.                            ॥ কবির এই পরিচিতিটি আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কবি তুষার রায় - অকালপ্রয়াত তুষার রায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি ও
গদ্যকার। তাঁর জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৬শে মে(?) এবং মৃত্যু ১৯৭৭ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর।

তুষার বর্তমান বাংলাদেশের যশোহর জেলার বিখ্যাত নাড়াইল জমিদার বংশের সন্তান। তাঁর বাবা ও
মায়ের নাম যথাক্রমে বনবিহারী ও বকুলরানি। তুষার রায়েরা পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন। ভাইদের  মধ্যে  
তুষার তৃতীয়। তুষারের পঞ্চম তথা কনিষ্ঠ ভাই হলেন আর এক অকালপ্রয়াত প্রতিভাবান
কবি ফালগুনী  
রায়। উল্লেখযোগ্য সাহিত্যপ্রতিভার অধিকারী এই দুই ভাইই ছিলেন অত্যধিক নেশাসক্ত। নানা
ধরনের নেশা করতেন তাঁরা। তাঁদের প্রধান নেশা ছিল ড্রাগের। মাত্রাতিরিক্ত নেশা, সীমাহীন দারিদ্র্য,
অবিশ্বাস্য  আত্মনিপীড়ন -- এইসব কিছুই ছিল তাঁদের অকালমৃত্যুর কারণ।      

উত্তর কলকাতার সিঁথির কাছাকাছি রতন বাবু রোডে অবস্থিত বিশাল ও ভাঙাচোরা, পৈত্রিক বাড়িতে এই
দুই ভাই বাস করতেন। বাবু রতন রায় ছিলেন তুষারের প্রপিতামহ। রতন বাবু রোড এবং রতন বাবু ঘাট
আজও রতন বাবুর স্মৃতি বহন করে চলেছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ফলে নাড়াইলের জমিদারির আয়
বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তুষার রায়দের পরিবার হঠাৎ করে বিপর্যয় নেমে আসে।

তুষার লেখাপড়া করেছিলেন মাত্রই ক্লাস সিক্স পর্যন্ত। স্কুলের লেখাপড়া বেশি দূর না-করলেও তুষার তাঁর
পছন্দের বইপত্র পড়তে শুরু করেছিলেন বেশ কম বয়স থেকেই। তাঁদের পরিবারে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি
ভালোবাসা এসেছিল মা বকুলরানির কাছ থেকে। তুষার তাঁর কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও চিঠিপত্রে
দেশি-বিদেশি যে সমস্ত কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীর নাম করেছেন তা থেকে বুঝতে অসুবিধে হয় না যে তিনি
শিল্প-সাহিত্যের অতি আধুনিক ধারার সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে চেয়েছিলেন।

তুষার চাকরি- বাকরি করতেন না। ১৯৬৯ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ব্যান্ডমাস্টার' প্রকাশের সঙ্গে-সঙ্গেই
তিনি একজন শক্তিশালী কবি হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃতি লাভ করেন। তাঁর অন্য দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম হল --
'মরুভূমির আকাশে তারা' এবং 'অপ্রকাশিত তুষার'। তাঁর দুটি ছড়ার বইয়ের নাম হল 'গাঁট ছড়া' এবং
'তুষার রায়ের ছড়া'। নতুন ধরনের গদ্যে লেখা তুষারের 'শেষ নৌকা' গল্প-গ্রন্থটি নবীন লেখকদের অবশ্য  
পাঠ্য। 'এক্সপেরিমেন্ট' তাঁর লেখা রহস্য গল্পের বই। 'কিংবদন্তীর উপত্যকা' তাঁর লেখা একমাত্র উপন্যাস।

ছন্দ ব্যবহারে কিছু ত্রুটি সত্ত্বেও বিষয় এবং রচনাশৈলীর অভিনবত্বে তুষার আধুনিক বাংলা  সাহিত্যে
বিশিষ্ট একটি স্থান অধিকার করে আছেন। শারীরিক যন্ত্রণা এবং মৃত্যুকে তিনি যে-ভাবে তাঁর কবিতা ও
গল্পের বিষয় করে তুলেছেন আমাদের সাহিত্যে তার তুলনা কোথায়? মানুষ মৃত্যু কামনা করে  জীবনের
প্রতি হতাশ হয়ে, বীতশ্রদ্ধ হয়ে, ক্লান্ত হয়ে। কিন্তু তুষারের কবিতায় ক্লান্তি ও হতাশা নেই। বেঁচে থাকার
পক্ষেও তিনি অনেক কথা বলেছেন। শারীরিক যন্ত্রণা ও মৃত্যুর কথা তিনি এমন ভাবে বলেছেন যেন সেসব
জীবনের মতোই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার জিনিস।  অর্থাৎ তুষার একই সঙ্গে জীবন ও মৃত্যুর  
প্রেমিক। তুষার রায়ের এই ব্যাপারটা একেবারে অভিনব এবং এই জন্যেই তাঁর রচনা পাঠ  অভিজ্ঞতার
নতুন দরজা খুলে দেয়।

বন্ধু-বান্ধবকে লেখা তুষারের অসাধারণ কিছু চিঠিপত্রও তাঁকে জানা ও বোঝার জন্যে অবশ্যপাঠ্য।
তুষার রায়ের বহু লেখা এখনও নানা পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে আছে।

তুষার রায়ের সামগ্রিক সৃষ্টি নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আজ পর্যন্ত হয়নি। তবে, জ্যোতির্ময় দত্তের
'অভিমানী কবির মৃত্যু', ভাস্কর চক্রবর্তীর '১১ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭' এবং কমল তরফদারের 'তুষার রায়ের
সঙ্গে দু'দিন' তুষার রায় সম্বন্ধে খুবই উল্লেখযোগ্য তিনটি লেখা। আর তাঁর 'কলকাতার দিনরাত্রি' উপন্যাসের
'ব্যান্ডমাস্টার'পরিচ্ছেদে জলজ্যান্ত তুষার রায়কে‌ই হাজির করেছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়।

.                
॥ কবির এই পরিচিতিটি আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা কৃতজ্ঞ কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কারণ তিনি কবি তুষার রায়ের ছবি, সব কবিতা এবং
কবি-পরিচিতি নিজে আমাদের বাংলায় টাইপ করে পাঠিয়েছেন


মিলনসাগরে  কবি তুষার রায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার
সার্থকতা।


উত্স - কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো কবি-পরিচিতি।   


কবি তুষার রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৪.১.২০১৯।
৫টি নতুন কবিতা সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১০.১.২০১৯

...