কবি ধরণীদাস - ষোড়শ শতকের কবি। এই কবির “অনুখণ গৌর-প্রেম-রসে গরগর” পদটি থেকে আমরা
জানতে পারি যে তিনি
শ্রীনিবাস আচার্য্যের পরবর্তী ভক্ত ছিলেন। বৈষ্ণবদাস  সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে
তাঁর চারটি পদ রয়েছে। সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তিনি বৈষ্ণবদাসের পূর্ববর্তী কবি ছিলেন। ইনি
ষোড়শ থেকে সপ্তদশ শতকের কবি।

কবি ধরণীর পদ, বৈষ্ণব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রসগ্রাহী সংকলক
বৈষ্ণবদাস তাঁর পদকল্পতরুতে, প্রথম
সারির পদকর্তাদের পাশে, একই সারিতে সন্নিবেশ করেছেন। তা যে পদকর্তা ধরণীর পদাবলীর উচ্চমানের
সূচক, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁর পদাবলী নিয়ে পদকল্পতরুর সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায় ভূয়সী প্রশংসা
করেছেন যা আমরা নীচে তুলে দিয়েছি। সতীশচন্দ্রের উদ্ধৃতি পড়তে
এখানে ক্লিক করুন . . .

অনুখণ গৌর-প্রেম-রসে গরগর ঢর ঢর লোচনে লোর।
গদ গদ ভাষ হাস খণে রোয়ত আনন্দে মগন সঘনে হরি-বোল॥
পহু মোর শ্রীশ্রীনিবাস।
অবিরত রামচন্দ্র পহু বিহরত সঙ্গে নরোত্তম দাস॥

কবি “ধরণী” বা “ধরণীদাস” সম্বন্ধে এর বেশী তথ্য আমাদের কাছে নেই।

বৈষ্ণবদাস সংকলিত “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”-তে তাঁর ৪টি “ধরণী” ভণিতার পদ রয়েছে। এর বাইরে তাঁর  
আরেকটি পদ পেয়েছি দ্বিজ মাধব সংকলিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থে”।
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব  
পদাবলী”-তে এই কবিকে “ধরণী দাস” নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কবি ধরণীর গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ না থাকায় তাঁর কোনও পদ
জগদ্বন্ধু ভদ্রর “গৌরপদ-তরঙ্গিণী”-তে সংকলিত
হয় নি। তাই তাঁর পরিচয় সম্বন্ধে সেই গ্রন্থে কিছু লেখা নেই।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র  
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের  
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”



আমরা
মিলনসাগরে  কবি ধরণীর বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই  প্রচেষ্টার
সার্থকতা।   


কবি ধরণীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৯.৯.২০১৯

...
কবি ধরণী সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি ধরণী সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                                         পাতার উপরে . . .   
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা ধরণী
সম্বন্ধে ১২৪-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

পদ-কর্ত্তা ধরণীর চারিটি পদ পদকল্পতরুতে ইদ্ধৃত হইয়াছে। এই পদ চারিটির প্রত্যেকটি বিশেষত্বপূর্ণ।
সুতরাং পদ-কর্ত্তার পরিচয় ও অন্যান্য পদাবলী এ যাবৎ সংগৃহীত না হওয়ায়, আমরা এ স্থানে কৌতূহলী
পাঠকদিগের তৃপ্তির জন্যে ধরণীর পদ চারিটির কিঞ্চিৎ পরিচয় প্রদান করিব। ধরণীর ৬৭৬ সংখ্যক---
.        সই নিরবধি কত পড়ে মনে।
শ্যাম বন্ধু বিনু                        না রহে মোর তনু
.        সোয়াস্ত নাহিক রাতি দিনে॥

ইত্যাদি রসোদ্গারের বাংলা পদটি পদকল্পতরুর ৩য় শাখার ৬ষ্ঠ পল্লবে চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও বলরাম দাসের
কতকগুলি উত্কৃষ্ট পদের সহিত সন্নিবেশিত হইয়াছে। ধরণীর পক্ষে ইহা বিশেষ প্রশংসার বিষয় যে, তাঁহার
এই পদটা উক্ত প্রসিদ্ধ কবিদিগের ঐ সকল পদের সহিত একত্রে উদ্ধৃত হওয়ার অযোগ্য বলিয়া মনে হয় না।
ধরণীর ৮৫৮ সংখ্যক---
.        আরে মনমথ নাহি তুয়া ধরম-বিচার।
কো করু দোখ                        রোখ করু কা সঞে
.                বড় তুহুঁ মুরুখ গোঙার॥

ইত্যাদি ব্রজ-বুলীর পদটিও ভাব-বৈচিত্র্যে, জ্ঞানদাস, বলরাম দাস প্রভৃতির উত্কৃষ্ট ব্রজবুলী পদের সহিত
তুলনার অযোগ্য নহে। ধরণীর ২৩৮১ সংখ্যক---
অনুখণ গৌর-প্রেম-রসে গরগর
ঢর ঢর লোচনে লোর।
গদ গদ ভাষ হাস খণে রোয়ত
আনন্দে মগন সঘনে হরি-বোল॥
পহু মোর শ্রীশ্রীনিবাস।
অবিরত রামচন্দ্র পহু বিহরত
সঙ্গে নরোত্তম দাস॥
ইত্যাদি শ্রীনিবাস আচার্য্য-বিষয়ক পদ হইতে জানা যায় যে, ধরণী উক্ত আচার্য্যের পূর্ববর্ত্তী নহেন, তাঁহার
সমকালবর্ত্তী কিংবা পরবর্ত্তী পদকর্ত্তা ছিলেন। সুতরাং শ্রীনিবাস আচার্য্য ও পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা
বৈষ্ণবদাসের মধ্যবর্ত্তী সময়ে অর্থাৎ আন্দাজ ১৫২৫ খৃঃ অব্দ হইতে ১৭২৫ খৃঃ অব্দের মধ্যে ইনি প্রাদুর্ভূত
হইয়াছিলেন। ধরণীর ২৪৫৪ সংখ্যক--- নবঘন পুঞ্জ-পুঞ্জ জিতি সুন্দর ইত্যাদি শ্রীকৃষ্ণের রূপের পদটিও রচনা-
পরিপাট্যে সুন্দর। সুতরাং ধরণীর মাত্র চারিটি পদ পাওয়া গেলেও আমরা তাঁহার স্থান দ্বিতীয় শ্রেণীর কবি
ঘনশ্যাম দাস প্রভৃতির সঙ্গে নির্দ্দেশ করা অসঙ্গত মনে করি না। আমরা আশা করি যে, পরবর্ত্তী অনুসন্ধানের
ফলে ধরণীর অন্যান্য পদাবলী সহ তাঁহার পরিচয় সংগৃহীত হইয়া প্রাচীন পদাবলীর অনুরাগী পাঠকদিগের
প্রীতিসাধন করিবে
।”
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
ধরণী, ধরনি
.