দুইজন ঘনশ্যাম!   
তৃতীয় ঘনশ্যাম ? দ্বিজ ঘনশ্যাম!    
নরহরি ঘনশ্যামের স্বরচিত পরিচয়।   
বৈষ্ণব পদলহরী থেকে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি।   
গীতচন্দ্রোদয়ের সম্পাদক হরিদাস দাসের উদ্ধৃতি।   
পদকল্পতরু থেকে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি।   
কোন ঘনশ্যামের কোন পদ ?     
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের উদ্দেশ্য।   
বৈষ্ণব পদাবলীর রাগ   
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?   
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও
তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে
আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের
নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
ঘনশ্যাম
( নরহরি চক্রবর্তী )
চৈতন্য পরবর্তী কবি, অষ্টাদশ শতক
*
*
*
*
*
*
*
ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর "নরহরি", নরহরি দাস,
ভণিতাযুক্ত পদাবলীর পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
কবি ঘনশ্যাম চক্রবর্তী - এই কবির আসল নাম নরহরি চক্রবর্তী। ইনি ঘনশ্যাম, ঘনশ্যামর, ঘনশ্যাম
দাস, ঘনশ্যামরুদাস ভণিতাতে পদাবলী রচনা করে গিয়েছেন। ইনি পদকল্পতরুর সংকলক পদকর্তা
বৈষ্ণবদাসের সমসাময়িক অথবা মতান্তরে তাঁর পরবর্তী কালের কবি ও গ্রন্থকার। কবির পিতার নাম
জগন্নাথ চক্রবর্তী এবং তাঁর নিবাস কাটোয়ার নিকট ছিল। পিতা জগন্নাথ ছিলেন ক্ষণদাগীত চিন্তামণির
সংকলক ও বিরোচক
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ওরফে পদকর্তা হরিবল্লভের শিষ্য।

ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তী, নরহরি ভণিতায় আরও বেশী সংখ্যক পদ রচনা করে গিয়েছেন। নরহরি ভণিতার
পদকর্তা আরেকজন ছিলেন। তিনি শ্রীচৈতন্যদেবের সহচর, বৈদ্যবংশজাত, শ্রীখণ্ড-নিবাসী নরহরি সরকার,
যিনি প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীতে শ্রীচৈতন্য কে নিয়ে সর্বপ্রথম পদ রচনা করেন।

এই পাতায় কেবল ঘনশ্যাম ভণিতার পদ রয়েছে।
দুইজন ঘনশ্যাম!                                                                        পাতার উপরে . . .    
মূলত ঘনশ্যাম ভণিতার আমরা দু-জন পদকর্তা পাই। প্রথমজন মহাকবি গোবিন্দ কবিরাজের পৌত্র ঘনশ্যাম
কবিরাজ। তিনি তাঁর পিতামহের অনুকরণে অনেক সুন্দর সুন্দর ব্রজবুলির পদ লিখে গিয়েছেন।  তাঁর
রচিত “গোবিন্দরতিমঞ্জরী” গ্রন্থে তাঁর অনেকগুলি পদ রয়েছে। দ্বিতীয়জন অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগের
বৈষ্ণব কবি ও ভক্তি-রত্নাকর, গৌর-চরিত-চিন্তামণি গ্রন্থের রচয়িতা এবং শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের সংকলক
ও রচয়িতা,
নরহরি চক্রবর্তী। এই পাতা নরহরি ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পদাবলীর পাতা।
তৃতীয় ঘনশ্যাম ? দ্বিজ ঘনশ্যাম!                                                     পাতার উপরে . . .    
এযাবৎ বৈষ্ণব পদকর্তাদের জীবনীর গবেষকগণ কেবল মাত্র দুজন ঘনশ্যামের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের
সবারই এই নির্দেশ যে ঘনশ্যাম দুইজন। প্রথমজন মহাকবি গোবিন্দদাস কবিরাজের পৌত্র ঘনশ্যাম কবিরাজ।
দ্বিতীয়জন অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগের বৈষ্ণব কবি ও ভক্তি-রত্নাকর, গৌর-চরিত-চিন্তামণি গ্রন্থের রচয়িতা
এবং শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের সংকলক ও রচয়িতা, নরহরি চক্রবর্তী। এঁরা দুজনই  ঘনশ্যাম, ঘনশ্যাম দাস,
ঘনশ্যামর দাস, ঘনশ্যামর দাস ভণিতাযুক্ত পদ রচনা করে গিয়েছেন।

আমরা, উনিশ শতকের মধ্যভাগে চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও সংকলিত, ১৯২২ সালে তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু নামক গ্রন্থে চারটি “নৌকা বিহার, নৌকা খণ্ড”-
এর পদ পেয়েছি। এই চারটি পদে “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতা রয়েছে। দ্বিজ ঘনশ্যাম ভণিতার পদ আমরা এর
পূর্বতন কোনো পদাবলী সংকলনেই পাইনি।

এই গ্রন্থের কোথাও “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতাযুক্ত পদ নিয়ে কিছু বলা নেই। তার একটি কারণ হতে পারে যে,
পদামৃতসিন্ধুর সংকলক চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই গ্রন্থের প্রকাশনা নিজে করে যেতে পারেন নি। পদাবলী
সংগ্রহ করতেই তাঁর জীবন কেটে যায়। তাঁর শেষসময় উপস্থিত হলে, তিনি এই দায়িত্ব তাঁর পুত্রদের উপর
ন্যস্ত করে গিয়েছিলেন। পুত্রদের মধ্যে কেবল রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর ঠিকানা ছিল ৫নং নয়নচাঁদ
দত্তের ষ্ট্রীট্, কলিকাতা, তিনিও তাঁর কর্মক্ষম সময়ে তা সম্পাদন করতে পারেননি। পিতার মৃত্যুর পর প্রায়
দীর্ঘ ৫০ বছর কেটে গেলে, তাঁর নিজের অবসরকালীন জীবনের শেষভাগে এসে ১৯২২সালে তিনি এই গ্রন্থ
প্রকাশিত করেন। এই কাজটি ছিল তাঁর পক্ষে তাঁর পিতার, শেষ শয্যায় প্রকাশ করা, শেষ ইচ্ছা পূরণ বা
শেষ আজ্ঞা পালন! তিনি এই গ্রন্থ নিজে পদাবলী সাহিত্যের সংগ্রাহক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রকাশ করে যান
নি। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে, এই গ্রন্থের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, হিন্দুস্কুলের প্রধান শিক্ষক রায় রসময় মিত্র
বাহাদুর এবং সুবিখ্যাত নাট্যকার জয়দেব প্রণেতা ভক্তকবি হরিপদ চট্টোপাধ্যায়, যাঁরা এই গ্রন্থের কেবল
প্রুফ সংশোধন করে দিয়েছিলেন। পদাবলীর বিশ্লেষণ এবং পদকর্তার পরিচিতির দিকটি নিয়ে আমরা ঐ
গ্রন্থে কারও কোনো লেখা দেখতে পাইনা।     

তাই এমন হতেও পারে যে অষ্টাদশ শতকের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সংকলক বৈষ্ণবদাস ও তার পরবর্তিকালে,
দ্বিজমাধব সংকলিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট শ্রীপদমেরুগ্রন্থ-এর পরবর্তী কালে দ্বিজ ঘনশ্যাম নামে কোনো নতুন
রচয়িতার আবির্ভাব হয়েছিল। অথবা এই “দ্বিজ ঘনশ্যামের” পদগুলির সম্বন্ধে অন্যান্য সংগ্রাহক ও
সংকলকরা অবগত ছিলেন না। শ্রীশ্রীপদকল্পতরু খ্যাত বৈষ্ণবদাসের আগে-পরে বা সমকালীন গৌরসুন্দর
দাস সংকলিত সংকীর্তানন্দ, পরবর্তী কালের কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর, নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার, দীনবন্ধু দাস সংকলিত সংকীর্তনামৃত, প্রভৃতি গ্রন্থগুলি আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি বলে জোর
দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না যে এই গ্রন্থগুলিতে দ্বিজ ঘনশ্যাম পদকর্তার কোনো পদ আছে কি না। এই পাতায়
আমাদের দেওয়া “উত্স” গ্রন্থগুলির, শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু ব্যতিত “দ্বিজ ঘনশ্যাম”-এর কোনো পদ নেই, ।

এই পদগুলি বাংলা ভাষায় রচিত এবং সেই বাংলা ভাষা, তুলনামূলকভাবে অন্য ঘনশ্যামের পদাবলীর থেকে
আধুনিকতর রা অপ্রাচীন বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমরা বিশেষজ্ঞ নই, তাই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছবার জন্য।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ইমেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

আমরা এখানে এই চারটি দ্বিজ ঘনশ্যামের পদ আলাদা পাতায় প্রকাশিত করছি। সাথে সাথে তা উভয়
ঘনশ্যামের পাতাতেও রাখছি।
নরহরি ঘনশ্যামের স্বরচিত পরিচয়                                                   পাতার উপরে . . .    
নরহরি চক্রবর্তী বিরচিত “ভক্তি-রত্নাকর” গ্রন্থের শেষে নিজে পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন . . .

“নিজ পরিচয় দিতে লজ্জা হয় মনে।
পূর্ব্ববাস গঙ্গাতীরে জানে সর্ব্ব জনে॥
বিশ্বনাথ চক্তবর্ত্তী সর্ব্বত্র বিখ্যাত।
তাঁর শিষ্য মোর পিতা বিপ্র জগন্নাথ॥
না জানি কি হেতু হৈল মোর দুই নাম।
নরহরি দাস আর দাস ঘনশ্যাম॥
গৃহাশ্রম হইতে হনু উদাসীন।
মহাপাপ-বিষয়ে মজিনু রাত্রিদিন॥


এর থেকে জানা যায় যে ভক্তি-রত্নাকর গ্রন্থ রচনার পূর্বেই তিনি গৃহাশ্রম পরিত্যাগ করেছিলেন। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্তরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, ১৩৫ পৃষ্ঠায়, তিনি লিখেছেন . . .

প্রবাদ আছে যে, তিনি (নরহরি) বৃন্দাবনে যাইয়া কিছু কাল বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ বিগ্রহ গোবিন্দজীর সূপকারের
কার্য্য করেন। বলা বাহুল্য যে, নরহরি চক্রবর্ত্তীর ন্যায় একজন সুবিজ্ঞ উদাসীন ব্যক্তি বেতন গ্রহণে এই কার্য্য
করেন নাই। তিনি কোনও অজ্ঞাত কারণে অবশ্যই ভক্তি-প্রণোদিত হইয়া নিঃস্বার্থ ভাবেই ঐ সেবা-কার্য্য
সুসম্পাদিত করিয়াছিলেন।

বৈষ্ণব পদলহরী থেকে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি                                  পাতার উপরে . . .    
১৯০৫ সালে দুর্দাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত ও সংকলিত বৈষ্ণব পদ লহরী সংকলনে তিনি ঘনশ্যাম দাস সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .

ইনি একজন প্রসিদ্ধ পদ কর্ত্তা। পদাবলী ব্যতীত ইঁহার রচিত গ্রন্থও অনেক আছে তন্মধ্যে "পদ্দতি  প্রদীপ",
"গৌর চরিত চিন্তামণি", "শ্রিনিবাস চরিত" ও "ভক্তি রত্নাকর" প্রভৃতি গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখ যোগ্য।  পদাবলীতে
ইঁহার সঙ্গীত-শাস্ত্রজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে ইঁহার পদাবলির অনেক স্থল সেরূপ সরল ও সহজ
বোধগম্য নহে। ইঁহার অপর নাম নরহরি সুতরাং ইঁহাকে দ্বিতীয় নরহরি বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।
ইঁহার নিবাস কাটোয়ার সন্নিকট। পিতার নাম জগন্নাথ চক্রবর্তী।

গীতচন্দ্রোদয়ের সম্পাদক হরিদাস দাসের উদ্ধৃতি                                  পাতার উপরে . . .    
অষ্টাদশ শতকে সঙ্কলিত ১১৭০টি পদ সম্বলিত, ঘনশ্যাম-নরহরি চক্রবর্তী সংকলিত ও বিরচিত,
শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের, ৪৬২ গৌরাব্দে সম্পাদিত ও মুদ্রিত সংস্করণের সম্পাদক হরিদাস দাস, নরহরি
চক্রবর্তী সম্বন্ধে তাঁর নিবেদন-এ লিখেছেন . . .

শ্রীমন্নরহরি-ঘনশ্যামের কবিতায় ব্যাঞ্জনা বা ভাবোত্কর্ষ না থাকিলেও, কবি হিসাবে তিনি তত সমাদৃত না
হইলেও, তাঁহার রচনা আড়ম্বর-শূন্য সাদাসিদী গদ্যের ন্যায় হইলেও, তিনি যে একাধারে সুনিপূণ গায়ক,
বাদক, ছন্দোবিৎ, পাচক, বৈষ্ণব কবি ও ঐতিহাসিক হিসাবে পরম সম্মানীয় একথা অস্বীকার করিবার উপায়
নাই। আমার মনে হয় এই একমাত্র শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থখানা সম্যক্ প্রকাশিত হইলে শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দের
স্মরণমননাদি যাবতীয় বিষয়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগতের একটা মহা অভাব দূরীকৃত হয়।


কালের প্রভাবে এই দুই নরহরির কিছু কবিতা যে মিলে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। যেমন পদ-রত্নাবলী গ্রন্থের
নরহরির পদগুলি। কোন পদ কোন নরহরির, তা নির্ণয় করা এখন দুঃসাধ্য।
পদকল্পতরু থেকে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি                                          পাতার উপরে . . .    
নরহরি চক্রবর্তীর রচনাকাল নিয়ে বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরু গ্রন্থের সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় তাঁর
অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী সংকলনের ভূমিকায় লিখেছেন . . .

কেউ কেউ বলেন যে, নরহরি চক্রবর্তী পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাসের পরবর্ত্তী পদ-কর্ত্তা বলিয়া,
পদকল্পতরুতে নরহরি চক্রবর্ত্তীর কোন পদ উদ্ধৃত হয় নাই। এই উক্তির সমর্থক কোনও প্রমাণ আছে বলিয়া
আমরা জানি না। পদকল্পতরুর মঙ্গলাচরণের “জয় জয় চণ্ডীদাস দয়াময়” (পদসংখ্যা ১৭) ইত্যাদি পদ দুইটি
নরহরি চক্রবর্ত্তীর রচিত বলিয়াই আমাদিগের ধারণা হইয়াছে। ভরসা করি কোনো অনুসন্ধিত্সু পাঠক এ
সম্বন্ধে বিশেষ অনুসন্ধান ও আলোচনা করিয়া পদাবলী সাহিত্যের এই সমস্যাটির সুমিমাংসা করিতে চেষ্টা
করিবেন।


নরহরি চক্রবর্তীর পাণ্ডিত্য সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র আরও লিখেছেন . . .

নরহরি চক্রবর্ত্তী অতি প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার। তাঁহার ভক্তিরত্নাকর পাঠ করিলে তাঁহার অসাধারণ পাণ্ডিত্য, লিপি-
কূশলতা, সহৃদয়তা ও সঙ্গীতজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়।
”     
কোন ঘনশ্যামের কোন পদ ?                                                           পাতার উপরে . . .    
কোন ঘনশ্যামের কোন পদ, এটা বলে দেবার মত বিশেষজ্ঞ আমরা নই। পূর্বের বিশেষজ্ঞগণের মতানুযায়ী
আমরা ঘনশ্যামের পদাবলীর চারটে তালিকা করেছি। যে কোনো ঘনশ্যামের পাতা থেকেই পাঠক যে কোনো
কবিতার পাতায় যেতে পারবেন।

১। প্রথম তালিকায় থাকছে ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ।
পদকল্পতরু ও অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলীর সতীশচন্দ্র রায় ও গৌরপদ তরঙ্গিণীর জগবন্ধু ভদ্রর, চয়ন করা
ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ। এছাড়া রয়েছে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী”
গ্রন্থে সংকলিত “ঘনশ্যাম দাস” ভণিতার পদ। যদিও সেই গ্রন্থে, “ঘনশ্যাম দাস” ভণিতার পদগুলি কোন
ঘনশ্যামের তা সতীশচন্দ্র রায় স্পষ্ট করে লিখে যান নি। কিন্তু পদকল্পতরু গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়
অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী গ্রন্থের ঘনশ্যামের পদাবলী নিয়ে তিনি যা লিখেছেন তা থেকে স্পষ্ট যে তিনি মনে
করতেন যে অপ্রকাশিত পদরত্নাবলির ঘনশ্যাম দাসের পদগুলিও ঘনশ্যাম কবিরাজেরই রচনা। তাই সেই
পদগুলিও আমরা এই ঘনশ্যামের পাতায় তুলে দিচ্ছি, সেই পদের উত্স-গ্রন্থের উল্লেখ সহ। হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনের ঘনশ্যাম ভণিতাযুক্ত কেবল একটি মাত্র পদ নরহরি
চক্রবর্তীর পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। অন্য ৫৯টি পদ ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা
রয়েছে। তাই সেই পদগুলি আমরা উভয় ঘনশ্যামের পাতায় তুলে দিচ্ছি, সেই পদের উত্স-গ্রন্থের উল্লখ সহ।
এ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদও থাকছে সংগ্রাহক-সংকলকের নির্দেশানুসারে।

২। দ্বিতীয় তালিকায় থাকছে ঘনশ্যাম চক্রবর্তী বা নরহরির “ঘনশ্যাম” ভণিতার।
নরহরি ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর সংকলিত ও বিরোচিত গীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের ঘনশ্যামের পদাবলী থাকছে এই
পাতায়। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পদও থাকছে সংগ্রাহক-সংকলকের নির্দেশানুসারে।

৩। তৃতীয় তালিকায় থাকছে অনির্দিষ্ট ঘনশ্যাম ভণিতার পদাবলী।
যে পদগুলি সম্বন্ধে আমরা নিশ্চিত নই যে তা ঘনশ্যাম কবিরাজ না ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পদ, সেই পদগুলি এই
পাতায় থাকছে।

৪। চতুর্থ তালিকায় থাকছে “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতাযুক্ত এযাবৎ পাওয়া চারটে পদ।



আমরা
মিলনসাগরে  কবি ঘনশ্যামের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    
কবি ঘনশ্যাম নরহরির মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    
কবি দ্বিজ ঘনশ্যামের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১২.৪.২০১৭
প্রথম পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৩১.১০.২০১৪              

...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .