আমরা মিলনসাগরে  কবি রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে  এই  প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি নীলাচলের রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১..২০১৯

...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি রাজা প্রতাপরুদ্র দেব - ছিলেন উড়িষ্যার নীলাচল বা পুরীর গজপতি বংশের রাজা।
তাঁর পিতার নাম রাজা পুরুশোত্তম দেব এবং মাতার নাম রাণী রূপান্বিকা। রাজা প্রতারুদ্রর রাজত্বকাল
১৪৯৭ থেকে ১৫৪০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত। তাঁর রাজ্যের সীমানা ছিল বঙ্গের হুগলী ও মেগিনীপুর জেলা থেকে আরম্ভ
করে মাদ্রাজ, অধিনা চেন্নাই-এর গুন্টুর জেলা পর্যন্ত এবং তেলেঙ্গানার অধিকাংশ তাঁর অধীনে ছিল।  তাঁর
রাজধানী ছিল মহানদীর তীরবর্তী কটক নগর।

যুধিষ্ঠির জানা ওরফে মালিবুড়ো, তাঁর ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য” গ্রন্থের শেষে  
“সংক্ষিপ্ত পরিচিতি” থেকে প্রতাপরুদ্র দেব সম্বন্ধে বিস্তারিত জানা যায়। আমরা তারই প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য
এখানে তুলে ধরছি।

প্রতাপরুদ্রের রচিত সরস্বতী বিলাস গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে তাঁর শ্রীপদ্মা, শ্রীপদ্মমালা, শ্রীইলা ও শ্রীমহিলা  
নামের চারজন মহিষী ছিলেন। এছাড়া ওড়িয়া লেখকদের গ্রন্থ থেকে আরও কয়েকজন মহিষীর কথা জানা
যায়।

পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের জয়-বিজয় তোরণের বাম দিকে অবস্থিত প্রতাপরুদ্রের একটি অনুশাসন  
লিপি, যাতে ১৭ই জুলাই ১৪৯৯ খৃষ্টাব্দ তারিখটি অঙ্কিত রয়েছে, তা থেকে জানা যায় যে রাজা
প্রতাপরুদ্র দেব জগন্নাথ ও বলরামের সম্মুখে
শ্রীগীতগোবিন্দ গানের অনুমতি দিয়েছিলেন।

মালদা-পঞ্জী অনুসারে জানা যায় যে রাজা প্রতাপরুদ্রদেব
শ্রীচৈতন্যের তিরোধানের তিন বছর আগেই   
পরলোক গমন করেন। কিন্তু ভক্তি রত্নাকরে রয়েছে যে মহাপ্রভুর জীবদ্দশাতেই তিনি পুত্রের হাতে রাজ্যভার
তুলে দেন।
নরহরি চক্রবর্তী রচিত ভক্তিরত্নাকরের ৩য় তরঙ্গ, ১১০-পৃষ্ঠায়, শ্রীনিবাসাচার্য্যের পূরী-যাত্রায়
রয়েছে . . .

শুনিলেন প্রতাপরুদ্রের সমাচার। যৈছে তার চেষ্টা, তাহা কহে সাধ্য কার॥
প্রভু-কৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রের বিদ্যমানে। পুত্রে রাজ্য সমর্পিলা মঙ্গল-বিধানে॥
বাসুদেব-সার্ব্বভৌম রামানন্দ-সনে। নিরন্তর মগ্ন প্রভু-চরিত্র কীর্ত্তনে॥
পরম আনন্দে দিবা রাত্রি গোঙাইতে। অকস্মাৎ উদ্বেগে নারয়ে স্থির হৈতে॥
হেনকালে প্রভু-অদর্শন-কথা শুনি। অঙ্গ আছাড়িয়া রাজা লোটায় ধরণী॥
শিরে করাঘাত করি হৈলা অচেতন। রায়-রামানন্দমাত্র রাখিল জীবন॥
প্রভুর বিয়োগ রাজা সহিতে না পারে। নীলাচল হইতে রহিল কত দূরে॥
ইহা শুনি শ্রীনিবাস ভাসে নেত্রজলে। না হইল রাজার দর্শন নীলাচলে

---
নরহরি চক্রবর্তী, ভক্তিরত্নাকর, ৩য় তরঙ্গ, ১১০-পৃষ্ঠা॥

শ্রীচৈতন্যের তিরোধানের খবর পেলে রাজা প্রতাপরুদ্র নীলাচল ছেড়ে চলে যান রামচন্দ্রপুরে। সেখানেই তিনি
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ময়ূরভঞ্জের রাজা রামচন্দ্রপুরের নাম বদল করে প্রতাপরুদ্রের নামে  
প্রতাপপুর। সেখানে তাঁর স্মৃতিতে একটি মন্দিরও তৈরী করা হয় যা পরে গৌড়ের পাঠান সুলতান  
সুলেমানের সেনাপতি কালাপাহাড় ধ্বংস করে দেন।
রাজা প্রতাপরুদ্র দেব ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রথম সাক্ষাৎ     
প্রতাপরুদ্র দেবের আদেশে শ্রীচৈতন্যের জীবিতাবস্থায় আঁকা ছবি   
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
প্রতাপরুদ্র
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
.
রাজা প্রতাপরুদ্র দেব ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ -                                পাতার উপরে . . .  
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু , সন্ন্যাস গ্রহণের পরে নীলাচলে চলে যান। সেই সময়ে নীলাচলের রাজা ছিলেন প্রবল  
পরাক্রান্ত গজপতি প্রতাপরুদ্র দেব। রাজা ও তাঁর মন্ত্রী রামানন্দ রায় বৈষ্ণব ধর্মকে উড়িষ্যার প্রধাণ ধর্মে
পরিণত করেন। শোনা যায় যে রাজা প্রতাপরুদ্র দেব পূর্বে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুরাগী ছিলেন।

রাজা প্রতাপরুদ্র আর শ্রীচৈতন্যের মধ্যে প্রথম পরিচিতিপর্বের একটি  সুন্দর বর্ণনা পাই যুধিষ্ঠির  জানা  
ওরফে মালিবুড়োর ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য” গ্রন্থের ২২৪-পৃষ্ঠায়। সেখানে
পুরীর এক জ্ঞানী তথা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি যাঁকে “প্রভুজী” বলে কথোপকথনে তিনি সম্বোধন করছেন, তাঁর ভাষণে
এই  ঘটনার কথা যা থেকে রাজা প্রতাপরুদ্রদেব প্রথম
শ্রীচৈতন্যের কথা শোনেন, জানা যাচ্ছে. . .

চৈতন্যদেব পুরীতে আসার পরে এমন একটা ঘটনা ঘটল যার জন্য চৈতন্যদেবের নাম নীলাচল সহ লারা
উত্কলে ছড়িয়ে পড়ল। ঘটনাটি হলো, একদিন চৈতন্যদেব ভাবাবেশে জগন্নাথদেবকে দর্শন করার  জন্য
অগ্রসর হচ্ছিলেন মূল মণ্ডপের দিকে অর্থাৎ সিংহাসনের দিকে। তখন বিশালাকার বলিষ্ঠ শরীর অনন্ত
গচ্ছিকার তাঁকে সিংহাসনের দিকে অগ্রসর হতে নিষেধ করলেন। চৈতন্য ভাবাবেগে অনন্তকে হাত দিয়ে  
সরিয়ে সোজা চলতে লাগলেন। তাতেই অনন্ত ছিটকে পড়ল পূজাপীঠ অনলরপিণ্ডি-তে। . . . বিদ্যুতের মত
ত্বরিত গতিতে সারা নীলাচলে ছড়িয়ে পড়ল সেই সংবাদ। প্রতাপরুদ্রদেব কে এই চৈতন্য তাঁর সম্পর্কে সব
খোঁজ-খবর নিতে রাজ্যের সকলকেই নির্দেশ দিলেন। আর তিনি মনে মনে ভাবলেন, পাণ্ডাদের যত কিছু  
শৌর্য্যবীর্য্য সবই ত ঐ অনন্ত (বিশালাকার বলিষ্ঠ শরীর মন্দিরের দ্বাররক্ষী অনন্ত গোচ্ছিকার) থেকে।  
অনন্তের মত শক্তিশালী তাঁর সেনাপতিও নন, অতএব অনন্তকে যে সামান্য করাঘাতে ভূ-তলশায়ী নয়, ছুঁড়ে
ফেলে দিতে পারে অতদূরে অনসর পিণ্ডিতে---না জানি সে কতবড় বীর। হয়ত কোন বাইরের শত্রু সন্ন্যাসীর
ছদ্মবেশে প্রবেশ করেছে তাঁর রাজ্যে। জগন্নাথকে অপবিত্র করে মন্দির লুণ্ঠন করতে চায়। আর মন্দির যদি
শত্রু কর্তৃক অধিকৃত হয়, তাহলে রাজ্যের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

বড় উত্কণ্ঠিত হয়ে উঠলেন মহারাজ প্রতাপরুদ্র। ডেকে পাঠালেন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে। তাঁর কাছ থেকে
সংবাদ শুনে তবেই শান্ত হলেন। উত্কলবাসীরা সচল জগন্নাথ বলে ছুটে আসতে লাগল দলে দলে মহাপ্রভুকে
দেখার জন্য। শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো লোকে জগন্নাথকে দর্শন আগে না করে চৈতন্যদেবকে
দর্শন করতে ভিড় জমাতে লাগল।

প্রকাপরুদ্রদেব দেখলেন এই সুযোগ। তিনি প্রভুর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দাবিয়ে রাখতে চাইলেন
জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিতবর্গকে। ফলে চৈতন্যদেব হলেন পুরোহিতদের রোষভাজন
।”

তাঁদের প্রথম দেখা হয়ে অনেক পরে।
শ্রীচৈতন্য, রাজা প্রতাপরুদ্রের সঙ্গে প্রথমে দেখাই করতে চান নি।  
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাজার একাধিক অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অনেকের অনেক
অনুরোধ-উপরোধের পরে রায় রামানন্দ ও প্রভু নিত্যানন্দের অনুরোধে তিনি তাঁর একটি বস্ত্র পাঠাতে রাজি
হলেন রাজার কাছে। সেই বস্ত্র পেয়ে রাজা আরও ব্যাকুল হয়ে উঠলেন দেখা পাবার জন্য। শেষে  তাঁর  
পুত্রকে দেখতে চাইলেন। এর পর রাজাকে তিনি দেখা দেন।
.
প্রতাপরুদ্র দেবের আদেশে শ্রীচৈতন্যের জীবিতাবস্থায় আঁকা ছবি -             পাতার উপরে . . .  
১৯১১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, দীনেশচন্দ্র সেনের
History of Bengali Language and Literature গ্রন্থ থেকে আমরা
জানতে পারি যে, ছবিতে (ছবিটি আংশিক তোলা হয়েছিল বোধহয়) দেখা যাচ্ছে সপার্ষদ
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু
ভগবদ্গীতা পাঠ শুনছেন। ছবিটি আঁকা হয় পুরী বা নীলাচলের রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের আদেশে, ১৫১২ -
১৫৩৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে। ছবিটি শ্রীনিবাসাচার্য্য নদীয়ায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, শ্রীচৈতন্যের অপ্রকট হওয়ার
পরে।
শ্রীনিবাসাচার্য্যের বংশধরদের মাধ্যমে ছবিটি ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী খ্যাত মহারাজ নন্দকুমারের বা
নান্ কুমারের পরিবারের হাতে আসে এবং শেষপর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার কুঞ্জঘাটায় রক্ষিত রয়েছে। এই
ছবিতে মধ্যমণি হিসেবে দেখা যাচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে। তাঁর ডানদিকে রয়েছেন প্রভু নিত্যানন্দ। এছাড়া
রয়েছেন ভাগবতাচার্য্য এবং ছবির আদেশকর্তা রাজা প্রতাপরুদ্র দেব কে দেখা যাচ্ছে সাষ্টাঙ্গে প্রণামরত।
রাজার সামনে একটি ময়ূর দেখা যাচ্ছে, যা সম্ভবত মহারাজের উচ্চ মর্যাদাক্রম দর্শাতে আঁকা হয়েছে।

এর সঙ্গে আমরা আরও কয়েকটি তথ্য যোগ করে দিতে পারি, পাঠকদের জন্য।
১। এই ছবিতে শ্রীচৈতন্যের পার্ষদদের মধ্যে কারা কারা আছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মতান্তরে,  
মধ্যমণি হিসেবে রয়েছেন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। সঙ্গে রয়েছেন প্রভু নিত্যানন্দ, গীতাপাঠরত গদাধর পণ্ডিত,
অদ্বৈতাচার্য্য সম্ভবত পক্ককেশে, শ্রীবাস, রূপ এবং সনাতন গোস্বামী, দণ্ডায়মান যবন হরিদাস যাঁকে আমরা
দেখতে পারছিনা ছবিটি এখানে আংশিক রয়েছে বলে এবং সাষ্টাঙ্গে প্রণামরত স্বয়ং রাজা প্রতাপরুদ্র দেব।

২। যুধিষ্ঠির জানা ওরফে মালিবুড়ো, তাঁর ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য” গ্রন্থের,  
৩০৬-৩০৭ পৃষ্ঠায়  প্রতাপরুদ্র দেব ও
শ্রীচৈতন্যদেবের ছবি (আলেখ্য),  নিয়ে লিখেছেন . . .
সুন্দরানন্দ বিদ্যাবিনোদ তাঁর “শ্রীক্ষেত্র” পুস্তকে লিখেছেন : কথিত হয় যে, শ্রীনরেন্দ্র সরোবরের  তীরে  
সপার্ষদ শ্রীচৈতন্যদেবের সম্মুখে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যখ্যারত শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামিপ্রভু ও সপার্ষদ শ্রীগৈরহরির
শ্রীপাদপদ্মমূলে সাষ্টাঙ্গ প্রণত শ্রীপ্রতাপরুদ্রের একটি আলেখ্য তাঁহার আদেশেই প্রকাশিত  হইয়াছিল।  কেহ  
কেহ বলেন, ঐ আলেখ্যেরই একটি প্রতিলিপি মুর্শিদাবাদ কুঞ্জাঘাটার রাজবাড়ীতে রক্ষিত আছে
।”

৩। নগেন্দ্রনাথ বসু তাঁর ১৯১১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, The archeological Survey of Mayurbhanja গ্রন্থের
Pratappur অধ্যায়ের ৩৫-পৃষ্ঠায়  লিখেছেন . . .  
Prataprudra had ordered a likeness of Chaitanya to be painted in water-colours, in which the
king himself is represented as lying prostrate before his great religious master. The painting,
which is a rare specimen of art, is still preserved at Kunjaghata Rajabati, Murshidabad
.”

৪। শ্রীনিবাসাচার্য্যের পুরী যাত্রার পথেই শ্রীচৈতন্যের অপ্রকট হবার খবর পান, তাঁদের দেখা হয়নি। তাই
ছবিটি তিনি শ্রীচৈতন্যের অপ্রকট হবার পরেই নিয়ে এসেছিলেন।
শ্রীনিবাসাচার্য্যের বংশধর ছিলেন  
রাধামোহন ঠাকুর, যিনি নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর দরবারে “স্বকীয়াবাদ” বনাম “পরকীয়াবাদের”  তর্কযুদ্ধে  
জয়প্রাপ্ত হয়ে “পরকীয়াবাদ”-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি “পদামৃতসমুদ্র” নামক ৭৪৬টি পদবিশিষ্ট
একটি বিশাল পদাবলী-সংকলন রচনা করেছিলেন। এই
রাধামোহন ঠাকুরই ছিলেন মহারাজ নন্দকুমারের
দীক্ষাগুরু। তাই তাঁর হাত দিয়েই মহারাজ নন্দকুমারের কাছে এই ছবিটি এসেছিল একথা বলা চলে।  
নন্দকুমারের কন্যা সুমণির সঙ্গে বিয়ে হয় কুঞ্জঘাটার জমিদার পুত্র জগত চাঁদের। সেই সূত্রে উপরোক্ত ছবিটি
কুঞ্জঘাটার জমিদার বংশের হাতে আসে বলে কথিত আছে।

৫। দীনেশচন্দ্র সেনের উপরোক্ত বই থেকে জানা যায় যে ছবিটি, ১৫১২-১৫৩৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে, রাজা
প্রতাপরুদ্র দেবের রাজত্বকালে, তাঁরই আদেশে আঁকা হয়েছিল। শ্রীচৈতন্যের যুগকে আমরা বলছি বাংলার
প্রথম  নবজাগরণের যুগ। ঠিক তেমনই সেই সেময়েই ইউরোপে ঘটে চলছিল সেখানকার নবজাগরণ বা  
“রেনেসাঁ”। ইউরোপে, শিল্পী-স্থপতি-বৈজ্ঞানিক লিওনার্ডো-ডা-ভিঞ্চী, ১৫০৩ খৃষ্টাব্দে আঁকেন পৃথিবীর সবচেয়ে
বিখ্যাত ছবি “মোনালিসা”। তাই
শ্রীচৈতন্যের এই ছবি এবং মোনালিসা প্রায় সমসায়িক বললে অত্যুক্তি করা
হবে না। বলাবাহুল্য এই ঐতিহাসিক ছবিটির মূল্য অসীম।
.
রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের রচনাসম্ভার ও বাংলা পদ -                               পাতার উপরে . . .  
রাজা প্রতাপরুদ্র দেব ছিলেন বিদ্বান এবং একজন বিদ্বোত্সাহী রাজা। তাঁর রচনাসম্ভারে রয়েছে “সরস্বতী  
বিলাস”, “শ্রীপ্রতাপমার্তণ্ড” বা “প্রৌঢ়প্রতাপমার্তণ্ড”, “নির্ণয়-সংগ্রহ”, “কৌতুকচিন্তামণি”, “প্রবন্ধবংশাবতরণ”  
প্রভৃতি। “শ্রীপ্রতাপমার্তণ্ড” প্রতাপরুদ্র দেবের নামে আরোপিত একটি স্মৃতি গ্রন্থ।এই গ্রন্থের একটি পুঁথি  
ভাণ্ডারকর ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষকগণ মনে করেন এই পুস্তকটি  
প্রতাপরুদ্র দেবের কোন সভাপণ্ডিত দ্বারা রাজার আদেশে রচিত হয়েছিল। তাঁরা মনে করেন  পরাশর  
গোত্রীয় শ্রীনারায়ণের পৌত্র ও শ্রীমাধবের পুত্র এই গ্রন্থের প্রণেতা। “কৌতুকচিন্তামণি” ইন্দ্রজাল-বিদ্যা বিষয়ক
গ্রন্থ।

১৯৮৫ এর পরে প্রকাশিত যুধিষ্ঠির জানা (মালীবুড়ো) রচিত, “শ্রীচৈতন্যের অন্তর্ধান রহস্য, প্রথম ও  দ্বিতীয়  
খণ্ড একত্রে”-এর উপসংহার এর পরে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে (পৃষ্ঠা ৩০৩) এ তাঁর একটি বাংলা পদ  
পেয়ে এখানে তুলে দিচ্ছি (পৃষ্ঠা-৩০৮)। পুরো পদটি পেয়েছি অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ, ৩য় খণ্ড”, ১৬০-পৃষ্ঠায়।