কবি নন্দলালের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মুই কেনে পিরীতি কৈলুম্ নিঠুর কালার সনে!
ভণিতা রায় নন্দলাল
কবি নন্দলাল রায়
এই পদটি বীরভূমি পত্রিকার বৈশাখ ১৩১২ বঙ্গাব্দ (১৯০৫) সংখ্যায় প্রকাশিত, আবদুল
করিম সাহিত্যবিষারদের “নবাবিষ্কৃত হিন্দু-বৈষ্ণব কবিগণ” প্রবন্ধে, ১৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। কবি সম্বন্ধে সাহিত্যবিষারদ লিখেছেন, এতন্নামধেয় কোন কবি
পদকর্ত্তাদের মধ্যে নাই। সম্ভব তিনি এযাবত মাত্র পরিজ্ঞাত হইলেন।

॥ ভোর॥

মুই কেনে পিরীতি কৈলুম্ নিঠুর কালার সনে!
নিঠুর কালার প্রেম জ্বালাকে না সহে পরাণে! ধু।
ঘরেতে বসিয়া শুনি মথুরা এ বাজাএ বাঁশী।
শুনিলে স্বপনে দেখি জাগিলে উদাসী॥
.                                               রে নাথ!
কলসীতে জল নাই রে যমুনা বহু দূরে।
চলিতে না পারি আমি কাল যৌবনের ভারে॥
.                                               রে নাথ!
বাও নাই বাতাস নাই কদম্ব কেন লড়ে
মুই নারীর কর্ম্মদোষে ডাল ভাঙ্গিয়া পড়ে॥
.                                               রে নাথ!
রায় নন্দ লালে কহে শুন লো যুবতী।
শ্যাম রূপ দরশনে পূরাইব আরতি॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মানুষ ভাবেতে মানুষ ভজন
ভণিতা নন্দলাল
কবি নন্দলাল
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।


মানুষ ভাবেতে                          মানুষ ভজন
যে জনা মানুষ হয়।
মানুষে মানুষ                        আচ্ছাদন করে
@@@@@@@@@@@@@
মানুষ বলিয়া                       জানে যবে হিয়া
আর না ভাবিহ মনে।
মানুষ ভজন                           করে গোপীগণ
দেহ দিয়ে তার সনে॥
মানুষের নাম                           বিরলের ধাম
মানুষ তাহার রীতি।
মানুষ বলিয়ে                        জানে যার হিয়ে
নাহিক বিচার তথি॥
মানুষ-আকৃতি                          মানুষ-প্রকৃতি
যে জনা যে রূপে জানে।
মানুষ-চরণে                            নন্দলাল ভণে
সেই কিছু নাই মানে॥

@@@ - পাতার নীচে থাকার দরুণ স্ক্যান করার সময় বাদ পড়েছে।

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর