কবি গোপীচরণের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সই গো আমার মনেতে কিছু ভায় না
ভণিতা গোপীচরণ দাস
কবি গোপীচরণ দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ তথারাগ॥

সই গো আমার মনেতে কিছু ভায় না।
নন্দ গোপ সুত বিনে আর কিছু চায় না॥
শ্যামসুন্দর নবযুবা পীতবাস পরে।
নানা আভরণ অঙ্গে ঝলমল করে॥
চূড়া শিখীচান্দ গুঞ্জা সুচাঁচর কেশ।
ত্রিভঙ্গ মুরলীধর নটবর বেশ॥
মুখচান্দ ঝলমল অলক তিলকে।
হাসিতে দশনপাঁতি মুকুতা ঝলকে॥
শ্রবণে দুলিছে কিবা মকর কুণ্ডল।
সঘনে ফিরাইছে দুটি নয়নকমল॥
মধুর মধুর কথাগুলি অমৃত বরিষে।
সদাই বাঞ্ছিয়ে তার পরশ পরশে॥
অঙ্গ ভঙ্গ মধুরিমা লাবণ্য সুলীলা।
হিয়ার মাঝারে দোলে বনফুলের মালা॥
আরতি পিরীতি ভজি তাহারে দেখিয়া।
এ গোপীচরণ দাসে রইল বিকাইয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই গো আমার মনেতে কিছু ভায় না।
নন্দ গোপ সুত বিনে আর কিছু চায় না॥
শ্যামসুন্দর নবযুবা পীতবাস পরে।
নানা আভরণ অঙ্গে ঝলমল করে॥
চূড়া শিখীচান্দ গুঞ্জা সুচাঁচর কেশ।
ত্রিভঙ্গ মুরলীধর নটবর বেশ॥
মুখচান্দ ঝলমল অলক তিলকে।
হাসিতে দশনপাঁতি মুকুতা ঝলকে॥
শ্রবণে দুলিছে কিবা মকর কুণ্ডল।
সঘনে ফিরাইছে দুটি নয়নকমল॥
মধুর মধুর কথাগুলি অমৃত বরিষে।
সদাই বাঞ্ছিয়ে তার পরশ পরশে॥
অঙ্গ ভঙ্গ মধুরিমা লাবণ্য সুলীলা।
হিয়ার মাঝারে দোলে বনফুলের মালা॥
আরতি পিরীতি ভজি তাহারে দেখিয়া।
এ গোপীচরণ দাসে রইল বিকাইয়া॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যত প্রবোধিয়ে মনে প্রবোধ নাহিক মানে
ভণিতা গোপীচরণ দাস
কবি গোপীচরণ দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ তথারাগ॥

যত প্রবোধিয়ে মনে                        প্রবোধ নাহিক মানে
প্রাণ কান্দে অহোনিশি তায়।
দিবা নিশি খেনে খেনে                      সদাই পড়িছে মনে
সেই মোর গোপীনাথ রায়॥
শ্যাম নাগর বিনে আর জীমু না।
কার লাগি থোব আর                      এরূপ যৌবন ভার
প্রভেশিব যাইয়া যমুনা॥
অকৈতব প্রেম করি                       মোরে গেল পরিহরি
ধৈরজ ধরিতে নারে দেহা।
অসম্ভব রস যত                          তাহা বা কহিব কত
পাসরিতে নারে সেই লেহা॥
বড়ই সদয় পিয়া                           অনেক করিত দয়া
কিবা দোষে হইলা নিঠুর।
বিকাল বিহান নিশি                        দরশন দিত আসি
সে ছাড়িয়া গেল মধুপুর॥
যদি তিলে দেখা নহে                        দেখিলে রতন পায়ে
হিয়ার উপরে মোরে রাখি।
মোর মুখ নিরখিতে                      কত ভাব উঠে চিতে
ছলছল করে দুটি আঁখি॥
সুস্মিত বদনে চাইয়া                    হাসি মধুর কথা কইয়া
অমৃতে সিঞ্চয়ে মোর অঙ্গ।
স্বপনে না জানি ইহা                    মোরে ছাড়ি যাবে পিয়া
হেন রসে করিয়া সে ভঙ্গ॥
অধরে অধর দিয়া                         কত সুখে মগ্ন হইয়া
হিয়ার উপরে শুইয়া রহে।
রাখিয়া এতেক সুখে                      মোরে দিয়া গেল দুখে
নারীর পরাণে কত সহে॥
যত যত কুঞ্জে যাইয়া                      আমারে লইয়া পিয়া
যে করিত সব কতি গেল।
এ গোপীচরণ দাসে                          সর্ব্বস্ব করিয়া নাশে
হিয়া মাঝে দিয়া গেল শেল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যত প্রবোধিয়ে মনে প্রবোধ নাহিক মানে            
প্রাণ কান্দে অহোনিশি তায়।
দিবা নিশি খেনে খেনে সদাই পড়িছে               
মনে সেই মোর গোপীনাথ রায়॥
শ্যাম নাগর বিনে আর জীমু না।                    
কার লাগি থোব আর এরূপ যৌবন                
ভার প্রভেশিব যাইয়া যমুনা॥
অকৈতব প্রেম করি মোরে গেল পরিহরি           
ধৈরজ ধরিতে নারে দেহা।
অসম্ভব রস যত তাহা বা কহিব কত               
পাসরিতে নারে সেই লেহা॥
বড়ই সদয় পিয়া অনেক করিত দয়া                
কিবা দোষে হইলা নিঠুর।
বিকাল বিহান নিশি দরশন দিত আসি              
সে ছাড়িয়া গেল মধুপুর॥
যদি তিলে দেখা নহে দেখিলে রতন                
পায়ে হিয়ার উপরে মোরে রাখি।
মোর মুখ নিরখিতে কত ভাব উঠে                
চিতে ছলছল করে দুটি আঁখি॥
সুস্মিত বদনে চাইয়া হাসি মধুর কথা              
কইয়া অমৃতে সিঞ্চয়ে মোর অঙ্গ।
স্বপনে না জানি ইহা মোরে ছাড়ি যাবে              
পিয়া হেন রসে করিয়া সে ভঙ্গ॥
অধরে অধর দিয়া কত সুখে মগ্ন হইয়া              
হিয়ার উপরে শুইয়া রহে।
রাখিয়া এতেক সুখে মোরে দিয়া গেল                
দুখে নারীর পরাণে কত সহে॥
যত যত কুঞ্জে যাইয়া আমারে লইয়া                
পিয়া যে করিত সব কতি গেল।
এ গোপীচরণ দাসে সর্ব্বস্ব করিয়া নাশে              
হিয়া মাঝে দিয়া গেল শেল॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সম্প্রতি ভকত পাশে গললগ্নীকৃতবাসে
ভণিতা গোপীচরণ দাস
কবি গোপীচরণ দাস
এই পদটি ১৯১৭ খৃষ্টাব্দে (৪৩০ শ্রীচৈতন্যাব্দ), গোপীকৃষ্ণ গুঁই সম্পাদিত ও সংকলিত “শ্রীশ্রীহরিনাম
সংকীর্ত্তন-মালা” পদাবলী সংকলন, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রথম খণ্ড।
মঙ্গলাচরণম্।

(গ্রন্থকারস্য)

সম্প্রতি ভকত পাশে,                        গললগ্নীকৃতবাসে
করপুটে করি নিবেদন।
পূর্ব্বকৃত পূণ্যফলে,                      জন্মেছি মানবকুলে,
হেন জন্ম গেল অকারণ॥
হরিনাম বিনে ভাই,                    জীবের অন্যগতি নাই,
যাগযজ্ঞ কলিতে নিষ্ফল।
যেই নাম সেই হরি,                      বল দিবা-বিভাবরী,
নিভে যাবে ভব-দাবানল॥
যে নামেতে মত্ত হর,                     শিরে ধরি বিষধর,
শ্মশানেতে করেন ভ্রমণ।
যাঁহার নামের বলে,                     পাষাণ ভাসিল জলে,
পঙ্গু করে পর্ব্বত লঙ্ঘন॥
বৃদ্ধ দ্বিজ ব্যাধি ক্লেশে,                পুত্রে ডাকি নামাভাসে,
অজামিল উদ্ধার হইল।
যে নামেতে করি বল,                  প্রহ্লাদ খে’ল হলাহল,
করী-পদাঘাতে না মরিল॥
যে নামেতে রত্নাকর,                      জগতের রত্নাকর,
মহারত্ন রামায়ণ রচিল।
পাপ করি অগণন,                        যে নাম করি শ্রবণ,
জগাই মাধাই মুক্ত হল॥
সেই হরিনাম সুধা,                      পানে যাবে ভবক্ষুধা,
কিন্তু মোর নাই ভক্তিবল।
আমি অতি দুরাচার,                     বিদ্যাবুদ্ধিহীন ছার
বৈষ্ণবের চরণ সম্বল॥
ভক্তিকৃপা নাহি যারে,                 সে যদি বিপদে পড়ে,
হরি কভু নাহি করে ত্রাণ।
ভক্ত যারে কৃপা করে,                  সবে তারে সমাদরে,
শুভদৃষ্টি করে ভগবান॥
অতএব ভক্তগণ                       আমি অতি অকিঞ্চন,
সংকীর্ত্তন-মালা রচিবারে।
আমিত ভক্তের দাস,                    যেন পূর্ণ হয় আশ,
@@@@@@@@@@@॥
মধ্যবঙ্গ মেদিনীপুর,                        গ্রাম আনন্দপুর,
কেশবপুর থানারান্তর্গত।
দক্ষিণ বাজারে ধাম,                       জগন্নাথ গুণধাম
গুঁইবংশ সমুদ্ভুত॥
সেই জগন্নাথ সুত,                        হারাধন গুণযুত,
তস্যাত্মজ শ্রীগোপীচরণ।
(হরি) নাম-সংকীর্ত্তনমালা,            রচিতে অতি উথলা
কর হরি বাসনা পূরণ॥

@@@@@@ - গ্রন্থের ৪-পৃষ্ঠার এইটিই নিচের শেষ কলি, যা স্ক্যান করার সময় বাদ পরে গেছে।
তাই অপাঠ্য।

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর