেটে
অন্তরে বাইরে অস্বস্তির অস্থিরতা করছি হজম দাঁত চেপে
কখনো কখনো চোখের কোণে ধুসরিত জল জমে
এটাকে ঠিক যায় না বলা কান্না
ভুলে গেছি কান্না সেই কবে নদীর কাছে এসে
নদী সমুদ্রে মিশলে অস্তিত্বহীন বিশাল জলরাশিতে
হারিয়েছে ভাষা দুঃখও দুঃখ জলের অথৈ গহবরে
যার যা মনে আসে দিক যেমন খুশী দুঃখ
রাখলাম পেতে এখানে আজন্ম আঁচল দ্বিধাহীন।

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
কথারা হারিয়ে যায়
কবি রীনা তালুকদার

আবেগ আপ্লুত হলে কথারা যায় হারিয়ে
বিচঞ্চল মন নারঙ্গী বনের সবুজ লতা
ঘাসফড়িং ইচ্ছের পাখা মেলে যায় উড়ে
দেয় লম্প ঝম্প; বিরাণ ভূমিতে ফোটা সর্ষে ফুলের
আহামরি সৌন্দর্যে হয় ব্যাকুল
এলোমেলো সুখের অনু পরমাণু
হৃদপিন্ডের ভাঁজে ভাঁজে দেয় ছড়িয়ে
হারকিউলিস- মেগারা অভিসার চোখে চোখে
গেলে দূরে শালিক ভেজা জলে ভিজে ধূসর দু’চোখ
কাছে এলে ভাষাহীন তাকিয়ে থাকা ছাড়া
যায় না লুকানো গোপন বৃত্তাকার সূর্যতাপ।

.                   ****************                                
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভালোবাসার জাহাজ
কবি রীনা তালুকদার

ভালোবাসার জন্য শূন্যে বাতাসের সাথে
চাই না বাড়াতে দ্বন্দ্ব
স্ফটিক জল করে ঘোলা
তৃষ্ণা মেটাবার নেই ধৈর্য
জোছনায় ভিজে যাওয়া রাতের বালিশে
মাথা রেখে শুনবো না রূপকথা
নিউক্লিয়ার্সের আইসোটোপ তড়িৎ বেগে
চাঁদের সমুদ্র পথে নামাবো আদুরে জাহাজ
সোহাগের উষ্ণ শীতল পরশে কানায় কানায়
করবো পরিপূর্ণ জলজ জাহাজের সর্বত্র
ভালো লাগার বন্দর থেকে শুরুই হবে
শেষ বলে নেই কিছু বলে করবে না নোঙর
ভালবাসার শীরীন মুগ্ধ জাহাজ।  

.              ****************                                
.       
শীরীন - মনোরম

                                                                      
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভালোবাসার চোখ
কবি রীনা তালুকদার

তীর তীক্ষè অবিনাশী দু’চোখের ভাষা পড়তে জনম পার
আর সব চোখ পড়ে থাক পিছে
মিছে মিছে অন্য চোখের শুধুই পলক পড়া
নিন্দুক চোখ ভ্রু-কুটি খেলে সোহাগের ছল চুতোয়
যে চোখ প্রিয় তাকানোর অদম্য অপেক্ষা
তাকে ফেরানোর অর্থহীন ব্যর্থ প্রচেষ্টা
তাগুহীন প্রতীক্ষায় কাটে পাষাণ প্রহর
সূর্য চোখে আগুন ভরা পাথর পৃথিবী
নব প্রস্তুর যুগের গবেষকের আরাধনা
হাজার চোখের ভিড়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র চোখ চেয়ে
চাতকের চোখে নেই ছানি দেখার মরি মরি ইচ্ছে
আগ্রাসী চোখ যার বাঁচে কি কিছু না দেখা থেকে
মায়াবী দস্যুর চোখ থেকে ভালোবাসা তুলে
হৃদপিন্ডের আলতামিরায় বাক্সবন্দী করা থাক।  

.              ****************                                

আলতামিরা - প্রাচীন গুহা চিত্র।

                                                                   
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
জলের পাখি পানকৌড়ি
কবি রীনা তালুকদার

শৈশব স্মৃতি নিউরণের সীমানায় বিবর্ণ এখন
সতেজ কচি ঘাসের বিবর্তনে অভেদ ইতিহাস
যে বৃক্ষরা হয়েছিল খেলার সাথী
বয়সের ভারে আজ নিতম্বে অসংখ্য কালশীটে দাগ
হাত পায়ের আঙ্গুলে ছুঁয়ে দেখি নেই নেই মসৃণতা
দেখতে দেখতে নয় ক্লান্ত পেরিস্কোপ চোখ
দিয়াভূত মন একই পথে খায় পাক
জেগে থাকে পুরনো প্রেম মনের বিজীর্ণ ভাঙ্গা মঞ্চে
অনিত্য নতুন নিরু বাঁশীতে অপেক্ষমান কনক কুঞ্জে
প্রেমের পালক ঝরায় প্রতিটি প্রহর দ্রাক্ষা আঙ্গিনায়
আঁশটে জলের পাখি পরিযায়ী পানকৌড়ি।

.                  ****************                                

                                                                  
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা
কবি রীনা তালুকদার

সেই সন্ধ্যার একটুও ছিলো না দ্বিধা
তিলকি মনোভূমে
সময় তখন আলফিউস
ছুটছে তুষের আগুনে ফুঁ দিতে
আন্ডার ড্রেন টিউবের খোলা-
মুখে কার্তিক বাতাসের কোলাহল
আইনী জীবনী বন্দী থাকে কিতাবে
স্বাধীন পাখায় চেপে ইচ্ছেরা ঘুরে ফিরে
বেহুলা বাসরের ইন্দ্রজালে
ভালোবাসা আটকা পড়েছে
কাওয়ালী বকের ঠোঁটে
ধড়পড় শীতের চারপাশ
খড়ের অনলে জ্বলে চিতাবাঘ
অবেলার কুটুম পাখি বুনো চড়–ই ভাতির সাথী
সবুজ রঙ মেখে বুকের কপাটে
লাল গোলাপের পাপড়িতে মাখে আদর
আলো ছায়ার মায়া মরীচিকা
আয় চোখে বিলীন হয় দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা।

.                  ****************                                

আলফিউস - গ্রীক মিথে জলের দেবতা


                                                               
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর