কবি দ্বিজ ঘনশ্যাম - এযাবৎ বৈষ্ণব পদকর্তাদের জীবনীর গবেষকগণ কেবল মাত্র দুজন ঘনশ্যামের
উল্লেখ করেছেন। তাঁদের সবারই এই নির্দেশ যে ঘনশ্যাম দুইজন। প্রথমজন মহাকবি গোবিন্দদাস কবিরাজের
পৌত্র ঘনশ্যাম দাস কবিরাজ। দ্বিতীয়জন অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগের বৈষ্ণব কবি ও ভক্তি-রত্নাকর, গৌর-
চরিত-চিন্তামণি গ্রন্থের রচয়িতা এবং শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের সংকলক ও রচয়িতা, নরহরি চক্রবর্তী। এঁরা
দুজনই  ঘনশ্যাম, ঘনশ্যাম দাস, ঘনশ্যামর দাস, ঘনশ্যামর দাস ভণিতাযুক্ত পদ রচনা করে গিয়েছেন।

আমরা, উনিশ শতকের মধ্যভাগে চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও সংকলিত, ১৯২২ সালে তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু নামক গ্রন্থে চারটি “নৌকা বিহার, নৌকা খণ্ড”-
এর পদ পেয়েছি। এই চারটি পদে “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতা রয়েছে। দ্বিজ ঘনশ্যাম ভণিতার পদ আমরা এর
পূর্বতন কোনো পদাবলী সংকলনেই পাইনি।

এই গ্রন্থের কোথাও “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতাযুক্ত পদ নিয়ে কিছু বলা নেই। তার একটি কারণ হতে পারে যে,
পদামৃতসিন্ধুর সংকলক চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই গ্রন্থের প্রকাশনা নিজে করে যেতে পারেন নি। পদাবলী
সংগ্রহ করতেই তাঁর জীবন কেটে যায়। তাঁর শেষসময় উপস্থিত হলে, তিনি এই দায়িত্ব তাঁর পুত্রদের উপর
ন্যস্ত করে গিয়েছিলেন। পুত্রদের মধ্যে কেবল রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর ঠিকানা ছিল ৫নং নয়নচাঁদ
দত্তের ষ্ট্রীট্, কলিকাতা, তিনিও তাঁর কর্মক্ষম সময়ে তা সম্পাদন করতে পারেননি। পিতার মৃত্যুর পর প্রায়
দীর্ঘ ৫০ বছর কেটে গেলে, তাঁর নিজের অবসরকালীন জীবনের শেষভাগে এসে ১৯২২সালে তিনি এই গ্রন্থ
প্রকাশিত করেন। এই কাজটি ছিল তাঁর পক্ষে তাঁর পিতার, শেষ শয্যায় প্রকাশ করা, শেষ ইচ্ছা পূরণ বা
শেষ আজ্ঞা পালন! তিনি এই গ্রন্থ নিজে পদাবলী সাহিত্যের সংগ্রাহক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রকাশ করে যান
নি। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে, এই গ্রন্থের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, হিন্দুস্কুলের প্রধান শিক্ষক রায় রসময় মিত্র
বাহাদুর এবং সুবিখ্যাত নাট্যকার জয়দেব প্রণেতা ভক্তকবি হরিপদ চট্টোপাধ্যায়, যাঁরা এই গ্রন্থের কেবল
প্রুফ সংশোধন করে দিয়েছিলেন। পদাবলীর বিশ্লেষণ এবং পদকর্তার পরিচিতির দিকটি নিয়ে আমরা ঐ
গ্রন্থে কারও কোনো লেখা দেখতে পাইনা।     

তাই এমন হতেও পারে যে অষ্টাদশ শতকের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সংকলক বৈষ্ণবদাস ও তার পরবর্তিকালে,
দ্বিজমাধব সংকলিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট শ্রীপদমেরুগ্রন্থ-এর পরবর্তী কালে দ্বিজ ঘনশ্যাম নামে কোনো নতুন
রচয়িতার আবির্ভাব হয়েছিল। অথবা এই “দ্বিজ ঘনশ্যামের” পদগুলির সম্বন্ধে অন্যান্য সংগ্রাহক ও
সংকলকরা অবগত ছিলেন না। শ্রীশ্রীপদকল্পতরু খ্যাত বৈষ্ণবদাসের আগে-পরে বা সমকালীন গৌরসুন্দর
দাস সংকলিত সংকীর্তানন্দ, পরবর্তী কালের কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর, নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার, দীনবন্ধু দাস সংকলিত সংকীর্তনামৃত, প্রভৃতি গ্রন্থগুলি আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি বলে জোর
দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না যে এই গ্রন্থগুলিতে দ্বিজ ঘনশ্যাম পদকর্তার কোনো পদ আছে কি না। এই পাতায়
আমাদের দেওয়া “উত্স” গ্রন্থগুলির, শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু ব্যতিত “দ্বিজ ঘনশ্যাম”-এর কোনো পদ নেই, ।

এই পদগুলি বাংলা ভাষায় রচিত এবং সেই বাংলা ভাষা, তুলনামূলকভাবে অন্য ঘনশ্যামের পদাবলীর থেকে
আধুনিকতর রা অপ্রাচীন বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমরা বিশেষজ্ঞ নই, তাই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছবার জন্য।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ইমেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     

আমরা এখানে এই চারটি দ্বিজ ঘনশ্যামের পদ প্রকাশিত করছি।




কোন ঘনশ্যামের কোন পদ ?                                                           পাতার উপরে . . .    
কোন ঘনশ্যামের কোন পদ, এটা বলে দেবার মত বিশেষজ্ঞ আমরা নই। পূর্বের বিশেষজ্ঞগণের মতানুযায়ী
আমরা ঘনশ্যামের পদাবলীর চারটে তালিকা করেছি। যে কোনো ঘনশ্যামের পাতা থেকেই পাঠক যে কোনো
কবিতার পাতায় যেতে পারবেন।

১। প্রথম তালিকায় থাকছে ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ।
পদকল্পতরু ও অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলীর সতীশচন্দ্র রায় ও গৌরপদ তরঙ্গিণীর জগবন্ধু ভদ্রর, চয়ন করা
ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ। এছাড়া রয়েছে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী” গ্রন্থে
সংকলিত “ঘনশ্যাম দাস” ভণিতার পদ। যদিও সেই গ্রন্থে, “ঘনশ্যাম দাস” ভণিতার পদগুলি কোন ঘনশ্যামের
তা সতীশচন্দ্র রায় স্পষ্ট করে লিখে যান নি। কিন্তু পদকল্পতরু গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় অপ্রকাশিত পদ-
রত্নাবলী গ্রন্থের ঘনশ্যামের পদাবলী নিয়ে তিনি যা লিখেছেন তা থেকে স্পষ্ট যে তিনি মনে করতেন যে
অপ্রকাশিত পদরত্নাবলির ঘনশ্যাম দাসের পদগুলিও ঘনশ্যাম কবিরাজেরই রচনা। তাই সেই পদগুলিও
আমরা এই ঘনশ্যামের পাতায় তুলে দিচ্ছি, সেই পদের উত্স-গ্রন্থের উল্লেখ সহ। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনের ঘনশ্যাম ভণিতাযুক্ত কেবল একটি মাত্র পদ নরহরি চক্রবর্তীর পদ
বলে উল্লেখ করা রয়েছে। অন্য ৫৯টি পদ ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। তাই সেই
পদগুলি আমরা উভয় ঘনশ্যামের পাতায় তুলে দিচ্ছি, সেই পদের উত্স-গ্রন্থের উল্লখ সহ। এ ছাড়া অন্যান্য
গ্রন্থে পাওয়া ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদও থাকছে সংগ্রাহক-সংকলকের নির্দেশানুসারে।

২। দ্বিতীয় তালিকায় থাকছে ঘনশ্যাম চক্রবর্তী বা নরহরির “ঘনশ্যাম” ভণিতার।
নরহরি ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর সংকলিত ও বিরোচিত গীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের ঘনশ্যামের পদাবলী থাকছে এই
পাতায়। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পদও থাকছে সংগ্রাহক-সংকলকের নির্দেশানুসারে।

৩। তৃতীয় তালিকায় থাকছে অনির্দিষ্ট ঘনশ্যাম ভণিতার পদাবলী।
যে পদগুলি সম্বন্ধে আমরা নিশ্চিত নই যে তা ঘনশ্যাম কবিরাজ না ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পদ, সেই পদগুলি এই
পাতায় থাকছে।

৪। চতুর্থ তালিকায় থাকছে “দ্বিজ ঘনশ্যাম” ভণিতাযুক্ত এযাবৎ পাওয়া চারটে পদ।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি দ্বিজ ঘনষ্যামের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।     
কবি ঘনশ্যাম নরহরির মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    
কবি দ্বিজ ঘনশ্যামের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।       


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৯.৪.২০১৭  
...                                                                                            
কোন ঘনশ্যামের কোন পদ ?     
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?       
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও
তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে
আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের
নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
দ্বিজ ঘনশ্যাম
অজ্ঞাত পরিচয়
ইনি কি তৃতীয় ঘনশ্যাম ?
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .