শশিভূষণ বিদ্যালঙ্গার, তাঁর ১৯৩৮ সালে সম্পাদিত ও প্রকাশিত “জীবনীকোষ”, ৩য় খণ্ড, ৫৭৬-পৃষ্ঠায়   
লিখেছেন, “
তিনি একজন পদকর্ত্তা। তাঁহার রচিত ৯টী পদ পাওয়া গিয়াছে।” কিন্তু উপরোক্ত একটিই মাত্র পদ
আমরা পেয়েছি উনিশ শতকে প্রকাশিত,
নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথিতে এবং ১৯৩৭ সালে  
প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ডে। আমাদের কাছে সংগৃহীত
৪৭টি পদাবলী সংকলন সহ অন্যান্য বৈষ্ণব সাহিত্য-গ্রন্থে তাঁর আর অন্য কোনও পদ আমরা পাই নি।  
সুতরাং চূড়ামণিদাসের বাকি ৮টি পদ তাঁর “গৌরাঙ্গবিজয়” অথবা “ভূবমমঙ্গল” গ্রন্থে থাকতে পারে। দুঃখের
বিষয় এই যে গ্রন্থটি আমরা যোগাড় করে উঠতে পারিনি।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র  
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের  
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”



আমরা
মিলনসাগরে  কবি চূড়ামণি দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি চূড়ামণি দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৮.৯.২০১৯

...
কবি চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে প্রিয়নাথ জানার উদ্ধৃতি   
চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে সুখময় মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                                পাতার উপরে . . .   
১৯৩১ সালে প্রকাশিত,
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায় পদকর্তা চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে ১১৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

চূড়ামণি দাসের শুধু একটী পদ (১১৪২ সংখ্যক) পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। পদটী শ্রীকৃষ্ণের কৌমার-
কালোচিত নৃত্যের বর্ণন। এই পদ হইতে পদ-কর্ত্তার সম্বন্ধে কোন তথ্যই জানা যাইতে পারে নাই। পদটী  
ব্রজবুলী ভাষায় রচিত ও পদ-কর্ত্তার রচনা-পরিপাট্যের পরিচায়ক। তিনি অবশ্যই আরও বহু পদ রচনা  
করিয়া থাকিবেন। পদকল্পতরুর মত প্রসিদ্ধ সংগ্রহ-গ্রন্থে স্থান না পাওয়ায়, সেগুলি বোধ হয় এত দিনে বিলুপ্ত
বা বিলোপন্মুখ হইয়াছে। প্রাচীন পদাবলী-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী আমাদিগের উত্সাহী যুবক   
সাহিত্যসেবীদিগকে আমরা পদ-কর্ত্তা চূড়ামণি দাসের জীবন-বৃত্ত সহ তাঁহার বিলুপ্তপ্রায় পদাবলী সংগ্রহের
কার্য্যে মনোনিবেশ করার জন্য সাদরে অনুরোধ করি
।”
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
চূড়ামণি দাস
.
চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে প্রিয়নাথ জানার উদ্ধৃতি -                                        পাতার উপরে . . .   
প্রিয়নাথ জানা তাঁর ১৯৫৫ সালে সম্পাদিত ও প্রকাশিত “বঙ্গীয় জীবনীকোষ”, ১ম খণ্ড, ১৮২-পৃষ্ঠায়,  
চূড়ামণিদাস সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

চৈতন্য চরিতের উপর রচিত চূড়ামণি দাসের একটিমাত্র পুঁথি পাওয়া গিয়াছে। তারও আবার আদ্যান্ত  
পণ্ডিত। ভণিতায় কাব্যের কোন নাম নেই। কেবল একবার মাত্র আছে “ভূবনমঙ্গল”,

‘শচীর বাত্সল্যরস গৌরাঙ্গ প্রকাশ,
ভূবনমঙ্গল গায়ে চূড়ামণিদাস।’

এই থেকে ডঃ সুকুমার সেন কাব্যটির নাম ভূবনমঙ্গল বলে অভিহিত করেছেন। ভণিতা থেকে কবির এইটুকু
পরিচয় পাওয়া যায় যে তিনি নিত্যানন্দের অনুচর ধনঞ্জয় পণ্ডিতের শিষ্য ছিলেন। কাব্যটি ষোড়শ শতকের
মধ্যভাগে রচিত। নিত্যানন্দের স্বপ্নাদেশ পেয়েই চূড়ামণিদাস কাব্যরচনায় প্রবৃত্ত হন। পুঁথিতে শ্রীচৈতন্য,  
নিত্যানন্দ এবং মাধবেন্দ্র পুরীর সম্বন্ধে কিছু নূতন তথ্য পাওয়া যায়। কারুর  কারুর  মতে এঁর রচিত   
কাব্যের নাম ‘গৌরাঙ্গবিজয়’
।”
.
চূড়ামণি দাস সম্বন্ধে সুখময় মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                            পাতার উপরে . . .   
সুখময় মুখোপাধ্যায় তাঁর ১৯৫৮ সালে রচিত “প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কালক্রম” গ্রন্থের ১৮৪-পৃষ্ঠায় এক  
চূড়ামণি দাসের সম্বন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি লিখেছেন যে এই চূড়ামণিদাস, ষোড়শ শতকের একেবারে
শেষ দিকে, একটি চৈতন্যচরিত গ্রন্থ লিখেছিলেন যার পুথিটি রক্ষিত ছিল এশিয়াটিক সোসাইটিতে। সুকুমার
সেন  তাঁর  “বাংলা  সাহিত্যের  ইতিহাস” ১ম খণ্ড, ২য় সংস্করণে  এই  গ্রন্থটির প্রকৃত  নাম  জানান  
“গৌরাঙ্গবিজয়”। ইনি
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদ ধনঞ্জয় পণ্ডিতের শিষ্য ছিলেন। তিনি গুরু ধনঞ্জয় পণ্ডিত ও
প্রভু  নিত্যানন্দের কাছে তাঁর গ্রন্থের উপকরণ পেয়েছিলেন বলে তাঁর নিজের উক্তিতে জানিয়েছেন।  
“চূড়ামণিদাস” ভণিতার উপরোক্ত পদটি এই কবির রচনা হতেই পারে।

সুখময় মুখোপাধ্যায়, চূড়ামণিদাসের বৌদ্ধ হওয়া ও লেখায় অলৌকিকতা নিয়ে “প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের
কালক্রম” গ্রন্থের ১৮৪-১৮৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

চূড়ামণিদাস লিখেছেন যে (চৈতন্যচরিত গ্রন্থে) মহাপ্রভুর জন্মের খবর শুনে বৌদ্ধরাও আনন্দিত হয়েছিলেন।
এর থেকে নগেন্দ্রনাথ বসু অনুমান করেন যে চৈতন্যভক্ত হলেও চূড়ামণিদাস প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ ছিলেন।   
চূড়ামণিদাসের গুরু ছিলেন চৈতন্যদেবের পার্ষদ ধনঞ্জয় পণ্ডিত।  একথা  তাঁর  নিজের  উক্তি  থেকেই  জানা
যায়। ধনঞ্জয় পণ্ডিত ও নিত্যানন্দের কাছে তাঁর গ্রন্থের উপকরণ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

চূড়ামণিদাসের গ্রন্থ অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ণ। চূড়ামণিদাসের মতে বাল্যকাল থেকেই চৈতন্যদেবের  
অলৌকিক মহিমা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই সময়েই নিত্যানন্দ নিত্যানন্দ নবদ্বীপে এসে তাঁর সঙ্গে  
দেখা করে যান। তারপর, মাধবেন্দ্র পুরী চর্মচক্ষে কৃষ্ণকে দর্শন করেছিলেন ও তাঁরই অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ   
চৈতন্যরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  এই  জাতীয়  অনৈসর্গিক  ঘটনার  বহু দৃষ্টান্ত চূড়ামণিদাসের গ্রন্থে পাওয়া
যায়। চূড়ামণিদাস বহুক্ষেত্র সুষ্পষ্ট ভুল খবরো দিয়েছেন। যেমন “চূড়ামণিদাস বলেন যে, চৈতন্যের জন্মনক্ষত্র  
রোহিণী ও জন্মরাশি বৃষ এই কারণে গণকরাশি অনুসারে ইহার নাম বিশ্বম্ভর রাখিয়াছিল। কিন্তু একথা  
সম্পূর্ণই ভ্রান্তিমূলক, চৈতন্য রোহিণী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করেন নাই, তাহা হইলে সেই দিন কখনই চন্দ্রগ্রহণ হইতে
পারিত না।”  (বিশ্বকোষ, ৬ষ্ঠভাগ, পৃঃ ৪১১) এই সব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, চূড়ামণিদাস বিশুদ্ধ ভক্তের দৃষ্টি
নিয়ে চৈতন্য-চরিত বর্ণনা করে গেছেন, ইতিহাসবোধ তাঁর একেবারেই ছিল না। সুতরাং  চূড়ামণিদাসের   
যেসব কথার পিছনে অন্য কোন সূত্রের সমর্থন নেই, তাদের তথ্য বলে গ্রহণ করা নিরাপদ হবে না।

চূড়ামণি দাসের গ্রন্থে অলৌকিক অলৌকিক বর্ণনার আতিশয্য থেকে মনে হয়, চৈতন্যদেবের মৃত্যুর  অনেক
দিন পরে, যখন চৈতন্যদেব ভক্তের কাছে মানুষ বলে গণ্য না হয়ে দেবতা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছিলেন, সেই
সময়ে চূড়ামণিদাস এই বই লিখেছিলেন। সুতরাং ষোড়শ শতাব্দীর একেবারে শেষ দিকে এই বই লেখা  
হয়েছিল বলে মনে হয়। ধন়্জয় পণ্ডিতের শিষ্য ও নিত্যানন্দের সঙ্গলাভকারীর পক্ষে ততদিন বেঁচে থাকা
সম্পূর্ণ সম্ভব
।”
.
কবি চূড়ামণি দাস - এর একটি মাত্র
ব্রজভাষায় লেখা পদ “নাচত মোহন নন্দ-
দুলাল মেরো কান”, রয়েছে
বৈষ্ণবদাস
সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে। সুতরাং
তিনি নিশ্চিতভাবে বৈষ্ণবদাস পূর্ববর্তী
কবি, এ কথা  বলা যায়।