কবি অধ্যাপক সুজিত বসু - জন্মগ্রহণ করেন মেদিনীপুর শহরে।

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল ও মেদিনীপুর কলেজে। উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি পরে মস্কো
যান। সেখানে তিনি পদার্থবিদ্যা ও গণিতে স্নাতকোত্তর করার পর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করে পি.
এইচ.ডি প্রাপ্ত হন। দেশে ফিরে তিনি যোগ দেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার শাখা অফিস  
আমেদাবাদের অন্তরীক্ষ উপযোগ কেন্দ্রে।

তিনি বিজ্ঞানী  হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৮৫ সালে। সেখানে তিনি তিন দশক কর্মরত ছিলেন। অবসরের পরেও
দু বছর তিনি সাম্মানিক অধ্যাপক ছিলেন প্রথমে ওই কেন্দ্রে ও পরে ইন্দাস বিশ্ব বিদ্যালয়ে। তাঁর কাজ ছিল
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাহায্যে ব্যবহারিক গবেষণা যার মূল বিষয় ছিল আবহবিদ্যা ও  
সমুদ্রবিজ্ঞান।

তিনি সুপরিচিত বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণা লব্ধ ফল, শতাধিক প্রবন্ধের মাধ্যমে দেশ বিদেশের প্রভাবশালী
বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ উচ্চ-প্রশংসিতও হয়েছে।  

বিজ্ঞান যদি তাঁর পেশা হয়ে থাকে তাহলে কবিতা তাঁর নেশা। তাঁর প্রথম কবিতাগুচ্ছ প্রকাশ পায়  
তদানীন্তন বিখ্যাত কবিতা পত্রিকা অজ্ঞাতবাসে। সাতের দশকে এবং আটের দশকের প্রথম ভাগে সুজিত  
বসুর কবিতা বাংলা ভাষার অনেক প্রথম সারির পত্রিকায় প্রকাশিত হত যদিও এই সময়ের বেশির ভাগই
তিনি বিদেশে ছিলেন শিক্ষাগত কারণে। তাঁর বেশ কিছু কবিতা সাধারণ পাঠক এবং বেশ কিছু খ্যাতনামা  
কবির কাছেও প্রশংসা লাভ করেছিল।

নয়ের দশকে এবং তার পরে তিনি খুব বেশি না লিখলেও বিক্ষিপ্ত ভাবে বেশ কিছু কবিতা পশ্চিমবঙ্গ এবং
প্রবাসের বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এমনকি তিনি আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের পত্রিকাতেও
বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন।

তিনি প্রধানত মঞ্জুভাষী কবি। ছন্দে তাঁর সহজ বিচরণ। শব্দ চয়নে এবং কবিতার বিষয়বস্তু নির্বাচনে তিনি
দক্ষ।

তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু বৈচিত্র্যপূর্ণ। ‘ভ্রমণ’ কবিতাগুলি বহির্মুখী। এগুলি এক ভবঘুরে বোহেমিয়ান জীবনের
প্রতি আকর্ষণ করে। আবার ‘পাপবোধ’ কবিতাগুলিতে তিনি ডুবুরী হয়ে ডুব দেন মানুষের মনোলোকে।  
বসন্ত তাঁর কাছে প্রেমের নয় বরং প্রেমহীনতার প্রতীক।

নারীরা সুজিত বসুর কবিতায় প্রায়শই ঘুরে ফিরে আসেন। অলির জন্য তিনি মন্দির গড়তে চান আবার  
সুজাতার প্রতি আছে তীব্র আসঙ্গলিপ্সা যদিও এই কামনা ঠিক দেহজ নয়। বরং দেহাতীত এক ব্যঞ্জনা এই
কবিতাগুলিতে ফুটে ওঠে। ‘সুজাতা স্মরণে’ কবিতাগুলিতে আছে প্রেম অপ্রেমের মিশ্র অনুভুতি। পড়তে
পড়তে মনে হতে পারে সুজাতা বোধহয় কোনো রক্তমাংসের মানবী নন, ইনি হয় কাল্পনিক নয় কবিতাকেই
কবি এই তীব্র আবেগপ্রধান কবিতাগুলিতে মানবীর রূপ দিয়েছেন।

আমরা যদি কবিতার নারীকে কবিতারই আরেক রূপ হিসেবে ধরে নিই, তাহলে এই বিজ্ঞানী কবির জীবন
দর্শন খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে তাঁরই ‘ষড়রিপু’ কাব্যগ্রন্থের ‘মোহ’ কবিতাটির এই লাইন গুলিতে . . .
‘কখনো স্বপ্নে হীরক শরীর নারী
কখনো ইলেকট্রন’।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শব্দমেঘের আড়ালে’, ‘সুজাতা তোমাকে কিংবা’ প্রভৃতি।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি অধ্যাপক সুজিত বসুর কবিতা তুলে আনন্দিত।



কবি অধ্যাপক সুজিত বসুর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
ইমেল -
rumi_jhimli@rediffmail.com      
চলভাষ -   +৯১৭৫৬৭২৭৩০৫৪


উত্স     
  • কবির সঙ্গে ইমেলে বার্তালাপ



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৫.১০.২০১৮
৪টি নতুন কবিতা নিয়ে পাতার পরিবর্ধিত সংসকরণ - ৪.১.২০১৯

...