নরহরি সরকার ঠাকুরের প্রাপ্ত জীবনী     
নরহরি সরকার ঠাকুর ও ব্রজলীলার মধুমতী   
নরহরি ও নরহরি দাস ভণিতার পদের সংখ্যা   
বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবতে নরহরির উল্লেখ নেই!   
নরহরি সরকার দ্বারা সর্বপ্রথম শ্রীচৈতন্যের বিগ্রহ স্থাপনা   
নরহরি সরকার শ্রীচৈতন্যবিষয়ক পদাবলী আদি-প্রবর্তক   
নরহরি সরকার ঠাকুরের ব্রজলীলার পদাবলী   
নরহরি দাস সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি   
বিভিন্ন রূপে "নরহরি" ভণিতা ও তার অপভ্রংশ   
নরহরি সরকার ঠাকুরের রচনাসম্ভার     
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
নরহরি সরকার ঠাকুর
আনুমানিক ১৪৮০ ~ ১৫৪০
চৈতন্য সমসাময়িক কবি।
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
নরহরি ও নরহরি দাস
কবি নরহরি সরকার ঠাকুর - আমরা দুইজন নরহরির সন্ধান পাই। প্রথমজন নরহরি সরকার ঠাকুর,
শ্রীচৈতন্যদেবের পরিকর বা সহচর, গৌড়ের নবাব বা বাদশাহের চিকিত্সক মুকুন্দের ছোটো ভাই। তিনি
বর্দ্ধমান জেলার শ্রীখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন।
কবি লোচন দাস, নরহরি সরকার ঠাকুরের মন্ত্র শিষ্য ছিলেন।
দ্বিতীয় জনের নাম
নরহরি চক্রবর্তী। তিনি অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকের, পদকল্পতরুর সংকলক
বৈষ্ণবদাসের পূর্ববর্তী ও রাধামোহন ঠাকুরের সমসাময়িক, বৈষ্ণব কবি-সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক। তিনি
ঘনশ্যাম” ভণিতাতেও পদ রচনা করে গিয়েছেন।

.                                          এই পাতা নরহরি সরকার ঠাকুরের।
নরহরি ও নরহরি দাস ভণিতার পদের সংখ্যা -                                    পাতার উপরে . . .  
দুই নরহরি কবিই, “নরহরি দাস” ভণিতার থেকে “নরহরি” ভণিতায় অনেক বেশী সংখ্যক পদ রচনা করে
গিয়েছেন। কালের প্রভাবে এই দুই নরহরির কিছু গীত যে মিলে গেছে তাতে সন্দেহ নেই। কবি নরহরিদের
মোট ১১১৭টি পদ আমাদের হাতে এসেছে। যার মধ্যে নির্দিষ্টভাবে নরহরি সরকার ঠাকুরের ১৪২টি এবং
নরহরি চক্রবর্তীর ৮৬৯টি পদ রয়েছে। ১০৬টি পদ রয়েছে যা আমরা অনির্দিষ্ট নরহরির পদ বলে উল্লেখ
করেছি। এই পদের রচয়িতা কোন নরহরি তা বলা সম্ভব হয়নি। এই পদের মধ্যে কিছু পদ,
নরহরি সরকার
নরহরি চক্রবর্তী ছাড়াও অন্য কোন কবি নরহরির দ্বারাও রচিত হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে “নর”,
নরহরিয়া” ও “নৃহরি” ভণিতার একটি করে পদ পেয়েছি, যা আমরা “নরহরি” ভণিতার পাতায় দিয়েছি
এবং এই তিনটি পদই স্বতন্ত্রভাবে “
নর”, “নরহরিয়া” ও “নৃহরি” ভণিতার পাতায় তুলে দিয়েছি।
নরহরি সরকার ঠাকুরের প্রাপ্ত জীবনী -                                               পাতার উপরে . . .  
জগবন্ধু ভদ্র তাঁর সংকলিত গৌরপদ-তরঙ্গিণী পদ-সংকলনে, নরহরি দাস সম্বন্ধে, ১৮৭-পৃষ্ঠায়, পদকর্ত্তৃগণের
পরিচয়ে লিখেছেন . . .
শ্রীখণ্ডের প্রাচীন-বৈষ্ণব” নাম দিয়া শ্রীখণ্ডনিবাসী শ্রীগৌরগুণানন্দ ঠাকুর কর্ত্তৃক খণ্ডবাসী ভক্তগণের যে জীবনী
সঙ্কলিত হইয়াছে, ইহাতে নরহরির পরিচয় দিতে যাইয়া তিনি প্রথমেই লিখিয়াছেন, “আমরা গুরু-পরম্পরা
শুনিয়া আসিতেছি যে, ঠাকুর নরহরি শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাব সময়ের ৪/৫ বত্সর পূর্ব্বে অবতীর্ণ হয়েন।
১৮০৭ শকে বা ১৪৮৫ খ্রীষ্টাব্দে শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাব ; এই হিসাব ধরিলে ১৪৮০/৮১ খ্রীষ্টাব্দে নরহরির জন্ম
অনুমিত হয়।” অন্যত্র লিখিয়াছেন, “ঠাকুর নরহরি কোন্ শকাব্দায় অপ্রকট হয়েন, তাহা ঠিক জানা যায় না
।” এখানে গ্রন্থকার পাদটীকায় লিখিয়াছেন, বঙ্গভাষা ও সাহিত্য নামক গ্রন্থের গ্রন্থকার এবং ১৩০৬ সালের
৪র্থ সংখ্যা সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় কোন প্রবন্ধ-লেখক লেখেন, ১৫৪০ খ্রীষ্টাব্দে নরহরি অন্তর্হিত হয়েন।”

“শ্রীখণ্ডের প্রাচীন-বৈষ্ণব” গ্রন্থে আছে যে, নরহরির পিতার নাম নরনারায়ণ দেব ও মাতার নাম গোয়ী দেবী।
নরনারায়ণ অতি সুপণ্ডিত ও ভক্তিমান ছিলেন। তাঁহার দুই পুত্র--- জ্যেষ্ঠ মুকুন্দ এ কনিষ্ঠ নরহরি।
নরনারায়ণ পুত্রদ্বয়কে শৈশব হইতেই অতি যত্নের সহিত ভক্তিধর্ম্ম শিক্ষা দিয়াছিলেন। ইহাতে দুই ভাই অল্প
বয়সেই পরম ভাগবত হইয়া উঠিলেন।

মুকুন্দ চিকিত্সা-শাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি লাভ করায় তখনকার বাদশা তাঁহাকে গৌড়ে লইয়া যান। মুকুন্দের
গৌড়ে গমন করিবার পূর্ব্বেই নরনারায়ণ কৃষ্ণপ্রাপ্ত হন। তখন নরহরির সমস্ত ভার মুকুন্দের উপর পড়িল।
তিনি সবসময় ভক্তিরসে টলমল করিতেছিলেন। দুই সহোদরে প্রগাঢ় প্রণয়, কেহ কাহাকে ছাড়িয়া থাকিতে
পারেন না। কিন্তু বাদশার আদেশও অমান্য করিতে পারেন না। কাজেই অধ্যয়নের জন্য নরহরিকে নবদ্বীপে
রাখিয়া, মুকুন্দ গৌড়ে গমন করিতে বাধ্য হন। সেখানে তাঁহার বেশী দিন থাকিতে হয় নাই। কারণ, তিনি
কৃষ্ণপ্রেমে এরূপ বিভোর হইয়া থাকিতেন যে, বাদশা তাঁহার অবস্থা দেখিয়া শেষে তাঁহাকে ছাড়িয়া দিতে
বাধ্য হন। মুকুন্দ ফিরিয়া আসিয়া অনেক সময়ই নরহরির সহিত নবদ্বীপে বাস করিতেন।

নরহরি তখন নবদ্বীপে থাকিয়া অধ্যয়ন করিতেছিলেন। তিনি কি প্রকারে শ্রীগৌরাঙ্গের কৃপালাভ করিলেন,
তাহা জানা যায় না। তবে সম্ভবতঃ শ্রীগৌরাঙ্গ পাঠ্যাবস্থায় এবং অধ্যাপক হইয়াও মুরারি, মুকুন্দ, গদাধর
প্রভৃতিকে পথে ঘাটে দেখিলেই যখন ফাঁকি জিজ্ঞাসা করিতেন, তখন নরহরির সহিতও সেইরূপ ব্যবহার না
করিবার কোন হেতু দেখা যায় না। কারণ পরবর্ত্তী কালে যাঁহারা তাঁহার অন্তরঙ্গ ভক্ত হইয়াছিলেন,
পাঠ্যাবস্থায় তাঁহাদিগকে লইয়াই তিনি রসরঙ্গ অধিক করিতেন। আর নরহরির ন্যায় তাঁহার অন্তরঙ্গ ভক্ত
অতি কমই ছিলেন। সম্ভবতঃ এই পাঠ্যাবস্থায়ই নরহরি ও গদাধর প্রস্পরের প্রীতিডোরে আবদ্ধ হন।


ইসকনের ওয়েবসাইটে বৃন্দাবনের রাধাকুণ্ডে নরহরি সরকার ঠাকুরের সমাধির ছবি দেওয়া রয়েছে। সেই
পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন।  ( http://gaudiyahistory.iskcondesiretree.com/sri-narahari-sarakara-thakura/  )
বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে নরহরির উল্লেখ নেই!                      পাতার উপরে . . .  
এটা বিস্ময়কর যে
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনীকার বৃন্দাবন দাস তাঁর “চৈতন্যভাগবত” গ্রন্থে নরহরি ঠাকুরে
উল্লেখ করেন নি। এই বিষয়ে
জগবন্ধু ভদ্র তাঁর সংকলিত “গৌরপদ-তরঙ্গিণী” পদ-সংকলনে নরহরি দাস
সম্বন্ধে, ১৮৯-পৃষ্ঠায়, পদকর্ত্তৃগণের পরিচয়ে লিখেছেন . . .
মুরারি, মুকুন্দ, গদাধর প্রভৃতির সহিত শ্রীগৌরাঙ্গের রসরঙ্গের কথা আমরা শ্রীচৈতন্যভাগবতে দেখিতে পাই
। কিন্তু নরহরির কথা বৃন্দাবনদাস কেন যে তাঁহার গ্রন্থে লেখেন নাই, এমন কি, তাঁহার নাম পর্যন্ত্য করেন
নাই, তাহার প্রকৃত কারণ নির্দ্দেশ করা সুকঠিন। কেহ কেহ বলেন, নরহরি নিত্যানন্দকে অশ্রদ্ধার চক্ষে
দেখিতেন বলিয়া নিত্যানন্দ-শিষ্য বৃন্দাবনদাস তাঁহার গ্রন্থে নরহরির নাম পর্যন্ত্য করেন নাই। কিন্তু নরহরির
গণেরা ইহা স্বীকার করেন না, এবং আমাদিগেরও ইহা বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি হয় না। শ্রীখণ্ডের শ্রীযুক্ত
রাখালানন্দ ঠাকুর শাস্ত্রী মহাশয় “শ্রীগৌরাঙ্গমাধুরী” নামক মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের লিখিত
প্রবন্ধের পাদটীকায় লিখিয়াছেন, ঠাকুর নরহরি শ্রীপাদ নিত্যানন্দকে অশ্রদ্ধাভাবে দেখিতেন, এই মত্সরকল্পিত
কথার উপর কেবল নরহরির গণ কেন, ভক্তমাত্রেই অবিশ্বাস করিয়া থাকেন। ঠাকুর নরহরি স্বপ্রণীত
শ্রীকৃষ্ণভজনামৃত গ্রন্থের প্রারম্ভে - “কৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রেণ নিত্যানন্দেন সংহৃতে অবতারে” ; তথা গ্রন্থের মধ্যভাগে
- “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যেন প্রভুণা শ্রীনিত্যানন্দেন অবতারে সংহৃতে মহান্ প্রলয়ো ভবিষ্যতি” এই বাক্যে শ্রীগৌরাঙ্গের
লীলাকে শ্রীগৌর-নিত্যানন্দের লীলা বলিয়া স্বীকার করিয়াছেন ; এবং উভয় স্বরূপকে সমভাবে নির্দ্দেশ করিয়া
শ্রীকৃষ্ণ-বলরামের ন্যায় উভয়ের সমপ্রকাশত্বই প্রদর্শন করিয়াছেন
।”
নরহরি সরকার দ্বারা সর্বপ্রথম শ্রীচৈতন্যের বিগ্রহ স্থাপনা -                       পাতার উপরে . . .  
আগামী প্রজন্ম যাতে
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন কাহিনী ও লীলা ভুলে না যায় তার জন্য তিনিই সর্বপ্রথম
শ্রীচৈতন্যের তিনটি নদীয়া-নাগর-মূর্তি তৈরী করিয়ে, একটি শ্রীখণ্ডে, একটি গঙ্গানগরে এবং সবচেয়ে বড়
মূর্তিটি দাস-গদাধরের শিষ্য বিদ্যানন্দ পণ্ডিতের দ্বারা কাটোয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
নরহরি সরকার শ্রীচৈতন্যবিষয়ক পদাবলীর আদি-প্রবর্তক -                      পাতার উপরে . . .  
শ্রীচৈতন্যের লীলা-কাহিনী মানুষের মধ্যে বহুল-প্রচার করার উদ্দেশ্যে নরহরি সরকার ঠাকুরই সর্বপ্রথম
শ্রীগৌরাঙ্গকে প্রাণনাথ ভেবে, মধুরভাবে ভজনা করার প্রবর্তন করেছিলেন। সরল চিত্তাকর্ষক ভাষায় কবিতা-
ছন্দে শ্রীগৌরাঙ্গের গীত শুনলে মানুষ আরও বেশী করে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন।

এ নিয়ে শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, ১৩৩-পৃষ্ঠায়,
সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন . . .
নরহরি সরকার সম্বন্ধে প্রবাদ আছে যে, শ্রীগৌরাঙ্গ-বিষয়ক পদ-রচনার তিনিই আদি-প্রবর্ত্তক। এই প্রবাদ
প্রকৃত বলিয়াই মনে হয়। কারণ, সমকার ঠাকুর তাঁহার একটি পদে বাংলা-ভাষায় গৌরাঙ্গ-লীলা-বিষয়ক পদ-
রচনার কৈফিয়ৎ দিতে যাইয়াই যে লিখিয়াছেন ---

॥ পাহিড়া॥

গৌরলীলা দরশনে, ইচ্ছা বড় হয় মনে, ভাষায়১ লিখিয়া সব রাখি।
মুঞি ত অতি অধম, লিখিতে না জানি ক্রম, কেমন করিয়া তাহা লিখি॥
এ গ্রন্থ লিখিবে যে, এখনো জন্মে নাই সে, জন্মিতে বিলম্ব আছে বহু।
ভাষায়১ রচনা হৈলে, বুঝিবে লোক সকলে, কবে বাঞ্ছা পূরাবেন পহুঁ॥
গৌরগদাধরলীলা, আদ্রব করয়ে শিলা, কার সাধ্য করিবে বর্ণন।
সারদা লিখেন যদি, নিরন্তর নিরবধি, আর সদাশিব পঞ্চানন॥
কিছু কিছু পদ লিখি, যদি ইহা কেহ দেখি, প্রকাশ করয়ে প্রভু লীলা।
নরহরি পাবে সুখ, ঘুচিবে মনের দুখ, গ্রন্থগানে দরবিবে শিলা॥

নরহরির ভণিতার “গ্রন্থগানে দরবিবে শিলা” উক্তির দর্শনে কেহ কেহ অনুমান করিয়াছেন যে, তিনি সম্ভবতঃ
গৌরাঙ্গ লীলা  সম্বন্ধে কোনও কড়চা গ্রন্থেরও রচনা করিয়া থাকিবেন। কিন্তু সেরূপ কোন গ্রন্থ অদ্যাপি
আবিষ্কৃত হয় নাই। সংস্কৃত গ্রন্থ শব্দটী শ্লেক বা কবিতা অর্থেও অনেক স্থলে ব্যবহৃত হইতে দেখা যায়।
এখানেও “কিছু কিছু পদ লিখি” ইত্যাদি উক্তির সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য গ্রন্থ শব্দের অর্থে স্বতন্ত্র কড়চা না
বুঝিয়া, কবিতা বা পদ অথবা বড় জোর ঐ সকল পদের সংগ্রহায়ক গ্রন্থই বুঝিতে হইবে।


[ ১ - ভাষায়, অর্থাৎ কথিত বাংলা ভাষায়। সেই যুগে শিক্ষিতজনের ভাষা ছিল সংস্কৃত। ---মিলনসাগর ]

ওই গ্রন্থেরই অর্থাৎ শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, ১৩৩-পৃষ্ঠায়
সতীশচন্দ্র রায় আরও লিখেছেন . . .
নরহরির গৌরাঙ্গ লীলার পদাবলী সম্বন্ধে আর একটা বিশেষ জ্ঞাতব্য কথা এই যে, তাঁহার পদেই
নদীয়ানাগরীর প্রেমের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁহার শিষ্য লোচনদাসের পদে এবং নরহরি
চক্রবর্ত্তীর পদে একটা অপ্রত্যাশিত নূতন ভাবোচ্ছাসের সৃষ্টি করিয়াছিল।

নরহরি সরকার ঠাকুরের ব্রজলীলার পদাবলী -                                       পাতার উপরে . . .  
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, ১৩৪-পৃষ্ঠায় নরহরির পদের বিষয়
সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে বলেছেন . . .
নরহরি ঠাকুরের যে সকল পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে, উহার সমস্তই গৌরাঙ্গ-বিষয়ক।
তিনি ব্রজলীলা সম্বন্ধে কোন পদ রচনা করিয়াছিলেন কি না, জানা যায় না।
”  

পাঠকদের আশ্বস্ত করার জন্য আমরা এখানে জানাচ্ছি যে নরহরি সরকার ঠাকুরের একাধিক ব্রজলীলার পদ
আমরা অন্যান্য পদ-সংকলনে পেয়েছি এবং তা মিলনসাগরে তোলাও হয়েছে। পাঠক তা এখানেই পড়তে
পারবেন।

মনে রাখতে হবে,
সতীশচন্দ্র রায়ের কার্যকাল উনিশ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতকের শুরুর  সময়ে
অবধি সীমিত ছিল। তখন বিজ্ঞান আজকের জায়গায় এসে পৌঁছায়নি। তাই তাঁদের পক্ষে সব গ্রন্থ  
(বেশীরভাগই দুষ্প্রাপ্য পুথির আকারে) সংগ্রহ করে করে পড়ার সুযোগ সহজলব্ধ ছিলনা। এখানে উল্লেখনীয়
এই যে, তখনকার শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও
সতীশচন্দ্র রায় অল্প কিছুদিনের জন্য, প্রায় ১৭০০ পদ সম্বলিত,
নিমানন্দ দাসের সংকলিত “পদরসসার” পুথিটি তার মালিকের থেকে এনে শুধু পড়েনই নি, তিনি  সম্পূর্ণ
পুথিটি নিজে হাতে লিখে রেখেছিলেন। স্ক্যানার, কপিয়ার, জেরক্স মেশিন এসবের আবির্ভাব তখনও হয়নি
পৃথিবীতে! পুথিটি তার মালিকের কাছে ফেরত দেবার কয়েক বছর পরেই তা চুরি হয়ে যায়। সম্ভবতঃ
চিরদিনের জন্য লুপ্ত ও বিনষ্ট হয়ে যায়। তাঁর সেই হাতে-লেখা খাতাটিই পদরসসার পুথির বর্তমানে একমাত্র
প্রামাণিক নকল বা কপি।
সতীশচন্দ্রের বংশধররা তাঁর সমস্ত প্রাচীন বইপত্রের সঙ্গে এই খাতাটিও বঙ্গীয়
সাহিত্য পরিষদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
নরহরি দাস সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি -                                      পাতার উপরে . . .  
১৯০৫ সালে প্রকাশিত
দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”-এর ৫২৯-
পৃষ্ঠায় নরহরি সরকার সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন . . .
ইনি সরকার-ঠাকুর নামে প্রসিদ্ধিলাভ করেন। বর্দ্ধমান জেলার শ্রীখণ্ডগ্রামে অনুমান ৮৮৫ সালে  (বঙ্গাব্দে)
ইহাঁর জন্ম হয়। ইহাঁর পিতার নাম শ্রীমন্নারায়ণ দেব সরকার, জাতি বৈদ্য। ইনি মহাপ্রভুর নিকট মন্ত্রগ্রহণ
করেন। ইনি সংস্কৃত ভাষায় অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। ভক্তিচন্দ্রিকা পটল এবং ভক্তামৃত-অষ্টক নামর প্রসিদ্ধ
গ্রন্থদ্বয় ইহাঁর প্রণীত। শ্রীখণ্ডগ্রামে যে ছয়টি বিগ্রহ মূর্ত্তি স্থাপিত হয়, তন্মধ্যে মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দের মূর্ত্তি এই
সরকার ঠাকুরের স্থাপিত।

নরহরি সরকার ঠাকুরের রচনাসম্ভার -                                               পাতার উপরে . . .   
নরহরি সরকার ঠাকুরের রচনার মধ্যে রয়েছে “ভক্তিচন্দ্রিকা পটল”, “ভক্তামৃত-অষ্টক”, শ্রীকৃষ্ণ ভজনামৃত,
নামামৃতসমুদ্র প্রভৃতি। তাঁর পদ প্রথম সংকলিত করেন পদকর্তা
গোপাল দাস তাঁর “রসকল্পবল্লী” গ্রন্থে,
অসম্পূর্ণ রূপে। পদটি হল “
রাই বিপতি শুনি বিদগদ শিরোমণি”। পদটি অষ্টম কোরকের, ১১২
পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। পরে,
“হরিবল্লভ” ভণিতার কবি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী  সংকলিত “ক্ষণদা গীত চিন্তামণি”
গ্রন্থের চতুর্দশ ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্দশীতে পদটি সম্পূর্ণ রূপে সংকলিত হয়। পদটি
বৈষ্ণদাসের
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে নেই।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি নরহরি সরকার ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি নরহরি সরকারের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩১.১০.২০১৭  
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২২.২.২০১৮
                                   
...
.
.
.
.
.
.
.
.
নরহরি সরকার ঠাকুরের ছবি। সৌজন্যে -
http://gaudiyahistory.iskcondesiretree.com/
বিভিন্ন রূপে "নরহরি" ও তার অপভ্রংশ -                                            পাতার উপরে . . .  
মিলনসাগরে প্রকাশিত "নরহরি" সম্বলিত বিভিন্ন ভণিতায় ক্লিক করলেই সেই পাতায় চলে যেতে পারবেন।

নরহরি ও নরহরি দাস সমগ্র (ভণিতার সমগ্র)
নরহরি (সকল নরহরি ভণিতার পদ)  
নরহরি দাস (সকল নরহরি দাস ভণিতার পদ)  
নরহরি সরকার ঠাকুর    
নরহরি চক্রবর্তী   
অনির্দিষ্ট নরহরি (নরহরি সরকার বা নরহরি চক্তবর্তীর নামে নির্দিষ্ট নয় এমন পদ)   
নর (কেবল নর ভণিতার পদ)   
নরহরিয়া (কেবল নরহরিয়া ভণিতার পদ)  
নৃহরি (কেবল নৃহরি ভণিতার পদ)    
.
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
নরহরি ও নরহরি দাস” ভণিতা পদাবলী এখানে ক্লিক করুন    
নরহরি চক্রবর্তী “ঘনশ্যাম” পদাবলী
এখানে ক্লিক করুন    
নরহরি সরকার ঠাকুর ও ব্রজলীলার মধুমতী -                                        পাতার উপরে . . .  
বৈষ্ণব সমাজে নরহরি সরকার ঠাকুর, ব্রজলীলার “মধুমতী সখী” বলে পরিচিত ছিলেন। পদকর্তা শেখরের
একটি পদে নরহরি সরকার ঠাকুরে এই বর্ণনা রয়েছে . . .

রঘুনন্দনের পিতা                    মুকুন্দ যাহার ভ্রাতা
.                নাম তার নরহরি দাস।
রাঢ়ে বঙ্গে সুপ্রচার                    পদবী যে সরকার
.                শ্রীখণ্ডগ্রামেতে বসবাস॥
গৌরাঙ্গজন্মের আগে                বিবিধ রাগিণী রাগে
.                ব্রজরস করিলেন গান।
হেন নরসিংহসঙ্গ                  পাঞা পহুঁ শ্রীগৌরাঙ্গ
.                বড় সুখে জুড়াইলা প্রাণ॥
পহুঁর দক্ষিণে থাকি                    চামর ঢুলায় সখী
.                মধুমতী রূপে নরহরি।
পাপিয়া শেখর কয়                 তার পদে মতি রয়
.               এই ভিক্ষা দেও গৌরহরি


শ্রীনিবাসাচার্য্য রচিত “শ্রীনরহরিঠাক্কুরাষ্টকম্” গ্রন্থে রয়েছে . . .

বৃন্দারণ্যে ব্রজরমণীনাৎ মধ্যে খ্যাতা হি মধুমতী।
তং শ্রীগৌরপ্রিয়তমমশেষং বন্দে শ্রীলং নরহরিদাসম্

.