নরহরি ও নরহরি দাস ভণিতার পদের সংখ্যা   
নরহরি ঘনশ্যামের স্বরচিত পরিচয়  
নরহরি চক্রবর্তী কার শিষ্য ছিলেন ?   
নরহরি ঘনশ্যামের সূপকার হওয়ার প্রবাদ এবং তার প্রমাণ   
নরহরি চক্রবর্তীর রচনাকাল ও পাণ্ডিত্য  
বিভিন্ন রূপে "নরহরি" ভণিতা ও তার অপভ্রংশ   
নরহরি চক্রবর্তীর রচনাসম্ভার       
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
নরহরি চক্রবর্তী
অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে।
চৈতন্য পরবর্তী কবি।
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
নরহরি ও নরহরি দাস
কবি নরহরি চক্রবর্তী - অপর নাম ঘনশ্যাম। ইনি নরহরি, নরহরি দাস, নরহরিয়া, নর, নৃহরি, ঘনশ্যাম,
ঘনশ্যামর, ঘনশ্যামরু ও ঘনশ্যাম দাস ভণিতাতেও পদাবলী রচনা করে গিয়েছেন। ইনি পদকল্পতরুর  
সংকলক পদকর্তা বৈষ্ণবদাসের থেকে প্রায় বছর পঁচিশ পূর্বের কবি ও গ্রন্থকার। “পদামৃতসমুদ্র”  
পদসংকলনের সংকলক
রাধামোহন ঠাকুরের সমকালীন। কবির পিতার নাম জগন্নাথ চক্রবর্তী এবং তাঁর  
নিবাস কাটোয়ার নিকট ছিল। পিতা ছিলেন প্রখ্যাত “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি” নামক পদাবলী সংকলনের
সংকলক
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বা হরিবল্লভের শিষ্য।

নরহরি, নরহরি দাস ভণিতার পদকর্তা আরেকজনও ছিলেন। তিনি
শ্রীচৈতন্যদেবের পরিকর বা সহচর এবং
মুকুন্দের ভাই, বৈদ্যবংশজাত, শ্রীখণ্ড-নিবাসী
নরহরি সরকার ঠাকুরই সর্বপ্রথম বৈষ্ণব পদাবলীতে শ্রীচৈতন্য
কে নিয়ে পদ রচনা করেন।

নরহরি সরকারের “নরহরি ও নরহরি দাস” ভণিতার পদাবলীর পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .    
নরহরি চক্রবর্তীর “ঘনশ্যাম” ভণিতার পদাবলীর পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .    
নরহরি ও নরহরি দাস ভণিতার পদের সংখ্যা -                                    পাতার উপরে . . .  
দুই নরহরি কবিই, “নরহরি দাস” ভণিতার থেকে “নরহরি” ভণিতায় অনেক বেশী সংখ্যক পদ রচনা করে
গিয়েছেন। কালের প্রভাবে এই দুই নরহরির কিছু গীত যে মিলে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। কবি নরহরিদের
মোট ১১১৭টি পদ আমাদের হাতে এসেছে। যার মধ্যে নির্দিষ্টভাবে নরহরি সরকার ঠাকুরের ১৪২টি এবং
নরহরি চক্রবর্তীর ৮৬৯টি পদ রয়েছে। ১০৬টি পদ রয়েছে যা আমরা অনির্দিষ্ট নরহরির পদ বলে উল্লেখ
করেছি। এই পদের রচয়িতা কোন নরহরি তা বলা সম্ভব হয়নি। এই পদের মধ্যে কিছু পদ,
নরহরি সরকার
নরহরি চক্রবর্তী ছাড়াও অন্য কোন কবি নরহরির দ্বারাও রচিত হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে “নর”,
নরহরিয়া” ও “নৃহরি” ভণিতার একটি করে পদ পেয়েছি, যা আমরা “নরহরি” ভণিতার পাতায় দিয়েছি এবং
এই তিনটি পদই স্বতন্ত্রভাবে “
নর”, “নরহরিয়া” ও “নৃহরি” ভণিতার পাতায় তুলে দিয়েছি।
নরহরি ঘনশ্যামের স্বরচিত পরিচয় -                                                 পাতার উপরে . . .  
শ্রীগৌড়ীয় মঠ, বাগবাজার, কলকাতার ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস ১০৮ শ্রী শ্রীমদ্ভক্তি সুহৃদ্ পরিব্রাজক মহারাজ
কর্তৃক সম্পাদিত, গৌড়ীয় মিশন থেকে প্রকাশিত, "ভক্তিরত্নাকর" গ্রন্থের শেষে দেওয়া "কথাসার" নামক গ্রন্থের
বিভিন্ন তরঙ্গের বিষয় বর্ণনা ও কবির অভিলাষ ব্যক্ত করা “এই অভিলাষ মনে গৌরাঙ্গ-চাঁদের গুণে” পদের
শেষে দেওয়া উপসংহারে কবির এই পরিচয় দেওয়া রয়েছে . . .

