.                            ॥ কবির এই পরিচিতিটি আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কবি ফালগুনী রায় - বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত নাড়াইলের জমিদার বংশের সন্তান। তাঁর জন্ম ৭ই
জুন,১৯৪৫ এবং মৃত্যু ৩১শে মে, ১৯৮১। তাঁর বাবা ও মায়ের নাম যথাক্রমে বনবিহারী ও বকুলরানি। তিনি
যমজ সন্তানের একজন, তাঁর প্রকৃত নাম নারায়ণ, যমজ অন্য ভাইয়ের নাম লক্ষ্মী। মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে
তাঁর মৃত্যু হয়। উত্তর কলকাতার রতন বাবু রোডে অবস্থিত তাঁদের বিশাল ও ভাঙাচোরা
পৈত্রিক বাড়িতেই তাঁর জন্ম ও মৃত্যু। তিনি
কবি তুষার রায়ের ছোটো ভাই। তুষারও মাত্র একচল্লিশ বছর
বয়েসে মারা যান। প্রতিভাবান এই দুই কবিভ্রাতার মৃত্যু আসলে ছিল  ইচ্ছামৃত্যু যাকে ফালগুনীর ভাষায়  
বলা যায় ‘স্বমারণোৎসব’  (‘স্বমরণোৎসব’ ?)। এই দুই ভাইই ছিলেন প্রচণ্ড রকম নেশাসক্ত। নানান ধরনের
নেশা করতেন তাঁরা। তাঁদের মূল নেশা ছিল ড্রাগের। খাদ্যের অভাব,অতিরিক্ত নেশা ও অস্বাভাবিক
আত্মনিপীড়ন এঁদের অকালমৃত্যুর কারণ। জমিদার বাবু রতন রায় ছিলেন ফালগুনীর প্রপিতামহ। ১৯৪৭
সালের দেশ ভাগের ফলে নাড়াইলের জমিদারি পাকিস্তানের দিকে পড়ে। ফলে  জমিদারির আয় বন্ধ
হয়ে যায় এবং রায়-পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসে। পারিবারিক জীবনে নেমে আসা বিপর্যয়ের অন্ধকার
ফালগুনীর চৈতন্যকে ক্রমশ অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছিল। সেই অন্ধকার ভেদ করে মানবজীবনের
আলোকোজ্জ্বল দিকে ফিরে আসার ক্ষমতা তাঁর ছিল না।

ফালগুনী ছিলেন গত শতকের ষাটের দশকের বিখ্যাত
হাংরি জেনারেশন বা ক্ষুধার্ত সম্প্রদায়ের শরিক।
তাঁর একমাত্র কবিতা-পুস্তিকা ‘নষ্ট আত্মার টেলিভিসন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সনের ১৫ই অগাস্ট। পরবর্তী
কালে এই পাতলা কবিতা-পুস্তিকাটি বারবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে থাকা তাঁর কবিতা ও
অন্যান্য রচনা নিয়ে তাঁর সমগ্র রচনাও অনেকে প্রকাশ করেছেন। তবে ফালগুনীর সমগ্র রচনা পরিমাণে খুব
বেশি নয়। সমীর রায়চৌধুরী সম্পাদিত ‘ফালিগুনী রায় সমগ্র’তে ৪২টি কবিতা ও ৬টি গদ্যরচনা সঙ্কলিত
হয়েছে। এর বাইরেও ফালগুনীর লেখা আছে। আমার মনে পড়ছে স্বরাজ সিংহ সম্পাদিত  ‘অমলতাস’
(বৈশাখ ১৩৮২ বঙ্গাব্দ) পত্রিকায় প্রকাশিত ‘প্রত্যেক বুদ্ধ’ গল্পটির কথা।

সমগ্র মানব্জাতির অভিমুখ আলোর দিকে, জীবনের দিকে। ফালগুনীর অবস্থান এর বিপরীতে। কবিতা নয়,
ফালগুনী আসলে লিখেছিলেন প্রতি-কবিতা বা এ্যান্টিপোয়েট্রি। সৌন্দর্যরাক্ষস তিনি জগৎ ও জীবনের
অসুন্দর দিকে আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়েছিলেন। এটাই তাঁর বিশিষ্টতা।

অতীন্দ্রিয় চক্রবর্তী অনূদিত
Television Of The Rotten Soul বইটি তনভির রাতুল কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে
অ্যান্টিভাইরাস প্রকাশন সংস্থা থেকে ২০১৬-তে প্রকাশিত হয়েছে। এটিতে রয়েছে ফালগুনীর কবিতার
ইংরেজি অনুবাদ। সর্মি পান্ডে, ফালগুনী রায় বিষয়ে ২০মিনিট ৬ সেকেন্ড স্থায়িত্বের একটি ছোটো ছবি
‘এবং ফালগুনী’
(The Lost Lines Of A Beauty Monster) নির্মাণ করেছেন। ছবিটি ইতালির River To River
Florence Indian Film Festival
-এ প্রদর্শিত হয়েছে (২০০৪)। এটির প্রযোজক হলেন শুভঙ্কর দাশ। বোঝা যাচ্ছে,
নষ্ট আত্মার টেলিভিসন এখনো দীর্ঘ দিন  দেখতে হবে আমাদের।

ফালগুনী রায়ের স্কেচটি
সুবিমল বসাকের আঁকা। সুবিমল এটি ১৯৯৫ সালে এঁকেছিলেন।

.                
॥ কবির এই পরিচিতিটি আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা কৃতজ্ঞ কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কারণ তিনি কবি ফালগুনী রায়ের ছবি, সব কবিতা এবং
কবি-পরিচিতি নিজে আমাদের বাংলায় টাইপ করে পাঠিয়েছেন


মিলনসাগরে  কবি ফালগুনী রায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার
সার্থকতা।


উত্স - কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো কবি-পরিচিতি।   


কবি ফালগুনী রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১০.১.২০১৯।
...