কবি সতীকান্ত গুহ - খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও শিক্ষাবীদ ছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত
বাংলার সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে। তিনি শিক্ষালাভ করেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, হেয়ার স্কুল, এবং
কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান নিয়ে
উত্তীর্ণ হন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি, শিশুদের জন্য প্রথমে “বেণু” ও পরে “চিত্রা” নামক দুটি পত্রিকা প্রকাশিত করেন।
এই কাজ করতে গিয়ে তিনি
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংস্পর্শে আসেন। পরে
তিনি “রংমশাল” পত্রিকাটিও কিছুদিনের জন্য সম্পাদনা করেন। তিনি নিজেই কিছুদিনের জন্য
প্রকাশনা সংস্থা খোলেন এবং সেখান থেকে
অবনীন্দ্রনাথের “রজকিনী”, দক্ষিণারঞ্জনের “ফার্স্ট বয় লাস্ট বয়”,
শিবরাম চক্রবর্তীর “বাড়ী থেকে পালিয়ে” বইগুলি প্রকাশিত করেন।

কবি, তাঁর ভাই বণিকান্তর সঙ্গে মিলে সাংস্কৃতিক সংস্থা “পূর্ব পরিষদ” তৈরী করেন নৃত্য ও নাটকের জন্য।
তিনি তাঁর সেই দল নিয়ে, তাঁরই নির্দেশনায়, সিলোন (অধুনা শ্রীলঙ্কা) সরকারের আমন্ত্রণে সেই দেশ ঘুরে
আসেন।

১৯৫৪ সালের পয়লা এপ্রিল তিনি এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা দেবী, কলকাতার গরিয়াহাটে, সাউথ
পয়েন্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলটি, তাঁর জীবিতকালেই, গীন্নেস বুক অফ ওয়ার্লড রেকর্ডস এ স্থান
করে নেয়, সর্বাধিক ছাত্রসংখ্যার স্কুলের নিরিখে। ১৯৯০ সালের গীন্নেস বুক অফ রেকর্ডস এ আমরা পাই -

“Largest School - South Point High School, Calcutta, India, had an enrollment of 12350 regular students in
1983-84”
। উত্কর্ষের দিক থেকেও এই স্কুলের খ্যাতি সর্বজনবিদিত। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় এই
স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রিরা প্রতি বছরই প্রথম সারিতে থেকে উত্তীর্ণ হন। সেই স্কুলে একসময় পড়িয়েছেন
উত্পল
দত্ত, কমলকুমার মজুমদার, শেখর চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়, এন বিশ্বনাথন, সুরোজিত সেন, গীতা
ঘটক প্রমুখরা। এক সময় এই সাউথ পয়েন্ট স্কুলেই স্থান পায় “লিটল থিয়েটার গ্রুপ”, “আলী আকবর কলেজ
অফ মিউজিক”, “বালিগঞ্জ কালচারাল সেমিনার”, গুরু থাঙ্কমণি কুট্টির নৃত্যের স্কুল “কলামণ্ডলম”।

তিনি কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকা “রংমশাল”-এর নিয়মিত লেখক ও কবি ছিলেন। ১৯৩৭ থেকে
১৯৩৯ সালের মধ্যে তাঁর উপন্যাস “অমরলতা”, সেই পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রায় প্রতিটি
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতাও।

তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম কিশোর বোম্বেটে কাহিনী “অপরূপ কথা”,
“ইতিহাসে নেই” প্রভৃতি। তাঁর কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা আমাদের জানা নেই।

১৯৭৬ সালে তিনি বাংলা ভাষার সর্বোচ্চ সাহিত্য-সম্মান, রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন, তাঁর উপন্যাস
“নাট্যকার” এর জন্য।

৪ঠা মে ১৯৭৬ তারিখে কবির পুত্রবধু সুরূপা গুহর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। সতীকান্ত গুহ,
প্রীতিলতা গুহ, তাঁদের পুত্র ইন্দ্রনীল গুহ এবং তাঁদের এক কর্মচারী ঝন্টুচরণ দত্তকে কলকাতা পুলিশ
গ্রেফ্তার করে। দীর্ঘকাল মামলা চলে। এই মামলাটি সেই সময়ে, কলকাতার বুকে একটি বধুহত্যার মামলা
হিসেবে আলোড়ণ সৃষ্টি করে।
শেষ পর্যন্ত উচ্চআদালতে সবাই ছাড়া পেয়ে যান। এই মামলার রায় সম্বন্ধে
পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক্ করুন . . .  
http://indiankanoon.org/doc/956764/       


কবির আটটি কবিতা পেয়েছি “রংমশাল” পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যা থেকে। আমরা  
মিলনসাগরে  কবি
সতীকান্ত গুহর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।



উত্স - ব্লগার “আমি কেউ না”, ইস্টিশন.কম          
.            
গার্ডেন হাইস্কুল.অর্গ            
              


কবি সতীকান্ত গুহর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ০১.০৮.২০১৫
...