নিজ-পরিচয় দিতে লজ্জা হয় মনে।
পূর্ববাস গঙ্গাতীরে জানে সর্ব জনে॥
বিশ্বনাথ চক্তবর্ত্তী সর্বত্র বিখ্যাত।
তাঁ’র শিষ্য মোর পিতা বিপ্র জগন্নাথ॥
না জানি---কি হেতু হৈল মোর দুই নাম।
নরহরি দাস, আর দাস ঘনশ্যাম॥
গৃহাশ্রম হইতে হইনু উদাসীন।
মহাপাপ-বিষয়ে মজিনু রাত্রিদিন॥
দয়ার সমুদ্র ওহে বৈষ্ণবগোঁসাই।
বেদে গায়---তুয়া কৃপা বিনা গতি নাই॥
নরহরি কহে---এই কৃপা কর মোরে।
নিরন্তর ডুবি যেন ভক্তিরত্নাকরে॥


১৩৩৪ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত (১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে)
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত, পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার, ৮৬
ও ১৩২-পৃষ্ঠায় পরিচয়টি এইভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে . . .
নিজ-পরিচয় দিতে লজ্জা হয় মনে।
পূর্ব্ববাস গঙ্গাতীরে জানে সর্ব্ব জনে॥
বিশ্বনাথ চক্তবর্ত্তী সর্ব্বত্র বিখ্যাত।
তাঁর শিষ্য মোর পিতা বিপ্র জগন্নাথ॥
না জানি কি হেতু হৈল মোর দুই নাম।
নরহরি দাস আর দাস ঘনশ্যাম


১৩৪১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত (১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দ) গৌরপদতরঙ্গিণীর দ্বিতীয় সংস্করণের সম্পাদক মৃণালকান্তি ঘোষ
ভক্তিভূষণ, পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ের ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইভাবে দেওয়া রয়েছে . . .
নিজ-পরিচয় দিতে লজ্জা হয় মনে।          পূর্ব্ব-বাস গঙ্গা-তীরে জানে সর্ব্ব জনে॥
বিশ্বনাথ চক্তবর্ত্তী সর্ব্বত্র বিখ্যাত।            তাঁর শিষ্য মোর পিতা বিপ্র জগন্নাথ॥
না জানি কি হেতু হৈল মোর দুই নাম।       নরহরি দাস, আর দাস ঘনশ্যাম॥
গৃহাশ্রম হইতে হইনু উদাসীন।                মহাপাপ-বিষয়ে মজিনু রাত্রিদিন॥

নরহরি চক্রবর্তী কার শিষ্য ছিলেন ?                                                   পাতার উপরে . . .  
১৯০২ সালে প্রকাশিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”-র প্রথম সংস্করণের সংকলক ও সম্পাদক
জগবন্ধু ভদ্রর মতে
ঘনশ্যামের পিতা ও ঘনশ্যাম, উভয়েই পদাবলী সংকলন “ক্ষণদাগীতচিন্তামণি”-র সংকলক
বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর
শিষ্য। কিন্তু তিনি এর জন্য কোনো প্রমাণ দিয়ে যান নি।

অন্যদিকে নরহরি ঘনশ্যামের ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের প্রতিটি তরঙ্গের শেষে কবি,
শ্রীনিবাস আচার্য্যের চরণ
বন্দনা করে তরঙ্গটি শেষ করেছেন যা সাধারণত শিষ্যরা গুরুর নামেই ক’রে থাকেন . . .
শ্রীনিবাস আচার্য্য-চরণ চিন্তা করি।
ভক্তিরত্নাকর কহে দাস নরহরি॥

অন্য কোনো আরও জোরালো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত শ্রীনিবাস আচার্য্যকেই নরহরি ঘনশ্যামের মন্ত্রগুরু বলে
ধরে নেওয়া যায বলে আমরা মনে করছি।
নরহরি ঘনশ্যামের সূপকার হওয়ার প্রবাদ এবং তার প্রমাণ -                  পাতার উপরে . . .  
সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, ১৩৫-পৃষ্ঠায়, তিনি লিখেছেন . . .
নরহরি সরকার ঠাকুরের সম্বন্ধে যতটুকু জানা যায়, “ভক্তিরত্নাকর”, “নরোত্তম-বিলাস” প্রভৃতি ঐতিহাসিক
গ্রন্থ ও “গীত-চন্দ্রোদয়”, “গৌর-চরিত-চিন্তামণি” নামক পদ-সংগ্রহ-গ্রন্থের প্রণেতা প্রসিদ্ধ পদ-কর্ত্তা ঘনশ্যাম-
নরহরির সম্বন্ধে ততটুকুই জানা যায় না। তিনি বৈষ্ণবোচিত বিনয় হেতু নিজের সম্বন্ধে কোনও কথা লিখিতে
কুণ্ঠিত হইয়াছেন। তবে তাঁহার ভক্তিরত্নাকরে লিখিত---
গৃহাশ্রম হইতে হইনু উদাসীন।
মহাপাপ-বিষয়ে মজিনু রাত্রিদিন॥
উক্তি হইতে জানা যায় যে, তিনি ঐ গ্রন্থ প্রণয়নের পূর্ব্বেই গৃহাশ্রম পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। প্রবাদ আছে যে,
তিনি (নরহরি) বৃন্দাবনে যাইয়া কিছু কাল বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ বিগ্রহ গোবিন্দজীর সূপকারের কার্য্য করেন।
বলা বাহুল্য যে, নরহরি চক্রবর্ত্তীর ন্যায় একজন সুবিজ্ঞ উদাসীন ব্যক্তি বেতন গ্রহণে এই কার্য্য করেন নাই।
তিনি কোনও অজ্ঞাত কারণে অবশ্যই ভক্তি-প্রণোদিত হইয়া নিঃস্বার্থ ভাবেই ঐ সেবা-কার্য্য সুসম্পাদিত
করিয়াছিলেন।


১৩৪১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত (১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দ)
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত গৌরপদতরঙ্গিণীর দ্বিতীয় সংস্করণের
সম্পাদক মৃণালকান্তি ঘোষ ভক্তিভূষণ, পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ের ১৫৪-পৃষ্ঠায়, ঘনশ্যাম-নরহরির সূপকার হওয়া
নিয়ে লিখেছেন . . .  
“. . .
ফলকথা, অনেক বৈষ্ণব-মহাজনের ন্যায় ঘনশ্যাম-নরহরির পরিচয়, তাঁহার গ্রন্থ কয়েকখানি ভিন্ন, আর
কিছুতেই জানা যায় না। এমন কি, তিনি যে বৃন্দাবনে যাইয়া গোবিন্দজীর সূপকারের কার্য্য করেন, তাহাও
কোন গ্রন্থে নাই,---ইহা একটি প্রবাদ মাত্র।


আমরা নরহরির সমস্ত পদ মিলনসাগরে তোলার কাজ করতে গিয়ে, একটি পদের ভণিতায় নরহরির
“সূপকার” হওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। “নরহরি” ভণিতার “
জয় জয় রামচন্দ্র কবিরাজ” পদটি আমরা পেয়েছি
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত,
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩২০-পৃষ্ঠায়। অন্য কোনো গ্রন্থে বা সংকলনে এই পদটি এখনও
পর্যন্ত আমরা পাইনি। পদটির ভণিতাতে কবি জানাচ্ছেন যে তিনি “নরহরি সূপকার”। পদের ভণিতার
পংক্তিটি এই রকম . . .

কাতর উর                        নরহরি সুপুকারত
.        চরণ নিকট রাখহ করি দাস॥


এই পংক্তিটি ভাবার্থের চারটি সম্ভাবনা থাকতে পারে---

১। ব্রজবুলিতে লেখা এই পদটি কবি, বৃন্দাবনে বসে রচনা করে থাকতে পারেন যেখানে তিনি সূপকার
হিসেবে কিছুকাল কাজ করেছিলেন বলে প্রবাদ রয়েছে। “সুপুকারত” শব্দটিকে পদকর্তা দ্বারা ছন্দোবদ্ধ
করার প্রয়াসে “সূপকার” শব্দের অপভ্রংশ হয়ে গিয়েছে বলে ধরলে এই পংক্তিটির অর্থ দাঁড়ায় --- কাতর বা
ভারাক্রান্ত বা ব্যাথাতুর বক্ষের নরহরি সূপকারকে চরণের নিকটে স্থান দিয়ে দাস করে রাখ।

২। ব্রজবুলিতে লেখা এই পদটির “সুপুকারত” শব্দটিকে ব্রজ ও হিন্দুস্তানী ঘেঁষা শব্দ “সু-পুকারত” ধরলে,
পংক্তিটির অর্থ দাঁড়ায় --- কাতর বা ভারাক্রান্ত বা ব্যাথাতুর বক্ষের নরহরি সু-পুকারিছে অর্থাৎ সুন্দরভাবে
ডেকে বলছে, চরণের নিকটে স্থান দিয়ে দাস করে রাখ।

৩। কবি হয়তো এখানে দ্ব্যর্থভাষার প্রয়োগ করেছেন, যাতে একই সঙ্গে, “নরহরি ডেকে বলছেন”
এবং “নরহরি সূপকার” এই দুটি বক্তব্যই এই পদের ভণিতায় থেকে যায়।

৪। বিভিন্ন সময়ে, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন কীর্তনীয়াদের উচ্চারণ ও লিপিকারদের প্রমাদের ফলে
“সূপকারত” শব্দটি “সুপুকারত” হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন যে সাধারণভাবে
“সূপকারত” শব্দটি উচ্চারণ করার সময়ে “সুপুকারত” হয়েই কানে ধরা দেয়, বিশেষ করে গানে। গীতটি শুনে
যে লিপিকররা লিখেছিলেন, তাঁরা “সুপুকারত” লিখবেন এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

এই পদটি
জগবন্ধু ভদ্র মহাশয়ের সংগ্রহ করা পদ হওয়া সত্বেও কোনও কারণে এই পংক্তিটি তাঁর চোখ
এড়িয়ে গিয়েছে অথবা তাঁর মতে এই পংক্তিটির উপরোক্ত দ্বিতীয় সম্ভাবনাই প্রতীত হয়েছিল। তিনি এই
পদটিকে, তাঁর পদসংকলন “গৌরপদতরঙ্গিণীতে”, নিশ্চিতভাবে নরহরি সরকার অথবা নরহরি চক্রবর্তীর
রচনা বলে নির্দেশ করে যান নি। তিনি এই পদটিকে “নরহরি দাস”-এর পদ বলে উল্লেখ করে গিয়েছিলেন।
গ্রন্থের “দ্বিতীয় সূচী” অর্থাৎ “পদকর্ত্তৃগণের নাম ও পদ-সমষ্টি”-র সূচীর পাতায়, পদকর্তা নরহরি দাসের
পাদটীকায় লেখা আছে, . . .
“নরহরি ভণিতার আরও ১১২টী পদ গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে আছে। ইহার মধ্যে সরকার ঠাকুরের ও চক্রবর্ত্তী
মহাশয়ের পদও নিশ্চয় আছে। তবে কাহার রচিত পদ কোনগুলি, তাহা বাছিয়া বাহির করা সুকঠিন।
ইহার মধ্যে অপর কোন নরহরির পদ আছে কি না, তাহা কে বলিতে পারে?”

যেহেতু কথিত প্রবাদ-এর “সূপকার” কেবল নরহরি চক্রবর্তীর নামের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট, তাই দৃঢ়তার সঙ্গে
আমরা বলতে পারি যে এই পদটি
নরহরি চক্রবর্তীর এবং নরহরি চক্রবর্তী যে সূপকার ছিলেন তা এই
পদটির মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়ে গেল। কিন্তু তিনি বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ বিগ্রহ গোবিন্দজীর সূপকার ছিলেন কি
না তা কিন্তু এখনও গবেষণার বিষয়! ---মিলন সেনগুপ্ত॥
নরহরি চক্রবর্তীর রচনাকাল ও পাণ্ডিত্য -                                           পাতার উপরে . . .  
নরহরি চক্রবর্তীর রচনাকাল নিয়ে বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরু গ্রন্থের সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর
অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী সংকলনের ভূমিকায় লিখেছেন . . .

কেউ কেউ বলেন যে, নরহরি চক্রবর্তী পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাসের পরবর্ত্তী পদ-কর্ত্তা বলিয়া,
পদকল্পতরুতে নরহরি চক্রবর্ত্তীর কোন পদ উদ্ধৃত হয় নাই। এই উক্তির সমর্থক কোনও প্রমাণ আছে বলিয়া
আমরা জানি না। পদকল্পতরুর মঙ্গলাচরণের “জয় জয় চণ্ডীদাস দয়াময়” (পদসংখ্যা ১৭) ইত্যাদি পদ দুইটি
নরহরি চক্রবর্ত্তীর রচিত বলিয়াই আমাদিগের ধারণা হইয়াছে। ভরসা করি কোনো অনুসন্ধিত্সু পাঠক এ
সম্বন্ধে বিশেষ অনুসন্ধান ও আলোচনা করিয়া পদাবলী সাহিত্যের এই সমস্যাটির সুমিমাংসা করিতে চেষ্টা
করিবেন।


