কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাস - অধুনা বাংলাদেশের শ্রীহট্টের মিরাশি তে জন্ম গ্রহণ করেন। হরিগঞ্জ হাইস্কুল
থেকে পাশ করার পর তিনি শ্রীহট্ট মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হন।  তখনই তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে
পড়েন ।

তিনি ১৯৩২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন ।  ১৯৩৫ সালে কারাবন্দী থাকাকালে তিনি
যক্ষারোগে আক্রান্ত হন এবং সেই কারনে তিনি মুক্তি পান । স্বাধীন ভারতে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তেলেঙ্গানা
আন্দোলনের সময়ে তিনি গ্রেফতার হন এবং তিন বছর জেল খাটেন।

১৯৩৮-৩৯ সালে বিনয় রায়, নিরঞ্জন সেন, দেবব্রত বিশ্বাস প্রমুখের সাথে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আই.পি.
টি.এ গঠন করেন । পঞ্চাশের দশকে এই সংঘের শেষ অবধি তিনি এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৪২ সালে বাংলার প্রগতিশীল লেখক শিল্পীদের আমন্ত্রনে তিনি প্রথম কলকাতায়  আসেন সঙ্গীত পরিবেশন
করতে। ১৯৪৩ সালে তাঁর উদ্যোগে এবং জ্যোতিপ্রকাশ আগরওয়ালের সহযোগিতায় সিলেট গণনাট্য সংঘ
তৈরি হয়।  স্বাধীনতার আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের গানের সুরকারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রধান।  
সেই সময়ে তাঁর গান "তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান", "কিষাণ ভাই তোর সোনার ধানে বর্গী" নামে
প্রভৃতি আসাম ও বাংলায় সাড়া ফেলেছিল । আসামে তাঁর সহযোগি ছিলেন বিনোদবিহারী চক্রবর্তী,
সাহিত্যিক অশোকবিজয় রাহা, সেতারবাদক কুমুদ গোস্বামী প্রভৃতি।

দুবার তিনি চিনে গিয়েছিলেন। চিনা ভাষায় তাঁর অনেক গান আছে ।

মূলত লোকসঙ্গীতকে কেন্দ্র করে গণসঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। এ নিয়ে তাঁর একবার

সলিল চৌধুরীর
সঙ্গে প্রচণ্ড তর্ক বেধে যায় বম্বেতে আই.পি.টি.এ.র একটি সঙ্গীত সম্মেলনে। সলিল চৌধুরী
পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ব্যবহার বেশী পছন্দ করতেন।

মাস সিঙ্গার্স নামে নিজের দল গঠন করে জীবনের শেষ দিকেও তিনি গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেরিয়েছেন।

তিনি কল্লোল, তীর, লাললণ্ঠন প্রভৃতি নাটকের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। লাললন্ঠন নাটকে তিনি বিভিন্ন চিনা
সুর ব্যবহার করেছিলেন।

তিনি প্রবাদপ্রতিম নির্দেশক ঋত্বিক ঘটকের ছায়াছবি "মেঘে ঢাকা তারা" (১৯৬০, সঙ্গীত পরিচালক
জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র) এবং "কোমল গান্ধার" (১৯৬১) এ নেপথ্যে গান গেয়েছিলেন |

তিনি বিশ্বখ্যাত বামপহ্নী এনথেম, ১৮৭১ সালে ফরাসি ইউজিন পট্টিয়ার-এর
(Eugene Pottier) লেখা, ১৮৮৮
সালে পিয়রি দ গেইটর-এর
(Pierre De Geyter) সুরারোপিত Internationale গানটি বাংলায় অনুবাদ করেন।

তাঁর গান এখনই দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। আমরা এখানে তার একটি সি.ডি. "অগ্রগতির পথে" (রাগা মিউসিক)
থেকে কয়েটি গান শুনে শুনে, লিখে তুলে দিয়েছি।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কবিতা ও গান তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে
দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।



উত্স:
উইকিপেডিয়া , Wiikipedia      
.                                                    


আমাদের ঠিকানা :
srimilansengupta@yahoo.co.in               





এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ০৫.০৪.২০১০
পরিবর্ধিত সংসেকরণ - ১৫.১২.২০১৬


.