আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সম্মাননা -                                         পাতার উপরে . . .  
চট্টল পণ্ডিতসমাজ তাঁকে “সাহিত্যবিশারদ” এবং নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে “সাহিত্য সাগর” উপাধি দিয়ে
সম্মানিত করে। “সাহিত্যবিশারদ” উপাধিটি তিনি আজীবন নামের সঙ্গে ব্যবহার করে গিয়েছেন।

এই পাতায় দেওয়া দুটি কবিতা অবশ্যই তাঁর রচিত নয়। তাঁর রচিত কবিতা খুঁজে পেলে আমরা তা এখানে
অবশ্যই তুলে দেব। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, নিজে কোন বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেছিলেন কি না,
তার কোনো প্রমাণ  আমারা এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে বৈষ্ণব পদাবলীই  অসম্পূর্ণ
রয়ে যাবে।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি আবদুল করিম-এর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে  এই
প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো। এই পাতা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



কবি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


উত্স -  
  • শিশিরকুমার দাশ সম্পাদিত "সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী", ২০০৩।
  • সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান", ১ম ও ২য় খণ্ড, ২০১০।
  • জলধর সেন সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬), আবদুল করিম
    সাহিত্যবিশারদের “বৈষ্ণব-কবিগণের পদাবলী” প্রবন্ধ।
  • সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যার (ডিসেম্বর ১৯১৮), আবদুল
    করিম সাহিত্যবিশারদের “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধ।
  • বাংলাদেশের গবেষক ও রাজনৈতিক কর্মী ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত বণিকবার্তা.নেট



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০.১১.২০১৭
...

কবি আবদুল করিম - এই কবির
জীবন সম্বন্ধে আমাদের কোনও তথ্য জানা নেই।
আমরা কেবল এইটুকু জানি  যে বিখ্যাত  "কালু  
গাজী চম্পাবতী"  পালাটি এঁর রচনা। এই তথ্য
আমরা, ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল  কাদির
এবং রেজাউল করীম সংকলিত "কাব্য মালঞ্চ"
সংকলন থেকে জানতে পারি।  উক্ত  গ্রন্থ থেকে
দুটি কবিতা আমরা এখানে তুলে দিয়েছি।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের কর্মজীবন ও পুথি সংগ্রহ    
সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের উদ্ধৃতি   
মুসলমান ও বাংলাভাষা নিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিষারদ   
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের রচনা সম্ভার    
অবিচারের শিকার আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ   
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সম্মাননা   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের কর্মজীবন ও পুথি সংগ্রহ -                     পাতার উপরে . . .  
কর্মজীবন শুরু করেন সীতাকুণ্ড মাইনর স্কুলের শিক্ষকতা দিয়ে। এর পর কিছুদিন তিনি জজ আদালতের  
অস্থায়ী কেরানির কাজ করেন। তারপর
কবি নবীনচন্দ্র সেনের ব্যক্তিগত সহকারী রূপে কিছুদিন কাজ করে,
আনওয়ারা ইংরেজী স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর স্কুল ইনস্পেক্টরের অফিসে দ্বিতীয়  
করণিকের কাজ করে ১৯৩৮ (মতান্তরে ১৯৩৩) সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি বাংলা দেশের নানা জায়গা থেকে প্রায় দু-হাজার পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত  
পাণ্ডলিপিগুলি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বরেন্দ্র ইনস্টিটিউট-এ রক্ষিত রয়েছে।

তাঁর সংগৃহীত পুথির মধ্যে ১৬৪০শকাব্দে (১৭১৮খৃষ্টাব্দ) লিখিত, “রাগমালা” নামের একটি সঙ্গীত গ্রন্থ সহ
অন্যান্য পুথি থেকে বহু হিন্দু এবং মুসলমান  কবির বৈষ্ণব পদাবলী আবিষ্কার করেন। এ থেকে বাংলায়,
হিন্দু-মুসলমানের ইতিহাসে, কালের চাদরে চাপা পড়ে যাওয়া এক ইতিহাস উন্মোচিত হয়।   
সাহিত্যবিশারদের আবিষ্কৃত ও সম্পাদিত পুথি, দিনেশচন্দ্র সেন, সুকুমার সেন সহ বহু দিকপালদের   
রচনাসৃষ্টিতে রশদ যুগিয়েছে।

বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজে যে প্রচলিত অজ্ঞানতা ছিল তা
সাহিত্যবিশারদ, দূর করার কাজে অগ্রণী ভূমিকা নেন।
.
.
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের উদ্ধৃতি -                 পাতার উপরে . . .  
আমরা এখানে, “ভারতবর্ষ” ও “সাহিত্য” পত্রিকায় তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি” ও
“বৈষ্ণব পদাবলী” নিয়ে তাঁর দুটি উদ্ধৃতি তুলে দিচ্ছি। সেই সব মানুষজন যাঁরা গোঁড়ামির জন্য তাঁকে পুথি
ছুঁতেও দেননি, তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া এমন অশিষ্ট ব্যবহারও যে মানুষের বিশ্বাসে একটুও চির ধরাতে
পারেনি, এই উদ্ধৃতি থেকেই তা পরিষ্কার হয়ে যায় . . .

১। জলধর সেন সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬), তাঁর “বৈষ্ণব-
কবিগণের পদাবলী” প্রবন্ধে খুব সুন্দরভাবে সাহিত্যবিশারদ লিখেছেন . . .
মুসলমান কবিগণ এক-সময়ে কবিতাকারে রাধাকৃষ্ণের প্রেম-বর্ণনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন,---এখন  এই  
ভেদবুদ্ধির দিনে এ কথা নিতান্ত বিচিত্র বলিয়াই বোধ হইবে। কিন্তু বিচিত্র বোধ হইলেও, তাহা একান্ত সত্য
কথা,---তাহাতে বিস্মিত হইবার কিছুই নাই। মুসলমান কবিগণ সত্যসত্যই রাধাকৃষ্ণের  প্রেমসুধা-পানে
বিভোর হইয়াছিলেন। সেই সুধাপানে কেহ-কেহ অমরতাও লাভ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের  লীলারস
প্রকটনে অনেকে এমনই তন্ময়চিত্ত হইয়াছিলেন যে, ভণিতাটুকু উঠাইয়া দিলে---কবিতাটি হিন্দুর, কি  
মুসলমানের রচনা, তাহা চিনিয়া লওয়া অসম্ভব বিবেচিত হইবে। জাতিধর্ম্মের ব্যবধানে থাকিয়া একজন  
কবির এরূপ প্রসংশা-লাভ করা সামান্য গৌরবের কথা নহে। সৈয়দ মর্ত্তুজা, নাছির মহাম্মদ, মীর্জ্জা ফয়জুল্লা
প্রভৃতি কবিগণের পদাবলী কবিত্বে ও মাধুর্য্যে যে-কোন হিন্দু বৈষ্ণব-কবির পদাবলীর সহিত তুলনীয়
।”

২। সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর
“সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে সাহিত্যবিশারদ লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ  
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
.
.
সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ -                           পাতার উপরে . . .  
বাংলাদেশের গবেষক ও রাজনৈতিক কর্মী ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
বণিকবার্তা.নেট  
ওয়েবসাইটে, তাঁর ২৪শে আগস্ট ২০১৬ তারিখের, “আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ” প্রবন্ধে মুন্সি আবদুল
করিম সাহিত্যবিশারদের জীবনের এই দিকটি খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা তাঁর লেখা থেকে
পাঠকের জন্য তাঁর উদ্ধৃতি এখানে তুলে দিলাম।
এখানে ক্লিক করলেই ফিরোজ আহমেদের প্রবন্ধের পাতায় যেতে  পারবেন . . .

আব্দুল করিমের কাজ শুধু প্রাচীন মুসলমানের সাহিত্যকীর্তি উদ্ঘাটনে নিয়োজিত থাকেনি। তিনি  বড়  
হয়েছেন সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের এক আবহে।  নিজের কথায়:  “অল্প বয়সে আমি মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগী
হই। চণ্ডীদাসের পদাবলী পাঠ করিয়া—বিশেষত বাড়িতে পূর্বপুরুষের সঞ্চিত প্রাচীন পুঁথিপত্রের স্তূপ  দেখিয়া
সেই অনুরাগ বিশেষভাবে সমুত্থিত হইয়া উঠে। নিজ বাড়ীতে ও পাড়াপ্রতিবেশীর বাড়িতে তখন হামেশাই
পুঁথি পড়ার মজলিস বসিত। কিছু না বুঝিলেও সেই মজলিসে গিয়া আলাওলের পুঁথি পড়া শুনিতাম। শুনিয়া
শুনিয়া আমার ভাবপ্রবণ কিশোর হূদয়ে যে আনন্দ জন্মিত তাহার স্মৃতি এখনও মুছিয়া যায় নাই।”

এ সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের ঐতিহ্যে বেড়ে ওঠার ফলেই কোনো সংস্কার ছাড়াই তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয়  
ধরনের পুঁথি সংগ্রহেই একই রকম নিষ্ঠা ও শ্রম দেখাতে পেরেছেন। যদিও কাজটি সহজ ছিল না। তার  
নিজের স্মৃতিচারণে: “হিন্দুর বাড়ী গিয়া এমনও দেখিয়াছি— গোঁড়া হিন্দু আমাকে পুঁথি ছুঁইতে দেয় নাই— সে
পাতা মেলিয়া ধরিয়াছে— আর আমি নোট লিখিয়া লইয়াছি
।”
.
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের রচনা সম্ভার -                                    পাতার উপরে . . .  
শুধু সংগ্রহ নয়, পুথি গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে
রয়েছে “ভারতে মুসলমান রাজ্য”, “আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য” (এনামুল হকের সঙ্গে) প্রভৃতি। তাঁর
সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ভূমিকা ও প্রশংসা সমৃদ্ধ নরোত্তম ঠাকুরের “রাধিকার  
মানভঙ্গ” (১৯০১), শেখ ফয়জুল্লাহর “গোরক্ষবিজয়”, দ্বিজ রতিদেবের “মৃগলব্ধ” (১৯১৫), আলিরাজার  
“জ্ঞানসাগর” (১৯১৭), বাসুদেব ঘোষের গৌরাঙ্গ-সন্ন্যাস (১৯১৭) প্রভৃতি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের
উপর বহু প্রবন্ধও রচনা করেছেন।

তাঁর রচনাসম্ভারে আরও রয়েছে দুই খণ্ডে বাংলা প্রাচীন পুথির বিবরণ (১৯১৪) একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ।
দেড়শো ধাঁধার সংকলন “চট্টগ্রামী ছেলে ঠকানো ধাঁধা” (১৯৪৬)। মূল্যবান রচনা “প্রাচীন মুসলমান কবিগণ”
(১৯০৬)। পঞ্চদশ শতাব্দীর এক মুসলমান সাধুর জীবনী “হজরত রহমান শহিদ” (১৯১৪)।

“ভারতবর্ষ”, “সাহিত্য”, “ঢাকা রিভিউ”, “সম্মিলন” প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় তাঁর বৈষ্ণব পদাবলী ও সাহিত্যে উপর
বহু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
.
অবিচারের শিকার আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ  -                              পাতার উপরে . . .  
তিনি একবার ভবানী দাস বিরচিত “গোপীচন্দ্রের গান” পুথির সম্পাদনার খসড়াটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
পাঠিয়েছিলেন। এরপর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “গোপীচন্দ্রের গান” গ্রন্থটি দীনেশচন্দ্র সেন, বসন্তরঞ্জন
রায় ও বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য্যর নামে প্রকাশিত হয়েছিল। সাহিত্যবিশারদের নাম সেই গ্রন্থে ছিল না।

ব্রজসুন্দর সান্যাল তাঁর ১৯০৪ সালে ঘোড়ামারা, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি” গ্রন্থের
বিজ্ঞাপনে (মুখবন্ধে) লিখেছেন . . .
“. . . শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয়ের ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্যে’ আলাওলের একটী পদ উদ্ধৃত হইয়াছে ; সে
পদটী শ্রীযুক্ত আবদুল করিম মহাশয় দীনেশ বাবুকে দিয়াছিলেন কিন্তু দীনেশ বাবুর পুস্তকে তাহার উল্লেখ
নাই ; উক্ত পদটীও ইহাতে প্রকাশিত হইল।”
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
.
মুসলমান ও বাংলাভাষা নিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিষারদ -                 পাতার উপরে . . .  
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রয়ারীর (৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮, ভাষা আন্দোলন) ৫৫বছর পূর্বে, ঢাকা রিভিউ ও সম্মিলন
পত্রিকার অক্টোবর ১৯১৭ সংখ্যায় (আশ্বিন ১৩২৪) তিনি তাঁর “মুসলমান কবির বৈষ্ণব পদাবলী” প্রবন্ধের
শেষে লিখেছিলেন . . .
পদগুলির (এই প্রবন্ধে তাঁর নব-আবিষ্কৃত উদ্ধৃত পদসমূহ) সৌন্দর্য্য ও ভাষা সম্বন্ধে আমি কোন কথা বলিলাম
না। রসজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ পাঠকগণই তাহার বিচার করিবেন। এখানে একটি অবান্তর কথা বলিব। অধুনা
দেখিতে পাওয়া যায়, কয়েকজন মুসলমান দুর্বুদ্ধির বশে বাঙ্গালা ভাষাকে নিজেক ভাষা ও জাতীয়ভাষা
বলিয়া স্বীকার না করিয়া উর্দ্দু ভাষাকেই আপনাদের মাতৃভাষার ও জাতীয় ভাষার স্থলাভিশিক্ত
করিবার জন্য প্রাণপণ কিন্তু বিফল প্রয়াস করিতেছেন। এ সকল প্রাচীন রচনা দেখিয়া তাঁহারা সহজেই
বুঝিতে পারিবেন, মুসলমানগণ অতি প্রাচীন কাল হইতেই এই বাঙ্গালা ভাষাকেই আপনাদের মাতৃভাষা ও
জাতীয় ভাষার গৌরবান্বিত পদে বরণ করিয়া লইয়াছিলেন। তাঁহাদের যুগযুগান্তরের অনুসৃত পন্থা পরিহার
করিয়া এখন যদি অন্যপথ অবলম্বন করা যায়, তাহা হইলে লাভের মধ্য আমাদের উভয় কুলই নষ্ট হইবে।
ফলে ও যে তাহাই ঘটিয়াছে, তাহা চক্ষুষ্মান ব্যক্তি দেখিতে পাইতেছেন। যাহারা খঞ্জনের নাচ এ কাকের
নাচ---যুগপৎ দুই নাচই শিখিতে চাহে, কোন নাচই শিখিতে পারে না, ইহা খাঁটি সত্য কথা। ফলে পরিণামে
তাহাদের ভাগ্যে দগ্ধ রম্ভাই ঘটিয়া থাকে। আমার মোহান্ধ ভ্রাতৃগণের ভাগ্যেও যে তাই ঘটিবে, তাহা বলিতে
কোন ভভিষ্যদ্বক্তার দরকার আছে বলিয়া মনে হয় না। এখনও সময় আছে, এখনও সুবুদ্ধির আশ্রয় গ্রহণ
করিয়া উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত
।”

এখানে তিনি উদ্ধৃত করেছেন কঠোপনিষৎ ৩|১৪ শ্লোকের প্রথম পংক্তি "উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্
নিবোধত", যার অর্থ --- ওঠো, জাগো, সদগুরুর সান্নিধ্যে গিয়ে জ্ঞানপ্রাপ্ত (আত্মজ্ঞান) হও।
এই কবি সম্বন্ধে কিছু না জানলেও আমরা এই পাতায় আরেক জন আবদুল করিম সম্বন্ধে কিছু কথা লিখছি।
এই কাজটি আমরা আমাদের  নিয়ম  ভেঙেই  করছি কারণ  এই  দ্বিতীয়  আবদুল করিম  হলেন বাংলার  
বিখ্যাত পুথি বিশারদ মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ । এই পাতায় দেওয়া দুটি কবিতা অবশ্যই তাঁর
রচিত নয়। তাঁর রচিত কবিতা খুঁজে পেলে আমরা তা এখানে অবশ্যই তুলে দেব।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ -   জন্মগ্রহণ করেন  অবিভক্ত বাংলার,  চট্টগ্রামের  
সুচক্রদণ্ডী  গ্রামের এক পুরনো সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তাঁর জন্মদিন তিন জায়গায় তিন রকমের  দেওয়া  
পেয়েছি। আমরা  সব তুললাম।  তিনি  পটিয়া  হাই স্কুল থেকে ১৮৯৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করে
চট্টগ্রাম কলেজে  আই.এ. ক্লাসে  (ইন্টামিডিয়েট অফ আর্টস) ভর্তি হন।  অসুস্থতার জন্য তিনি পড়া শেষ
করতে  পারেননি।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মহকুমায়  তিনিই  প্রথম  এনট্রান্স  পাস  করেছিলেন। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের  
বিশারদ  ও বিদগ্ধ সমালোচক অধ্যাপক আহমদ শরীফ  জানিয়েছিলেন যে,  সম্ভবত বাঙালী মুসলমানদের
মধ্যে তিনিই  প্রথম দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃত নিয়ে এনট্রান্স পাশ করেন। কোন গ্রন্থে আমরা তাঁর নাম
মুন্সী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ পেয়েছি। কোন কোন গ্রন্থে আমরা তাঁর নাম মৌলবী আবদুল করিম  
পেয়েছি।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, নিজে কোন বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেছিলেন কি না, তার কোনো প্রমাণ  
আমারা এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে বৈষ্ণব পদাবলীই  অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।  তাই
মিলনসাগরের বৈষ্ণব পদাবলীর প্রত্যেক পদকর্তা বা কবির পাতায় দেওয়া  শেষ  চারটি  সোনালী রঙের
লিংক, এই পাতাতেও দেওয়া হলো (এই পাতার উপরে, ডান দিকে দেখুন)। এর সাথে তাঁর নাম বৈষ্ণব
পদাবলীর কবিদের সূচীতেও দেওয়া হলো।