নরহরি চক্রবর্তীর পাণ্ডিত্য সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র আরও লিখেছেন . . .
নরহরি চক্রবর্ত্তী অতি প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার। তাঁহার ভক্তিরত্নাকর পাঠ করিলে তাঁহার অসাধারণ পাণ্ডিত্য, লিপি-
কূশলতা, সহৃদয়তা ও সঙ্গীতজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়।
”     

১৯০৫ সালে
দুর্দাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত ও সংকলিত বৈষ্ণব পদ লহরী সংকলনে তিনি ঘনশ্যাম দাস সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .
ইনি একজন প্রসিদ্ধ পদ কর্ত্তা। পদাবলী ব্যতীত ইঁহার রচিত গ্রন্থও অনেক আছে তন্মধ্যে পদ্দতি প্রদীপ,
গৌর চরিত চিন্তামণি, শ্রীনিবাস চরিত ও ভক্তি রত্নাকর প্রভৃতি গ্রন্থ বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। পদাবলীতে ইঁহার
সঙ্গীত-শাস্ত্রজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে ইঁহার পদাবলির অনেক স্থল সেরূপ সরল ও সহজ বোধগম্য
নহে। ইঁহার অপর নাম নরহরি সুতরাং ইঁহাকে দ্বিতীয় নরহরি বলিয়া গণ্য করিতে হইবে। ইঁহার নিবাস
কাটোয়ার সন্নিকট। পিতার নাম জগন্নাথ চক্রবর্তী।


অষ্টাদশ শতকে সঙ্কলিত ১১৭০টি পদ সম্বলিত, ঘনশ্যাম-নরহরি চক্রবর্তী সংকলিত ও বিরচিত,
শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থের, ৪৬২ গৌরাব্দে সম্পাদিত ও মুদ্রিত সংস্করণের সম্পাদক হরিদাস দাস, নরহরি
চক্রবর্তী সম্বন্ধে তাঁর নিবেদন-এ লিখেছেন . . .
শ্রীমন্নরহরি-ঘনশ্যামের কবিতায় ব্যাঞ্জনা বা ভাবোত্কর্ষ না থাকিলেও, কবি হিসাবে তিনি তত সমাদৃত না
হইলেও, তাঁহার রচনা আড়ম্বর-শূন্য সাদাসিদা গদ্যের ন্যায় হইলেও, তিনি যে একাধারে সুনিপূণ গায়ক,  
বাদক, ছন্দোবিৎ, পাচক, বৈষ্ণব কবি ও ঐতিহাসিক হিসাবে পরম সম্মানীয় একথা অস্বীকার করিবার উপায়
নাই। আমার মনে হয় এই একমাত্র শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় গ্রন্থখানা সম্যক্ প্রকাশিত হইলে শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দের  
স্মরণমননাদি যাবতীয় বিষয়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণব জগতের একটা মহা অভাব দূরীকৃত হয়।

নরহরি চক্রবর্তীর রচনাসম্ভার -                                                          পাতার উপরে . . .   
নরহরি চক্রবর্তী ঘনশ্যামের রচনাসম্ভারে মধ্যে রয়েছে “ভক্তিরত্নাকর”, “শ্রীনরোত্তম বিলাস”,  “শ্রীনিবাসচরিত”,
“ব্রজ পরিক্রমা”, “গৌর-চরিত-চিন্তামণি” প্রভৃতি এবং বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি নরহরি চক্রবর্তীর বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি নরহরি চক্রবর্তীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩১.১০.২০১৭                                      
...
.
.
.
.
.
.
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে
আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান
তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
বিভিন্ন রূপে "নরহরি" ও তার অপভ্রংশ -                                            পাতার উপরে . . .  
মিলনসাগরে প্রকাশিত "নরহরি" সম্বলিত বিভিন্ন ভণিতায় ক্লিক করলেই সেই পাতায় চলে যেতে পারবেন।

নরহরি ও নরহরি দাস সমগ্র (ভণিতার সমগ্র)
নরহরি (সকল নরহরি ভণিতার পদ)  
নরহরি দাস (সকল নরহরি দাস ভণিতার পদ)  
নরহরি সরকার ঠাকুর    
নরহরি চক্রবর্তী   
অনির্দিষ্ট নরহরি (নরহরি সরকার বা নরহরি চক্তবর্তীর নামে নির্দিষ্ট নয় এমন পদ)   
নর (কেবল নর ভণিতার পদ)   
নরহরিয়া (কেবল নরহরিয়া ভণিতার পদ)  
নৃহরি (কেবল নৃহরি ভণিতার পদ)    
.
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .