গৌরদাস ও গৌরমোহন    
এই গৌরমোহন কি পদকল্পলতিকার সংকলক?    
বিভিন্ন রূপে গৌর ভণিতা    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
গৌরমোহন দাস
সপ্তদশ শতক।
চৈতন্য পরবর্তী কবি।
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
গৌরমোহন
কবি গৌরমোহন - তাঁর একটি মাত্র “সুন্দরি মাধব তুয়া পথ হেরই”, ১০২৬ সংখ্যক পদ রয়েছে
পদকল্পতরু সংকলনে। অন্য কোনো সংকলনে এই কবির আর কোনো পদ পাওয়া যায়নি। এই কবির জীবন
সম্বন্ধে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য নেই।
আমরা মিলনসাগরে  কবি গৌরমোহন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি গৌরমোহন দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১০.৪.২০১৮                                      
...
.
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে
আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান
তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
বিভিন্ন রূপে গৌর ভণিতার কবিদের পাতার লিঙ্ক -                              পাতার উপরে . . .  
মিলনসাগরে প্রকাশিত "গৌর" সম্বলিত বিভিন্ন ভণিতায় ক্লিক করলেই সেই পাতায় চলে যেতে পারবেন।

গৌর দাস . . .     
গৌরচরণ . . .     
গৌরমোহন দাস . . .   
গৌরসুন্দর দাস . . .   
গৌরাঙ্গ দাস . . .     
গৌরী দাস . . .     
সুন্দর দাস . . .   
.
গৌরদাস ও গৌরমোহন -                                                                পাতার উপরে . . .   
পদকল্পতরু গ্রন্থে, গৌরমোহনের এই পদটির ঠিক আগের “সখি মাধব নিকট গমন করি” ১০২৫
সংখ্যক পদটির রচয়িতা গৌরদাস।
সতীশচন্দ্র রায়ের মনে হয়েছে যে এই দুটি পদ একই কবির। সে ক্ষেত্রে
কবি
গৌর দাসের পুরো নাম হবে গৌরমোহন দাস।

তাঁর পদকল্পতরু গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, এই বিষয়ে
সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন . . .

তাঁহার (গৌর দাসের) ২০১৫ সংখ্যক জ্যোত্স্না অভিসারের সঙ্কেতসূচক ---
এত শুনি দূতি                              চলল অবিলম্বনে
.                আসি ভেল উপনিত কানুক পাশ।
নয়ন-তরঙ্গে                                সকল সমুঝায়ল
.                পুন হেরি কুমুদ কহে পরকাশ॥
কুমুদিনি গুণ পরি-                        মলে জগ জীতল
.                কাহে বিলমায়ত শ্যামল ভৃঙ্গ।
দূতিক বচনে                                চলল বরনাগর
.                তুরতহি গৌর হৃদয় পরসন্ন॥
পঙ্কতিগুলিতে কবি সুন্দর কৌশলে দূতীর সঙ্কেত ব্যক্ত করিয়াছেন। শ্রীকৃষ্ণের এই বৃন্দাবনে অভিসার যাত্রার
পরেই শ্রীরাধাকে অভিসারে গমনের জন্য দূতীর প্রণোদনা ও তদনুসারে শ্রীরাধারও বৃন্দাবনে অভিসারের
বর্ণনাত্মক গৌরমোহনের ভণিতাযুক্ত ১০২৬ সংখ্যক পদটী পাওয়া যায়। উভয পদই একজনের রচনা বলিয়া
বিবেচনা হয়। সুতরাং গৌরমোহন গৌরদাসেরই পূর্ণ নাম বলিয়া অনুমান হইতেছে
।”
.
এই গৌরমোহন কি পদকল্পলতিকার সংকলক?                                   পাতার উপরে . . .   
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত পদকল্পলতিকা নামে একটি পদাবলী সংকলন জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
সতীশচন্দ্র
রায় তাঁর পদকল্পতরুর ভূমিকায় সে কথা জানিয়ে লিখেছিলেন যে . . .

পদকল্পলতিকা নামে আর একখানা ক্ষুদ্র সংগ্রহ-গ্রন্থ অনেকদিন পূর্ব্বে কলিকাতার বটতলা হইতে মুদ্রিত ও
প্রকাশিত হইয়াছে। মুদ্রিত গ্রন্থে সঙ্কলয়িতার নাম কিংবা সময়ের কোনও উল্লেখ নাই। এই গ্রন্থখানির
পদসংখ্যা তিন শতের অধিক নহে। ইহার পদাবলীর মধ্যে চণ্ডীদাস ভণিতার পদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত
অধিক বটে। গ্রন্থখানি ক্ষুদ্র হইলেও ইহার পদ-বিন্যাসে রসজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। সুলভ
বলিয়া সাধারণ বৈষ্ণব পাঠক-সমাজে ইহার যথেষ্ট প্রচার দেখা যায়
।”

সৌভাগ্যবশত
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ১৯৪৬ সালে, তাঁর প্রকাশিত ৩৭৫৬ পদবিশিষ্ট সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”-র ভূমিকায় তিনি এই গ্রন্থটি সম্বন্ধে আরও কিছু তথ্য দিয়েছেন। অন্যান্য পদাবলী সংকলন প্রসঙ্গে
লিখতে গিয়ে তিনি লিখেছেন . . .

গৌরমোহন দাস ১৭৭১ শকাব্দায় (১২৫৬ সালে) “পদকল্পলতিকা” প্রকাশ করেন।”

১২৫৬ সাল অর্থাৎ ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দ। তবে গৌরমোহন দাস নিজে মুদ্রণ সহ প্রকাশনা করেছিলেন কি না তা জানা
যায় না। তাই এমন হতে পারে যে গৌরমোহন দাস এই পদকল্পলতিকা গ্রন্থটি সংকলন করেন আরও পূর্বের
কোনো সময়ে এবং সেই পাণ্ডুলিপি বা পুথি থেকে ১৮৪৯ সালে বটতলা থেকে বইটি প্রকাশিত হয়।
সৌভাগ্যবসত এই গ্রন্থটি আমাদের হাতে এসেছে। গ্রন্থটিতে
বৈষ্ণবদাসের কোনো পদ না থাকলেও
শশীশেখরের ৩টে পদ রয়েছে। যা প্রমাণ করে এই গৌরমোহন,
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুর পরবর্তী।

এবার আরও একটি সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা হলো এই যে, যে ব্যক্তি গ্রন্থটি শেষ পর্যন্ত
বটতলা থেকে ছাপিয়ে বের করেন, তিনি নিজের উদ্যোগে, অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক কালে রচিত পদের
প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে, পদকর্তা শশীশেখরের পদ যোগ করে প্রকাশিত করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এই
গৌরমোহন দাসই যে পদকল্পতরুর ১০২৬ সংখ্যক পদের রচয়িতা কিনা, সেই সম্ভাবনা, একেবারে উড়িয়ে
দেওয়া যায় না। কারণ
বৈষ্ণবদাসের পদ পদকল্পলতিকায় না থাকাটা এক্ষেত্রে প্রমাণ করে যে গৌরমোহন,
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুর পূর্ববর্তী কবি।

দেখা যাচ্ছে যে পদকল্পলতিকায় গৌরমোহনের নিজের রচিত কোনো পদ নেই। কিন্তু
রাধামোহন  এবং  
নরহরি চক্রবর্তী নরহরি সরকারের ঠাকুরের পদ রয়েছে। তাই যদি ইনি সত্যই পদকল্পলতিকার পদতর্তা
হন, তা হলে তিনি
বৈষ্ণবদাসের সামান্য পূর্বের কবি। এমনও হতে পারে যে গৌরমোহন, গ্রন্থটি শেষ করার
পূর্বেই রচনাশক্তিরহিত হয়েছিলেন। নিজের পদ আর গ্রন্থে সন্নিবেশ করতে পারেন নি। বহুকাল পরে পুথিটি
প্রকাশকের হাতে পড়ে এবং তাঁর নিজের কোনো পদ ছাড়াই প্রকাশিত হয়। প্রকাশক,
বৈষ্ণবদাস বা
পদকল্পতরু পরবর্তী কবি শশীশেখরের পদ যোগ করে দেন। এমনও হতে পারে গৌরমোহন নিজেই ইচ্ছে
করে তাঁর কোনো পদ এই গ্রন্থে রাখেন নি। আমরা তো কেবল অনুমান করছি! কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে
দৃষ্টিপাত করবেন এই আশা রাখি।

গৌরমোহন,
রাধামোহনের পরবর্তী কবি ছিলেন বলে তাঁর সংকলনে, সতীশচন্দ্রের ভাষায় “ইহার পদাবলীর
মধ্যে
চণ্ডীদাস ভণিতার পদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত অধিক বটে” সম্ভব হয়েছে। কারণ ততদিনে রাধামোহন,
বৈষ্ণব সমাজে, স্বকীয়া-পরকীয়াবাদের তর্ক-বিতর্কে জয়লাভ করেছেন পরকীয়াবাদের পক্ষে (১৭১৮খৃষ্টাব্দ),  
যা সহজিয়া ভাবের
চণ্ডীদাসের পদের আধিক্যের প্রতিবন্ধকতা সরাতে সাহায্য করেছিল।
.