কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা ও গণসঙ্গীত
*
ভাল লাগছে না কবিতার কাঁদুনি
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
On so-called international poetry day


ভাল লাগছে না কবিতার কাঁদুনি
মাথার মধ্যে সুটিয়া, রানাঘাট
বুকের মধ্যে কামদুনি . . .

.             ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
জন্মদিনে মা ভারতবর্ষকে
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ২৫.৫.২০০৭

ফেলে এসেছি বচ্‌পন্‌
যুবাও নই, এখন আমি পচ্‌পন্‌ ,
মানে, পঞ্চান্ন ....
টেনেছি তোমার বাতাস, খেয়েছি অন্ন
পারিনি দিতে কিছুই
যোগ্যতা নেই, চরণ দুটি যে ছুঁই .. .

.             ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
বইমেলায় আগুন -- ১৯৯৭  
অনুপ মুখোপাধ্যায়


বইয়ের দাম আগেই ছিলো আগুন
বইয়ের পাতায় লাগ‌লো এবার আগুন
কিছুই নেই তফাৎ

কর্তাদের মনে লোভের আগুন
জতুগৃহে জ্বেলে দিলো আগুন
কিছুই জেনো ঘটে নাকো হঠাৎ

.             ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
এখন অন্ধকার
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ৯.১.১৯৮৪ তারিখে। "এখন অন্ধকার" কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।


এই মুহূর্তে--
সামনে
পিছনে
উত্তরে
দক্ষিণে
পেটে, বুকে, মাথায়
অন্ধকার !
#
একমাত্র অদিতির কাঁচুলি-ই দেবে মুক্তি
( দেশ-এ ছাপতে হলে )
#
কোটি কোটি বিপ্লবী জনতাই আনছে মুক্তি, আনবেই
( অনীক-এ ছাপতে হলে )
#
আধুনিক কবিতাই পারে শুধু
( কৃত্তিবাস- এ ছাপতে হলে )
#
প্রগতিশীল নাট্য আন্দোলনই দ্যাখাবে পথ
( গ্রুপ থিয়েটার- এ ছাপতে হলে )
#
আর
যেখানে ছাপলে
আঁধারটা দূর হলেও হতে পারে
সেই পত্রিকাটা তারাই পড়বে
যারা এখনো
বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে নাম লেখে !
#
ততোদিন ---
উপরে
নীচে
পূবে
পশ্চিমে
মাটি, জল, হাওয়ায়
অন্ধকার .........

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
লাল লন্ঠন
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
( হেমাঙ্গ বিস্বাস-কে নিবেদিত )
রচনা ১৭.৫.১৯৮৮। কবিতাটি প্রথমে মিহির আচার্য সম্পাদিত ''লেখক সমাবেশ'' পত্রিকায়
প্রকাশিত ও পরে কবির ''কোমল রেখাব'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।


লন্ঠন হাতে
টালমাটাল শিশুটাকে
তামসী রাত পার ক'রে
নিয়ে গেছো
নতুন দিনের আলোয় ......
#
প্রতিটি রাতের শেষে দিন আসে
দিনের শেষে
আবার রাত !
#
এই শ্বাপদ রাতে
যখন চারপাশে
কালনেমীর পাতা ফাঁদ ....
কোনোদিনও পথ ভুল হবে না ।
#
যাবার আগে
লন্ঠনটা হাতে দিয়ে বলেছিলে--
'' সাবধানে রাইখ্যো ''
#
তোমার লেখা আর গান
নাগের মাথায় মণির মতো
যত্নে রেখেছি ।

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
সলিলদা
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ৮.১.১৯৯৬। "প্রসঙ্গ সংস্কৃতি" পত্রিকার "সলিল চৌধুরি" সংখ্যায় প্রকাশিত। "কোমল
রেখাব" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।


যে সুরের সুরায়
মদির আমি
সইতে পারি
ডায়ালিসিসের ধকল,
হার্টের
ভেন্ট্রিকিউলার ফেইলিওরের
যম-যন্ত্রণা,
নির্জলা দিবস রজনীর নরক--
তার এক অংশের যোগানদার
অবশ্যই তুমি !
তোমাকে আমার শ্রদ্ধা ......
#
লিরিকের আঁচড়ে
খুঁচিয়ে তোলো
আজন্মলালিত
অগ্নিসন্তানদের প্রতি দায়বদ্ধতার
স্মৃতি, শপথ ;
প্রকৃতির রূপ রস গন্ধের
অমোঘ হাতছানি,
আর,
দুর্নিবার সৌন্দর্য্য-প্রেম ।
তোমাকে আমার ভালোবাসা ......
#
মেষসুলভ ঘ্যানঘ্যানানির আবর্ত থেকে
মুক্ত করে
বাঙালীকে , তথা ভারতীকে
দিয়েছো
বাঁধভাঙ্গা যৌবনের মুক্তি
গানে গানে .....
তোমাকে আমার অভিনন্দন ...
#
সারমেয়সুলভ লম্ফ-ঝম্পে
আকন্ঠ-নিমগ্ন
সাংগীতিক চেতনাকে
তুমিই দিতে পারতে
একটু স্নিগ্ধ ছোঁয়া , পরশ পাথর ...
যদি না
ভোগবাদের রোমশ হাত ,
ক্রমশ
'পৃথিবী' নামক "গ্রহ-গাড়ি"-টার
স্টিয়ারিং
সম্পুর্ণ দখল করতো ।
"এ-গাড়ি যাবেনা" বুঝে
তুমি তাই "নেমে গেলে"
"অনেক দূরের" কোনো ঠিকানার উদ্দেশ্যে ...
তোমাকে আমার বিদায় .....

