আমাদের সংগ্রহে যে যে পদাবলী সংকলন রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে কৃষ্ণকান্তের ২৯টি পদ মূলত  
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরু থেকেই এবং সেই ক্রমাঙ্ক অনুসারেই দুর্গাদাস লাহিড়ীর “বৈষ্ণব পদলহরী” এবং  
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের  “বৈষ্ণব পদাবলী”  গ্রন্থে  সন্নিবেশ  করা  হয়েছে।  এর  পরে এই ২৯টি পদই  
বর্ণানুক্রমিকভাবে কাঞ্চন বসুর “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনে তোলা হয়েছে। এর বাইরে আর একটি মাত্র পদ
“জয় জয় কসরব বৃষভানু পুরে” নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী”
৩য় খণ্ডে তোলা রয়েছে। পদকল্পতরু থেকেই একটি পদ “শ্যাম-অঙ্গ নটন-ছন্দ” রয়েছে দ্বিজ মাধব সংকলিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এ এবং পদকল্পতরু থেকে একমাত্র গৌরাঙ্গ বিষয়ক “কনক-ধরাধর-মদ-হর দেহ” পদটি  
রয়েছে
জগদ্বন্ধু ভদ্রর গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে।

পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত
কবি উদ্ধব দাসের আসল নাম ছিল কৃষ্ণকান্ত মজুমদার। তিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদ  
জেলার টেঞা বৈদ্যপুর গ্রামের বাসিন্দা, জাতিতে বৈদ্য। যেহেতু পদাবলী সাহিত্যে অন্য কোন কৃষ্ণকান্ত দাস
নামের পদকর্তার সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাই বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন যে
কৃষ্ণকান্ত, উদ্ধব দাসেরই আরেকটি
ভণিতা।
উদ্ধব দাসের বৈষ্ণব পদাবলীর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।

কবি কৃষ্ণকান্ত মজুমদারের দীক্ষা-গুরু ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্য্যর বৃদ্ধ প্রপৌত্র রাধামোহন ঠাকুর। ১১২৫  
বঙ্গাব্দ (১৭১৯ খৃষ্টাব্দ)
রাধামোহন ঠাকুরের সঙ্গে মহারাজা জয় সিংহের প্রেরিত সভাপণ্ডিত কৃষ্ণদেব    
ভট্টাচার্য্যের, স্বকীয়া ও পরকীয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে এক বিচার সভা হয়। এই বিচার সভায়
কৃষ্ণকান্ত মজুমদার
(
উদ্ধব দাস) ও তাঁর বন্ধু গোকুলানন্দ সেন ( বৈষ্ণবদাস ) উপস্থিত ছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সুতরাং  
এঁরা যে সপ্তদশ শতকের শেষে অথবা অষ্টাদশ শতকের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ
নেই।
উদ্ধব দাসের কবিত্ব সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                               পাতার উপরে . . .  
বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায়, তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের পদকর্ত্তৃগণের
পরিচয়ে,
উদ্ধবদাস সম্বন্ধে লিখেছেন . .

“. . .
উদ্ধবদাস পূর্ব্বরাগ, মান, আক্ষেপানুরাগ, বাল্যলীলা, গোষ্ঠ, রাসলীলা, দানলীলা, হোরি, ঝুলন,, মাথুর,
বিরহ, রূপবর্ণন প্রভৃতি নানা বিষয়ের পদ রচনা করিয়াছেন। কবিত্ব বিষয়ে বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের কথা
ছাড়িয়া দিয়া গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস, বলরামদাস, রায় শেখর, বসন্ত রায় প্রভৃতি কবিগণের পরেই ইহাঁর স্থান
নির্দ্দেশ করিতে হয়। উদ্ধবদাস বিশুদ্ধ বাঙ্গালা ও ব্রজ-বুলী, দুই রকম পদই রচনা করিয়াছেন। ইহাঁর রচিত
প্রাঞ্জল ও সুললিত লঘুত্রিপদী ছন্দের “কদম্বের বনে থাকে কোন জনে” ইত্যাদি পদগুলি ইহাঁর  ভাষার  
বিশুদ্ধিতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য প্রদান করিবে।” পাঠকগণ উদ্ধবদাসের ৩২, ৩৩ ও ৩৫ সংখ্যক (পদকল্পতরুর) পদে
উত্কৃষ্ট ব্রজ-বুলী রচনার এবং “দেখ সখি ঝুলত রাধা শ্যাম” ইত্যাদি ১৫৬১ সংখ্যাক ও “নব গোরোচন জিনিয়া
বরণ” ইত্যাদি ২৪৭৩ সংখ্যাক পদে তাঁহার সুন্দর বর্ণনা ও কবিত্বের পরিচয় লইবেন। নানাবিষয়ক রচনায়
প্রায় তুল্য দক্ষতা প্রদর্শিত করা শক্তিশালী কবির কার্য্য ; সুতরাং উদ্ধবদাসের নানাবিষয়ক উত্কৃষ্ট পদাবলী
পাঠ করিয়া তাঁহার কবিত্ব-শক্তির যথেষ্ট প্রশংসা না করিয়া পারা যায় না
।”
উদ্ধবদাসের গুরু রাধামোহন, বন্ধু বৈষ্ণব দাস পদকল্পতরু    
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে জগদ্বন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি   
কবি উদ্ধবদাস সম্বন্ধে জগদ্বন্ধু ভদ্র / মৃণালকান্তি ঘোষের উদ্ধৃতি   
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে হরিলাল চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি   
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি    
কবি উদ্ধব দাসের কবিত্ব সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি   
কবি উদ্ধব দাস সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি   
কবি উদ্ধব দাস সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি   
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে প্রিয়নাথ জানার উদ্ধৃতি    
কবি উদ্ধব দাস সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
কৃষ্ণকান্ত, কৃষ্ণকান্ত দাস

কবি উদ্ধব দাসের পাতায় যেতে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
.
উদ্ধবদাসের গুরু রাধামোহন, বন্ধু বৈষ্ণব দাস এবং পদকল্পতরু -                পাতার উপরে . . .  
কবি
উদ্ধবদাসবৈষ্ণবদাসের গুরু ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্য্যর বৃদ্ধ প্রপৌত্র রাধামোহন ঠাকুর। ১১১৫
বঙ্গাব্দে (১৭০৮ খৃষ্টাব্দ) রাধামোহন ঠাকুরের সঙ্গে কয়েকজন পণ্ডিতের, স্বকীয়া ও পরকীয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে
এক বিচার সভা হয়। এই বিচার সভায়
গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) ও তাঁর বন্ধু কৃষ্ণকান্ত মজুমদার
(উদ্ধবদাস)
 উপস্থিত ছিলেন। এই বিচারে রাধামোহন ঠাকুর জয়লাভ করেন, ও একখানি জয়পত্র প্রাপ্ত হন।
১১২৫ বঙ্গাব্দের ১৭ই ফাল্গুন তারিখে মুর্শিদ কুলী খাঁর (বাংলার নবাব) দরবারে সেই দলীল রেজিস্টারি হয়।
এই সময়
রাধামোহনের বয়স ছিল ত্রিশ বত্সর।

জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত গৌরপদতরঙ্গিণী-র ২য় সংস্করণের সম্পাদক মৃণালকান্তি ঘোষ তাঁর সম্পাদিত
সংস্করণে
রাধামোহনের পরিচয়ে, সেই তর্ক বা বিচার সভার কথা লিখেছেন . . .

বাঙ্গালা ১১২৫ সালে (১৭১৮ খৃষ্টাব্দ) স্বকীয়া ও পরকীয়াবাদ সম্বন্ধে গৌড়মণ্ডলে এক ঘোরতর বিচার হয়। এই
বিচারে ঠাকুর মহাশয়ের, সরকার ঠাকুরের, শ্রীজীব গোস্বামীর ও আচার্য্যপ্রভুর পরিবারের গোস্বামীগণ
পরকীয়া-বাদের পক্ষ অবলম্বন করেন। এই বিচারে রাধামোহন ঠাকুরই প্রধান হইয়া বিচার করেন। এই
বিচার-সভায় বৈদ্যপুর-নিবাসী নয়নানন্দ তর্কালঙ্কার, গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) ও তদীয় বন্ধু কৃষ্ণকান্ত
মজুমদার (উদ্ধবদাস) উপস্থিত ছিলেন। এই বিচারে রাধামোহন ঠাকুর জয়লাভ করেন, এবং একখানি জয়পত্র
প্রাপ্ত হন। ১১২৫ সালের ১৭ই ফাল্গুন তারিখে মুর্শিদ কুলী খাঁর দরবরে সেই দলীল রেজিস্টারি হয়। এই সময়
রাধামোহনের বয়স ছিল ত্রিশ বত্সর
।”

সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় এ বিষয়ে সেই বিচার সভায় যাঁরা মধ্যস্থতা
করেছিলেন তাঁদের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেই সময়ে
রাধামোহনের বয়স ৩০বছর ছিল সে কথাও
লিখেছেন। সুতরাং রাধামোহনের শিষ্য বৈষ্ণবদাস ও
উদ্ধদাস যে সপ্তদশ শতকের শেষ অথবা অষ্টাদ
শতকের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

উদ্ধবদাসের পদ-মাধুর্য্যের জন্যই হোক বা বন্ধুত্বের জন্যই হোক, বৈষ্ণবদাস তাঁর শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে, নিজের
মাত্র  ২৭টি পদ (২৬টি ভণিতাযুক্ত + ১টি ভণিতাহীন) জুড়লেও,
উদ্ধবদাসের ৯৯টি পদ সন্নিবেশ করেছিলেন।

উদ্ধবদাসবৈষ্ণবদাস, রাধামোহনের শিষ্য হলেও তাঁর পদ-সংকলন "পদামৃতসমুদ্র" গ্রন্থে এঁদের দুজনেরই
কোনো পদ নেই। এমন হতে পারে যে, যে সময়
রাধামোহন "পদামৃতসমুদ্র" সংকলন রচনা করছিলেন, সেই
সময় পর্যন্ত
উদ্ধব দাসবৈষ্ণবদাস, পদ রচনা শুরু করেন নি অথবা পদকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান নি।
.
আমরা মিলনসাগরে  কবি কৃষ্ণকান্তের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি কৃষ্ণকান্তের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
কবি উদ্ধবদাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।      


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৭.১.২০১৭।
এই কবিরই ২৩.১.২০১৭-
এ প্রকাশিত উদ্ধবদাস ভণিতার পদাবলীর পাতার সঙ্গে এই পাতার লিঙ্ক দ্বারা সংযোজন - ২৭.৯.২০১৯।

...
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
১৯০৫ সালে প্রকাশিত,
দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”-তে তিনি কবি
কৃষ্ণকান্ত
সম্বন্ধে লিথেছেন . . .

ইনি একজন বৈষ্ণব কবি। ইহার রচিত পদাবলী অতি প্রাঞ্জল ও ভাবমূলক। এই নামের দুইজন পদকর্ত্তার
পরিচয় পাওয়া যায়, কিন্তু কাহার জীবনী সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না
।”
.
উদ্ধব দাস সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি -                        পাতার উপরে . . .  
১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ডে
তিনি
উদ্ধব দাস সম্বন্ধে লিথেছেন . . .

পদকর্ত্তা উদ্ধবদাস বৈদ্যকূলসম্ভূত ও টেঞা বৈদ্যপুর নিবাসী। ইনি শ্রীনিবাসাচার্য্যের বৃদ্ধ প্রপৌত্র রাধামোহন
ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন। পদামৃতসমুদ্রে উদ্ধবদাসের কোন পদই সংগৃহীত হয় নাই। পদকল্পতরুতে ইঁহার নানা
বিষয়ে অনেকগুলি পদ আছে। ইঁহার প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত মজুমদার এবং ইনি বৈষ্ণবদাসের বন্ধু ছিলেন।
পদকর্ত্তাদের মধ্যে উদ্ধবদাসের স্থান অনেক উচ্চে। ইঁহার কবিত্ব কোমল, ভাব সহজ ও সরস
।”
.
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে প্রিয়নাথ জানার উদ্ধৃতি -                                       পাতার উপরে . . .  
১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, প্রিয়নাথ জানা সম্পাদিত “বঙ্গীয় জীবনীকোষ”, ১ম খণ্ডের ৪৪ ও ৮৬-পৃষ্ঠায় তিনি
উদ্ধব দাস, কৃষ্ণকান্তকৃষ্ণকান্ত মজুমদার সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

উদ্ধব দাস - মুর্শিদাবাদ  জেলার  টেঁয়া বৈদ্যপুর  গ্রামের  অধিবাসী  ছিলেন। এঁর প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত  
মজুমদার। ইনি মালিহাটীর আচার্যবংশীয় প্রসিদ্ধ পণ্ডিত ও পদকর্তা রাধামোহন ঠাকিরের মন্ত্রশিষ্য এবং  
বৈষ্ণব পদ রচয়িতা গোকুলানন্দ সেনের বন্ধু ছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইনি বিদ্যমান ছিলেন।  
উদ্ধবদাস বিশুদ্ধ বাংলা ও ব্রজবুলীতে পদ রচনা করেছেন। এঁ ভাষা যেমন প্রাঞ্জল, তেমনি সুললিত। এঁর  
বর্ণনাশক্তি ও কবিত্ব-শক্তি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

কৃষ্ণকান্ত - উদ্ধবদাস পদকর্তার প্রকৃত নাম। টেঁঞা বৈদ্যপুরবাসী ও পদকল্পতরুকার বৈষ্ণবদাসের বন্ধু। ইনি
সুললিত ব্রজবুলি পদ রচনায় সুপটু ছিলেন।

কৃষ্ণকান্ত মজুমদার - উদ্ধবদাসের প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত মজুমদার
.
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে হরিলাল চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                            পাতার উপরে . . .  
১৯২৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় প্রণিত বৈষ্ণব-ইতিহাস গ্রন্থের ৭ম অধ্যায়ের ১৫৯-পৃষ্ঠায়, তিনি
প্রসিদ্ধ পদকর্ত্তাদের মধ্যে
উদ্ধব দাসের সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

বৈদ্যবংশসম্ভূত উদ্ধব দাস টেঞা বৈদ্যপুর গ্রামে বাস করিতেন। ইনি শ্রীনিবাস আচার্য্য পৌত্র রাধামোহন
ঠাকুরের মন্ত্রশিষ্য ছিলেন। ইহার পূর্ব্ব নাম কৃষ্ণকান্ত মজুমদার। পদকল্পতরুর সংগ্রাহক গোকুলানন্দ সেন বা
বৈষ্ণব দাসের সহিত এই উদ্ধব দাসের বন্ধুতা ছিল
।”
.
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে জগদ্বন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি -                                           পাতার উপরে . . .  
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত,
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পদকর্তার পরিচয়ে, ৭৬-পৃষ্ঠায় পদকর্তা
কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

কৃষ্ণকান্ত - উদ্ধবদাসের পরিচয়ে লিখিত হইয়াছে যে, তাঁহার প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত মজুমদার। ইনি  
অম্বুষ্ঠকুল-সম্ভূত ও টেঞা-বৈদ্যপুর-নিবাসী ছিলেন। পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাসের সহিত তাঁহার বন্ধুত্ব
ছিল। বৈষ্ণব-সাহিত্যে যখন আর কোন কৃষ্ণকান্তের পরিচয় পাওয়া যায় না, তখন ইঁহাকেই পদকর্ত্তা  
কৃষ্ণকান্ত বলিয়া ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে।

গৌরপদতরঙ্গিণীতে১ এই ভণিতার ২৯টী পদ আছে। এই পদগুলি উদ্ধবদাস ওরফে কৃষ্ণকান্তের হইলে, এগুলি
তাঁহার প্রথম বয়সের রচনা বলিয়া মনে হয়। কারণ, তিনি উদ্ধবদাস নাম গ্রহণের পরে কৃষ্ণকান্ত ভণিতা  
দিয়া পদ রচনা করেন নাই, ইহাই ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে
।”

১ - গৌরপদতরঙ্গিণীর বদলে পদকল্পতরু হবে। সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ। গৌরপদতরঙ্গিণীতে
কৃষ্ণকান্তের মাত্র  
একটি পদ “কনক-ধরাধর-মদহর দেহ” রয়েছে।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥
.
কবি উদ্ধবদাস সম্বন্ধে জগদ্বন্ধু ভদ্র / মৃণালকান্তি ঘোষের উদ্ধৃতি -                 পাতার উপরে . . .  
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত,
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পদকর্তার পরিচয়ে, ৭৪-পৃষ্ঠায় পদকর্তা কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

উদ্ধবদাস - বৈষ্ণব ভক্তদিগের মধ্যে দুই জন উদ্ধবদাসের উল্লেখ পাওয়া যায়।
(১) গদাধর পণ্ডিত-শাখার মধ্যে এক উদ্ধবদাসের উল্লেখ আছে। ইনি বৃন্দাবনে যাইয়া বাস করেন।  
ম্লেচ্ছদিগের ভয়ে শ্রীগোপালবিগ্রহকে মথুরায় লইয়া যাইয়া বিট্ঠলেশ্বরের মন্দিরে এক মাস রাখা হয়। শ্রীরূপ
গোস্বামী তখন বৃদ্ধ হইয়াছেন, চলচ্ছক্তি একরূপ রহিত হইয়াছে। কিন্তু গোপাল দর্শন না করিয়া সুস্থির হইতে
পারিলেন না। তাই নিজগণ সহ মথুরায় যাইয়া এক মাস ছিলেন। তাঁহার সঙ্গে গোপাল ভট্ট, দাস রঘুনাথ, ভট্ট
রঘুনাথ, লোকনাথ, ভূগর্ভ, শ্রীজীব, যাদব আচার্য্য, গোবিন্দ গোসাঞি, উদ্ধবদাস প্রভৃতি মুখ্য ভক্তগণ
গিয়াছিলেন। এক মাস পরে তাঁহারা গোপালকে লইয়া বৃন্দাবনে ফিরিয়া আসিলেন।

শাখানির্ণয়ামৃতের ৩৫ শ্লোক যথা - “অতিদীনজনে পূর্ণ-প্রেমবিত্ত-প্রদায়কং। শ্রীমদুদ্ধবদাসাখ্যং বন্দেহহং
গুণশালিনম্॥”

এই উদ্ধদাস পদ রচনা করিয়াছিলেন কি না, জানা যায় না।

(২) যে উদ্ধবদাসের পদাবলী পদকল্পতরু, গৌরপদতরঙ্গিণী প্রভৃতি সংগ্রহে আছে, তিনি শ্রীনিবাস আচার্য্যের
প্রপৌত্র (বৃদ্ধ প্রপৌত্র হবে @) রাধামোহন ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন। উদ্ধবদাসের জয় রে জয় রে শ্রীনিবাস
নরোত্তম ইত্যাদি পদটীর শেষ কয়েক চরণে আছে---

শ্রীঠাকুর মহাশয়, তাঁর যত শাখা হয়, মুখ্য কিছু করিয়ে প্রকাশ॥
রামকৃষ্ণ আচার্য্য খ্যাতি, গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী, ভক্তিমূর্ত্তি গামিলা নিবাস।
রূপ রঘুরায় নাম, গোকুল শ্রীভগবান্, ভক্তিমান শ্রীউদ্ধবদাস॥
শ্রীল রাধাবল্লভ, চাঁদরায় প্রেমার্ণব, চৌধুরী শ্রীখেতরি নিবাস।
শ্রীরাধামোহন পদ, যাঁর ধন সম্পদ, নাম গায় এ উদ্ধব দাস॥

শেষ চরণ “শ্রীরাধামোহন পদ” ইত্যাদি ভিন্ন অপর চারিটী চরণে যাঁহাদের নাম আছে, তাঁহারা শ্রীঠাকুর
মহাশয়ের শাখান্তর্গত মুখ্য ভক্ত। ইহাঁদের মধ্যে “ভক্তিমান্ শ্রীউদ্ধবদাস” ও অবশ্য ঠাকুর মহাশয়ের শিষ্য
হইবেন।কিন্তু কোন গ্রন্থেই ঠাকুর মহাশয়ের শাখা-বর্ণনায় উদ্ধবদাসের নাম নাই। গদাধর পণ্ডিতের শিষ্য
উদ্ধবদাসের পরিচয় উপরে দেওয়া হইয়াছে, তাঁহার নাম ঠাকুর মহাশয়ের শিষ্যদিগের মধ্যে প্রবিষ্ট হওয়ার
কোন কারণ দেখা যায় না। তত্পরে শেষ চরণ শ্রীরাধামোহন পদ, যাঁর ধন সম্পদ উক্তিদ্বারা বেশ বুঝা যায়
যে রাধামোহন ঠাকুর এই পদকর্ত্তা উদ্ধবদাসের শিক্ষাগুরু কিংবা দীক্ষাগুরু ছিলেন। কাজেই এই উদ্ধবদাস যে
রাধামোহন ঠাকুরের এর সময়ের লোক ছিলেন, ইহা স্বীকার করা যাইতে পারে। পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা
বৈষ্ণবদাসও ইঁহাদের সমসাময়িক ব্যক্তি।

বৈষ্ণবদাস পদকল্পতরুতে উদ্ধবদাসের আনের পদ উদ্ধৃত করিয়াছেন। কিন্তু রাধামোহন তাঁহার পদামৃতসমুদ্রে
উদ্ধবদাস কিংবা বৈষ্ণবদাসের একটি পদও উদ্ধৃত করেন নাই কেন, তাহা লক্ষ্য করিবার বিষয় বটে।

স্বর্গীয় সতীশবাবুর মতে ইহার একমাত্র কারণ ইহাই অনুমিত হইতে পারে যে, পদামৃত-সমুদ্রের সঙ্কলন-কাল
পর্য্যন্ত উদ্ধবদাস, কি বৈষ্ণবদাস বিশেষ কোন পদ রচনা করেন নাই। সতীশবাবু আরও বলেন, “পদামৃত-
সমুদ্র-গ্রন্থে রাধামোহন ঠাকুরের যে সওয়া দুই শত পদ সন্নিবেশিত হইয়াছে, ঐ সকল পদের রচনা তাঁহার
রচিত পাণ্ডিত্য ও রসজ্ঞতা-পূর্ণ সংস্কৃত-টীকা দর্নে উক্ত গ্রন্থখানি তাঁহার প্রবীণ বয়সের কৃতিত্ব বলিয়াই
বিবেচনা হয়। সেই সময় পর্য্যন্ত উদ্ধবদাস কোনও পদ রচনা না করিয়া থাকিলে, খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের
আদ্য ও মধ্যভাগে বর্ত্তমান রাধামোহন ঠাকুর অপেক্ষা, উদ্ধবদাস ও বৈষ্ণবদাসের পদ রচনার কাল অন্যুন
২০|২৫বছর পরবর্ত্তী বলিয়াই সিদ্ধান্ত করিতে হইবে।”

উদ্ধবদাস বিশুদ্ধ বাঙ্গালা ও ব্রজবুলিতে পদরচনা করিয়াছেন। তাঁহার  ভাষা যেমন প্রাঞ্জল, তেমনি সুললিত।
তাঁহার নানাবিষয়ক উত্কৃষ্ঠ পদাবলী পাঠ করিয়া সুন্দর বর্ণনা-শক্তি ও কবিত্ব-শক্তির প্রশংসা না করিয়া
থাকা যায় না
।"

@ -
শ্রীনিবাস আচার্য্যের পুত্র গতিগোবিন্দ, তাঁর পুত্র কৃষ্ণপ্রসাদ, তাঁর পুত্র জগদানন্দ এবং তাঁর পুত্র
রাধামোহন
.
উদ্ধব দাস সম্বন্ধে দুর্গাদাস লাহিড়ীর উদ্ধৃতি -                                         পাতার উপরে . . .  
১৯০৫ সালে প্রকাশিত,
দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”-তে তিনি উদ্ধব
দাস সম্বন্ধে লিথেছেন . . .

ইনি দ্বাদশ বঙ্গাব্দের  শেষভাগে  টেঞা বৈদ্যপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইহাঁর প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত  
মজুমদার। ইনি অম্বুষ্ঠকুলসম্ভূত। শ্রীনিবাসাচার্য্যের প্রপৌত্র, সুপ্রসিদ্ধ পদকর্ত্তা রাধামোহন ঠাকুর ইহাঁর গুরু
ছিলেন। পদকল্পতরু গ্রন্থের সঙ্কলিতা বৈষ্ণবদাসের সহিত ইনি বিশেষ বন্ধুত্বসূত্রে আবদ্ধ ছিলেন
।”
.
কবি কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                                     পাতার উপরে . . .  
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর ১৯৩১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত ও সম্পাদিত, বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর  ৫ম  
খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা কৃষ্ণকান্ত সম্বন্ধে ৩৯-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

"
পদকর্ত্তা কৃষ্ণকান্তের ২৯টি পদই পদকল্পতরুর ৪র্থ শাখার ৩২ পল্লবে এক স্থানে সন্নিবেশিত হইয়াছে। উহার
মধ্যে শুধু গৌরাঙ্গ-বিষয়ক “কনক-ধরাধর-মদহর দেহ” ইত্যাদি ২৮৭৬ সংখ্যক পদটী গৌর-পদ-তরঙ্গিণীতে  
উদ্ধৃত হইয়াছে। জগবন্ধু বাবু  পদকর্ত্তা  উদ্ধবদাস সম্বন্ধে  লিখিয়াছেন যে,  তাঁহার  প্রকৃত  নাম কৃষ্ণকান্ত
মজুমদার। ইনি অম্বুষ্ঠকুলসম্ভূত ও টেঞা বৈদ্যপুর-নিবাসী ছিলেন এবং পদকল্পতরুর রচয়িতা বৈষ্ণবদাসের
সহিত  ইহাঁর বন্ধুত্ব ছিল। অন্য কোনও পদকর্ত্তা কৃষ্ণকান্তের বৃত্তান্ত জানা যায় নাই। সুতরাং আমরা এই  
কৃষ্ণকান্তকে উদ্ধবদাস হইতে অভিন্ন ব্যক্তি বলিয়াই বিবেচনা করি। ইনি সুললিত ব্রজ-বুলীর পদ-রচনায়  
বেশ পটু ছিলেন ; ইহাঁর অধিকাংশ পদই ব্রজ-বুলী-মিশ্রিত। বহিঃপ্রকৃতির মনোহারিত্ব ইহাঁর রচনায় বেশ  
ফুটিয়াছে। দৃষ্টান্ত স্থলে ইহাঁর--- সহজই ভূধর পরম মনোহর ইত্যাদি ২৮৯১ সংখ্যক পদের উল্লেখ করা  
যাইতে পারে। ইহাঁর রচিত শ্রীরাধাকৃষ্ণের গিরিগোবর্দ্ধন-তটে নিত্য-রাস-লীলার বর্ণনাত্মক ২৮৮৩-২৯০৪  
সংখ্যক পদগুলিতে ভাবের বিশেষ গভীরতা না থাকিলেও উহা বর্ণন-নৈপুণ্যে বেশ উপভোগ্য
।"
.
উদ্ধব দাস সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                               পাতার উপরে . . .  
১৯৭৭ সালে প্রকাশিত প্রকাশিত, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন” গ্রন্থের পরিশিষ্টে দেওয়া বর্ণামুক্রমিক কবিপরিচয় তে তিনি
উদ্ধব দাস সম্বন্ধে লিথেছেন . . .

উদ্ধব দাসের প্রকৃত নাম কৃষ্ণকান্ত মডুমদার। টেঙা বৈদ্যপুর তাঁর নিবাসস্থল। ইনি ছিলেন পদকল্পতরুর
সংকলনকর্তা গোকুলানন্দ সেন বা বৈষ্ণবদাসের বন্ধু। বহু বিষয়ে বাংলা ও ব্রজবুলি উভয় ভাযাতেই তাঁর
পদরচনায় তুল্য দক্ষতা ছিল
।”
.
কবি কৃষ্ণকান্ত - বৈষ্ণবদাস সংকলিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে কৃষ্ণকান্ত ভণিতার ২৯টি
পদ রয়েছে।  
বৈষ্ণবদাস এই কবির সব ক’টি
পদ তাঁর বিশাল গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ২য় শাখায়,
৩২শ পল্লবের, “অষ্টকালীয় নিত্য লীলা”য়
রেখেছেন, পরপর সাজিয়ে।