কবি দেবব্রত বসু - ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের অন্যতম বীর বিপ্লবী কবির পূর্বাশ্রমের
নাম। সন্ন্যাস গ্রহণ করার পর তাঁর নাম হয় স্বামী প্রজ্ঞানন্দ।

কবি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার রংপুর জেলার সৈয়দপুরে। তাঁর পৈতৃক বাসস্থান ছিল হুগলী জেলার
হরিপাল থানার খেজুর গ্রামে।

তিনি ছিলেন বি.এ. পাশ। তিনি কিছুদিন সন্ধ্যা পত্রিকার সম্পাদকের কাজও করেছিলেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বিপ্লবী যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ছিলেন
শ্রীঅরবিন্দের সহকর্মী। মানিকতলা বোমার মামলায়, আলীপুর বোমা মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে
রাজসাক্ষী নরেন গোসাঁই-এর স্বীকারোক্তির ফলে তিনি ধরা পরেন। পরে ছাড়া পান। বিপ্লবী নেতা কিরণচন্দ্র
মুখোপাধ্যায় কলকাতায় তাঁর কাছেই প্রথম বাস করেছিলেন।

মুক্তিলাভ করে তিনি বেলুড়ের রামকৃষ্ণমিশনে যোগদান করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন  সারদা
মায়ের মন্ত্র-দীক্ষিত।

১৯১২ খৃষ্টাব্দের ১২ই ডিসেম্বর বিপ্লবী নায়ক রাসবহারী বসুর নির্দেশে তরুণ বিপ্লবী বসন্ত বিশ্বাসের নিক্ষিপ্ত
বোমায় ভারতের বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জ গুরুতর আহত হলে ইতিপূর্বে যাঁরা বোমার মামলায় জড়িত ছিলেন--
তাঁদের অনুসন্ধান শুরু হয়। সেই সময়ে প্রাক্তন বিপ্লবী দেবব্রত বসুর খোঁজও আবার শুরু হ
য়েছিলো

কবি দেবব্রত বসুর ভগ্নী সুধীরাদেবী ছিলেন সারদা মায়ের স্নেহধন্যা মন্ত্রশিষ্যা। তিনি নারীশিক্ষা বিস্তারে
সিস্টার নিবেদিতার সহযোগী ছিলেন এবং বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে তাঁরও যোগ ছিল। ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে অগ্রজ
দেবব্রত বসুর সঙ্গে বিপ্লববাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে কটক এবং পুরী সফর করেছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দের
ভাই কমিউনিস্ট নেতা ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন, “
সুধীরা বৈপ্লবিক কাজে অনুরাগী ছিলেন। বিপ্লবের কাজে
অনেক সময়েই তিনি আমাদের সাহায্য করেছেন
”।

উত্তরপ্রদেশের মায়াবতীতে কিছুকাল থাকার সময়ে তিনি “প্রবুদ্ধ-ভারত” পত্রিকার সম্পাদনা করেন জানুয়ারী
১৯১৪ থেকে মে ১৯১৮ পর্যন্ত। তিনি কিছুদিন রামকৃষ্ণমিশনের “উদ্বোধন” পত্রিকারও সম্পাদনা করেছিলেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “ভারতের সাধনা”।

আমরা তাঁর একটি কবিতা পেয়েছি,
কবি দিলীপ কুমার বসু সম্পাদিত “গান” নামক “একটি স্বদেশী-গানের
সঙ্কলনের” ৩য় সংস্করণ থেকে। ১ম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৩১৩ বঙ্গাব্দে (১৯০৬), ব্রজকিশোর রায়
চৌধুরী দ্বারা ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মৈমনসিংহের সুহৃদ-সমিতির পক্ষ থেকে। ১৯০৯ সালে যে সব স্বদেশী
কার্যকলাপে সমপৃক্ত সমিতির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, এই সমিতি তাঁদের অন্যতম ছিলেন। বইটি
প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গভঙ্গের সরকারি ঘোষণার পরে। যদিও আমরা জানি যে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দেলন,
ঘোষণার তারিখের অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই “গান” বইটির সম্পাদক
কবি দিলীপ কুমার বসু এবং প্রকাশক কুবোপাখি প্রকাশন
(+৯১৯৪৩২১৩৩৯৯১) এর কাছে তাঁদের এই সাধু প্রচেষ্টার জন্য। মিলনসাগরে কবি দিলীপ কুমার বসুর
কবিতার পাতায় যেতে
এখানে ক্লিক করুন . . .

১৯১৮ খৃষ্টাব্দের এপ্রিলে স্বামী প্রজ্ঞানন্দ, দেহত্যাগ করেন। মা সারদা সেদিন অঝোরে কেঁদেছিলেন। মা
সারদার চোখে তিনি ছিলেন যোগী পুরুষ।

আমরা
মিলনসাগরে  কবি দেবব্রত বসু বা স্বামী প্রজ্ঞানন্দের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে  পৌঁছে
দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা তাঁর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



কবি দেবব্রত বসু বা স্বামী প্রজ্ঞানন্দের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


উত্স -



কবির একটি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৪.২.২০২০

...