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
আহ্বান
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ১৯৮৩। "এখন অন্ধকার" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।


তিল তিল তিল গড়া স্বপ্ন-সৌধে
বেঁধেছে যে বাসা--
#
ধুক পুক ধুক ফুসফুসের ছন্দে
গেয়েছে যে গান--
#
শন শন শন কালবোশেখীর হাওয়া
উড়িয়ে তারে নিয়ে যায় যদি
দূর দূর দূর পৃথিবীর বহু দূরে--
#
ঝম ঝম ঝম শ্রাবণের বারিধারে
আসবে সে ফিরে
কাস্তের ফালে
প্রান্তরে আলে
ছড়তে ছড়াতে
মৌ মৌ মৌ নবান্নেরই ঘ্রাণ-
#
পাঞ্চজন্য শাঁখের আওয়াজে
কানে যদি বাজে
এ-যুগের কোনো-- কমরেড
লেনিনের আহবান....

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    




মিলনসাগর
*
ভীষ্মলোচন শর্মা
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ১২.৭.১৯৮৭। "কোমল রেখাব" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।


এ-যুগের যতো ভীষ্মলোচন
সাধ্য কার ? থামায় কে ?
ডিস্কো গানের গেলায় পাঁচন
রাত্রি- দুপুর মাইকে !
ডাকতে কি কেউ পারো না সেই
পাগলা ছাগল ভাইকে ?

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
যেখানে মানুষ থাকে
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
রচনা ১৯৮১। "ফুটবল" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।


পাড়াটা যেমনই হোক না কেন
যেখানে কথারা বেরিয়ে আসে
শুধু জিভ থেকে
আমি সেখান থেকে বেরোতে চাই ।
#
দালালবাবু , পুরো বেসিকটাকেই ভাড়া হিসেবে ধরে দেবো
এমন পাড়ায় বাড়ী খুঁজে দিন
যেখানে কথারা আসে--
অন্তত মাথা থেকে ।
থুথু মেশানো কথাগুলো
কানের ভেতর খোল হয়ে জমে গেছে ......
#
জানিনা এখনো এই দেশে
এমন কোনো জায়গা আছে কি না
যেখানে কথাদের উৎস --- হৃদয়
বেসিকের সাথে ডি এ - টাকেও দিতে রাজি আমি
সেরকম একটা পাড়ার খোঁজ করুন দয়া করে ......
#
ইলেক্ট্রিক লাইন না থাকলেও চলবে
যদি পড়শিদের চোখে থাকে আলো ;
জলের কানেকশান না থাকলেও চলবে
যদি পড়শিদের চোখে থাকে জল ;
নাইট- ওয়াচম্যান না থাকলেও চলবে
যদি পড়শিদের চোখে থাকে চোখ ;
#
দালালবাবু , সেরকম একটা পাড়া যদি খুঁজে পান
পুরো মাইনেটাই ধরে দেবো .....

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আদর্শ
কবি অনুপ মুখোপাধ্যায়
[ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিবেদিত ]
রচনা ৯.৯.১৯৯১। "লেখক সমাবেশ" পত্রিকায় প্রকাশিত। "কোমল রেখাব" কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


তোমার কথা ভাবলেই
বুকের খাঁজে খাঁজে
জমাট-বাঁধা অনুভূতিগুলো
কবিতা হয়ে যায় ......
#
তোমার কথা ভাবলেই
সেইসব কবিতা থেকে
জন্ম নেয়
আশ্চর্য সঙ্গীত ....
#
মরু প্রান্তরে
তিরতির বয়ে যাওয়া
সেই সব গানে
আছে আগুন
#
সে আগুনে
পরিশুদ্ধ হয়ে
আমাদের মতো মানুষেরা
নটে-ডাঁটার মতো মেরুদণ্ডী মানুষেরা
জুতোর তলায় কাদার মতো মানুষেরা
হয়ে যায়
সত্যিকারের মানুষ !
#
তোমার কথা ভাবলেই ......

.      ************************                 
.                                                                          
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর